ঘূণে ধরা সমাজের ফুলীঁরা০৫

আজ রাতটা মনে হয় ছোটনের জেলেই কাটাতে হবে কেউ আসেনি তার জামিন চাইতে আর থানা বাবারা জানেন ছোটনের নামে কোন মামলা লিখে লাভ নেই কেউ না কেউ আসবে তাকে জামিনে বের করে নিতে।অন্ধকার শ্যাত শ্যাতে ছোট্র একটি কামড়া,কামড়ার ভিতরেই টয়লেট সেখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী বসবাস করেন।অনেকক্ষন হয়ে গেলো জেলের ভিতর নিরামিস হয়ে ছটফট করছে ছোটন রাজাঁ ঠিক সেই সময় এক কয়েদী তাকে একটি প্যাকেট দেন।ছোটন প্যাকেটটি খোলে দেখে একটু হাফ ছেড়ে হালকা হন,যাক মনের খোরাক পাওয়া গেল। এখন রাতটা ভাল ভাবেই কাটবে।প্যাকেটটিতে ছিল দুটো ফেনসিডেল,এক প্যাকেট বাংলা ফাইভ ফাইভ সিগারেট এবং কিছু গাজা।জানা মতে,বাহিরে এ সব দুষ্প্রাপ্য হলেও জেলের ভিতর সহজ লভ্য।যাদের জেল খাটার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের বলার অপেক্ষা আর রাখে না।

রাত আটটা।জেলে কয়েদীদের মাঝে চলছে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে তাস খেলার আড্ডার সাথে মাদকের সেবন।ছোটনের আড্ডায় মন নেই কি যেন ভেবে নিশ্চুপ একা এক কোণে বসে সিগারেট টানছে একটার পর একটা।এমন সময় ছোটনের ডাক আসে,কে যেন দেখা করতে এসেছেন তার সাথে।ছোটন ভিজিটদের দেখা করার স্হানে গিয়ে অবাক হয়।ফুলীঁ!ফুলীঁ এবং সর্দানী খালা এসেছেন।ফুলীঁর চোখেঁ বিষন্নতার জল।খালা এগিয়ে গিয়ে ছোটনের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে।

-তোমার সাথে দেখা করতে নগদ পাচঁ শ টাকার একটি নোট দিতে হলো চোদানীর পোলা গো।তোমরা কথা বলো আমি একটু ঐদিকটায় জমিয়ে রাখি।

খালা অপর এক কামড়ায় পরিচিত এক পুলিশের সাথে আড্ডা জমিয়ে দেয় যাতে ফুলীঁ এং ছোটনের কথার মাঝে কেউ ব্যাঘাত না ঘটায়।ফুলীঁ এবং ছোটনের দূরত্ত্ব কেবল মাঝ খানের বেড়িক্যাট জালির বেশ লম্বা জানালা।জালির দুপাশে দু’জন কিছুক্ষন নীরবতা।ফুলীঁর চোখে জল ছোটনের চোখে নেশার আগুনে গরম জলের ছল ছলের আর্বিভাব।

-কি ব্যাপার তুমি কাদঁছো কেনো?কৈ আমিতো কাদঁছি না…….বলতে গিয়ে ছোটনের চোখ দিয়েও জল গড়িয়ে পড়ে মাটিতে।

-আপনিও তো কাদঁছেন।

-আমি কখনই জেলে এসে কাদিনিঁ এই প্রথম আমার দু’চোখ দিয়ে সুখের জল বয়ে গেল।আমার জন্য নয় তোমার জন্য কাদছিঁ ।কত বার তো জেলে এলাম-গেলাম।কত জনের কত স্বজনরা আসে শুধু এই পৃথিবীতে আমার কোন বান্ধব ছিল না যে আসবে,আজ তুমি এলে সেই সূখেই চোখে হয়তো জল এসে গেল।কিন্তু কেনো এলে কেনোই বা আমার জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করছ….সব ভূলে যাও মনে যদি তোমার কোন নতুন স্বপ্নের চড় জেগে থাকে তাকে ধ্বংস করে দাও।আমি পারব না ক্ষয়ে যাওয়া এ মনে অন্য কাউকে বসাতে অতীত স্মৃতি আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে……।

ফুলীঁ একটু হোচট খায় ভাবনায় মন চলে যায় বিরহের সূরে।অতীত স্মৃতি!তাহলে ছোটন কি বিবাহিত নাকি বউ বাচ্চাদের পিছুটান রয়ে গেছে।

-কি ভাবছ?

-নাহঃ কিছু না।

-তোমাকে স্পষ্ট করে বলা আমার কর্তব্য…তাই বলছি…।

আমি এক জারজ সন্তান আমার মা বাবার কোন পরিচয় নেই তবে শুনেছি আমার জম্মদাতা-জম্মদাত্রীরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিন্তু আমার কাছে তাদের  পরিচয় দেবার কোন কিছুই নেই।অনাথ অসহায় অন্যের আশ্রয়ে বড় হই, বড় হয়ে বুঝতে পারি আমি এক সন্ত্রাসী।ঢাকায় আমার বেড়ে উঠা।মিশন পাড়ার রেল লাইনের বস্তিতে এক এতিম শিউলী ফুলঁ বসবাস করত তার সাথে আমার সখ্যতা ছিল ছেলে বেলার বন্ধুর মত, “এক চেট এক পেট”তাকে আমি খুব ভালবাসতাম সেও আমাকে ছাড়া কোন দিন রাতে খাবার খেতে বসেনি….এক দিন এলো কাল বৈশাখী ঝড়!কাজ শেষে বাড়ী ফিরছিল হঠাৎ নর পশুদের আক্রোমনের বিষাক্ত নখের ছোবলেঁ তার কচিঁ মনকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেয়…..,।

….তখনও আমি কিছুই জানতে পারিনি। যখন ওর বাসায় গেলাম দরজা বন্ধ ছিল ।রাত দশটা “ও এখনও ফিরেনি!মনে চিন্তামণি ভর করে,,,ফিরে আসবার পথে চোখঁ পড়ে জানালার ফাকে….এগিয়ে গিয়ে জানালার ফাকে চোখ রাখতে চোখঁ আমার অন্ধ হয়ে গেল….শিউলী আমার…..একটি রশিতে দোলনার মত দুলছে।…..পরে সব কিছু জানতে পারি তার এক বান্ধবীর কাছ থেকে।শুধু তাই নয় আমার অপজিশনেরা আমাকে তার হত্যা মামলায় ঝুলিয়ে দেয়।তারপর!তারপর এখানে চলে আসি…….।এরপর বলো কি ভাবে কোথায় মনের কোণে তোমাকে বেধেঁ রাখি!ক্ষমা করো আমায়….ক্ষমা করো।

ততক্ষনে ফুলীঁর চোখঁ জলে আফছা হয়ে আসে ফলে ভালবাসার তীব্র সাধ যেন উৎলে পড়ে ছোটনের উপর।

-তারপরও তো জীবন চালাতে হবে….সেই জীবনে আমাকে রেখে দিন।

-আঘাত আসবে…ঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যেতে পারে আমার সন্ত্রাসী জীবন।

-সেখানে আমি তরী হয়ে ভাসিয়ে রাখব পৃথিবীর প্রান্তরে আপনার বংশ ধর।

-তুমি বুঝতে পারছ না….ভালবাসার মন্ত্রে তুমি অন্ধ।বাসায় যাও…..আমার বড্ড ঘূম পাচ্ছে।

ততক্ষনে প্রহরীর ডাক আসে,সাক্ষাতের সময় শেষ।ফুলীঁ চোখেঁ জল নিয়েই বাসায় ফিরে যায়।

মাাঝ রাতে চোখেঁ ঘূম আসে ছোটনের।ছোট একটি রুমে যেখানে ধারণ ক্ষমতার ত্রিপল পারসেন্স লোক বেশী এক সাথে থাকাটা কষ্ট সাধ্য।ফুলীঁ চলে যাবার পর রাতে ছোটন স্পেশাল টোকেন নিয়ে খাবার ক্যান্টিনে যায় সেখানে তার সঙ্গী হিসাবে পেয়ে যায় নগর কমিটির সাধারন সম্পাদক কাইউমকে,অপজিশন পার্টির থানা এবং জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েক জন উল্লেখ্যযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের।ছোটনের সাথে অনেক বিষয়ে আলাপ হয় স্হানীয় নেতাদের।ছোটন কাইউমকে দেখে অবাক হয়…কারন তাকে তো জেলে আসবার কথা নয় সেতো রানিং গর্ভমেন্ট পার্টির লোক। এলাকার অবিচ্ছেদ্দ্য প্রভাবশালীর ঘনিষ্ট জন।ছোটনকে  দেখে কাইউম ছোটনের সাথে হাত মিলান কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে লোকের ভির থেকে দু’জনে একটু আড়ালে চলে আসেন।

-ছোটন রাজা অরফে ছোটন…এই মাত্র ফোনে ভাইয়ের সাথে কথা হলো আপনাকে নিয়ে…।ইনশাল্লাহ্ সকালেই জামিন পেয়ে যাবেন।ভাইয়ার লোক আসবে আপনাকে নিয়ে যেতে……।

চলবে…

১৭৪জন ১৭৪জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য