ঘূণে ধরা সমাজের ফুলীঁরা০২

মনির হোসেন মমি ২৭ জানুয়ারী ২০১৪, সোমবার, ১০:২৪:০২অপরাহ্ন বিবিধ ১৫ মন্তব্য

ঘূণে ধরা সমাজের ফুলীঁরা০১

ফুলীঁকে ম্যাডামের ঘাড় ধাক্কাটা এতটা জোর ছিল যে ফুলীঁ বাহিরে উপুর হয়ে পড়ে ঠোট কেটে রক্ত বের হয়ে যায়।ম্যাডাম দরজা বন্ধ করে দেয়।ফুলীঁ ধীরে ধীরে উঠে মেইন গেইটের দরজায় সামনে যেতেই প্রকৃতির অত্যাচার বৃষ্টির কবলে পড়ে।সিকুরিটি গেইট হতে ফ্লাটের মেইন গেইটের দু’পাশে ইটে সাজানো বাগানের বাউন্ডারীর উপর বৃষ্টির মাঝেই বসে পড়ে এমন সময় সাহেব প্রাইভেট কারে আসে।সিকুরিটি গেইট খুলে দিতেই প্রাইভেট কারের হেড লাইটের আলোতে স্পষ্ট দেখতে পেল ফুলীকেঁ।ফুলীঁ বাগানের হাসনা হেনা ফুলের গাছের সাথে জরোসরো হয়ে বসে ঠান্ডায় কাপছেঁ।সাহেব ফুলীঁর কাছে যেতে ফুলীঁ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সাহেব ফুলীঁকে আদরে সঙ্গে করে ঘরে প্রবেশ করতে অবাক হন।প্রায় ২০/২৫ জন অত্যাধুনিক মহিলারা আনন্দে মাতাল।প্রত্যকের হাতে শুইচকির গ্লাস সাহেব আর ফুলীঁকে দেখে ম্যাডামের রাগ আরো বেড়ে যায়।সাহেব নিঃশব্দে রাগান্নীত চোখে ফুলীঁকে নিয়ে ভিতরে চলে যায় ।ফুলীঁ তার রুমে গিয়ে ভেজাঁ ড্রেস পরিবর্তন করে ভাঙ্গা চকিতে শুয়ে পড়ে।ম্যাডাম পার্টি শেষে বেড রুমে ঢুকে সাহেবকে না পেয়ে খাটে বসে পানো সাপের মত জিদ্দে ফুস ফুস করছে কিছুক্ষনের  মধ্যে সাহেব বাথরুম হতে বেড রুমে প্রবেশ করে ড্রেসিং টেবিলে আয়নাতে চুল ঠিক করছে ম্যাডাম এখনও ফুফাচ্ছে।

-তুমি কাজটা কি ঠিক করলে?

-কোন কাজটা?

ম্যাডাম এবার সাহেবের সামনে আসে।

-তুমি কি আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দিবে না?

-অশান্তিতে কোথায় রইলে..দিব্যি শপিং করছ,পার্টিতে যাচ্ছো ঘরের ভিতর পার্টি করছ….কই আমিতো তোমাকে বাধা দেইনি।

ম্যাডাম এবার চেচিয়ে।

-কি আমি খুব শান্তিতে নাহ?হে খুব শান্তি…স্ত্রী হিসাবে কোন কথাটা তুমি আমার রেখেছো?বলো…বলো?আমি যাকে বাহির করলাম তাকে তুমি আবার ফিরিয়ে আনলে…আমার কথার কি দাম দিলে তুমি, বলো…….কি দাম দিলে?মেহমান সবাই তা দেখে ছি! ছি! করল।

সাহেব ধমকের সূরে….

-আস্তে কথা বলো…নিশু ঘুমাচ্ছে উঠে যাবে…তুমি কাদের মেহমান বলছ যারা স্বামী সংসার রেখে এ ক্লাব ও ক্লাব গুড়ে বেরায়….তাদের?তোমার কাছে ওরা মেহমান হতে পারে আমার কাছে শয়তানের দল।

-কি এত বড়ো কথা….ঠিক আছে….ঠিক আছে  আমি…আমি কালই বাপের বাড়ী চলে যাব।

-যেতে হয় যেয়ো…তবে এখন একটু চুপ করো,অনেক রাত হয়েছে… আমি ঘুমাবো।

সাহেব লাইট বন্ধ করে দেয় ঐদিকে ফুলীঁ সাহেব-বিবির ঝগড়ার শবদ শুনে ঘুমোতে পারেনি জেগে জেগে চিন্তা করছে….নাহঃ এ বাসায় আর থাকা যাবে না কালই যে তাকে এখানে দিয়েছে তার সাথে যোগাযোগ করে চলে যাবে।

ফুলীঁর মত আরো যারা আছে এই শহরে তাদের বাসা-বাড়ী কাজে লাগাতে আর এক স্বঘোষিত গোষ্টী কাজ করেন ।এই সব অসহায় কাজের লোকদের কাজে লাগিয়ে বেশ দু’পয়সা কামান।ফুলীঁর সর্দানীর নাম কাঙ্গালী জুলেখা ।কাঙ্গালী জুলেখা ফুলীঁকে এ বাসায় কাজে লাগাতে সাহেবের কাছ হতে পাচঁ হাজার টাকা এনাম নিয়েছিল।কারন গার্মেন্ট শিল্পের প্রসারে বাসা বাড়ীতে কাজের বুয়া পাওয়া খুব মুশকিল হয়ে গেছে তাই এ সব সর্দারদের কাছে ধন্যা দিতে হয়।সে সুযোগে সর্দররা দুপক্ষের কাছ থেকে টাকাতো নেয়ই বরং মাঝে মাঝে কাজের বুয়াদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে আবার কেউ কেউ বুয়াদের বেতন হতেও মাসে একটা অ্যামাউন্ট নিয়ে থাকেন।সে আজ সাহেবদের বাড়ীতে এসেছে ,কেউ আসতে বলেনি হয়তো ফুলীঁর কাছ থেকে নতুবা সাহেব-ম্যাডামের কাছ থেকে কিছু টাকা চাইতে এসেছে।এসেই ফুলীঁকে খুজ করে।ফুলীঁকে পেয়ে সে ভাল মন্দ জিজ্ঞাসা করে।ফুলীঁ তাকে এখান হতে নিয়ে যেতে বলে।

-কেন চলে যাবি?

-এমনি মন বসে না…

-মন বসে না বললেই হলো…জানস তোর পিছনে আমার কত টাকা খরচা হইছে?এখন বলছিস মন বয় না…কত আহলাদের কথা।

এরই মধ্যে ম্যাডাম দুতলা বেড রুম থেকে ড্রইং রুমে আসে।মেডামকে দেখে সর্দানি প্রভু ভক্ত পালা কুকুরের মত নম নম শুরু করে।মেডাম সোফায় বসেন সর্দানি কার্পেটের উপর বসে।

-শুনো জুলেখা তুমি মেয়েটাকে নিয়ে অন্য কাউকে দিবে।এ ব্যাপারে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করবা না আর তোমার খরচ যা লাগে আমার ম্যানাজার তোমার কাছে পাঠিয়ে দেবে, ঠিক আছে?

-ঠিক আছে মেম।

ফুলীঁর বকেয়া দু মাসের বেতন দিয়ে বিদায় করে দেয় ম্যাডাম সাহেবের অনুপস্হিতে।ফুলীঁও ম্যাডামের সাথে কথা বলে চলে যায় সর্দানির সাথে সর্দানির ভাড়া করা বাসায়।ফুলীঁ যাবার পথে বার বার বলছে সে বাড়ী চলে যাবে তাকে যেন বাড়ীতে যাবার ব্যাবস্হা করেন কিন্তু সর্দানির চিন্তা ব্যাবসায়িক তাই ফুলীঁকে তার ভাড়া বাসায় থাকতে বলে।দু এক দিনের মধ্যে অন্যত্র কাজে দিবে।ঐ দিকে ফুলীঁর গ্রামের বাড়ীতে মা বাবার কাছে কিছু টাকা পাঠায়।কয় দিন আগে ছোট ভাইটা স্কুলে তৃতীয় শ্রেনীতে উঠেছে তার জন্যও বই কিনতে হবে তাই প্রাপ্য দুমাসের বেতন হতে কিছু রেখে দিয়েছে বই কিনে সাথে নিয়ে যাবে বাড়ীতে তাই বাড়ীতে যাবার আবদার বার বার করছে।সর্দানি টাকার নেশায় ভূত,ফুলীঁর কথা কানেই নেননা।ফূলীঁর বয়সটা অল্প হলেও শারিরীক গঠন প্রনালী বেশ।ফুলীঁ এ বাসায় এসে অসস্হিবোধ করছে।কেমন যেন বিল্ডিংয়ের  গিজগিজে ঘণ বসতীপূর্ণ এরিয়া।চারদিকের ময়লা আর্বজনার অসহনীয় দূর্গন্ধ।লোকগুলোকে যন্ত্র মনে হয়।

ফুলীঁকে বিকাল বেলায় আর এক বাসায় নিয়ে যায়…সেখানে এক এনজিওর উচ্চ পদস্হ কর্মকর্তার বসবাস। সাহেবের একমাত্র বিধবা বড় বোন আর সাহেবের ছয় সাত বছরের ছেলে  ছাড়া আর কোন আত্মীস্বজন নেই।সাহেবের ওয়াইফ সন্তানের বয়স যখন চার পাচঁ তখনই পরকীয়া প্রেমের টানে টেক্সি ড্রাইভারের সাথে পালিয়ে যায়।তখন হতেই সাহেব একা আর বিয়ে করেনি।সেখানে শুধু ছেলেকে স্কুলে নিবে এবং আনবে এই  হলো ফুলীঁর কাজ।ফুলীঁ তার ব্যাগপত্র তার বরাদ্ধকৃত রুমে রাখে।এ বাসায় ফুলীর থাকার ব্যাবস্হা বেশ ভাল।সাহেবের ব্যাবহারও অনেক ভাল এখানে আসা চার মাসে ফুলীঁ তাই আন্দাজ করতে পেরেছে।শুধু রাতে সাহেব ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।এ বাসায় ভালোয় ভালো কেটে গেল প্রায় মাস ছয়েক।ফুলীঁর আর তর সইছেনা সে গ্রামের বাড়ীতে যাবে অনেক দিন যাবৎ মা বাবাকে দেখেনি মন কেবল ছটফট করে, কবে যাবে।ফুলীঁর বেতনের কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে কিছু বই ক্রয় করে বাসায় রেখে দেয় যে কোন সময় গ্রামে যাবার সুযোগ এলে সে নিয়ে যাবে।আজ রাতে ফুলীঁ মেম সাহেবের ঘরে ঢুকে কাপড় চোপরগুলো গুছাতে আলমারির দরজা খুলতেই চোখে পড়ে ফুলীঁর মেম সাহেবের লাল রংয়ের বিয়ের শাড়ী আর ব্লাউজ তা হাতে নিয়ে সে হারিয়ে যায় কল্পনায় ভালবাসার রঙ্গীন জগতে….আজ যদি সে কোন ধনীর দুলালী হত তাহলে সে একদিন তার মেম সাহেবের মত লাল রংয়ের বিয়ের বেনারশী শাড়ী পড়ে স্বামীর সোহাগী হতে পারত এখন তা আশার গুড়ে বালি মাত্র।সে কাপড় গুলো নামিয়ে একে একে পড়তে থাকে বেশ ভাল লাগছে তাকে সে আয়নার সামনে দাড়িয়ে বার সে শুধু নিজেকে দেখছে….কত মজাইনা জীবনটা বর আসবে পালকী করে বউ সাজিয়ে তাকে নিয়ে যাবে স্বামীর বাড়ী তারপর বাচ্চা কাচ্চার মধুর ঝামেলায় পড়ে থাকবে সারাক্ষন।কি অসম্ভব মনে শিহরণ জাগা অনুভূতি তাকে ভাবিয়ে তুলে।সে কিছুক্ষনের জন্য হারিয়ে যায় স্বামীর ভালবাসার চার দেয়ালে।হঠাৎ সাহেবের বোনের কন্ঠ চমকে উঠে…

-আইতাছি ফুফী

-ও ঘরে কি করিস?

-কিছু না,,,কাপড়গুলো গুছিয়ে এলাম।

-ঠিক আছে,,,তোর সাহেব তো এখনও এলোনা…মনে হয় আরো রাত হবে খাবারগুলো টেবিলে দিয়ে ওখানেই বসে থাক..আমি ঘুমাতে গেলাম।

সাহেব প্রায় প্রায় অনেক রাত করে বাসায় ফিরে আজও এর ব্যাতিক্রম হয় না রাত প্রায় বারোটা বেজে গেল এখনও আসছে না।ফুলীঁর চোখে ঘুম এসে যায়।খাবার টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।কিছুক্ষন পর সাহেব বাসায় ফিরে সাথে দু’জন মেহমান সাহেবের কোন অফিসের লোক হবে অথবা ব্যাবসায়ীক পার্টির লোক।ফুলিঁ কলিং বেল্টের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যায় ফুলীঁ দরজার সামনে এগিয়ে গিয়ে শর্তকতার ছিদ্র দিয়ে প্রথমে দেখে নেয় তার পর দরজা খুলে।ভিতরে ঢুকে সাহেব ব্রিফকেসটা ফুলির হাতে দেয় সাহেবের সাথে আসা লোক দুটো ফুলীঁর উপর চোখ পড়ে।সাহেব ফুলীঁকে খাবার খেয়ে এসেছে বলে লোক দুটোকে নিয়ে উপরে তার রুমে নিয়ে যায়।ফুলীঁ টেবিলের খাবারগুলো গুছিয়েঁ তার শোবার ঘরে যেতেই উপর থেকে সাহেবের ডাক পড়ে।ফুলীঁ উপরে সাহেবের রুমে গিয়ে হতভম্ম একি সাহেব এবং সাহেবের বন্ধুরা হুইচকির পশরা সাজিয়ে বসে আছে আইস লাগবে তাই ফুলীকে ডাকা হয়।

-শোন ফুলীঁ নীচের ফ্রিজ থেকে কিছু বরফ নিয়ে আসো।

ফুলীঁ মাথা নাড়িয়ে নীচে চলে আসে।এ দিকে ফুলীঁ উপরে আসার আগেই তারা ফুলীঁর ব্যাপারে কথাবার্তা বলাবলী করেছে।

-মেয়েটি কে?আপনার কোন আত্ত্বীয় স্বজন?

-না..কাজের মেয়ে….

বন্ধু দুজনে কি যেন ইশারায় বলাবলি করে…সাহেবকে জানায় সাহেব তাতে রাজি হয়।ফুলীঁ আইস নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে সাহেবকে না দেখতে পেয়ে ফুলীঁ তাদের প্রশ্ন করে।

-আর কিছু লাগবে?

-লাগবেতো কত কিছুই…তুমি এখানে বসো।

-না… আমি বইতে পারুম না আমার ঘুম আইছে….সকালে উঠে আবার মেলা কাজ।

দু’জনে হুইচকির রঙ্গীন পানিতে রঙ্গীন হয়ে আছেন ভাল মন্দ কি বুঝার জ্ঞান নেই…গ্লাগে মুখে রঙ্গীন পানি ঢালে আর চোখেঁ তাকায় ফুলীঁর দিকে।বেশ সুন্দর মেয়েটি যদি কোন বড় লোকের ঘরে জম্মাতো তবে সে নিশচয় সুন্দরী খেতাব পেতো।ফুলীঁর মনে সবে মাত্র যৌবনের জোয়ার আসতে শুরু করেছে তাই তাহার শাখাঁ প্রশাখায়ঁ কৃঞ্চচূড়া ফুলের লাল টকটকে রংয়ের বাহার লোক দুটির মনে কামনার তৃঞ্চায় যেন বহুকালের শুষ্ক মরুভুমির প্লট ভেজানোঁর অপেক্ষায়।ফুলীঁ দরজার খুলতে গিয়ে চমকে যায়! নরপশুদের পশুত্ত্বের থাবায় ফুলীঁর কুমারিত্ত্বে আঘাত এসে ফুলীঁকে করে নিঃস্ব পৃথিবীকে করে পর।

চলবে…

২৬৫জন ২৬৫জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

️️ 🍂️️ 💝 ️️ 🌟 🌺 💐 💥 🌻 🍄 🌹 💐 ⭐️ 🎉 🎊