গুচ্ছ গুচ্ছ ভালোবাসা ♥♥

জুলিয়াস সিজার ১৩ মার্চ ২০১৪, বৃহস্পতিবার, ০৫:৫৭:৫৪পূর্বাহ্ন বিবিধ ১৮ মন্তব্য

১)তখন থার্ড ইয়ারে পড়তাম। হলে নিজের রুমে পড়ছিলাম। পাশের টেবিলে সিনিয়র ভাইয়া উনার ডায়েরি উল্টাচ্ছেন। আমি আড়চোখে উঁকি মারার চেষ্টা করছি। দেখি সেখানে কিছু গাঁদাফুলের শুকনো পাপড়ি। তিনি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এই শুকনো পাপড়ি ছিটিয়ে রেখেছেন।
আমি দুষ্টামি করে প্রশ্ন করলাম,” দাদা, এই ফুল কি গার্লফ্রেন্ড গিফট করেছে?”
তিনি বললেন, না ভাই। কোন এক বসন্ত বরণে উনার পছন্দের মেয়েটি এই ফুল খোঁপায় দিয়েছিলেন। তিনি নিয়মিত এই মেয়েকে ফলো করছিলেন। পরে অনুষ্ঠান শেষে মেয়েটি এই ফুল ফেলে দেয়। তিনি সেটাই যতনে কুড়িয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন।
এই মেয়ের পিছনে তিনি অনার্স সেকেন্ড ইয়ার থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ঘুরেছেন। কিন্তু ভালোবাসার কথা বলতে পারেন নি।
২) আমার ক্লাস শেষ হতো দুইটায়। আমার সাবজেক্ট ছিলো Mathematics। যারা Physics পড়তো তাদের আর একটু পড়ে শেষ হতো। কখনও কখনও প্র্যাকটিক্যালও থাকতো। আমার ভার্সিটি লাইফের সবচেয়ে কাছের বন্ধু Physics এর এক মেয়ের প্রতি দূর্বল ছিলো। আমাদের ক্লাস শেষ হলে সে Physics ডিপার্টমেন্টের সামনে গিয়ে বসে থাকতো যতক্ষণ এই মেয়ে ক্লাস থেকে বের না হয়। আমি কোনদিন তাকে সঙ্গ দিতাম আবার কোনদিন চলে আসতাম আমার রুমে। মেয়েটির ক্লাস শেষ হলে সে মেয়েটির পেছনে পেছনে প্রতিদিন ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত আসতো। তারপর মেয়েটি শাটল ট্রেনে করে শহরে চলে যেতো। আমার বন্ধু হলে তার রুমে। এইভাবে সেকেন্ড ইয়ার থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত। সেও বলতে পারেনি ভালোবাসি।
৩) একবার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে একজনের সাথে গল্প করছিলাম। কথা প্রসঙ্গে সেই একজন আমাকে বলেছিল,” তুমি অনেক চঞ্চল। তোমাকে বিয়ে করিয়ে দিলে ঠিক হয়ে যাবে। পাগল একটা।”
আমি প্রশ্ন করলাম, আমি চঞ্চল?
সে বলে হুঁ।
আমি পাগল?
### সে বলে হ্যাঁ, অবশ্যই।
বিয়ে করলে ঠিক হয়ে যাবে?
### সে বলে হ্যাঁ, বউ কান ধরে ঠিক করে নেবে তোমাকে।
আমি বললাম, তাহলে তুমি আমাকে বিয়ে করবে? তুমিই কান ধরে ঠিক করে দিও?
### সে বলল, তুমি আসলেই একটা পাগল। সবকিছুতেই রসিকতা। একটু সিরিয়াস হও জীবন নিয়ে।
আমি মনে মনে হাসছিলাম। সে বুঝতেও পারেনি আমি কি বলেছিলাম। হয়তো দুষ্টামি বেশি করি, একটু বেশি চঞ্চল কিন্তু আমার ভিতরে কষ্ট হচ্ছিলো ভীষণ। আমার দূর্বৃলতা হচ্ছে আমি অল্পতেই কাতর হয়ে পড়ি। আর আমার শক্তি আমি মনে মনে যতোই কষ্টে থাকি না কেন উপরে কেউ সেটা বুঝতে পারে না। আমি বুঝতে দিই না কাউকে। তাকেও দিইনি। আমি হাসছিলাম, সেও হাসছিল। কিন্তু একটি বিসর্জন যে হয়ে গেছে নীরবে তা সে বুঝেনি। তবে আজ থেকে অনেকদিন পরে কোনদিন তার এই ঘটনা মনে পড়বে। সে নিশ্চয় বুঝবে সেদিন।
এবং সবশেষে,
” তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান,
গ্রহণ করেছ যতো ঋনি ততো করেছো আমায়।
হে বন্ধু বিদায়……”
শেষের কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২১১জন ২১১জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য