ঘুম বুঝি আর হলো না

এস.জেড বাবু ৪ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০২:৫৬:৩৬অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৮ মন্তব্য

শশায় কি আর পেট ভরে! থাক্ – ৮০ টাকায় কিনবো না,
ফুলকপিটাও দেখতে দারুন, সীমটা ও তেমন মন্দ নাহ ।
মাছের বাজেট তিনশো হলো,
চারশো হলে কাতলা ছিলো;
ডালটা ও শেষ বলেই দিলো,
মাছটা কিনলে বলতে হবে, ওগো- ডাল মশলা আর হলোনা,
গেল পঞ্জিকায় মাছের ব্যাগে, বোয়াল কাতলা উঠলো না !
নিম্নবিত্তের টানাপোড়ন, আর এক জনমে শেষ হলোনা ।

কাঁচা বাজারের ব্যাগটা ভারী, আলুর তো কম ওজন না,
ডানের ব্যাগটা বিশ কিলো হবে, বাম হাতেও বারো আনা ।
ত্রিশ টাকায় রিক্সা নিলে,
খানিকটা না হয় স্বস্তি মেলে,
চায়ের জন্য দুশো গ্রামের ডানো কেনা হবে না,
জুতো জুড়া পেড়েক মারা, লাগলে পা’য়ে সয় না,
চার মাস ধরে কিনছি কিনবো, বাটায় যাওয়া হয়না ।

যখন- বিষ্ণুটা একাদশে, তখন অস্টমে সুনয়না,
সামনের মাসে পরীক্ষা ছেলের, স্কুল ড্রেসটা মেয়ের হবে না ।
বড় মেয়েটা শশুড় বাড়ি,
বেয়াইয়ের ভিষন জমিদারি,
ফটক থেকে ভেতর বাড়ি,
পাইক পেয়াদার ছড়াছড়ি,
হাজার টাকার মিস্টিতেও সবার হাতে রসে ভেজে না,
ট্রেনে বাসে ছয়শো লাগে, সেই ন’মাস – যাওয়া হলো না ।

দিন কেটে যায় যেমন তেমন, রাত্রিটা ভোর হয়না,
ফুসরত পেলে গিন্নি কাঁদে,
গরীব হওয়ার অপরাধে ;
বড় সন্তান মেয়েই ছিলো, কেন ছেলেটা বড় হলো না ।

একদিন,
বড় বাবু হেসে বলেছিলো কাকা,
বিষ্ণুর জন্য এই টেবিল টা রাখা ,
সাত বছরেও হিসাব রক্ষকের হিসেবটা আর বাড়ালো না ।
কম্পিউটারের যুগ এসে গেলো,
পাশের টেবিলে নিয়োগ হলো,
হাতের লিখা টালি খাতার; যুগটা তো আর রইলো না ।

বলি গিন্নি-
মাত্র তো- আর কয়টা বছর,
ছোকরাটার এমবিএর পর,
বড়বাবুর নতুন মিলে আমার চাকুরিটা তারই পাওনা ।
বুড়ো বুড়ি তীর্থে যাবো,
মেয়ের বাড়ি অতিথি হবো,
ওগো সে বাড়িতে এ বছর কি লক্ষ্মী পুজা হবে না ?
বেয়াইয়ের পত্র পেলাম সেদিন-
কোথাও নিমন্ত্রন যে লিখা ছিলো না___॥

গৌরীটা হয়তো চোখ বুজেছে,
মাজার ব্যাথায় কস্টে আছে,
নিতাই বাবু ও পাশ ফিরে-
হাজার লাইনের যোগের ভীড়ে,
কাজের ছুটি পাঁচটায় হলো, হিসেবের শেষ হলো না ।

গৌরী হটাৎ উঠলো ডেকে,
বুকের উপর হাতটা রেখে,
বলি শুনছো,
পোস্ট অফিসের বীমার খাতায়, দু লক্ষ কি হবে না ?
ছোকরিটারও চৌদ্দ হলো,
বড়’দা সেদিন বলে গেল,
লক্ষ টাকায় পণ হলেও, ভোজন লাখে হবে না !
ওগো – নিম্ন বিত্তের বালিশ হলো, ঘুম বুঝি আর হলো না ।

সেই দিনতো সেই কবেই গেল,
বাবার টেবিলে বিষ্ণু এলো,
আজ নিতাই বাবুর হাতে চিঠি, লিখবে ছেলের ঠিকানা
বাবা,
জ্বর সর্দি আর পেটের পীড়ায়, পথ্যটা ঠিক মিলছে না,
ছেলের হলো ব্যাংক একাউন্ট, শুধু পাল্টে গেছে সীমানা ।

বড়বাবুর নাতনী ছিলো,
নিতাই বাবুর বৌ-মা হলো,
জমিদারের মেয়ে- জমিদারী স্টাইল, কড়ায় গন্ডায় সেয়ানা ।
বিষ্ণুটা শিক্ষিত বটে, মানুষ হয়ে উঠল না,
সে বাড়িতে নিতাই বাবুর ভান্ডে অন্ন জুটলো না ।
নিম্ন-বিত্তের এই তো খুশি,
শূণ্য পেটে মুখে হাসি,
দিন বদলায়, কেলেন্ডার বদলায়, সময়টা যে বদলায় না ।

ছোটকিটার আজ অনেক কাজ,
সেই সে কবে ভেঙ্গেছে লাজ,
তিন তিনটে টিউশিনিতেও সংসার টা যে চলেনা,
বাবার পথ্য, মায়ের ঔষধ, এক হলে, এক হয় না ।

সেদিন মামা এলো, বুঝিয়ে গেলো,
এমনিতে আর চলে দিন ?
শেয়ানা মেয়ে বাবার কাঁধে !
সমাজ ধর্মের বেজায় ঋণ !!

ছোটকি বলে, আমি যাবোনা ফেলে,
মা বাবা আর কত্তো দিন ;
ওদের কাছে, সন্তানেরও আছে,
জন্ম দানের- জন্ম ঋণ ॥

নিতাই বাবু- বুঝল সবই, বুঝল না সুনয়না,
বুড়ো বুড়ি বেজায় খুশি, লাখেও এমন হয়না ।
এদিকে,
মেয়ের সুখের জন্য জীবন, আর যে রাখা যায় না,
আসলে,
নিম্ন-বিত্তের পেনশন শেষে, আর নি:শ্বাস নিতে হয়না ॥

-০-
-১১/১১/২০১৮
ছবি নেট থেকে

১৩০জন ৬জন
3 Shares

২৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য