গল্প : কাল রাত্রি গোপনে (পর্ব ১)

হিলিয়াম এইচ ই ১৩ আগস্ট ২০১৫, বৃহস্পতিবার, ০১:৪০:১৭পূর্বাহ্ন বিবিধ ৮ মন্তব্য

(বড়দের মুখ থেকে গল্প শুনে অনেক বাচ্চাই যেমন আলাদিন হতে চেয়েছে ঠিক তেমনি ভয়ে শিহরিতও হয়েছে। ছোটবেলার গল্পগুলো কে নতুন মাত্রা দিতে চাচ্ছি। এমনই একটা গল্প লিখলাম। রহস্যময় একটা কাহিনী। আশা করছি ভালো লাগবে।)

গভীর রাত। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছে। মাটির রাস্তা কাঁদায় একাকার। স্যান্ডেল থাকা সত্ত্বেও কোন কাজ হল না। পা কাঁদায় মাখামাখি। চারপাশের পাহাড় থেকে আসা পানি রাস্তাকে প্রায় তলিয়ে দিচ্ছে, আরোও কিছুক্ষন এভাবে বৃষ্টি পড়তে থাকলে রাস্তা হাঁটার অযোগ্য হয়ে যাবে। আকাশে কোন দৈত্য ঘন কালো মেঘেদের উপর চাবুক মারছেন আর অবাধ্য মেঘগুলো খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছে। তাদের হাসির বিকট শব্দে চারদিক কেপেঁ উঠে। বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় লোকটি রাস্তাঘাট ভালো করে দেখে নেয় লোকটা। পাহাড়ি রাস্তা, অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তার ওপর বৃষ্টি। মেঠোপথের পাশেই জঙ্গল। বৃষ্টির আনন্দে সাপ পোকা কোন কিছুই বাধাঁ মানে না। কাদামাটি ভেঙ্গে একটা লাঠি নিয়ে  লোকটি যাচ্ছিল সর্দারের বাড়িতে। সর্দারজি বাবা হবেন। খবর এসেছে, তাই এই রাতেও বৃষ্টি আর অন্ধকার কেঁটে তাকে যেতে হচ্ছে সর্দারজির বাড়ি। লোকটি যখন হাঁটায় মগ্ন হঠাৎ কেমন জানি একটা লোম পোড়া গন্ধ এল। গন্ধটা নাকে আসতেই লোকটা থেমে গেল। গন্ধটা ক্রমেই গাড় হতে লাগলো। ক্রমেই দুঃশ্চিন্তা বেড়ে গেল তার। কারণ এই গন্ধ টা সম্পর্কে তিনি জানেন। কিছুক্ষন পর লোকটা সামনে খাটো করে একটা অবয়ব দেখতে পায়। যার চোখটা জ্বলজ্বল করছে, দূর থেকে চোখের মণিটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। বিদ্যুতের আলোতে আবিষ্কার করলো ফর্সা খাটো করে কিছু একটা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। অদ্ভুত আকৃতির প্রাণীটি অচেনা নয় লোকটার কাছে। পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা সেই পথ থেকে কোন চিৎকার ভেসে আসে না। শুধু লাঠিটা পড়ে রয়।

**********************

আরমান সাহেবের টেবিলে এক গাদা ফাইল রেখে শফিক সাহেব বললেন,
– এই ফাইলগুলো বস দিয়েছেন। বলেছেন দু ঘন্টার মধ্যে কমপ্লিট করে তাকে দিয়ে আসবেন। মিটিং আছে।
– মানে কি এসবের? মাত্র দু ঘন্টার মধ্যে এই টপিক কিভাবে হ্যান্ডেল করবো আমি? আমার তো অনেক কাজ আছে।
– কি আর করার বলেন? কোম্পানী বেশ বড়সর একটা কাজ হাতে নিতে যাচ্ছে । শুরুতে একটু ধাক্কা তো লাগবেই, তারপর না হয় ঠিক হয়ে যাবে।
– হয়েছে, আপনার কথায় আমি আশ্বস্ত হতে পারছি না।
হাসতে হাসতে শফিক সাহেব চলে গেল। আর আরমান সাহেব ডুব দিলেন তার কাজে। ইদানিং কাজের চাপ এতো বেশি যে তার বাসায় ফিরতে ফিরতেই রাত হয়ে যায়। তারপর ফ্রেশ হয়ে খেয়েদেয়ে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমায়। সারাহ্ সাথে ভালোমত কথাও হয়ে উঠে না। পরিস্থিতি মেনে নিয়ে দুজনই আজ বড্ড ক্লান্ত।

মস্তবড় একটা ঝামেলা শেষ করে আরমান সাহেব বসের কাছে ছুটি চাইলো। আরমান সাহেবের পারফরমেন্স ভালো ছিল বলে বস না করতে পারেন নি। কিন্তু এই ছুটিটা কোথায় কাজে লাগানো যেতে পারে তা নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হল তাদের।
– চল কক্সবাজার যাই, যেখানে আকাশ আর সমুদ্র এক হয়ে গেছে সেখানে।
সারাহ বেশ উৎসাহ নিয়ে বললো। ছোটকাল থেকেই সমুদ্র তাকে পাগলের মতো টানে।
– আর কতবার যাবে কক্সবাজারে? সেই বাচ্চাকাল থেকেই তো যাচ্ছ সেখানে।
– তাহলে চল কুয়াকাটা যাই। সূর্যদয় আর সূর্যাস্ত দুইটাই দেখা যাবে।
– ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই সমুদ্র। তাই তো?
– তাহলে কোথায় যাব?
– দেখি কোথায় যাওয়া যায়! আমার মাথায় এখন কিছুই আসছে না।

ক্যান্টিনের টেবিলে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আরমান সাহেব বললেন,
– শফিক সাহেব, কাল থেকে তো আমার ছুটি কার্যকর হচ্ছে, কিন্তু কোথায় ঘুরতে যাব কিংবা বুঝে উঠতে পারছি না।
– কি যে বলেন, দেশে ঘুরতে যাওয়ার মতো হাজার হাজার জায়গা আছে, আর আপনি দ্বন্দ্বে ভুগছেন?
– সবখানেই তো ঘুরেছি উত্তর বঙ্গ বলেন আর দক্ষিণবঙ্গ বলেন। সবখানেই গিয়েছি। এখন নতুন জায়গায় নতুন স্বাদ নিতে চাইছি।
– নতুন স্বাদ? ঠিক আছে নতুন স্বাধের কথা যখন বলেই ফেললেন তবে শুনুন। আমি শুনেছি বান্দরবানে থানচি থেকে আরো একটু পুর্বে গেলে অনেকটা মায়ানমার সীমান্তের দিকেই আর কি, ওই জায়গাটা নাকি অনেক সুন্দর। বন, লেক, পাহাড়, ঝর্ণা যা চান তাই দেখতে পাবেন। জায়গাটার নাম রাইচু। থাকার মতো পুরনো একটা বাংলো আছে। একবার ভাবুন ভাবীকে নিয়ে এমন একটা এডভেঞ্চারে গেলে কিন্তু মন্দ হয় না।
– শুনতে তো ভালোই লাগছে। ওইদিকটাতে কখনো যাই নি বটে। আপনি রাস্তাঘাট সবকিছু বলতে পারবেন?
– আরে ভাই রাস্তাঘাট দিয়ে কি হবে? থানচি পর্যন্ত গেলেন, বাকিটুকু না হয় পায়ে হেটেই গেলেন। এডভেঞ্চার বলে কথা বুঝেন না? যতদূর শুনেছি ওখানে তাবু টাঙ্গিয়েও নাকি থাকা যায়। তাছাড়া আপনাদের তো পাহাড়ে ওঠা বাম হাতের খেলা, অনেক পাহাড়েই তো উঠেছেন।
– বুঝলাম, কিন্তু তাবু টাঙ্গিয়ে থাকা যাবে এটা কেমন জানি লাগছে।
– চোর ডাকাতের চিন্তা তো? সমস্যা নেই। শান্তি চুক্তির পরে ওই এলাকায় এসব আর হয় না। যেদিকেই তাকাবেন সেনাবাহিনীর লোকজন দেখবেন।
– তাই নাকি? তাহলে তো আজই যেতে হয়।
– আজ রাতের বাসটা ধরে ফেলুন।

যেই বলা সেই কাজ। তার দশটার বাসে করে আরমান সাহেব তার স্ত্রীকে নিয়ে রওনা দিলেন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। অনেকক্ষণ যাত্রার পর কুমিল্লায় কিছুক্ষণ যাত্রা বিরতি। তখন রাত প্রায় তিনটা। বাস থেকে নেমে আরমান সাহেব একটা লাইটারের অভাব অনুভব করলেন। সিগারেট আছে কিন্তু লাইটার নেই। আসেপাশে কোন টং দোকানও খোলা নেই। আর যেখানে আছে সেখানে ম্যাচ বা আগুন এই মূহুর্তে মিলবে না। আরমান সাহেব খেয়াল করলেন দূরে একটা লোক সিগারেট ধরাচ্ছে। তিনি ছুটে গেলেন সেখানে। কাছে যেতেই মনে হল এই লোকটা সুবিধার না। চুলে শেষ কবে যে চিরুনির ছোয়া লেগেছিল তা বলা মুশকিল। মুখ ভর্তি দাড়ি আর গায়ে একটা ময়লা কোট। আরমান সাহেব বুঝতে পারছিলেন না, লোকটার কাছে কি সাহায্য চাইবেন নাকি না। আর এরই মধ্যে লোকটা ঘুরে তাকালো।
– কি মিয়া, আগুন চাইবা, কইতে পার না?
ভাঙ্গা কর্কশ গলার লোকটি জিজ্ঞেস করলো।
– জ্বি না মানে…. আরমান সাহেব কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছিলেন না।
– ভয় পাইসো তাই না? ভাবসো এই রাইতে আন্ধারে তোমারে কি না কি কইরালাই? তাই তো? চোর ডাকাত ভাবসো?
– না আসলে ঠিক তা না।
– তোমার চশমার ভিতর দিয়া বাদামী চোখটা ঠিকই কইতাছে। ভয় পাইয়ো না।
– এই অন্ধকারে আপনি আমার চোখের রং জানলেন কি করে?
– আমি জানি, আমি জানি। এই নে আগুন ধরা।
লোকটা ম্যাচ বাড়িয়ে দিল। প্রথমে ভয় পেলেও ম্যাচটা হাতে নিলেন।  ম্যাচটা নিয়ে আরমান সাহেব অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
– কইলাম তো ভয় পাইতে না। লোকটি ধমকের সুরে বললেন।
এহনই যদি এতো ভয় পাস তাইলে পরে কি করবি?
– পরে মানে? আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না।
– কই যাস?
– রাইচু
– মায়ানমার সীমান্তের দিকে যাইতেসস, তাই না? রাইচু যাস?
আরমান সাহেব পুরাই অবাক হয়ে গেলেন। তারমানে রাইচুর কথা এই লোকটাও জানে।
– কিরে? হা কইরা তাকাইয়া আসোস কেন?
– না মানে রাইচু তাহলে আপনিও চেনেন?
– বুকে সাহস রাখিস। জায়গা ভালো না। আর কিছু কমু না। পারলে ওইখানে যাইস না।
– কিন্তু কেন? কি আছে সেখানে?
– তুই তোর বউরেও সাবধান কইরা দিস। তোর সিগারেট খাওয়া লাগবো না। ম্যাচ দে।
লোকটা ম্যাচটা নিয়ে নিল।
– কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আপনি কে? আমার সম্পর্কে এতকিছু জানেন কি করে? আর ওখানেই বা যেতে মানা করছেন কেন?
– তোর বউ এহনই ডাকবো। যা তুই।
কি আশ্চর্য সারাহ তখনই ডাক দিলো। চালকও বাস চালু করলেন। আরমান সাহেব কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছিলেন না।
– কে ওই লোকটা?      সারাহ জিজ্ঞেস করলো।
– কি জানি কে? পরিচয় দেয়নি।
– কি বললো তোমাকে এতো?
– বললো রাইচু নাকি ভালো জায়গা না, খারাপ। আবার যেতেও মানা করলো। কিসব কথাবার্তা বললো।
– তা নিয়ে এতো চিন্তার কি আছে? কে না কে তোমাকে কি বললো ওসব মাথায় রাখার দরকার নেই। লোকটা দেখতেও পাগলের মতো। বাদ দাও ওসব।
– হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ।
ভোর ছয়টা বাজে বাসটা বান্দরবানের পাহাড়ী এলাকায় ঢুকেছে মাত্র। পাহাড়ের উপর থেকে গাছপালার ফাঁকে ভোরের সূর্যোদয়, মিষ্টি আলো আবার নিচের দিকে তাকালে মেঘ সবকিছুই টুরিস্টদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলো। সারাহ জানালা খুলে দেয়। ভোরের স্নিগ্ধতা ছেয়ে গেল চারদিকে। উচুঁ নিচু পথ পেরিয়ে  বান্দরবান বাসস্ট্যান্ডে নেমে তারা রওনা দিল হোটেলের দিকে। আজকের দিনটা হোটেলেই কাটাবে। সন্ধ্যায় বাজারে গেল তারা। বান্দরবানে অনেক রকমের পিঠা পাওয়া যায় যেগুলো সাধারণ ঢাকায় পাওয়া যায় না। অনেকে এটার স্বাধও নেয়নি কখোনোই। কি সব বিচিত্র নামের পিঠা যেগুলোর নাম কারোরই মনে নেই। অনেক রাত হয়ে গেছে এবার না হয় হোটেলে ফেরার পালা।

পরদিন সকালে তারা বেরিয়ে পরলো। থানচি যেতেই তাদের চার ঘন্টার মতো লেগে গেল।
– কি রাইচু না ফাইচু যাকেই জিজ্ঞেস করি সেই দেখি চিনে না। …. উত্তেজিত হয়ে পড়লো সারাহ।
– আহা ধৈর্য্য ধর। এখানকার মানুষ এসব চিনতে নাই পারে। বুঝতে হবে আমরা এডভেঞ্চারে বেরিয়েছি। দাঁড়াও, আমার কাছে সেখানে যাওয়ার একটা ম্যাপ আছে।
– স্থানীয় লোকজন চিনবে না? এসব বুঝি না।
– আমি বুঝতে পারছি। সামনেই হাতের বামে একটা রাস্তা থাকার কথা। চল, হাটতে হবে।
তারা হাটতে শুরু করলো। ম্যাপ অনুযায়ী একটা রাস্তা পেয়েছে বটে কিন্তু রাস্তার যেই বেহাল দশা মনে হচ্ছে স্বাধীনতার পরে এর কোন সংস্কার করা হয়নি। কি করার এই ভাঙ্গা রাস্তায় যানবাহনের ঝাকি খাবার চাইতে হেঁটে যাওয়াই উত্তম মনে হল তাদের। কিছুক্ষণ পরে ম্যাপ দেখে আরমান সাহেব বললেন,
– সারাহ দেখ, আমাদের রাস্তা অনেক আঁকাবাঁকা। এতো ঘুরে না গিয়ে আমরা রাস্তা ছেড়ে শর্টকাট যাই।
সারাহর কাছেও বুদ্ধিটা মন্দ মনে হয়নি। শর্টকাট যেতে যেতে ছোটখাটো টিলা টপকে তারা তাদের রাস্তা পেল। তার উপর আকাশে কালো মেঘগুলো ঘুরাফেরা করছে। কেমন যেন গুমোট একটা ভাব। ম্যাপ অনুযায়ী ঠিক আসলেও রাস্তাটা মাটির। এ রাস্তায় কোন কালে গাড়িঘোড়া চলেছিল বলে মনে হয় না। তারমানে এখানে টুরিস্টদের আসা যাওয়া একেবারেই কম। লোকজনদের জিজ্ঞেস করতে করতে অবশেষে তারা পৌঁছুল বাংলোতে। ততক্ষণে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হচ্ছে। বাংলোটার নাম বাসন্তীতলা গ্রীন বাংলো। নামের সাথে এর সম্পর্ক আছে বুঝা যাচ্ছে। পুরান একটা বাংলো দেয়ালে শ্যাওলা ধরে এর রং আসলেই গ্রীন হয়ে গেছে। চারদিকে গাছপালায় ভরা, আর বাংলোর উঠোন জুড়ে মরা পাতার আস্তানা। বছরখানেক এটাকে ঝাড়ু দেয়া হয়নি। বাংলোয় টিনের চালেও একগাদা মরা পাতার স্তুপ। তারা বাংলোয় আসা মাত্রই চাদর গায়ে একটা বয়স্ক লোক লাঠি ভর করে ছুটে এলেন।
– কি চাই?
– জ্বি মানে আমরা এখানে আজকে থাকতে চাই।
– থাকবার আইসেন? … বয়স্ক গলায় লোকটি বললো
– হ্যাঁ, আজকের রাতটা এখানেই কাটাতে হবে দেখছি।
– অনেকদিন এহানে কেউ আসে নাই। তাই এই অবস্থা। চিন্তা কইরেন না, আমি পরিষ্কার কইরা দিতাছি। আসেন আমার সাথে।
হঠাৎ তাদের উপস্থিতি তে লোকটা বোধহয় কিছুটা বিরক্ত হয়েছেন। কেচি গেটটা খুলেই সামনে একটা বারান্দা, আর কয়েকটা রুম আছে বাংলোতে। কেচিগেটের বরাবর একটা রুমের দরজা খুলে দিলেন তিনি। লোকটার কেমন জানি একটা গা ছাড়া ভাব আছে। ভ্রু কুঁচকিয়ে বললেন,
– থাকার মতোন এই ঘরটাই আছে। বাকিগুলান ভালো না। ঐ দিকটাতে পাকঘর আছে। বাজার আইনা রাইন্ধা খাইবেন। ঘরের ভিত্রে গোসলখানা আছে।
– এখানে বাবুর্চি নেই?
কথাটা শুনে বৃদ্ধ লোকটা এমন ভাবে তাকালো যেন আরমান সাহেব তার কিডনী দাবি করে বসেছেন।
– এইখানে কারেন্ট নাই, এই মোমবাতি লাইটার রাখেন। জ্বালাইয়া নিয়েন। যান ভিত্রে যান।
লোকটা চলে যাবেন এমন সময় বললেন,
– আর একটা কথা, সন্ধ্যার সময় থিকা বাড়ির বাইরে যাইবেন না। দরজা লাগাইয়া রাখবেন। বাইরে থিকা কোন ধরনের সারা শব্দের উত্তর দিবেন না। আমিও আসমু না।
– সে কি! এটাকি জেলখানা নাকি? বের হব না কেন? ডাকাতি হয় নাকি এখানে?
একটু ভয় নিয়েই সারাহ্ জিজ্ঞেস করলো। বৃদ্ধ বললো,
– এখানে ডাকাত চোর এসব কিছুই নাই। যা বলসি তাই করেন।
– কিন্ত কেন? ঘুরতে এসেছি, জেলখানায় রাত কাটাতে তো আসি নি।
– এইটা ঘুরার জায়গা না। যান ভিত্রে যান।
লোকটার কথাবার্তা শুনে মনে হল উনি কিছু লুকাচ্ছেন। উনি বেশ বিরক্তও বটে। এলাকার মানুষ, যা বলেছেন ভালোই বলেছেন ভেবে আরমান সাহেব ঘরে ঢুকলেন। ঘরে গুমোট একটা গন্ধ, অনেকদিন বাতাসের চলাচল হয়নি এখানে। ঘরের কোনায় কোনায় মাকড়শার জাল অবাধ্যতায় বেড়ে উঠেছে। দেয়ালের রংটা নষ্ট হয়ে গেছে। বুঝা যাচ্ছে এর রং কোন এক সময় সাদা ছিল।যাই হোক, কিছু অক্সিজেনের দরকার ছিল ঘরটায়। আরমান সাহেব জানালাগুলো খুলে দিলেন। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে যে কারও মন ভালো হয়ে যাবে। এতো সুন্দর দৃশ্য আরমান সাহেব আগে দেখেননি। ঘরটায় একটা খাট, তার ওপর তোশক আছে। ব্যাগ থেকে চাদরটা বিছিয়ে শুয়ে পরলেন আরমান সাহেব। বড্ড ক্লান্ত তিনি। আর সারাহ্ ভালো করে ঘরটা দেখতে লাগলেন। ঘরের এক কোনায় একটা টেবিল আর চেয়ার আছে। চেয়ারটাতে আয়েশী ভঙ্গিমায় বসে সারাহ্ লক্ষ্য করলেন টেবিলে একটা খোলা ডায়েরি পরে আছে যার উপর পুরু ধুলোর আস্তরণ। সারাহ্ অবাক হয়ে বললেন,
– আরমান, টেবিলে একটা ডায়েরি পেয়েছি। অনেক আগের বোধহয়।
আরমান সাহেব চমকে গেলেন। মোমবাতি টা জ্বালিয়ে টেবিলের কাছে আসলেন। ধুলো ঝেড়ে ডায়েরী টা হাতে নিলেন।
– এটা দেখছি দু বছর আগের ডায়েরি।
– এতো পুরনো ডায়েরি এখানে খোলা অবস্থায়?
– সেটাই তো দেখছি।
– দেখ তো কার ডায়েরি এটা?
– হুম দাঁড়াও দেখছি। মোঃ রফিকুল ইসলাম। সে কি, এটা তো সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের ডায়েরি! উনি তো দু বছর আগে বান্দরবানে নিখোঁজ হয়েছিলেন। আজ পর্যন্ত কেও তার খোঁজ পায়নি। তার ডায়েরি এখানে কিভাবে???………… চলবে

৫৩৬জন ৫৩৬জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ