ঘটনাঃ৪: রাজনৈতিক প্যাচ

চায়ের দোকানে বসে কতশত রাজনৈতিক আলাপ শুনি। একটু আগে এই রকম একটা আলাপ শুনে খুব মজা পেলাম। (বুঝলে আপনিও মজা পাবেন, না বুঝলে চুপচাপ চা খান)।

– এইটা কোন কথা হইল? সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম বলেন আওয়ামীলীগ দূর্নীতিগ্রস্থ।
– তা বাবা বলেছে ভালো কথা; রাগের কি হইলো? দূর্ণীতি করলে বলবে না?
– বিম্পির আমলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ছিলো তারা আর আমরা?
– তোমরা ২৬ নম্বরে।
– হ্যাঁ বুঝে দেখো কত উন্নতি ৫ বছরে।
– ধূর ২৬ কোন নম্বর হলো? নাও বিড়ি টানো। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চিন্তা করো।

 

ঘটনাঃ৫: সুন্দরের পূজারী

শশার কেজি ১২৫টাকা। শুনে কেনার শখ মিটে গেলো। সরোজমিনে ঘুরে ঘুরে যা জানলাম তা এরকম-
বেশিরভাগ নারী বাজারে এসে আর কিছু কিনুক আর নাই কিনুক শশা কিনবেই।

আর এ থেকে সহজেই অনুমিত হয়ঃ

“বাংলার রূপসীকুলের ত্বক ও রূপ সচেতনতাই শশার মূল্যবর্ধনের প্রধান এবং এক মাত্র কারণ।”

 

ঘটনাঃ৬- নব্য নওয়াব

► ঢাকায় প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে -৭ ডিসেম্বর ১৯০১ সালে আহসান মঞ্জিলে।
কিছুদিন আগে আহসান মঞ্জিলে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার আগেই বের করে দিলো কড়া নির্দেশে।
– বার হইয়া যান। থাকন যাইবো না আর।
– আরেকটু থাকি মামা?
– নিষেধ আছে।
– কে নিষেধ করেছে?
– সরকারের নিষেধ।
– বাড়ি কি সরকার বানাইছে যে নিষেধ করবে?
– এত কথা কওন যাইত না। (বিরক্ত হয়ে)
– মামা মাইন্ড করেন না। একটা কথা জিগাই?
– (আবারো বিরক্ত হয়ে) আপনার সমস্যা কি মিয়া? আমার চাকরি খাইবেন নাকি?
– ছিঃ মামা। এভাবে বলেন কেন? একটা কথা জানতে মন চাচ্ছে।
– জিগাই ফেলেন তাড়াতাড়ি।
– মামা আপনার চেহারার সাথে বড় নওয়াব সাহেবের ব্যাপক মিল। আপনি কি নওয়াব বংশের?
– ঐ মিয়া সোজা বাইর হয়া যান। ফাজলামো করেন।
– বিশ্বাস করেন মামা। রাগ কইরেন না প্লিজ।বলেন না?(বলতে বলতে Out of the 2nd gate)
– ঐ মিয়া বাইর হন।
-(গেটের বাইরে এসে আমার এক বন্ধু চিল্লাইয়া কইল) আল্লাহ’র দোহায় লাগে মামা দুই তলায় বড় নওয়াবের ছবিখান দেখে নিজের সাথে মিলায় দেখেন। মামা, ও মামা… ১৯০১ সালে বাতিডা কি আপনিই জ্বালাইছিলেন? এই জন্যই আপনার চেহারা খানা এমন ঝিলিক মারে। কন না মামা । ও… মামা…

 

ঘটনাঃ৭- টোটালি ১৮ +

অফিসে নতুন এক কলিগ এসেছে। চা-বিড়ি খাওয়াইয়া সেইরকম খাতির জমাইয়া ফেলেছে সবার সাথে। আমার সাথেও ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। প্রচন্ড ধার্মিক কথাবার্তায়। গতকাল দুঃখ কইরা কইল-

–      আর বইলো না দেশটা নাস্তিকে ভইরা গ্যাছে।

–      হাচা কইছো।

–      আম্লীগতো টোটালি নাস্তিক।

–      হাচা কইছো।

–      ব্লগাররা আরো বেশি নাস্তিক।

–      হাচা কইছো।

–      ছাত্রলীগের পোলাপাইনগুলোন দেখ সব হারামীই নাস্তিক।

–      হাচা কইছো।

–      দেশে ইসলামি,সৌদি শাসন দরকার।

–      হাচা কইছো।

–      ওগোর আইন কানুন দেখছো?চাল-চলন দেখছ? দেখলেই মন ভরে যায়।

–      হাচা কইছো।

–      সব ইন্ডিয়ান চাল বুঝছো?

–      হাচা কইছো। ইয়ে দোস্ত তোমার কাছে “চেন্নাই এক্সপ্রেস” আছে?

–      আরে কও কি আমার পিসিতো হলিউডি-বলিউডি কালেকশনে ভরা। লাগলে পেনড্রাইভ খালি কইরা লইয়াইবা। আনছো পেনড্রাইভ?

–      হ আনছি। ইইয়ে মানে অন্য কিছু নাই? মানে… বুঝছইতো।

–      আরে আস্তে কও মিয়া। বসে শুনবোতো? পেনড্রাইভ দাও ফেভারিট কিছু দিয়া দিই !!!!!!!!!!!!!

(কি বুঝলেন? কলিকালের আস্তিক আর কি!!!)

 

বিঃদ্রঃ বরাবরের মত এই পর্বও নীলকন্ঠ জয়ের ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে চুরি করা।তবে আইনের ৫৭ ধারা লঙ্ঘন হলে ক্ষমাপ্রার্থী।

প্রথম পর্ব যারা মিস করেছেন তারা নিচের লিংকে ক্লিক করেনঃ

http://www.sonelablog.com/archives/5847

৩০৩জন ৩০৩জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য