খুচরো গল্প : পর্ব -১

সাবিনা ইয়াসমিন ১০ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, ০৭:০৫:৪৩অপরাহ্ন গল্প ২৭ মন্তব্য

* হাদিস_

= তুমি এবার খালা মনির টাকাগুলো ফেরত দাও প্লিজ। অনেকদিন হলো অর্ধেক শোধ করেছো বাকিটা দিচ্ছোই না। ঋণ রাখা ভালো না। ইচ্ছাকৃত ভাবে ঋণ রেখে দিলে আল্লাহ তায়ালা অখুশি হন।

– তুমি দিয়ে দাও। স্বামীর ঋণ শোধ করা অনেক সওয়াবের কাজ।

= কিন্তু আমি তো কোনো চাকরী করিনা, তাহলে শোধ করবো কিভাবে?

– সংসার খরচ থেকে টাকা বাঁচিয়ে মেয়েরা কতকিছু করে, আর তুমি এই সামান্য ঋণ শোধ করতে পারবে না?

= হু, পারবো ইনশাআল্লাহ। চিন্তা করোনা। আমি থাকতে তোমাকে কারো কাছে ঋণী হতে দেবো না।

এই তুমি আমার পার্স থেকে টাকা নিচ্ছো কেন! এগুলো তো আমার জমানো টাকা।

– মানে! বউয়ের টাকা কি আলাদা হয় নাকি! স্ত্রীর সব কিছুই তার স্বামীর। আর এগুলোতো আমারই টাকা। তুমি কি চাকরী করো নাকি!

= যদি আমি কারো কাছ থেকে লোন নেই তুমি পরিশোধ করবে?

– মানে! আমি কেন করবো? লোন যে করবে সেই তো পরিশোধ করবে।

 

* পরকীয়া_

– আজও মন খারাপ?

= হু, কাল তোমার ভাইয়া ঐ মহিলার সাথে সিনেমায় গিয়েছিলো। আমি জিজ্ঞেস করতেই গালাগালি শুরু।

– ধুর, বাদ দাও তাকে। সে যদি নিত্য -নূতন নারীর সাথে প্রেম করতে পারে, তাহলে তুমি করোনা কেন? তুমিও তো দেখতে কম সুন্দর না।

= নারে ইচ্ছে করে না। নিজের মানুষ পর হয়ে গেলে কেমন লাগে তা আমি জানি। আমি চাইনা অন্য কারো কষ্টের কারণ হতে। লক্ষ পরকীয়ার থেকে একটি সংখ্যা অন্তত কম থাকবে।

 

* সন্তান_

– কি ব্যাপার! আজ এত বাজার হাতে? বাসায় মেহমান এসেছে নাকি?

= হ্যা, আমার বড় সমন্ধি আর ছোট শ্যালক এসেছে। তারা দেশের বাইরে থাকেন। শাশুড়িকে আমাদের কাছেই রেখে যাবেন। তাদের সংসার অনেক বড়। তাদের ওয়াইফ, ছেলে-মেয়ে সহ সবাই চাকরী-বাকরী, পড়াশোনা করেন। বৃদ্ধা শাশুড়িকে দেখার কেউ নেই। তাই বলেছি এখন থেকে তিনি যেনো আমার কাছেই থাকেন।

– বাহ! খুব ভালো। আসলেই আপনার মত মানুষ হয় না। আপনার মা কেমন আছেন? শুনলাম তিনি অসুস্থ। কিছুদিন আগে হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। এখন কেমন আছে ? আপনার বাসায় এনেছেন?

= কেন! আমার বাসায় আনবো কেন? ছেলে কি আমি একা? আমি বাদেও তার আরও ছয় ছেলে আর চার মেয়ে আছে। সে তাদেরও মা হয়। তারা দেখলেই পারে। আর বাসাতেও এক্সট্রা রুম নেই। অসুস্থ মানুষকে এনে রাখবো কোথায়?

২৫২জন ১২জন
76 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য