মন খারাপের দিনগুলি!

রোকসানা খন্দকার রুকু ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ০৮:৫৫:৫০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৯ মন্তব্য

“চল তুই রেডি হ সোনেলার সাথে চল,

খুশির আমেজে সব হাঁটছে খালি পায়”।

দেখত এলাম।খুব ভিজছে সবাই সোনেলার বৃষ্টিতে বোঝাই যাচ্ছে।অসাধারণ লিখিয়েরা একেবারে বান ডেকেছে!নিজেকে শামিল করতে না পেরে খারাপই লাগছে।কারন আমি বাঁশের মধ্যে আছি।

“দিননাকি যখন খারাপ যায় তখন যায়ই।”

তারপরও সবাইকে বৃষ্টি স্নাত ভালোবাসা।

বৃষ্টির এমন দিনে মন খালি আনচান আনচান করে ।পানি ছুঁতে ইচ্ছে করে।বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করে।কিন্তু এবার আর ভালো লাগছে না।এত ঝরছে যে জনজীবন বিপর্যস্ত। বেশি কোনকিছুই আসলে ভালো না।

আমার তো রীতিমতো বিষফোঁড়া,সতীন হয়ে গেছে। কারন আমার অতি প্রিয়,অতি পছন্দের একজন মানুষকে তার জন্য হারাতে বসেছি।ঘটনা এমন-

অসাধারণ একটি বৃষ্টির ভিডিও দিয়েছেন তিনি ফেবুতে।আমি লিখে দিলাম-ভালোনা।বৃষ্টি প্রেমি মানুষ নিজের থেকেও বৃষ্টি বেশি ভালোবাসেন এই ভেবে আবার মজা করে লিখলাম তিনিই ভালো না।আমি যাকে বেশি পছন্দ করি এভাবেই মজা করে বলি।মজা সাজা হয়ে কাজ খানা বানরের মত হয়ে গেল।”বানরকে লাই দিলে মাথায় ওঠে”।আমিও তেমন উঠেছি।সারারাত টেনশানে ঘুম হলনা।সরি বলার সাহসও পেলাম না।সাহস যখন দেখালাম সরি বলার তারপর থেকে দেখছি তিনি লাইনেই নাই নাকি অন্যঘটনা তাও বুঝতে পারছি না। ব্লকের চিন্তায় আছি।

এ চিন্তা যেতে না যেতেই এল জ্বর। কদিন আগে কলেজের বন্ধু বান্ধবরা এসেছিল।তাদের সাথে বেড়াতে গিয়ে ভিজে এসেছি।জামাই বলে  বন্ধুদের সাথে ভেজ বৃষ্টিতে। আমার সাথে তো কখনো ভিজলা না।এমন মিছা কথার উত্তর আমার জানা নাই। তাই মিছা বাঁশে চুপ!

জ্বর তাই সবাই ফোনে খোঁজ খবর নেয়। একমাত্র রেজওয়ানা দিপ্তী এল আমায় দেখতে আনারস নিয়ে।ওর বোধহয় করোনার ভয় কম।ওকে পাশে পেয়ে একটু ভালো বোধ করলাম। আমি একা আছি মা গ্রামে। রান্না করে দিল। দুজনে বসে গল্প করছি আর সে আমার ফোন নাড়াচাড়া করছে।

জানতে চাইলো কিছু লিখেছি কিনা। পড়তে দিলাম।বলল,দাও ব্লগে দিয়ে দেই।

হঠাৎ বলল- আপু তোমার ফেবুর প্রফাইল আপডেট নাই,কিছু লেখও নাই।কি অবস্থা!এ রকম কেন তুমি?

বললাম- দে তো ঠিকঠাক করে।

বেচারা খুব খাটাখাটি শুরু করে দিল।এত খাটিয়ে মায়া হল।গেলাম কফি বানাতে।কফি খাচ্ছি  দুজনে ।ভালোই চলছে গল্প।

শুরু হল টুকটুক করে ম্যাসেজ আসা। শুভ কামনা, শুভেচ্ছা, দাওয়াত দিলেন না।ভাবলাম ভাগ্নীর বিয়ের কথা বলছে বোধহয়!

বড় ভাই জামালপুর তথ্য অফিসার ফোন দিল- তোর জ্বর কি বেশি? গট ম্যারিড দিয়েছিস কেন?

দিপ্তী কে খুন করতে ইচ্ছে করল।চিৎকার দিলাম।এটা কি করছিস তুই?

সে নির্বিকার- তোমার ফেবুর প্রফাইলে আনম্যারিড ছিল,ম্যারিড করেছি।আর একটা ছবি এ্যাড দিয়েছি।ওরকমই হয় টেনশান নিওনা।

তারাতারি ডিলিট কর।তারপর থেকে ম্যাসেঞ্জার ভরে গেল।তোর কবে ডিভোর্স হল , আবার বিয়ে করলি,কিরে তুই কিছু জানালি না,আর কিছু কথা তো বলাই যাবেনা।

একটা জিনিস প্রমান হল,ওইটুকু সময়ে অনেক মানুষ(ক্যাডার বন্ধুরা)দেখে ফেলেছে।যাঁরা কোনদিন লিখলে কমেন্ট দেয়না কেমন লিখেছি।তারমানে আমার হ য ব র ল এতদিন পড়েছে।শুধু শুধু লেখা বন্ধ করেছি।

ভাগ্নির বিয়ে। ফেবুতে তিনদিন ধরে দেখছি। মেহেদী,রংখেলা,হলুদ, নাচগান আজ বিয়ে হবে।আমি ছাড়া সবাই নাচানাচি করছে।এমনি মন খারাপ। তারউপর ব্রতি ফোন দিয়ে বলে-আপু আমার ওয়াল থেকে ছবিটবি নিয়ে শেয়ার দাও।রাগে মাথাটা আগুন হয়ে গেল।

কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছি না।

সোনেলা আমার অল্প সময়ের হলেও মনে হচ্ছে দীর্ঘ দিনের,প্রেম,ভালোবাসা,ভালোলাগা,মমি ভাইয়ের মত পরকীয়া।তাতে লিখতে পারছি না অথচ ভেবে রেখেছিলাম জন্মদিনে ফাটাফাটি কিছু একটা লিখব।সবারটা পড়ব,কমেন্ট করব কিচ্ছু হল না। মাথা কাজ করছে না। কমেন্ট করতে গেলেই উল্টাপাল্টা কথা লিখে ফেলছি। স্বান্তনা একটাই এটা আমার পরিবার।পাগলামী করলেও কেউ পাগল বলবে না। তাই স্বান্তনা,ভালোলাগা,ভালোবাসা সব কুড়োতে চলে এলাম।

দেরিতে হলেও শুভ জন্মদিন সোনেলা।তুমি থাকো আজীবন কারন তুমি না থাকলে আমরা থাকতে পারবনা।।।

আর শুভ রাত্রি আমার সোনেলার বন্ধুরা।

 

২৬১জন ৭৯জন
0 Shares

২৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য