গ্রহান্তরে

এস.জেড বাবু ৭ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ০১:৪৩:৩৯অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৬ মন্তব্য

দিনভর আষাঢ়ের গল্প শেষে,
অগোছালো সন্ধ্যায়,
কলমী ঝোঁপের আড়ালে সদা জাগ্রত কোলাব্যাঙ-
যতটা অধ্যাবসায়ে অপেক্ষায় থাকে;
পঁচা ডোবার জলে,
চাঁদের প্রতিচ্ছবির উজ্জলতায় উড়ে আসা-
ঘাসফড়িং শিকারের নেশায়,
ঠিক ততটা আগ্রহে চারপাশের প্রকৃতির নেশাক্ত চোখ,
ডান কোনের পলকহীন দৃষ্টিতে আজও নিদ্রা যায়,
তোমার আনাগোনার অপেক্ষায়- ।

দেখা পেলেই গ্রহন লাগবে চাঁদে,
যেন নতুন করে কেউ পড়েনা,
কেউ পড়েনা রূপের ফাঁদে।

খুউব জানতে ইচ্ছে করে,
সত্যি ইচ্ছে করে-
তাইতো সময় পেলেই মন,
অতীতের সৌরমণ্ডল চষে বেড়ায়,
সম্পর্ক নামের গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে।
মহাশূণ্যের ভাসমান রত্নভান্ডারের তুলতুলে পৃষ্ঠজুড়ে,
খুঁজে ফিরে তোমার স্বাগতিক পদচিহ্ন।
ছাঁয়াপথের প্রতি বিন্দু উজ্জ্বলতায়,
তোমার সাদৃশ্য খোঁজে হয়রান হৃদয়,
কখনো পিছু নেয় ছুটন্ত ধূমকেতুর।
অজান্তে অনুপ্রবেশ মধ্যাকর্ষণহীন ভিন্ন নিহারিকায়।
যে পথের শুরু আছে, শেষ নেই শেষেও ॥

এ কি অযাচিত উদাসীনতা ?
না শুধুই সস্তা অপেক্ষার অজানা আক্ষেপ ?

আরে নাহ্
এ হলো দীর্ঘ্যশ্বাসের জ্বালানীতে,
প্রতিনিয়ত সেন্ট্রিগ্রেট বাড়তে থাকা-
অত্যাধুনিক সম্পর্কের “মশাল” ॥
একদিন এ আলোর ছিটেফোটা পৌঁছে যাবে ততদুর,
তুমি লুকিয়েছ যে উপগ্রহে-
সোনার মন্দিরে, রূপালী খাঁচায় ।

ভয় পাচ্ছো ?
তবে, কিনে নিও এক টুকরো নিথর জলাধার ।
সমুদ্রচারীদের স্পর্শ সীমার বাইরে
মারিয়ানাট্রেঞ্জ এর মতো,
ধরিত্রীর দ্বিতীয় কোন গভীরতার একাংশ।
অথবা,
ধোঁয়াশা গল্পের আবরণে ঢাকা
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মতো ;
আরেকটি অজানা কোন রহস্যঘেড়া –
নিষিদ্ধ জলরাশির খানিকটা।

সীমানাহীন জলের গভীর রাজ্যে,
যুগান্তরে একফালি আলোর রশ্মী পেলেই
ভিজিয়ে নিও গা।
যতটা আয়েশে কারো হৃদয়ের চৌবাচ্চায়
সেরেছিলে নগ্ন স্নান।

ভয় নেই !
কৃষ্ণ হয়েছে দেশান্তর, আজকাল চুরি হয়না চুড়িদার,
অন্ধের রাজ্যে, আঁকা হয়না নিষিদ্ধ পোট্রেট,
বধিরের আঙ্গিনায়, হয়না সুরের তান্ডব।
হৃদয়হীন ভূমে, কেউ খুঁজে না কারো গন্ধ।

ওখানকার চির স্থবির গভীরতায়
মস্তিস্কহীন প্রাণ পাবে,
কোটি বছর ধরে একই ছন্দে কেটে যাওয়া
লাখো লাখো ভাবনাহীন
বিচিত্র জীবনের সারাংশ খুঁজে পাবে।

ওরা অনেকটাই তোমার মতো, এলিয়েন।

ওদের মহাজাগতিক হৃদয় আছে,
আলোর নিঃশ্বাস নেয়, অন্ধকার খাবলে খায়।
আর তোমার ও হৃদয় আছে- যান্ত্রিক,
হৃদয় ভাঙ্গার শব্দে নিঃশ্বাস নেয়,
অন্যের হৃদয়ের চর্বি গলিয়ে খায়।

ওরা মরায় কাঁদে না, জন্মে হাসে না।
ওরা অন্ধকারে সাচ্ছন্দে থাকে,
ওরা নিরালায় সুখি !
আর, তোমার সুখ আলোতে, কিন্তু আড়ালে ॥

তবে আর কি !
একদিন প্রত্যাশার মহাকাশযান ভেদ করবে
শতকোটি আলোকবর্ষ দুরে শনির দুর্ভেদ্য বলয়,
আশাটুকু নিরাপদে ল্যান্ড করবে
সেই টিকিট কাউন্টারের সামনে-
যে চিড়িয়াখানায়, তুমি দর্শনার্থীর অপেক্ষায় ॥

আচ্ছাহ্ !
সেই মুক্তমনা ঝিনুকের ভেতরটা কি এতো এতো বড় ?
ঘুমাতে পারো হাত পা মেলে আয়েশে ?

-০-
___২৭/১০/২০১৯

১৩০জন ৫জন
6 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য