সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে সবার জন্য শুভেচ্ছা। নতুন বছরে স্মৃতির ডালি নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। আমারা ভাড়াটিয়া ছিলাম একসময়। ঢাকার অলিগলিতে ভাড়া থাকিনি এমন এলাকা কমই আছে তবে খিলগাঁও সি ব্লক এর সাথে আমার জীবনের শৈশব কৈশর ও যৌবনের অনেক  স্মৃতি জড়িয়ে আছে।যা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

খিলগাঁও সি ব্লক। একটা ঐতিহাসিক ব্লক বলা চলে। অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষি। এই ব্লকে রয়েছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। সম্ভবত তার নাম বাকি। এই ব্লকেই দেখেছি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীরুপ। তখন খিলগাঁও বিশ্বোরোড এ চলত রাজনৈতিক মিছিল মিটিং। সেনাবাহীনির গোলাগুলি। কারফিউ। ধরপাকর। একদিনের ঘটনা। ১৯৯০ সাল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। রাজপথে তখন এখনকার মাঠকাপানো রাজনৈতিক রথিমহারথিরা। মুক্তিযুদ্ধা, রাজাকার, হাইজাকার কোনভেদ নাই। সবাই ঐক্যজোট। স্বৈরাচার মুক্তকরতে হবে দেশ। রাজপথে প্রায়ই দেখা যেতো শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, মতিয়া চৌধুরী, রিজভী, ইনু, মির্জা আব্বাস, আব্বাস আলী, নিজামী আরো অনেককে। সেদিন বিশ্বরোডে চলছিল মিছিল মিটিং। চলছিল কারফিউ। তখন আমরা থাকি ৫৪২/সি খিলগাঁও টুম্পাদের বাসায়। ওদের বাড়ীটি দুটি ভাগ। দক্ষিন পাসে আমরা আর উত্তর পাসে টুম্পারা থাকত। ওদের ঘরের একটি চিপা গলি ছিল। চিপা মানে ঘরের পাসের ছোট্ট একুট ফাকা জায়গা। যা দিয়ে ওপাসের গলিতে আমরা যেতাম। হঠাৎ শুনি চিল্লাফাল্লা, গোলাগুলির আওয়াজ, দৌড়াদুড়ি। কিছু বুঝতে না বুঝতেই দেখলাম কিছু মহিলা পুরুষ আমাদের বাসার খোলা মেইন গেইট দিয়ে ঢুকে পড়েছে। তাদের মধ্যে একজন কে আমি চিনেতে পেড়েছি। তিনি হলেন মতিয়া চৌধুরী। টুম্পাদের সে চিপাটা দিয়ে পরিমরি করে তার দলটি সমেত হাওয়া হয়ে গেলেন তিনি। এতোটা আকষ্মিক ছিল ঘটনাটা যে সে মূহুর্তে ভ্যাবাচেকা খেয়েগিয়েছিলাম।

সি ব্লকে আমার বন্ধু বান্ধব ছিল অগনিত। কাকে ছেরে কার নাম যে বলব বুঝতে পারছিনা। আমার বন্ধুদের তিন ভাগে ফেলেছি। প্রথম ভাগ আমার সহপাঠি, দ্বিতীয় ভাগ কমন বন্ধু এলাকার খেলার সাথী, তৃতীয় ভাগ বড় ভাই লেভেলের বন্ধু।

আমার সহপাঠি : আমার সহ পাঠির বেশীর ভাগই সি ব্লকের। ফলে তারা আমার খেলার সাথিও পড়ার সাথিও। ওদের মধ্যে আছে রিপন, সোহাগ, পিয়াল, সালাহউদ্দিন, হাসান আলী খোকন, আনিস, হাবিবুল্লাহ, মুকুল আরো অনেকে। আমার বড় ভাইও কিন্তু আমার সহপাঠি ছিল। তার নাম আবু নাসের খোকন।

কমন বন্ধু: আমরা তিন ভাই ডাকন নাম খোকন, স্বপন, সাঈদ। এলাকায় কিছু ছেলে আছে যারা আমারও বন্ধু আবার আমার বড় ও ছোট ভাইয়েরও। তেমন বন্ধু তালিকায় রয়েছে হাবিবুল্লাহ।

https://www.facebook.com/profile.php?id=100009101041008

ও শুধু আমার নয় আমার বড় ভাই ও আমার ছোট ভাইয়েরও বন্ধু। প্রাইমারীতে বড় ভাই আর আমি হাবিবুল্লার সাথে পড়েছি। হঠাৎ করে একদিন দেখি হাবিবুল্লাহ হাওয়া। স্কুলে আসে না। কই গেলো সে? সে নাকি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। বেশকিছু দিন মাদ্রাসায় থেকে আবার একদিন সে স্কুলে ঢুকলো । তখন সে আমার ছোট ভাইয়ের সহপাঠি। এ ছেলেটা শুধু আমার সহাপাঠি নয় আমার এলাকার একজন ভাল বন্ধুও। ওই প্রথম ইসলামী পাঠাগার এর সভাপতি কাশেম ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ওরই কারনে রাজনৈতিক অনেক প্রচারনায় অংশ নিয়েছি। অনেক ক্যানভাস করেছি। পাঠাগারের বিভিন্ন প্রোগ্রামে ওই আমার পাসে থাকতো। হাবিবুল্লাহ আর আমার জন্য কাশেম ভাই ঢাকা বিমান বন্দর এ তার অফিস (সম্ভবত কাষ্টম অফিস) থেকে দুটি জেকেট দিয়ে ছিল।

আরো একজন ছিল কমন বন্ধু আমাদেরে তিন ভাইয়েরই। তার নাম মেহেদী।

https://www.facebook.com/salam.mehedi

১৯৮৩ সালে কথা আমরা খিলগাঁও তিলপাপাড়া ছেড়ে সি ব্লকে প্রথম আসি ওদেরই ভাড়টিয়া হয়ে। মেহেদি তখন ক্লাস ওয়ানে কি কেজিতে পড়ে মনে হয়। ও ছিল আমাদের খেলার সাথি। তাকে ক্ষেপানোর জন্য একটি ছড়া তখন চালু ছিল- মেহেদী ডাল খেয়েছে ভাত খেয়েছে……………..দিয়েছে গন্ধ ছুটেছে। মেহেদীর শরির ছিল চিকনা চাকানা। হাত পা গুলো এমন ভাবে বাকিয়ে রাখতো যে অবাক করার মতো। ফেসবুকে মেহেদীকে পেয়েছি। কি করে এখন সে?

সবুজ আমার আর আমার ছোট ভাইয়ের কমন বন্ধু।

https://www.facebook.com/ehsanul.kabir.146

লাট্টু খেলা নিয়ে একবার সবুজের সাথে মারমারি করলাম। ও আমার বাম হাতে লাটিম ঢুকিয়ে দিয়েছিল। আবার আমার আব্বার কাছে আমার নামেই বিচার দিল। ফলে লাটিমের গুতার সাথে সাথে বাবার উত্তম মধ্যমও যোগ হয়েছিল। সবুজের বাবা আর আমার বাবা দুজন কিন্তু সাহপাঠি ছিল। সবুজের সাথে বহু বছর পর বাসাবোতে দেখা হল। ওরা সেখানে ভাড়া থাকে। দাড়ি রেখে হুজুর হয়েছে। সুইট একটা ছেলে আছে তার। বউ বাচ্চা নিয়ে সুখেই আছে।

ফিরোজ একজন শিল্পী।

https://www.facebook.com/profile.php?id=100009519432835&eid=ARB2b6HOFrOBM19JVg0PzJkEsUYDK6yu3YoeoXGzE1JXo5EHi6jsOgtnlcR1qymaSLM2wLFV5M_OTUYz

এলাকার ছেলে। আমার ছোট হবে। কিন্তু একই সাথে খেলা ধুলা করতাম। সেও সাঈদের বন্ধু। আমার বোনের বিয়ের সময় ঘরের অংকরন ,হলুদের ঘর সাজানো, বাসর ঘর সাজানো সেই করেছে। বড়ই কাজের ছেলে।

আরো একটি ছেলে আমার আর বড় ভাইয়ার বন্ধু ছিল। আমাদের ইয়ার মেট। সে পড়ত অন্য স্কুলে। খিলগাঁও মডেল স্কুল। সৈয়দ মহিউদ্দিন আলমগীর শাহজাদা।

হ্যাব্বি মেধাবী ছেলে। ওর সাথে পরিচয় হয় সাঈদের বন্ধু ফিরোজের ভাই সাইফুল এর মাধ্যমে। খুব ভাল ছেলে। ওরা দুই ভাই এক বোন। ওর ছোট ভাইয়ের নাম শাকিল। আর বোন এর নাম সুবর্ণা। ওরা খুব ধার্মিক। ওদের বাসায় কড়া পর্দা শাসন। অথচ এই বাসাতে আমার যাতায়ত ছিল নিজ বাড়ীর মতো। একটা উদাহরন দিলে বুঝা যাবে। ধরুন আমি ওদের বাসায় গিয়ে বললাম ফ্রিজে মিষ্টি টিষ্টি আছে? ব্যাস যদি থাকে সাথে সাথে হাজির। পর্দার ওপাস থেকে খাবার সাপলাই হয়ে যেতো। খালাম্মা খুব আদর করতেন। আমার মায়ের সাথে তার ভালই ভাব ছিল। ওদের সাথে আমারা শরিকে কোরবানিও দিয়েছি। কিছুদিন হল শাহজাদার সাথে হঠাৎ করে আমার দেখা । একটু নাটকিয় ভাবে। তুরাগ বাসে করে আমি যাচ্ছি মুগদা বোনের বাসায়। বাসে অসম্ভব ভির জায়গা নাই। ঠেলেঠুলে মাঝ বরাবর এলাম কোনমতে। উপরের রড খানা ধরে দায়িয়ে আছি। হঠাৎ নজর গেল সামনে বসে থাকা একজনের দিকে। চেনা চেনা মনে হয়, তবু যেন চেনা নয়। কে হতে পাড়ে? একজনের সাথে মিল আছে। সে কি? আমি তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে উচ্চারন করলম কয়েকটা নাম…………শাহজাদা, শাকিল …….দেখি সে আমার দিকে কেমন করে যেনো তাকাচ্ছে। আবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আমি আবার বললাম শাকিল……….সুবর্না। আর যায় কোথায় তরাকরে সিট থেকে লাফ দিয়ে উঠল সে। বলল তুমি তুমি…………মানে তালেব। যাক চিনছ অবশেষে। এরপর দুবার তার অফিসে গিয়েছি। ও উত্তরা ব্যাংক, বাড্ডা শাখায় আছে। ফেসবুক মারফত জানতে পেলাম কদিন আগে তার ভাই শাকিল বিয়ে করেছে। এমন কোন ঈদ ছিল না যে শাহজাদা আমাদের বাসায় আসেনি। আর আমি তাদের বাসায় যাইনি। চটপটি খাইনি। এরপর দুই ভাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। দুজনই আমার সাথে ঘুরতে পছন্দ করত। অথচ আজ তাকে দিলাম বাড়ীর ঠিকানা, মোবাইল নম্বর। কোন যোগা যোগ করল না। দোস্ত বউ পাইয়া ভুইলা গেলি আমারে…….।

এলাকার বড় ভাই: এলাকার বড় ভাইদের মধ্যে মাহবুব ভাইকে খুব মনে পড়ে। সাহিত্যিক মানুষ। কবিতা লিখতো। পাঠাগারের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলা চলে। আবুল কাসেম ভাইয়ের এক নম্বর খাস লোক ছিল। পড়ে কেন যে দুরত্ব হল আল্লাহই ভাল জানেন। বর্তামানে বৈদেশি হয়েছেন। তার সাথে অনেক সাহিত্য সভায় গিয়েছি। আমাদের পরিবারের সাথে বিশেষ করে আব্বার সাথে তার ভালই খাতির ছিল। বড় ভাই হিসেবে মাঝে মাঝে উপদেশ পরামর্শ দিতেন। তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল ২০০৮ সালের কোন এক মাসে নয়া পল্টন লেনে। রিক্সা করে কোথায় যেন যাচ্ছিলেন। এর পর আর যোগাযোগ ছিল না। ফেসবুকে তাকে পেলাম কয়েক বছর পর।

ইকবাল করিম নেপু ভাই। বিশাল নেতা। হেন লোক নাই তাকে চেনে না। তার সাথে রাস্তায় বের হলেই মহা ঝামেলায় পড়তে হয়। সামনে আগানো যায় না। একটু পর পর সালম দিয়ে পরিচিতরা কথা বলছে। ইসলামী পাঠাগারের সেক্রেটারি বলে না তিনি মানুষ হিসেবে মিশুক আর হাসি খুশি হওয়ায় সবার সাথে খুব সহজে বন্ধুত্ব করে ফেলতেন। এলাকার দল মত নির্বিশেষে সবাই তাকে ভালবাসতো। সেই কথা মাথায় নিয়ে হয়তো তৎকালিন ২৪ নং ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচনে দাড়িয়েছিলেন। তার প্রতিকটি সম্ভবত চাবি ছিল। আমি তার ভোটের ক্যাম্পেইন করেছি। ভোড় সকালে কমলাপুরে যেয়ে লুচি ডেকোরেটর থেকে রিক্সায় মাইক লাগিয়ে ক্যাম্পেইন করতে করতে আসতাম। মা বোনদের বলে যাই………চাবি মার্কায় ভোট চাই। একটি কথা সবাই বলে নেপু ভাই ভাল ছেলে। নেপু ভাইয়ের মুখের হাসি ….আমরা সবাই ভালবাসি। নানা শ্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা চক্কর দিতাম। নেপু ভাই আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মত আমাদের খোজখবর নিতেন। আমার বোনের বিয়েতে দুলাভাইকে খাশির রোষ্টটি ওনিই পরিবেশণ করেন। তার হাতেই আমার সামাজিক কাজকর্ম আর রাজনৈতিক কর্মকান্ডের হাতেখড়ি।
তার সাথে কত জায়গায় না গিয়েছে। কত বিয়ের দাওয়াত, মুসলমানির দাওয়াত খেয়েছি। কত নামি দামি লোকের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি। পাঠাগারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দাওয়াত পত্র নিয়ে কত নাম করা লোকদের বাসায় গিয়েছি। এদের কেউ এম.পি, কেউ কবি, কেউ বা বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার সাথে থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সবচেয়ে বড় কথা তার করিম একাডেমী কম্পিউটার সেন্টার এ কাজ করার সুযোগ দিয়ে তিনি আমাকে স্বাভলম্বি হবার রাস্তা করে দিয়েছেন। ১৯৯৯ সালের কথা । আমরা টংগীতে চলে এসেছি। আমার মায়ের পেটে একটা অপরেশন করতে হবে। তাকে ভর্তি করা হল মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। নেপু ভাই এ সংবাদ পাবার পর হাসপাতালে আমার মায়ের সাথে দেখা করতে এলেন। তার পরিচিত ডাক্তারদের আমার মায়ের ভাল ভাবে যত্ন নেবার জন্য বললেন। তিনি প্রয়াত কাসেম ভাইযের ডাক্তার বোন নামটা মনে নেই যিনি ঐ হাসপাতালেই প্রেকটিস করেনে তার সাথে আমদের পরিচয় করিয়ে দেন। মহিলাটি আমার মায়ের খুব যত্ন নিয়েছে।
শুনছি তিনি বর্তমানে ইসলামী ইনস্যুরেন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন। নেপু ভাই এর সাথে কতযে সৃতি বলতে গেলে আলাদা করে অন্যসময় বলতে হবে। তবে তার সৃতিগুলো আমার চিরজীবন সাথী হয়ে থাকবে।

রফিক ভাই: অন্ধগলিতে আমরা যখন আনসুর বিল্ডিং এ থাকি তখন তার সাথে আমার ঘনিষ্টতা হয়। তিনি ছিলেন এ গলিরই বাসিন্দা। স্বপন ভাই, তপন ভাই, রহমত ভাই, রফিক ভাই এদের মধ্যে রহমত ভাই ছাড়া বাকি তিন ভাইয়ের সাথেই আমার ভাল যোগাযোগ ছিল। অবশ্য রহমত ভাইয়ের সাথে পড়ে অন্যভাবে অন্য পরিবেশে অন্য ক্রিয়াকর্মে আমি সম্পৃক্ত হই। সেটা অন্য কাহিনি। তপন ভাই ইরানী সংস্কৃতি কেন্দ্রের একজন সদস্য। ইমাম খোমেনীর ভক্ত। প্রায়ই আমাকে ইরানী বিভিন্ন প্রকাশনা এনে দিতো। স্বপন ভাই নামাজ কালাম পড়ি তাই আদর করত । ইনিও ইসলামী পাঠাগারের একজন প্রতিষ্ঠাতা। আর রফিক ভাই ছিল অনেকটা বন্ধুর মতো। ইনিই আমাকে তার ভাই জনাব রহমত এলাহীর আন্ডারে যুবকের আইটিতে চাকুরি দিয়েছিলেন। তার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ। কারন সে মুহুর্তে চাকুরিটি আমার খুব দরকার ছিল। বাবা অবসরে যাবে ভাব। বড় ভাইয়ের সামান্য আয়। ছোট ভাই তখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। সংসারের হাল ধরতে একটা চাকুরীর বড়ই প্রয়োজন ছিল। রফিক ভাই কোথায় আছেন বর্তমানে যোগাযোগ নেই। তবে তার এ উপকার আমি কখনো ভুলব না।

নিউটন ভাই: পাঠাগারের নিবেদিত প্রান এক কর্মী। ওনিও এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। পাঠাগারের কাজে প্রায়সই ওনার বাসায় গিয়েছি। ফেসবুকে অনেকদিন ধরে ওনি আমার সাথে আছেন।

মারুফ ভাই: ওনিও পাঠাগারের একজন উদ্যোগক্তা। প্রয়াত কাসেম ভাই ওনার বাসার একতলাতে কিছুদিন ভাড়া ছিলেন। মারুফ ভাইযের এক ভাই ছিল একটু অসুস্থ। কিন্তু কষ্ট করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে মসজিদে যেতো। তার নামটা মনে করতে পারছি না। সোহেল কি? ওর সাথে আমার ভাল বন্ধুত্ব ছিল। তার কথা মাঝে মাঝে মনে হয়। ও কেমন আছে?

তমাল ভাই: আমাদের গলিতেই বাসা। ফর্সা গড়ন। একটু খাটো। তেমন মোটাও না চিকনও না। কথা বলেন একটু ঢাকাইয়া ভংগিতে কথা বলার চেষ্টা করলেও শুদ্ধ ভাবেই কথা বলেন। আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আমার বাবাবে খুব শ্রদ্ধা করতেন। বিকেলে তার সাথে মাঝে মাঝে আড্ডা দিতাম। ফেসবুকে সেদিন ওনাকে দেখালাম এক বিচিত্ররুপে। বিচিত্র পোষাকে। কিছুটা বাউলা, কিছুটা আউলা।

সাইদুল ভাই: আমাদের গলির প্রথম বাসাটা ওনাদের। তিনিও আমাকে উপদেশ আর পরামর্শ দিতেন। স্নেহ করতেন। তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল শাহবাগে। একটি রেস্তোরায়।

আরো অনেক বড় ভাই আছেন। যাদের নাম মনে নেই । চেহারা মনে আছে। সবাইকে সত্যি খুব মিছ করি। সবার মাঝে কতইনা আমোদ আহলাদে ছিলাম।

এ সি ব্লক ছিল আরো এক কারনে খ্যাত। খ্যাত না কুখ্যাত বলব। মাদক ব্যাবসার জন্য ক্রিমিনাল জোন হিসেবে থানার বিশেষ নজর ছিল এ ব্লকে। মাদক সম্রাট রাশেদ বাহীনির রাশেদের চারতলার বাসাটি ছিল খিলগাঁও সি ব্লকের অন্ধগলিতে। রাশেদের বাবা ছেলের দাপটে চলত। এলাকায় কিছু হলেই বলত রাশেদ কে বলে হেন করবো তেন করবো। রাশেদের বুড়ু বাপের কথায় কেউ কিছু মনে করত না। অনেকটা একঘরে জীবন যাপন ছিল লোকাটার। রাশেদ বাহিনীর মাদকচক্রের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে এলাকার গন্যমান্যদের নিয়ে আমরা এলাকায় মাদক বিরোধী কমিটি করেছিলাম। আমিও সেই কমিটির সদস্য ছিলাম। গন্যমান্যদের মধ্যে ছিলেন এলাকার কমিশনার, সবুজবাগ থানার ওসি, এলাকার রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। দলমত নির্বিশেষে একতায় জেগেছিল এলাকাবাসি। কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল মাদক সম্রাট খ্যাত রাশেদ ও তার বাহিনী। আর এর ফলেই ঝড়ে গেল একটি তাজা প্রান। একটি নয় এর পর আরো একজন একই পরিবারের।
আমার ছোট ভাই সাঈদের অনেক বন্ধু বান্ধব। তার স্বভাব হলো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেযা আর মুনজাত ধরা। মুনাজতা! ভাবছেন ভালইতো সহিহ লাইনেতো আছে। আরে ভাই! এটা হলো তাসের মুনাজাত। বড়ই কঠিন নেশা। আমার মা- বাবা ওর পড়াশুনা নিয়ে চিন্তা করতোনা । সে যথেষ্ট মেধাবী। তাদের চিন্তা ছিল ঐ মুনাজাতের আড্ডা নিয়ে। ফাক পেলেই আড্ডাবাজি। সাঈদের বন্ধুদের মধ্যে একটি ছেলে নাম বাবউ। হঠাৎ করে নিজেকে পাল্টে ফেলতে চাইল। নামাজ ধরল। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হল। বিশেষ করে মাদক এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদি হল। সে আমাদের মাদক বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিল। ছেলেটি সাহসি ছিল। তার কারনে মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের এলাকায় বেকাদায় পড়ল। তার এহেন কর্মকান্ড পছন্দ হল না রাশেদ বাহিনীর। তাকে খেজুর গাছের সাথে বেধে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করল তারা। বাবুর মুত্যুতে আমাদের আন্দোলন আরো জোরদার হল। রাশেদ বাহীনির সবাই ফেরার হল। তাদের ব্যাবসা লাটে উঠল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত বাবুর মেঝো ভাই। যাকে আমরা শরিফ ভাই বলে ডাকতাম। পার্টি করত। লোকে মুখ শুনতাম তিনি নাকি নাম করা ক্যাডার ছিলেন। ছোট ভাইযের মৃত্যু সহজ ভাবে নিতে পারেননি। ঢাকায় এসে আমাদের আন্দোলনের সাথে শরিক হলেন তিনি। শুরু হল কঠিন অভিযান। না পুলিশি নয়। নিজের উদ্যোগে বাবুর ভাইই খুজে বের করলেন রাশেদ বাহীনির অন্যতম সদস্য বিদ্যুত কে। সিরিয়াছ মার দিয়েছিলেন। একটা চোখ বোধ হয় নষ্ট হয়ে গেছিল ছেলেটার। বিদ্যুতো থাকত সি ব্লকে সাতিলমা মসজিদের কাছে। মাঝে ঝিল। এপারে বাবুদের বাসা আর ও পাসে বিদ্যুৎরা ভাড়া থাকতো এক বাসায়। ১৯৯৮ সালে আমরা টংঙ্গিতে চলে আসি। ফলে এর পরের তথ্যগুলো আমার শুনা।
বাবুর সেই ভাইকেও হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছে বিদ্যুতেরই ভাই। আর রাশেদরা ধরা পরে। তার বাবা বাড়ি বিক্রি করে চলে যায়।সর্বশেষ খবর হলো ৩/৪ বছর পর  রাশেদ জেলখানায় মারা যায়।
(চলবে)

 

৩২২জন ২৪২জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ