ট্রেন ছুটে চলছে। সাথে দুজনের স্বপ্নও ছুটে চলছে। রাতে ডিনার করেনি, কিছুটা ক্ষুধা লাগলো দুজনেরই। রেস্টুরেন্টের এক বয় বিশাল এক পলিথিনের বস্তায় বিভিন্ন খাবার নিয়ে এসে নক করলো দরজায়। প্যাকেট করা খিচুড়ি,কেক, বিস্কিট, চিপস, সফট ড্রিংক্স। সাম্য তৃপ্তির দিকে তাকালে তৃপ্তি শুধু চিপস আর কোক নিলো। স্টেশন থেকে কেনা কেক আছে সাথে। খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করলেও রান্না কেমন হয় এসব ভেবে বাদ দিলো তা।

মাথার পাশেই কাচের জানালা। রুমের এসিতে কিছুটা অসচ্ছ হয়ে আছে। তারপরেও মাঝে মাঝে ছুটন্ত ট্রেনে দ্রুত বিভিন্ন গ্রামের বিদ্যুতের লাইট গুলোর আলো মুহুর্তের মধ্যে দ্রুত সরে যাচ্ছিল। কথা হচ্ছে দুজনের আর হালকা খাবার খাচ্ছিল।

* আমি প্রেম চাই তোমার কাছে সাম্য। প্রেম করার আগেই তোমার আমার বিয়ে হয়ে গেলো। আমার কি প্রেম পাওয়া হবে না এ জীবনে সাম্য?
** এমন কথা বলছ কেন তৃপ্তি? আমি তোমাকে প্রেমে পূর্ন করে দেব।
* বিয়ের পরে পুরুষ কি প্রেমিক হতে পারে? তুমি ভালোবাসা দিতে পারবে। কিন্তু প্রেম?
** আমি প্রেম ভালোবাসা দুটোই দেব তোমাকে। আচ্ছা প্রেম বড় না ভালোবাসা বড়ো? প্রেম আর ভালোবাসা কি এক নয়?
* প্রেম আর ভালোবাসা এক নয়। তুমি আমাকে ভালোবাসায় ডুবিয়ে রাখতে পারবে, জানি আমি। কিন্তু প্রেম?
** প্রেম হীন ভালোবাসা কি সম্ভব তৃপ্তি? ভালোবাসার মধ্যেই তো প্রেম থাকে।
* আর প্রেমের মধ্যে বুঝি ভালোবাসা থাকেনা?
** আমাকে বুঝিয়ে দিও তুমি সোনা, প্রেম কোনটা আর ভালোবাসা কোনটা। তোমাকে আমি অপূর্ন রাখবো না তৃপ্তি।

* শিউর? 🙂
** হ্যা শিউর 🙂
* আসো শুয়ে পরি এখন। লাইট নিভিয়ে দাও।
** লাইট নিভাতে হবে কেন? আর লাইট নিভালে দেখব কিভাবে তোমাকে?
* হু নিভাতে হবে। রুমের বাইরে প্যাসেজে দু একজন হাটাচলা করলে ছিটিকানির পাশ দিয়ে দেখতে পাচ্ছি। এর অর্থ হলো বাইরে থেকেও আমাদের দেখতে পাবে কেউ ইচ্ছে করলে। আর আমাকে দেখতে সমস্যা হবার কথা নয়তো। তুমিই তো বলো আমার মুখ নাকি জোছনার মত উজ্জ্বল। তা জোছনা দেখতে লাইটের প্রয়োজন আছে নাকি? নাকি মিথ্যে বলো আমাকে? 🙂
** আচ্ছা আচ্ছা নিভিয়ে দিচ্ছি লাইট।
* লাইট নিভিয়ে এত ছোট বেডে কেন? তুমি উপরের বেডে গিয়ে ঘুমাও। এই বেডে নো ভ্যাকান্সি।
** আজ তোমাকেই আমার বেড বানাবো সোনা।
বেশ কিছুক্ষন দুজনের হাসাহাসির শব্দ সহ অনেক কিছুই ট্রেনের ঘটাং ঘটাং শব্দে চাপা পরে গেলো।

ঘন্টা খানেক পরে দরজা খুলে দুজনেই বাইরে গিয়ে টয়লেট সেরে এসে শুয়ে পরলো বেডে। ট্রেনের দুলুনিতে মানুষ কিভাবে ফ্রেস হয় এটি একটি বিশ্ময় হয়ে রইল দুজনের কাছেই। তৃপ্তি নিচের বেডে আর সাম্য উপরের বেডে কিছুটা কসরত করে উঠে শুয়ে পরে কিছুক্ষনের মধ্যে ঘুমিয়ে পরলো। তৃপ্তি শেষ রাত পর্যন্ত জেগে রইল। মাঝে মাঝে দু একটা স্টেশনে ট্রেন থেমে গেলে বসে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আধো আলোতে স্টেশন দেখতে লাগলো। আনন্দের অনুভূতি তার সমস্ত মন জুড়ে। শেষ রাতের দিকে কখন জানি ঘুমিয়ে গেলো তৃপ্তি।

সকাল ছয়টার দিকে ট্রেন চিটাগাং এসে পৌছালো। স্টেশনের হালকা কর্মচাঞ্চল্যের শব্দে সাম্য ঘুম থেকে জেগেই নীচে উকি দিয়ে দেখলো গভীর ঘুমে মগ্ন তৃপ্তি। কত নিস্পাপ উজ্জ্বল একটি মুখ। ঘুমন্ত তৃপ্তিকে এত সুন্দর লাগছে যা সাম্য ভাষায় প্রকাশ করতে পারছে না। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হলো। নীচে নেমে এলো সাম্য। গভীর মমতা আর ভালোবাসায় তৃপ্তির ঠোটে চুমু খেলো।
** তৃপ্তি ওঠো, চিটাগাং এসেছি।
তৃপ্তি তাকালো, মুখে পরিতৃপ্তির হাসি,

– চলমান

গন্তব্য স্বপ্নপুর : প্রথম পর্ব

১৭৯জন ১৯জন
30 Shares

২৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য