গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ে হতাশ হবার উপকরন আছে ঠিক । ক্ষুব্ধ হওয়াও স্বাভাবিক । সবার মত আমিও ক্ষুব্ধ , তবে প্রকাশটা ভিন্ন । কিছু ভিন্ন চিন্তা এসে যাচ্ছে  ।

১ / শেখ হাসিনা নিজের সহ অনেক সহকর্মীর হত্যা প্রচেষ্টার (২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা) বিচারের চেয়ে রাজাকারদের বিচারে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশী । এটি কিন্তু অস্বাভাবিক । নিজের প্রতি সামান্য অবিচারের বিচার কিন্তু আমরা আগে করি , এরপর অন্যের , রাস্ট্রের । রাস্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রবল থাকলেই কেবল এটি সম্ভব । নিজের চেয়ে অন্য কিছুকে গুরুত্ব দেয়া কম কথা নয় ।

২ /  আমাদের প্রত্যাশা ফাঁসী ছাড়া আর কিছু নয় । শুধু প্রত্যাশা করেই আমরা শেষ । বড় জোড় শাহাবাগে উপস্থিতি , বেলুন উত্তোলন , মোমবাতি প্রজ্জলন । আর সব দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছি শেখ হাসিনার উপর । সে একা করবে । পুলিশ দিয়ে সে একা দমন করবে সবকিছু । আমরা দূরে দাঁড়িয়ে দেখবো , নিজে যেন না মরি তার ব্যবস্থা করবো ।

৩ /  ৭৫ সনের পর এতগুলো বছরে রাজাকাররা এক একটি হিমালয় পাহাড় হয়ে গিয়েছে । এই পাহাড় সামান্য সড়ানো কিন্তূ খুব সহজ না । গ্রেফতার যখন শুরু হলো , একটি ধারনা সবার মুখে মুখে ছিল – সাকা কে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে না , সাকাও মুখ বেকিয়ে বেকিয়ে দাম্ভিক ভাবে তেমনই কথা বলতো । কিন্তু সাকাকে ধরে ফেলা হলো , থেরাপিও দেয়া হলো।
গোলাম আযম কে গ্রেফতারের আগেও তেমন কথা উঠেছিল । তাকেও কিন্তু এক সময় গ্রেফতার করা হলো ।

পক্ষ এখানে দুটো – এক পক্ষ স্বাগত জানানোর জন্য বসে আছে । আর এক পক্ষ বিচারের চেষ্টায় আছে , জেলে নিয়ে করছে বিচার । সব রায় যদি জনতার কথা / আকাংখার মতই হতে হয় , তাহলে জনতা এভাবে বিচারের দাবী না করে – তাদের হাতে তুলে দেয়ার আন্দোলন করুক । বিচার ছাড়া ফাঁসীর আন্দোলন করুক , সময় নষ্ট করার কি দরকার ?
আর বেশী যদি আকাংখ্য থাকে , রাজাকার তো আরো আছে বাইরে – ধরে গণ পিটুনি দিয়ে মারুক দু- একটা । দেখি কেমন জোস জনতার ।

যদি কেউ ভাবেন জামাত এর সাথে সমঝোতার জন্য এই রায় দেয়া হয়েছে , তা সে ভুল ভাববে । এই সমঝোতা সম্ভব নয় । ১৯৯৬ সনে াওয়ামী লীগ জামায়াতকে আলাদা নির্বাচন করাতে সক্ষম হয়েছিল , পরিনতি জামায়াতের জন্য খুব খারাপ হয়েছিল , এ কারনে জামায়াত সমঝোতায় আর আগ্রহী হবে না । কেন করবে জামায়াত সমঝোতা ? লীগ কোন পয়েন্টে জামায়াতকে রাজী করাবে ? জামায়াত এর প্রেম এবং অস্তিত্ব বিএনপিকে ঘিরে , আওয়ামী লীগ কে ঘিরে নয় , এটা যে কোন পিচ্চি ছাগুও বুঝে । আওয়ামী লীগও জানে ।

আওয়ামী লীগের পিছু হটার কোন জায়গা নাই । বিচার প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আগানো ছাড়া । চেস্টা হতে পারে মখা বা মাল এর পিএস এর মত কিছু মানুষ এর মাধ্যমে – লীগের এই ব্যর্থতার কারনে ছাগুদের প্রতি কিছু সহানুভুতির বাতাস দেয়ার।

শেষ কথা – রাজাকারদের রাত দুর্বিষহ করার জন্য একমাত্র দল আওয়ামী লীগ । অন্য বড় দল দুটো রাজাকারদের রাতকে বানাবে ফুল সজ্জার রাত । সাজানো রুম , বিছানার উপর বিছানো গোলাপ ময় খাট আমি দেখতে পাচ্ছি – স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তিরও দেখতে পারা উচিৎ । আর যদি দেখতে না পারে কেউ  প্রবল ভাবে বিক্ষোভে সামিল হোক জামায়াত শিবিরের সাথে ।

অঃকঃ কিছু হেফাজত এবং শিবির কর্মী যারা  আজ দুপুর পর্যন্ত শাহাবাগ কে নাস্তিকদের মঞ্চ বলে চিৎকার করেছে , রায়ের পরে হঠাৎ তাদের ফেইসবুকের স্ট্যাটাস এ এমন লেখা আসছে ” এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজাকারদের বিচার সম্ভব না, এরা কোনদিন রাজাকারদের বিচার করবে না , প্রহসনের পাতানো রায় বাঙ্গালী মানবে না ”

 

১৯৭জন ১৯৬জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য