ঘোলাটে অস্তিত্ব

রেজওয়ান ১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার, ০৪:০২:৪২অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৫ মন্তব্য

হয়তো মানুষ হয়েই জন্মে ছিলাম, অথচ নিজের অবস্থানটা ধরে রাখতে পারছিনা এই সমাজের উৎকট/আজাইরা নিয়মনীতির ঠ্যালায়!

আসলে আমি যে সমাজে বসবাস করি সে সমাজে প্রতিভার কোনো মূল্য নেই! নেই কোনো আবেগ ভরা মমতা বরং প্রতিনিয়ত চলে প্রতশ্রুতি ভাঙার প্রতিযোগিতা! স্বার্থপর এই সমাজে সব কিছুই রোবটিক ক্ষেত্রবিশেষে সবাই আবেগি হবার ভান করে..

কেন বললাম কথাগুলো? আচ্ছা একটু খোলাসা করি..
কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে এক বন্ধুর (মাসুদ) চাচাতো বড় ভাই বেড়াতে এসেছেন এখানে। দেখা করে একটু সময় দিতে বলেছিলো আসার আগেই। সময় হয়নি তাই গতরাতে দেখা করলাম আগামী সোমবার ১৮ই নভেম্বর ‘১৯ চলে যাবে বলে। আগে কখনো দেখা হয়নি উনার সাথে ছবিও দেখিনি তবে ধারণা করেছিলাম ৩৫-৪০ বছরের বেশি হবে না। মাসুদও তেমন কিছু বলেনি, শুধু নাম্বার দিয়েছিলো। দেখা হওয়ার পরে আমিতো অবাক উনি ৫০+ আংকেল ফোনে বললাম ভাই।গরনে ৫’৯/১০” হবে কাঁচাপাকা দুই মুঠি সাইজ লম্বা দাড়ি! চাল চলনে বুঝা গেল বেশি পুঁথিগত শিক্ষা না থাকলেও ভালই কাঁচাটাকার মালিক হয়েছে।

হাই-হ্যালোর পর বললাম চলুন আগে ডিনার করি খুধা লাগছে, অফিস থেকে এসে গোসল করেই আবার বের হয়েছি। ডিনার শেষে উনি সিগারেট জ্বালালেন সাথে আমার দিকেও এগিয়ে দিলেন। উনাকে আস্বস্ত করলাম আমি স্মোকিং ছেড়ে দিয়েছি। ব্যাপারটা আমার বন্ধুও জানতো না তাই উনাকে বলে দিয়েছিলো যে আমি চেইন স্মোকার!(এক সময় ছিলাম) তো যাই হোক দাঁড়িয়ে রনির সাথে টুকটাক ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট করছি কারণ উনি ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছিলেন।

উনার কথা শেষে আমার কাছে এসে বললেন-
“তুমি সর্টস পড়েছ কেন?” এতক্ষণ খেয়াল করি নাই।
-অফিস থেকে এসেছি, ফুল শার্ট-প্যান্ট পড়তে মন চায়নি তাই। আট ঘন্টার বেশি ফর্মাল ড্রেসে থাকতে ভাল লাগে না তাছাড়া আমি একটু ঢোলাঢালা কাপড়ে রিল্যাক্সেই থাকি রাতের বেলা!
-এইযে তুমি হাঁটু বরাবর হাফ প্যান্ট পড়েছ এটা কিন্তু ধর্মীয় দৃষ্টিতে অনেক খারাপ কাজ জানো?? নামাজ-রোজা করোতো ঠিক মত??
-প্রশ্ন এড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কেন আমাকে দেখে কোনো মেয়ে বা ছেলের কাম জেগে গেল নাকি? হেঁহেঁ..
-দেখ মানুষের চোখে খারাপ দেখায় এমন কিছু খুল্লামখুল্লা করা উচিৎ না। তুমি যাও একটা ফুল প্যান্ট পড়ে আসো, তারপর এক যায়গায় যাবো।
-আমি এমনই যা করি খুল্লাম খুল্লা! বাদ দেন, কোথায় যাবেন বলুন নিয়ে যাচ্ছি। ফুল প্যান্ট লাগবে না। বলুন কোথায় যাবেন? যদিও ফুল প্যান্ট ও শু এক সেট করে গাড়িতে প্রায় সব সময়ই থাকে উনাকে বলি নাই।
-ইতস্তত করে বলছে এখানকার ক্লাব-বারের কথা অনেক শুনেছি কখনো যাওয়া হয়নি নিয়ে যাবে?
-বাহ্ এতক্ষণ ধর্মের কথা শুনিয়ে লোকটা যেতে চাচ্ছে নাইট ক্লাবে বাহ বাহ বাহ বেশ…

উনাকে বললাম নাইট ক্লাব অনেক ধরনের আছে- গেমিং-ড্রিংকস/লাইভ মিউজিক-ড্যান্স ও ড্রিংকস/গার্লস-ড্রিনকস! তবে আমি ক্লাবিং করি না। আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি তবে আমি গাড়িতেই থাকবো। কোথায় যাবেন বলুন?
বিরবির করে বললো হাফ ন্যাংটা হয়ে ঘুরে বেড়ায় আবার বলে ক্লাবিং করে না ফাউল পোলা..যেখানে সব আছে সেখানে যাও বলে গাড়ির পেছনে গিয়ে বসলো।
কথাটা শুনেছি আমি কিন্তু কিছু না বলে গাড়িতে গিয়ে বসলাম এবং বললাম সামনে এসে বসুন। প্রথমে রাগান্বিত স্বরে না বললে বললাম তাহলে বসে থাকুন আমি গাড়ি স্টার্টই দিবো না। উনি সামনে এসে বসলে ড্রাইভ করা শুরু করলাম। হঠাৎ বললো তোমার সম্পর্কে যা শুনেছি এসে দেখি পুরো উলটা! দেশে গিয়ে মাসুদকে ধরবো। ওইটাও একটা বজ্জাত পোলা!!
-ভাই, মাসুদ কিছু জানে না যে আমি আগের মত নাই। নিজেকে এখন অর্ডিনারী মানুষ ভাবতেই ভাল লাগে, সেভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছি বারংবার। তাছাড়া মাসুদ আমার সম বয়সি হলেও আপনার চেয়ে ২০ বছরের ছোট, আপনার সাথে কমফোর্ট ফিল করতেছি না তেমন। আর স্ত্রী সন্তান বর্তমান এবং দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়েই এখানে এসেছেন ঘুরতে। তাছাড়া কিছুদিন আগে হজ্বও করে এসেছেন শুনেছিলাম মাসুদের কাছে। ফ্যামেলিকে সময় না দিয়ে এই বয়সে ক্লাবিং করতে চাচ্ছেন তাই আশ্চর্য হয়েছি কিঞ্চিৎ। আচ্ছা হ্যাংওভার নিতে পারবেনতো? স্ট্রোক করলে মার্ডার কেইসে পরবোতো আমি..

পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললো তুমিতো বেশ ঠোট কাটা। আচ্ছা শোনো আমি জানি তুমি কি বলতে চাচ্ছো তবে আমি কখনো বড় ক্লাবে যাইনি তাই দেখতে চাচ্ছি।
-নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি বেশিরভাগ মানুষেরই দূর্বলতা আছে জানি তবে নিজেকে ধার্মীক দাবি করে এইগুলা করা অনুচিত জানেনতো..
-দু’একদিন অনিয়ম করলে কিছু হবে না ছোটভাই। চলো চলো…

গাড়ি পার্ক করে মাঝারি ধরনের একটা ক্লাবের সামনে আমরা। উনাকে বললাম দাড়ি পাঞ্জাবি টুপি দেখলে ঢুকতে দিবে না ভাই কিন্তু আমার শর্টসে সমস্যা নাই বলেই ফিক করে হেসে দিলাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে পাঞ্জাবি ও টুপি খুলে ফেললো! ভাগ্যিস পাঞ্জাবির নিচে টিশার্ট ছিলো। ভেতরে ঢোকার পরে বলতেছে টাকিলা পাঁচ শট অর্ডার করো ছোট ভাই। আমি হতভম্ব হয়ে উনার কাজ দেখতেছি। তিন শট টাকিলা মেরে ছোট ছোট কাপড়ে মোড়া মেয়েগুলার সাথে তিরিং বিরিং লাফালাফি করতেছে বয়সের ভারে নুইয়ে পরা লোকটা! নিজেকেই প্রশ্ন করলাম হাউ ম্যান হাউ? একটু আগেনা আমাকে উনি ধর্মের জ্ঞান দিলো? প্রায় আধা ঘন্টা একা বসে আছি আর উনার তিরিং বিরিং দেখতেছি। প্রায় ৪৫ মিনিট পর এসে বলতেছে অনেকদিন পর মজা করলাম।
আমি বললাম এরমানে আপনার অভ্যাস আছে বা ছিলো? নিয়মিত ক্লাবিং করতেন?
-দুবাই থাকাকালীন এমন কোনো ক্লাব নাই যে আমি যাইনি।
-ও আচ্ছা আপনি দুবাই ফেরত মাল।
-আগে বললে আমাকে নিয়ে আসতা না তাই বলি নাই।
-আগে বললেও নিয়ে আসতাম মাসুদ সময় দিতে বলেছে। হয়তো এখানে না আরো বড় ও সুন্দর ক্লাবে নিয়ে যেতাম বা কেএল টাওয়ারে!!
-সমস্যা নাই এতেই চলবে। তুমি তোমার ড্রিংকস অর্ডার করো বলে আরো দুই শট টাকিলা মেরে উঠে গেল।
আমি এক পেগ হুইস্কি নিয়ে বসে আছি আর ভাবছি “আমি আসলেই একটা বোকা ছেলে এজন্য যা করি প্রকাশ্যেই করতাম, এখনো করি তাই সবার কাছে আমি খারাপ” আর সবাই কত চতুর যা করে অগোচরে, আড়ালে আপডালে তাই ওরা দুধে ধোয়া তুলসীপাতা!

ছোটবেলার একটা কথা মনে পড়ছিলো-
একদিন প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে সকাল থেকেই। স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বের হবো বাবা বললেন প্যান্ট টা গুটিয়ে নাও তাহলে কাঁদা ছিটে আসবে না। প্যান্ট গুটানো আমার পছন্দ ছিলো না তাই বললাম আমি গুটাবো না। বেশ কয়েকবার বলার পরেও গুটালাম না। ওখানেই একজন রুগী বসা ছিলো যিনি বাবার কাছে চেকাপ করাতে এসেছেন। উনি বললেন এখন গুটাও ডাক্তার সাহেবের চোখের আড়াল হলে আবার নামিয়ে ফেল। আমি বললাম এমন চিটিং বাটপারি করার অভ্যাসটা এখনো আয়ত্তে আনতে পারি নাই আংকেল! ব্যাস- হয়ে গেলাম “বেয়াদব”

মনে পড়লো স্মোকিং যখন করতাম সবার সামনেই করতাম। এটা লুকানোর কিছু না, এটা বেয়াদবির কিছু না। স্বাধীন দেশে ট্যাক্স দিয়ে স্মোক করাটা অপরাদের মধ্যে পরে না। অন্যদিকে যারা স্মোক করতে নিষেধ করে বা মুরুব্বি সেজে উনাদের অগোচরে করতে বলে সেই তাড়াই আবার ভুরভুর করে উদাস মনে আকাশ পানে ধোয়া ছাড়ে। বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব নেয়া উনাদের আমি এড়িয়েই চলতাম সব সময়! উনারাও একসময় টিন এইজ পার করেছে মুরুব্বিদের ঝাড়ি খেয়েছে স্মোকিংয়ের জন্য। তাই প্রতিশোধ নিতেই আমাদের উপর চড়াও হতো বুঝতাম।

জানেনইতো বাঙালি মেন্টালিটিতে আছে প্রকাশ্যে মারামারি করা, গালাগালি করা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া, বান্ধুবীর হাত ধরে হাটা বা পার্কে বসে থাকা, স্মোক-ড্রিংকস করা ঘোরতর অপরাধ। বংশ নিয়েও কথা উঠে এসবের জন্য..যাইহোক বিয়ের প্রায় দেড় বছর আগে স্মোকিং ছেড়েছিলাম। যখন বৌ নিয়ে দেশে গিয়েছিলাম এক নিকট আত্মীয় জিজ্ঞাসা করেছিলো স্মোকিং কমিয়েছি কিনা। বলেছিলাম ছেড়ে দিয়েছি। আকাশ থেকে প্পড়ার ভাব নিয়ে বলেছিলো যে ছেলে দিনে দুই আড়াই প্যাকেট সিগারেট জ্বালাতো সে ছেলে কিনা বলে ছেড়ে দিয়েছে! বিশ্বাস করেনি। বৌকেও বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসা করেছে এমনকি মা কে ও! যখন আমি বললাম জনে জনে জিজ্ঞাসা করারতো কিছু নাই বিশ্বাস করলে করবেন না করলে নাই। ব্যাস আবারো হয়ে গেলাম মুরুব্বিদের মুখের উপর কথা বলা “বেয়াদব!”

হঠাৎ বড় ভাইয়ের ডাকে বর্তমানে ফিরে এসে দেখি রাত দুইটা+ এক চুমুকে আমার ড্রিংকসটা শেষ করে বললাম চলুন আপনাকে হোটেলে নামিয়ে দিয়ে বাসায় যাই। উনি বলে কিনা কেবলতো সন্ধ্যা এত তাড়াতাড়ি গেলে চলবে? আরো দু’টো শট এক মুহুর্তে শেষ করে বললো তুমিও আরেকটা নাও টাকা দিবে “হাজিসাব” চিন্তার কিছু নেই বলে হা হা করতে করতে চলে গেলো…

ইতিহাসের বড় শিক্ষা হলো আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষাই নেই না। নিজেদের মনে করি অনেক বড় হনু আসলে যে হনুমানের চেয়েও মাঝে মাঝে অধম হয়ে যাই তা অনেক সময়ই ভুলে যাই। আমি শুধু ভাবতেছিলাম বেচারি ভাবি আর আর দুই ছেলে এক মেয়ে হোটেলে একা একা আর ওই পরিবারের সবচেয়ে বড় মানুষটা এখানে খ্যামটা নাচ নাচতেছে.. আমার কি একটুপরে ড্রাইভ করতে হবে ভেবে আমি আরেকটা ড্রিংকস নিলাম ফ্রেশ অরেঞ্জ জুস আর ভাবতে লাগলাম কত্ত লক্ষী ছেলে হয়ে গিয়েছি আমি😋

সাড়ে তিনটার দিকে উনি হেলতে দুলতে এসে বললেন চলো যাই এখন না গেলে তোমার ভাবি রাগ করবে।
বিল মিটিয়ে দিয়ে এক বোতল পানি নিয়ে বের হলাম। উনি বের হয়েই মুখে পানি ছিটালেন এক খিলি পান মুখে দিয়ে মুচকি হেসে বললেন ফাইনাল মেডিসিন নিয়ে নিলাম তোমার ভাবি এখন আর টের পাবে না কিছুই। কিন্তু আমি মনে মনে ভাবছি ভুরভুর করে মদ ও ঘামের গন্ধ আসছে শরীর থেকে, একগাল পান মুখে হেলেদুলে হাটছেন সে কিনা বলে ভাবি টেরই পাবেন না! এ কেমন ভাবি?? দেখা উচিৎ..

গাড়ির কাছে গিয়ে উনি টিশার্ট খুলে পানিতে ধুয়ে শরীর মুছে টিশার্ট টা ফেলে দিয়ে পাঞ্জাবি আর টুপিটা পড়ে নিলেন। পকেট থেকে কড়া গন্ধের একটা আতর বের করে শরীরে ও জামায় মাখতে যাবেন আমি বললাম আতরের গন্ধ আমার সহ্য হয় না আপনি হোটেলের সামনে গিয়ে দিয়েন। উনি বলেন সুগন্ধি আতর হলো নবীর সুন্নত সহ্য করতে পারনা বললে পাপ হবে। আমি বললাম এতক্ষণ অনেক পুণ্যের কাজ করলেন নাকি মিয়া? বিটলামি সব বন্ধ, যা বলবো তাই করবেন তা না হলে এখানে রেখেই চলে যাবো আমি। উনি চুপ করে গাড়িতে গিয়ে বসলেন। মাইল পাঁচেক যাওয়ার পর সে সিগারেট জ্বালাতে চাচ্ছেন গাড়ির ভেতর, আমি বাধা দিয়ে বললাম স্মোকিং প্রহিবিটেড। রাস্তার পাশে গাড়ি থামালাম উনি নেমে স্মোক করছেন আর বলছেন মিথিলার কাহিনী কি জানো?
-কোন মিথিলা?
-ওইযে মডেল, হাঁস মার্কা না কি যেন নারিকেল তেলের..
-ও আচ্ছা! না জানি না পরের চর্কায় তেল দেওয়ার মত স্টকে তেল নাই আমার..
-ওদের জন্যই আমাদের দেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অপসংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে আমাদের কালচারে। জিন্স টিশার্টের জামানা শেষ। দেশে এখন মেয়েরাও শর্টস পড়ে ঘুরে বেরায় তোমার শর্টসের চেয়েও ছোট জানো?
-বিরক্তির স্বরে বললাম এতে কি আপনার চৈতন্য জাগ্রত হয়? লালা ঝড়ে?
-বুঝোনা ওদের জন্যই ধর্ষণ,হত্যা,অবৈধ সন্তানের হার বেড়ে গেছে দেশে। এই জামানার ছেলে তুমি ধর্মীয় শাসন তুমি কি বুঝবা?
-দেখুন ওহাব সাহেব আপনি যদি আমার বন্ধুর বড় ভাই না হতেন তাহলে আপনার ঝুনঝুনিতে টোকা দিয়া আহত করে দিতাম এখন। ধর্ষণ হচ্ছে আপনার মত মেন্টালিটির মানুষের কারনে। সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্ট বেশি হচ্ছে এই বিষয়ে প্রপার এডুকেশন নাই বলে। আমাদের দেশে সেক্স এডুকেশন মানেই নিষিদ্ধ জিনিস। চার দেয়ালের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে আলোচনা করতে হয়। কিভাবে ক্লিন হতে হয় আমরা জানি না। এই এডুকেশন আমরা নেই কলমের পাছায় বাবার ইউজ করা শেভিং ব্লেড লাগিয়ে এজাগায় ওজাগায় কেটে। এইযে আপনি নিজের দেশে ক্লাবিং করতে পারতেছেন না, অন্যদেশে এসে করতেছেন, এই ক্লাবিং যদি দেশে বৈধ হতো ইন্টারন্যাশনাল ল ও রুলস ফলো করে তাহলে একদিকে ইকোনোমি যেমন উন্নত হতো অন্যদিকে লুকিয়ে কিছু করার ভয় করতো না সদ্য যৌবনে পা দেওয়া ছেলেমেয়ে বা কিশোর বয়সের ক্রাইমও কমে যেতো। কিন্তু এটা আমাদের দেশে বর্তমানে সম্ভব না। শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে আপনারাই ছ্যাঃ ছ্যাঃ করবেন ক্লান্ত হয়ে ক্লাব থেকে বের হয়ে। আসলে সমস্যা আমাদের সংকর রক্তে, যৌন বিকারগ্রস্থ মস্তিষ্কে। আরেকটা কথা আলখাল্লা বোরকাও আরবীয় সংস্কৃতি আমাদের কিছু না। এরপরেও আমরা এটা স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিয়েছি কিন্তু শর্টস মানতে পারিনি কারন আমরা বায়ুপরাগায়নে জন্ম নেওয়া এক ডিপ্রেসড জাতি।

হোটেলের কাছে এসে পৌছালাম সকাল সাড়ে চারটার দিকে। এমন একটা মানুষের স্ত্রী সন্তান কেমন তা দেখার ইচ্ছা হচ্ছিলো কিন্তু উনার আচরণে বিরক্ত বলে বলতেও পারছি না, এর পরে ইহ জীবনে উনার সাথে দেখা করারও ইচ্ছা নাই আমার। গাড়ি পার্ক করে বললাম রুমে দিয়ে আসবো নাকি যেতে পারবেন? উনি যেতে পারবো সমস্যা নাই, তবে চলো পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। আমিও এক বাক্যে রাজি হয়ে উনাকে নিয়ে রিসিপশন হয়ে ১৪ তলার লিফটে উঠলাম। অবাক হলাম উনি লিফটে উঠে আতর মাখতে ভুলেন নাই! ওহাব সাহেবের স্ত্রী এখনো ঘুমায়নি, গাড়িতে বসে কল দিয়েছিলেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলা অনেকক্ষণ জেগে ছিলো রাতের কুয়ালালামপুর দেখবে বলে, কিছুক্ষন আগে মন খারাপ করে ঘুমিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভেড়ার বেশে শেয়ালটাতো ছিলো নিজের এঞ্জয়মেন্টে ব্যস্ত। নক করতেই ভাবি দরজা খুলে দিলো। দেখেই মনে হচ্ছে মানুষটা কান্না করতেছিলো, চোখ-মুখ ফোলা। ভাবির সাথে কথা হলো, অমায়িক ভদ্র নিরীহ টাইপ মানুষ, আমার মতই বয়স হবে। কথা হচ্ছে.. সবচেয়ে অবাক করার বিষয় জানালো মানুষটা মাস্টার্স করেও কোনো জব করেনি। শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতো এক সময় কিন্তু পারিবারিক ভাবে নিকট আত্মীয় ইন্টার পাশ করা দুবাই ফেরত ছেলেকে বিয়ে করে সংসারের ঘানি টানছে আজ পর্যন্ত। উনি জানেন উনার স্বামী কেমন কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয় না। উনার চোখের ডার্ক সাইকেল বলে দেয় কতটা কষ্ট চেপে রেখেছে, কত আশা, সখ বা কিছু করার ইচ্ছা মাটি চাপা দিয়ে নিয়তি মেনে নিয়েছে। আর শেয়ালটা ভাবে উনি কিছুই বুঝে না, জানে না। সব কিছুর পরেও ভাবি একটা অদৃশ্য ভয়ে থাকে। সে বিশ্বাস করে এই স্বামীর সেবা না করলে তার বেহেস্ত মিস হয়ে যাবে। বাথরুমে বসে টাওয়াল চেয়ে চেঁচামেচি করা মাতাল শেয়ালটাকে টাওয়াল এগিয়ে দিতে দিতে বিরবির করে বলেই ফেললো বাঙালী মেয়ে হয়ে জন্মনেয়া মেয়েগুলা বোতল সোজা না থাকলে ইহকাল পরকাল সব ধ্বংস হয়ে যাবে! বুঝলেন ভাই আমাদের মত মেয়েদের হাত পা অদৃশ্য মাকড়সার জালে জড়ানো..এমন সময় ওহাব সাহেব বাথরুম থেকে বের হয়ে ভাবিকে বললো আজান দিবে একটু পর, ফজরের নামাজ পড়েই ঘুমাবো। সকালে নিচে গিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে তুমি বুফেতে নাস্তা করে এসো আমাকে ডেকোনা।

বৌয়ের কল পেয়ে আমি বিদায় নিয়ে নিচে নেমে এলাম। ক্যাফে থেকে একটা কড়া কফি নিয়ে গাড়ির কাছে আসতেই ফজরের আজানের ধ্বনি ভেসে আসলো কানে, আমি ফোনে কথা বলছি! ওপাশ থেকে জিজ্ঞাসা আজ কি বাসায় আসার ইচ্ছা আছে? ভুবন ভুলানো অট্টহাসি দিয়ে বললাম অনেক ভালবাসি বেইবি আ’ম কামিং..রেডি থেকো ৮ঃ৩০ এর দিকে বের হবো গাড়ি সার্ভিসিংয়ের জন্য ৯ঃ৩০ এ এপয়েন্টমেন্ট আছে। ও বললো আচ্ছা। ফোন রেখে অস্পষ্ট কন্ঠে বললাম আহা স্বাধের ঘুমাটা আজ আর হবে না..

ছোট্ট এক রাতে অনেক কিছুই দেখলাম, বুঝলাম লাইফে অনেক কিছুই দেখার বাকি ছিলো যা আজ দেখলাম। জানলাম কিভাবে সারারাত ঘোমটার নিচে খ্যামটা নেচে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাতে যায় ধর্মের লেবাসধারী বকধার্মিক গুলা। অন্ধকার সিস্টেমের ব্যারাকলে কিভাবে একটা মেয়ে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেয়!

রেডিওতে “in the end it doesn’t even matter-LP” গান বাজছে আর আমি ভাবছি অন্ধত্ব বরণ করে অন্ধকারে নয় বরং সুন্দর থাকুক সকল নারী নিজের মত করে..

“১৬ই নভেম্বর ২০১৯ নির্ঘুম তবে স্বরণীয় রাত পার করলাম”

৩৮৫জন ২জন
42 Shares

২৫টি মন্তব্য

  • তৌহিদ

    আমরা অনেকেই অন্যের ব্যক্তিসাতন্ত্রতায় হস্তক্ষেপ করি যা মোটেই উচিত নয়। দেখবেন এরাই আবার নিজের ঘরে বেড়াল হয়ে থাকে।

    সিগারেট খাওয়া দোষের কিছু নয় তবে মুরুব্বীদের সামনে সিগারেট খেতে আমি লজ্জা পাই। কেউ অনুমতি দিলে তবে খাই। এখন নিষেধ করার যুগ নয়। কিন্তু আমাদের কালচারে এটাকে এখনো অস্মমানের দৃষ্টিতে দেখা হয় বৈকি! যারা ফ্রী মাইন্ডেড মানুষ তাদের কথা ভীন্ন!

    ধর্মের নামে অন্যকে উপদেশ দেয়া লোকগুলির অনেকেই নিজেরা ধর্ম মানেনা। এরা আবার উপদেশ দিতে ওস্তাদ। এটা আমি নিজেও পছন্দ করিনা। আমাদের নারীরা স্বামীদের হুজুর হুজুর করেন সবকিছু জেনেও।

    বাস্তবতার নিরীখে জীবনবোধের কিছু উদাহরণ দিয়ে লেখাটি দারুণ সাবলীলভাবে লিখেছেন। ভালো লাগলো পড়ে ভাই।

    ভালো থাকবেন সবসময়। ☺

    • রেজওয়ান

      লেখাটা গত রাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে ওহাব মিয়ার স্ত্রীর কথা ভেবে।বেচারী…
      সিগারেট খাওয়া দোষের কিছু না তবে খুবই ক্ষতিকর পরিবেশের জন্য, নিজ দেহের জন্য এবং যে না খায় তার জন্য মূলত এই তিনটা কারণেই স্মোকিং ছেড়েছিলাম ২০১৩ সালে খুব কষ্ট হয়েছিলো তবুও জেদ ছিলো বিধায় ছাড়তে পেরেছি।

      নানান ধর্মের কিছু ধর্মভীরু আমি চিনি যারা সব আকাজ কুকাজ করে বেড়ায় তবে দিন শেষে এক সিমপ্যাথি আশা করে। সে যে ভুল করছে এটাও জানে কিন্তু নিজেদের সংশোধন করতে ইচ্ছুক না।

      আপনিও ভাল থাকুন ভাইজান।🥰অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য❤

  • এস.জেড বাবু

    বাহ্ এতক্ষণ ধর্মের কথা শুনিয়ে লোকটা যেতে চাচ্ছে নাইট ক্লাবে বাহ বাহ বাহ বেশ…

    মনে ধরেছে –

    ভাল লেগেছে আর একটা কথা – স্বাধীন দেশে টেক্স দিয়ে ষ্ট্রোক করাটা অপরাধের মধ্যে পড়ে না।

    বাস্তবতার কারণে ভাল লাগা-

    এক একজন অপরিচিতদের সাথে কাটানো সময় এক একটা গল্প- শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু থাকে। পরিচিতদের ক্ষেত্রে অনেক কিছুই স্বাভাবিক মনে হলেও অপরিচিতদের ক্ষেত্রে সবকিছু স্বাভাবিক চোখে দেখা হয় না। অনেক কিছুই চোখে পড়ে।
    চমৎকার লিখেছেন জীবনের চরম শিক্ষার কিছু বিষয়, বোধ সুন্দর গতিতে।

    ভাল লেগেছে ভাই।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    কিছু কিছু অভিজ্ঞতা একরাত বা কয়েক মিনিটেও উপলব্ধ হয়, যা অনেকের সারাজীবন পার করলেও হয়না। মানুষের মুখ দেখে মন বোঝা কঠিন। অপরের থেকে জেনেও কারো সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়না, যতক্ষণ না নিজে পরখ করে দেখা হয়।

    আমাদের সংস্কৃতিতে কারো সাথে মারামারি করা, মা বাবা তুলে গালাগালি করা, প্রকাশ্যে মেয়েদের উত্যক্ত করা, ক্ষেত্র বিশেষে রেপ করাটাও আহামরি কিছু মনে করেনা। কিন্ত স্বামী স্ত্রী একসাথে হাত ধরে বেরাতে গেলে, ছেলে সহপাঠীর সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বললে, এমন কি প্রকাশ্য হেসে কথা বলাও অপরাধের সামিল মনে করা হয়। আর এর প্রতিউত্তরে জবাব দিতে গেলেই তারা বেয়াদব, চামার, নাস্তিক উপাধি পেয়ে যায়। খুব বিচিত্র সমাজে বৈচিত্রময় মানুষদের নিয়েই আমাদের সমাজে চলতে হয়। যে বা যারা মানিয়ে চলতে না পারে তাদেরকে অসামাজিক আখ্যা দিতেও কেউ দ্বিধাবোধ করে না। এই চাচারা এমন ধার্মিক, যারা মনে করেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে সারাদিনের পাপ, আর এক হজ্বে সারাজীবন এর কুকর্ম ধুয়ে যায়। তাই নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করতে বিন্দুমাত্র লজ্জা পায় না। 😡😡

    নিয়মিত লিখুন রেজওয়ান। বড় লেখা না হোক ছোট ছোট লেখাগুলো দিয়ে নিজে রেগুলার হোন, ব্লগটাকেও সক্রিয় রাখুন। সোনেলা আপনার, আমার, আমাদের সকলের উঠোন। আমাদেরকেই প্রানবন্ত করে রাখতে হবে।

    শুভ কামনা অফুরান 🌹🌹

    • রেজওয়ান

      আমাদের সংস্কৃতিতে কারো সাথে মারামারি করা, মা বাবা তুলে গালাগালি করা, প্রকাশ্যে মেয়েদের উত্যক্ত করা, ক্ষেত্র বিশেষে রেপ করাটাও আহামরি কিছু মনে করেনা। কিন্ত স্বামী স্ত্রী একসাথে হাত ধরে বেরাতে গেলে, ছেলে সহপাঠীর সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বললে, এমন কি প্রকাশ্য হেসে কথা বলাও অপরাধের সামিল মনে করা হয়। আর এর প্রতিউত্তরে জবাব দিতে গেলেই তারা বেয়াদব, চামার, নাস্তিক উপাধি পেয়ে যায়…

      একদম মনের কথা বলেছেন আপি😐খুব খারাপ লাগে যখন দেখি একজন বকধার্মিক আর স্ত্রী কন্যাদের উপর জুলুম করছেন ধর্মের নামে😠

      এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ😇 ভাল থাকবেন আপি🌹

  • জিসান শা ইকরাম

    লেখাটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভালো হয়েছে ছোট ভাই,
    এরাই আসলে সাইকো টাইপ মানুষ। ধর্মের কথা মুখে থাকে আর অধর্মের কাজ যত আছে সব করে।
    ধর্মকে নামাজ, রোজা, বেহেশতের মাঝে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে এরা।
    দেশের অধিকাংশ মুসলিমরা এর মত মন মানসিকতা ধারণ করে আছে, যে কারণে এদের আধিপত্য সমাজে খুব বেশি।

    সমাজে এমন একটা ধারনা প্রচলিত হয়ে আছে যা কিছু করো সমস্যা নেই, কেবল নামাজ, রোজা, হজ করবে সব কিছু মাফ হয়ে যাবে।
    বেহেশতে যাওয়া একটি প্যাকেজ ভ্রমণের মত।
    খারাপ লাগছে ওই পাজি লোকটার বউর জন্য, সবকিছু জেনেও যিনি কিছুই করতে পারছেন না।

    এত ভালো লেখা মনের মাঝে রেখে নিয়মিত ব্লগে লেখা না দেয়াটা অন্যায়।
    প্রবাসে ভালো থেকো।
    শুভ কামনা।

    • রেজওয়ান

      এরা মনে করে সারাদিন অপকর্ম করে দিনে ৫ বার মসজিদে ঢু মারলেই চ্যলচ্যালায়া বেহেস্তে যাবে!🤣দেশে এমন মানুষ গুলোই চক্রবৃদ্ধিহারে বেরে চলছে আমাদের দেশে এজন্যই মসজিদ,মাদ্রাসায় ধর্ষণের সংখ্যাও অগনিত।

      আমার কাছেও খুব খারাপ লেগেছে উনার স্ত্রীর জন্য। কতটুকুন আতংকে থাকলে একজন নারী বলতে পারে “বাঙালী মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই আজন্ম পাপ” না পেল ইহকালে কিছু করতে না আবার স্বামীর সেবা না করলে বেহেস্তও হাতছাড়া হয়ে যাবে.. কাঠমোল্লারা কি পরমাণ কোণঠাসা করে রেখেছে ভাবা যায়??😭

      লেখাটা স্টিকি করে দিয়েছেন ভাইজান😍অনেক ভাল লাগলো। আপনিও ভাল ও সুস্থ থাকুন সব সময়❤

  • নিতাই বাবু

    “সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে নাই” আবার মানুষের মতো মিথ্যাবাদী এই ত্রিভুবনেও নাই। আমরা বেশিরভাগ মানুষ -ই মিথ্যে অভিনয় করে চলি। আর বিশ্বের মধ্যে পরের দোষ ধরার ওস্তাদ হলাম, আমরা বাঙালিরা।

  • বন্যা লিপি

    সময়ের ধোঁয়াসা অস্তিত্ব।অসম্ভব ভালো লাগলো পড়ে। এমন বক ধার্মিকে ঠাঁসা এখন বর্তমান দুবাই ফেরত হাজিসাবের দল।
    আপনার নিজস্ব ভাষার উপস্থাপন খুবই ভালো লেগেছে। শুভ কামনা।

  • অনন্য অর্ণব

    আমি প্রথমত আপনাকে একটা স্যালুট দিতে চাই যে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব অটুট রেখেই সব ফর্মালিটি মেইনটেইন করেছেন। আপনার জায়গায় আমি হলেও ঠিক এই কাজটা ই করতাম।

    আর পুরো বক্তব্যের যে সারমর্ম টা আপনি তুলে ধরলেন তার পুরোটাই আমার মনের কথা। ভাই, এই নোংরা নষ্ট সমাজ আমাদের জীবনটাকে বিষিয়ে তুলেছে। কিন্তু কিছু করার নেই। ওই আলখাল্লা জোব্বা পরা শুয়োরের বাচ্চা গুলো ই নাকি আবার বেহেস্ত পাবে👹

    • রেজওয়ান

      আসলে মাসুদ আমার ভাল ক্লাশমেট ছিলো। অনেক হেল্পফুল ছেলেটা তাই কথা ফেলতে পারিনি। কিন্তু আমিতো আর জানি না এই লোকটা এমন🤨পরেরদিন সকালেই জানিয়ে দিয়েছি সেও অনেক অবাক হয়েছে।

      এই আলখাল্লা জোব্বার লেবাস ধরে আরো যে কত কিছু করে এরাই ভাল জানে। তবে খারাপ লেগেছে উনার স্ত্রী সন্তানদের জন্য..

      এত সুন্দর মন্তব্য করার অনেক ধন্যবাদ ভা। ভাল থাকুন সব সময়🌹😇

  • ছাইরাছ হেলাল

    পড়তে পড়তে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম। ধন্যবাদ এতখানি লেখার ধৈর্য সবার থাকে না।
    ধর্মের আড়াল নিয়ে অনেক নোংরামি আমাদের এখানে চালু আছে, আপনি কাছে থেকে দেখেছেন,
    কিন্তু অনেকের অনেক কিছুই দেখা যায় না, দেখলেও বোঝার উপায় থাকে না।
    আপনি আপনার নিজের কাছে প্রচ্ছন্ন থেকেছেন এটি-ই আসল কথা।

    লিখুন এবং লিখুন, সময় পেলে, সময় নিয়ে।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ