সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর আরেকটি ছোট নাম “খোকা”। শৈশব থেকেই খোকা দুঃখী ও গরিব মানুষের প্রতি দরদি ।

খোকা টুঙ্গিপাড়া গ্রাম ছেড়ে বাবার কার্যালয় গোপালগঞ্জ শহরে চলে যাচ্ছে। সেখানে ভাল স্কুলে ভর্তি হবে। মা ,ছোট ভাই -বোন ও গ্রামের বন্ধুদের ছেড়ে যেতে খুব খারাপ লাজছে তার ।

খোকা খেলাধুলা ভালবাসত। ফুটবল ছিল তার প্রিয় খেলা।

গ্রামের মানুষের নানা সমস্যা মর সমাধানেও সব সময় সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতেন খোকা । একবার একটি ঘটনা নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। দাঙ্গা -হাঙ্গামা ও মারামারি থামাতে কিশোর শেখ মুজিব ও তাঁর ফুটবল দলের বন্ধুদের নিয়ে ছুটে দুই ধর্মের মানুষের মাঝখানে দাঁড়ান। তারপর সাহসের সঙ্গে দুই দলকে বুঝিয়ে দাঙ্গা থামিয়ে দেন ।

স্কুলের এক শিক্ষকের সাংঘাতিক রকমের বসন্ত রোগ হওয়ায় তাঁর আপনজনেরাও তাঁকে সেবা করতে খুব ভয় পান। সে সময় কলেরা ও বসন্ত রোগ হলে মানুষ ভয় পেয়ে যেত। ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় সেবাকারীরাও অনেক সময় আক্রান্ত হয়ে মারা যেত। কিন্তু সব ভয় ও ভাবনাকে পেছনে ফেলে নিজের শিক্ষককে দিন-রাত সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তোলেন কিশোর শেখ মুজিব।

এনট্রান্স পরীক্ষা উত্তীর্ণ হবার পর শেখ মুজিব কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন উচ্চ শিক্ষার জন্য। সেই সময় সারা ভারতে বিট্রিশ-বিরোধী আন্দোলন চলছিল।কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন ধরে এই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের জন্মস্থান গোপালগঞ্জে মুসলিম লীগের শাখা সংগঠন গড়ে তোলেন তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

তরুণ নেতা শেখ মুজিবর রহমান জনদরদি মানুষ হিসেবে সর্বত পরিচিত। একবার রাজনৈতিক কাজে গভীর রাতে নৌকাযোগে রওনা দিয়েছেন। সেই সময় নদীতে প্রায়ই ডাকাতি ও লুটতরাজ হত। নদীপথে কিছুদূর যাওয়ার পর ডাকাতদল তাঁর নৌকার পিছু নেয় এবং হুঙ্কার দিয়ে নৌাকা থামাতে বলে। মাঝি ভয়ে কাতর হয়ে জিঙ্গেস করল – হুজুর কী করব? শেখ মুজিব নির্ভয়ে বললেন, তুই ওদের কথায় কান না দিয়ে জোরে জোরে চালিয়ে যা । নৌকা না থামায় ডাকাতরা খুবই ক্ষেপে গেল। অনেকক্ষন নৌকা বেয়ে ডাকাতরা শেখ মুজিরবর নৌকার কাছে এসে পরলে, শেখ মুজিব মাঝিকে বললেন, এবার বল, এটা শেখ মুজিবের নৌকা। সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতদের হুঙ্কার ও হতিভম্বি বন্ধ হয়ে গেল। নরম সূরে বলল সে কথা আগে বলবি তো।

শেখ মুজিবর রহমানকে ভালবাসতেন জনদরদি নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। শেখ মুজিব মওলানা ভাসানীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। ১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী দু’জন একসঙ্গে খালি পায়ে প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। তবে ১৯৫৩ সালে এই শহীদ মিনারটি ছিল না। এটি তৈরী হয় ১৯৫৬ সালে। ১৯৫৩ সালে ছিল চারকোণা স্তম্ভ।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ‘রাজনীতি’ গুরু। ১৯৫৩ ও ১৯৫৪ সালে সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবকে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছেন-সাধারণ মানুষকে জাগিয়ে তুলেছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সচেতন হতে হবে, দাবি আদায়ের জন্য সংগ্রাম কররত হবে এসব কথা বুঝিয়েছেন ।

১৯৫৪ সালে পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনের আগে মুসলিম লীগের বিরোধী দলগুলি যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। শেখ মুজিবর রহমান যুক্তফ্রন্ট গঠনে ও যুক্তফ্রন্টের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শেখ মুজিবর রহমানের।

১৯৫৪ সালের নির্বাচরন মুসলিম লীগকে হারিয়ে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেন। চীনের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা সভায় বত্তব্য পাঠ করেন। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের শ্রমমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর ডান পাশে ছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। পূর্ব-পাকিস্তানের শ্রমমন্ত্রী হিসেবে শেখ মুজিবর রহমান চীন সফরে গেলে গণচীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান মাও সে তুং-এর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান অতর্কিতে দেশের সমস্ত ক্ষমতা দখল করে নেন। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বহু নেতা ও সরকারি কর্মচারিদের বন্দি করে জেলে পাঠানো হয়। এবডো নামে কুখ্যাত কালো আইন জারি করে ৫ বছরের জন্য তাঁদের রাজনীতি করাও নিষিদ্ধ করা হয়। এদুটি বিষয় হলো আইয়ুব খানের সামরিক আইন জারি ঘোষণা এবং বন্দি শেখ মুজিবর রহমান।

আইয়ুবের সামরিক সরকারের জেল থেকে বের হওয়ার পর ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবর রহমান ৬-দফা দাবি তুলে ধরলেন। এই ৬-দফার প্রতিটি দফাই ছিল পূর্ব-পাকিস্তানের বাঙালিদের অধিকার ও যথাযত নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার। সামরিক সরকার মুজিবের ৬ দফা দাবিতে প্রচন্ডভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়ল।

৬ দফার মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসন পাওয়া গেলে পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকরা সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে এবং দু’টি অঞ্চলই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করতে পারবে। সে কথা বুঝাতে গেলে লাহোরে মুসলিম লীগের গুন্ডারা লাঠিসোটা ও ছোরা নিয়ে শেখ মুজিবের ওপর আক্রমন চালায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। বহুবার তিনি গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন। জেলখানার ভেতর থেকেও অনেক জনহিতকর কাজ তিনি করে যেতেন। জেলখানার মাঠে বা বাগানে গাছ লাগিয়েছেন। গাছের যত্নও নিতেন। কয়েদিদের জন্য যথাযত স্বাস্থসেবা ও উন্নত খাবার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদায় করতেন।

৬-দফা বাস্তবায়নের আন্দোলন সারাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করে তুলল। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের শাসকরা বাঙালিদের ঠকিয়েছে, পূর্ব-পাকিস্তানের ধন-সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নতির কাজে লাগিয়েছে-এ-সব বুঝে বাংলার গরিব চাষি-মজুর ও সব পেশার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। পাকিস্তান সরকার ভয় পেয়ে গেল। ৬-দফা দাবিয়ে রাখার জন্যে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে এক ষড়যন্তমূলক মামলা দিয়ে তাঁকে বন্দি করল। ইতিহাসের এই কুখ্যাত মামলার নাম ‘আগরতলা ষরযন্ত মামলা’। কিন্তু পূর্ব-পাকিস্তানের বাঙালিরা সারাদেশে ‘আগরতলা ষরযন্ত’ মামলার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে শেখ মুজিবুর রহমানকে জেল থেকে মুক্ত করে নিয়ে এল।

আওয়ামী লীগের ৬-দফা ও ছাত্রজনতার ১১-দফার আন্দোলন একত্র হয়ে শক্তিশালী সংগ্রামে সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানের মানুষ জেগে উঠল। ভয়ে অস্থির হয়ে পড়ল পাকিস্তানের তৎকালীন আইয়ুব সরকার। আন্দোলনের নাম ৬৯-এর গণআন্দোলন। ক্ষুব্ধু মানুষের তীব্র আন্দোলনে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটল। আইয়ুব খাঁ ক্ষমতা দিয়ে গেলেন আর এক যুদ্ধবাজ সেনাপতি ইয়াহিয়া খানকে। দেশের মানুষের প্রবল আন্দোলন থামাবার জন্যে ইয়াহিয়া খান সারাদেশে সাধারন নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন। 

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভয়াবহ এক ঘূর্ণিঝর ও জলোচ্ছাসের ফলে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে এলাকার দশ লক্ষ মানুষ মারা গেল, হাজার হাজার গবাদি পশু, ফসল, বন সম্পদের সাগরে তলিয়ে গেল। পূর্ব-পাকিস্তানের মানুষ এমন বিপদের সময়েও পাকিস্তান সরকার কোনো সাহায্য পাঠাল না বা সহানুভূতি দেখাল না। বরং ইয়াহিয়া খান তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তাদের আসল রুপটি প্রকাশ করল। তাই জনদরদি বাংলার মানুষের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বললেন -‘এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর’। আমরা আজ এ স্বকল্প করছি যে, উপুকূলীয় এলাকায় আমাদের ভাইদের উপর যা ঘটেছে, ভবিষ্যতে তা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না। পূর্ব-পাকিস্তানের বাঙালিরাও বুঝে নিল- এক হাজার মাইল দুরের পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে আর আমাদের থাকার দরকার নেই।

১৯৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জিতে গেল। মানুষের মনে আশা জাগল- এবার পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাবে শেখ মুজিবের দল আওয়ামী লীগ। 

নির্বাচনের জয়ের খবর নিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু যোগ দিয়েছেন। নেতাদের মধ্যে ছিলেন – তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী প্রমুখ। নির্বাচনে জয়ের পর জনতার উদ্দেশে শুবেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।

পাকিস্তানের ইয়াহিয়া সরকার কূটচাল চালল। কিছুতেই শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা দেবে না। পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বত্র লক্ষ-কোটি মানুষ আবার গর্জে উঠল-বিক্ষোভে ফেটে পড়ল – না, না, না, বাংলার মানুষ এই অন্যায় মানতে পারে না। বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন। ৭ই মার্চ রমনা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্দান) সমবেত লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানলেন। ঘোষনা করলেন-ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বত্র তখন এক কথা এক দাবি। ‘জয়বাংলা’ ধ্বনিতে সারাদেশ মুখরিত। দেশ চলছে শেখ মুজিবের নির্দেশে। ইয়াহিয়া খান ও জুলফিার আলী ভুট্টো আসল ঢাকায়। শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনার আড়ালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে গোলা-বারুদ ও সৈন্য আসছে। অবশেষে ২৫ মার্চ রাতে অতর্কিতে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের মানুষকে কামান দাগিয়ে গুলি করে হত্যা করতে শুরু করল তারা। সেই রাতে পুরো ঢাকা শহরকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করল। ৭২ ঘন্টায় কয়েক লক্ষ মানুষকে হত্যা করল নিষ্ঠুরভাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে বন্দি করে নিয়ে গেল পাকিস্তানে।

২৫ মার্চ ১৯৭১। রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক- কামানসহ প্রচুর গোলা-বারুদ নিয়ে অতর্কিতে নিরীহ মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ২৫ মার্চ রাত ১১ টা থেকে ৭২ ঘন্টা ধরে শহরকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস্থুপে পরিণত করল। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করল। ভয়ে মানুষ যেদিকে যেতে পারল পালাতে লাগল। শেখ মুজিবকে পাকসেনারা বন্দি করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে গেল। এদিকে চলল সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে জ্বালাও-পুড়াও গুলি ও ধ্বংসলীলা। 

আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতারা জড়ো হলেন কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১। মেহেরপুর বৈদনাথতলা গ্রামের আম্ব্রকুঞ্জ (Ambrokunje) তাঁরা আনুষ্ঠানিক ভাবে গঠন করলেন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন রাষ্টপতি। যেহেতু তিনি তখন পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি, তাই তাঁর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্টপতির দায়িত্ব পেলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী হলেন তাজউদ্দীন আহমদ। অন্য মন্ত্রীরা হলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান ও খন্দকার মোশতাক আহমদ। প্রধান সেনাপতি হলেন কর্নেল এম এ জি ওসমানী।

নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু আটক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের লারকানা জেলে। তাঁকে দেখিয়ে তাঁর জেলের পাশেই তাঁর জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধুর মনোবল বিপন্ন করার জন্য পাক হানাদার সরকার এমনি অনেক মৃত্যুর্ভয় তাঁকে দেখিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু পূর্ব-পাকিস্তানের স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের বিষয়ে অটল ছিলেন।

পাক হানাদার বাহিনী শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করল রমনার মাঠে ১৬ ডিসেম্বও, ১৯৭১ সালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শেষ পর্যন্ত লারকানা জেল থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হল পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তান থেকে লন্ডন- তারপর ভারতের দিল্লি হয়ে স্বধীন বাংলাদেশে ফিরে এলেন বঙ্গবন্ধু। দিল্লি বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধুকে শুবেচ্ছা জানালেন ভারতের রাষ্টপতি ভি, ভি, গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

১০ জানুয়ারি জাতির পিতা তাঁর সারা জীবনের সংগ্রামের ফসল মুক্ত বাংলাদেশে ফিরে এসে আনন্দে দেশবাসীকে শুবেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানালেন। তখন তাঁর দু’পাশে ছিলেন সংগ্রামী চার সুহৃদ- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

৪৭৯জন ৩৬৭জন
0 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য