একটি পারিবারিক কলহ।এ দেশে নতুন কিছুই নয়।কিন্তু সমস্যাটা বড় হয় তখনি  যখন পরিবারে কোন এক পক্ষ যদি প্রভাবশালী হয়। তেমনি এক গল্প বলবো যা বাস্তবতার নিরিখে দেখা।ঘটনার সময় আমি অফিসে।অফিস হতে রাত ১১টায় এসে দেখি খুব দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটে গেল আমার এলাকায়।

রাত অনুমানিক নয়টা বাজে। একটি অত্যান্ত দামী গাড়ীতে করে এলেন এক জন রানিং মহিলা এমপি।সাথে নিয়ে এলেন তার কিছু অস্ত্র ধারী লোক জন।যে বাড়ীটিকে উদ্দ্যেশ্য করে এসেছিলেন তারা প্রথমে সেই বাড়ীর গেইটে এসে দম্ভের সহিত বললেন সিকিউরিটিকে।
-এই শুয়োরের বাচ্চা গেইট খোল।
সিকিউরিটি ওদের হাতে অস্ত্র ও পোষাকে সিভিলিয়ান দেখে পরিচয় জিজ্ঞাসা করাতে ওদের এক জন সিকিউরিটিকে এক থাপ্পর দিয়ে নিজেরাই জোর করে ফ্লাটের ভিতরে ঢুকে পড়লেন।বাহিরে আশ পাশের মানুষ যে যখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন সবাই অবাক হলেন।অনেকে বুঝতে পারছেন না…এ ভাবে অস্ত্র নিয়ে ফ্লাটে ঢুকে পড়া লোকগুলো কারা!।অনেকের সন্দেহ হল ডাকাত নয়তো? এক কান দুই কান -এক সময় বহু কান। কেউ ঘটনা জানতে কেউ বা ঘটনা ঘটাইতে লোকজন বাড়ীটির নিকট ভীড় করতে থাকল।

তারা বিল্ডিংয়ের চার তলার একটি ভাড়াটে ঘরে কোন এক বিশেষ কাজে ব্যাস্ত।নীচে অবস্থান নেয়া জনতা বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল আসলে উপরে কি হচ্ছে।যে হারে চারদিক গুম হত্যা ডাকাতি গলা কাটার খবর পাওয়া যায় তাতে এ ঘটনায় এলাকাবাসীও আতংকিত।

এক সময় চারতলার একটি জানালা খুলে হঠাৎ এক পুরুষ কণ্ঠের চিৎকার। বাচাও বাচাও ওরা আমারে মাইরা লাইলো মাইরা লাইলো…।

এরপর এলাকাবাসীর মনে আতংক আরো বেশী করে দানা বাঁধল।চিৎকারের কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যে মহিলা এমপি সহ অস্ত্রে সজ্জিত তার দলবল নিয়ে নীচ তলায় গেইটের সামনে এসে জড়ো হওয়া এবং এলাকা বাসীকে বন্দুক উচিয়ে ভয় দেখালে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে এমপির গাড়ীতে ইট পাথর ছুড়ে মারেন এবং এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করলে তারা আবারো ভিতরে চলে গিয়ে নীচ তলার একটি রুমে আতংকিত হয়ে আশ্রয় নিলেন।
ঠিক সেসময় উপস্থিত থাকা খায়রুল ফোনের মাধ্যমে আমাদের কাউন্সিলর সাদরিলকে খবর দিলে সাদরিল খুব দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে এমপির সাথে কথা বলতে আশ্রয় নেয়া রুমে গিয়ে দেখা করল।কথা হয় সবার মাঝে।এর মধ্যে কথার কাটা কাটির এক পর্যায়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার প্রশাসনের লোক জন, ডিবি সহ যত টুকু জানা যায় নারায়ণগঞ্জের সিঙ্গাম স্বয়ং এসপি হারুন সাহেবও নাকি এসেছিলেন।প্রশাসন এবং কাউন্সিলরদের কথার এক পর্যায়ে প্রশাসনের কথা মতে বিষয়টি থানায় গিয়ে সমাধান করবেন বলে কাউন্সিলর সহ আরো অনেকে থানায় নিয়ে গেলেন।অবশেষে থানাতেই এক পর্যায়ে ওদের গ্রেফতার দেখাল থানার দাড়োগা।বুঝতে অসুবিদা হল না যে হয়তো উপর মহল হতে গ্রেফতারের কোন এক আদেশের ফোন এসেছিল।

অথচ একজন এমপির কান্ড জ্ঞানহীন কর্ম কান্ড দেখে আমার কাছে মনে হল, এটাই হল ক্ষমতা।ক্ষমতার দাপট।নতুবা তিনি সেই কুমিল্লা হতে নারায়ণগঞ্জে এলেন স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে? না জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের এ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে,না জানিয়েছেন থানা কিংবা প্রশাসনের কোন লোক জনকে।এ যেন তামিল ছবির মত ‘ভিলেনের ন্যায় অস্ত্র সজ্জিত গাড়ী বহর নিয়ে সাঁ সাঁ করে দ্রুত এলেন আর জনতার রোষানলে পড়ে মাইর খেয়ে প্রস্থান নিলেন। উপস্থিত অনেক গণ্যমান্য এমন কি প্রশাসনও প্রশ্ন রেখেছিলেন।আপনি আসবেন আমাদের খবর দিলেও পারতেন।অথচ তার ভাব দেখে মনে হয়েছিলো- তোমরা কিসের চেটের বাল।মতাল এমপি বাস্তবে তাই দেখিয়েও গেলেন অন্যায় করেও ক্ষমতার বলে তারা স্ব-সন্মানে ফিরে গেলেন আর আমাদের এলাকার নিরীহ কিছু লোকজনকে জেলে ঢুকিয়ে গেলেন।

একজন কাউন্সিলর হিসাবে সে এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে যেতে পারেন।এটা তার দায়ীত্ব কিন্তু তাই বলে তাকেও গ্রেফতার করা হবে এটা কোন আইনের বলে আমার ঠিক মাথায় আসছে না।সম্ভবত তাঁর পিতার দোষে সে হলেন দোষী।তার পিতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন যিনি নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাবেক বিএনপির এমপি।হয়তো বিএনপি করেন বলেই বিষয়টি রাজনৈতিক ভাবে চলে গেল।

কিন্তু সমাজে ক্ষতিকর দিকটি হল- এলাকায় আইনের চোখকে ফাকি দিয়ে সত্যিই যদি কখনো কারো বাসায় ডাকাত আসে তখন এ মার খাওয়া জেল খাটা জনগণ আর জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসতে আর আগ্রহ দেখাবে না।

ঘটনাঃ ০২
এ তো গেল ক্ষমতার অপব্যাবহার।অন্য দিকে আমরা সাধারন মানুষ কি করছি।আমরা যেন ক্রমশতঃ হারিয়ে ফেলছি মনুষত্বটাই।সাইদির সেই চন্দ্রে যাওয়া থেকে শুরু করে গলা কাটা অতপর ছেলে ধরা।এ সবের নাম করে আমরা অজান্তেই অনেক অপরাধ করে ফেলছি।নাকি এ সবের পিছনে রাজনৈতিক কোন স্বার্থ আছে? জানা নেই তবে এইটুকুই জানি লক্ষ লক্ষ বিচারের বাণী ঝুলে থাকা এবং প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে প্রতিনিয়ত এ সব ঘটনা ঘটার একটি বিশেষ কারন।

সেদিন গণ পিটুনিতে আমার এলাকার এক বোবা লোকটিকে মেরেই ফেলল।কথা বলতে না পারা লোকটি সেদিন তার নিজ সন্তানকে আদর করতে গিয়ে ছেলে ধরা হিসাবে গণ ধোলাইয়ে মৃত্যু বরণ করলেন।বাড়ীর পাশে চোখের এ পরিচিত মানুষটির লাশ দেখে নিজেকে বেশ অপরাধী মনে হল-এ আমরা দিন দিন কেমন অমানুষ হয়ে যাচ্ছি।

বিবাহীত জীবনে বধির এর স্ত্রী তার এক সন্তান সহ অন্য লোকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করতে থাকেন।ঘটনার দিন স্কুল হতে আসার পথে তার সন্তানকে দেখে সন্তানকে কোলে নিতে সে কিছুটা কান্না করলে তার সহপাঠিরা তাকে ছেলে ধরা মনে করে ঠিক সে সময় সন্তানটির সৎ বাবা এসে গেলে বধির তার নিজ সন্তানকে সৎ বাবার কাছে  ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন এর মধ্যে লোকজন কানাগুষা করতে থাকল  ছেলে ধরা ছেলে ধরা।কিছু দূর যেতেই তাকে বেশ কয়েকজন হঠাৎ কিলঘুষি মারতে থাকে।শুরু হয়ে গেল ছেলে ধরা গুজবে তার উপর অমানষিক অত্যাচার।বোবা বলে মুখে কিছু বলতেও পারছিলেন না যে-আমি ছেলে ধরা নই,আমি ওর জন্মদাতা পিতা।

কেউ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন ছেলেধরা শুনতে  পেরে সেও দিয়ে গেল এক লাথি।বধির বলে সে বলতে পারছেন না শুধু হাউমাউ করে কেদেই যাচ্ছেন।মাইর যখন শরিরে সয়ে গেল সে তখন অজ্ঞান হল।এক পত্তন মাইর শেষ তবুও মজমার মত তাকে ঘিরে কৌতুহল মানুষ নামের অমানুষদের অভাব নেই।কিছু ক্ষণ পর যখন তার জ্ঞান ফিরল তখন সে আবার একটু নড়ে চড়ে উঠল।আর তখনি আবারো এক হিংস্র পশুর চিৎকার….ঐ শালায় মরে নাই…মার শালারে।আবারো লাথি উষ্ঠা,কেউ রড বাশ দিয়ে দিয়ে মাথা মুখ মন্ডলে আঘাত করছে।একদল নর পশু নিথর লাশটাকে টেনে হেচড়িয়ে অন্যত্র একটি খালের পাশে রেখে চলে গেল যেন এক পূর্ণ্য কাজ সারলেন।ভিডিওটি দেখুন।

এমন আরেকটি ঘটনা ঘটে ঢাকার বাড্ডা এলাকায়।সেখানে নিহত হন এক সন্তানের মা।স্বামীর সাথে ডিভোর্সের পর তার সন্তানদের নিয়ে উত্তর বাড্ডায় এক বাসা বাড়ীতে থাকতেন।অবশেষে তিনিও তার সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে খোজ নিতে গিয়ে নির্মম ভাবে নিহত হন।ভিডিওটি দেখলে বুঝবেন মানুষ কতটা নিষ্ঠুর আর মনুষত্বহীন।একদল মহিলাটিকে মারধর করছেন আরেক দল ঘটনাটি ভিডিও ছবি তুলতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ছেন।অথচ ভাবেন যাকে এ ভাবে মারধর করছেন তিনিও তাদের মতই একজন সাধারন মানুষ।সে অপরাধ করে থাকলে সে জন্য দেশে আইন আছে,আছে পুলিশ প্রশাসন।এমন সব পরিস্থিতিতে ছেলে ধরা হয়ে থাকলেও সেতো আর নিয়ে যেতে পারেননি সে জন্য তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়াই একটি সু-শাসন চাওয়া নাগরিকের কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল।

মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। এ বিষয়ে আরো বেশী পারদর্শী আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের আদর্শেই আমরা আদর্শবান নাগরিকে রূপান্তিত হচ্ছি।আর একটি বিষয় হল গণহত্যায় নিজেদের প্রতিহিংসাময় মনষকামনা সারতে বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করি কারন এ হত্যার মুল আসামী খুজেঁ পাওয়া বড় ভাগ্যের ব্যাপার, তাছাড়া হামলায় নেই কোন প্রশাসনিক নজরদারী বা প্রতিরোধের ব্যাবস্থা।বর্তমান সময়ে এদুটো সমস্যা আমাদের দেশে বেশ ভাবিয়ে তুলছে।গলাকাটা, স্কুলগামী ছাত্রীদের ধর্ষণের ন্যায় ছেলে ধরা গুজবের এমন করুণ মৃত্যু প্রখ্যান্তরে স্কুলগামী আমাদের সন্তানদের মনে ক্রমশতঃ ভয় ঢুকে যাচ্ছে।তারা এখন ঘর হতে বাহিরে হতেই ভয় পায়।অবস্থা এমন চলতে থাকলে এক সময় এ জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে আর বেশী দেরী লাগবে না।

———————————————-

দূর্বল চিত্তের মানুষে ভিডিওগুলো না দেখার অনুরোধ করছি।

তথ্য ও ছবি
অনলাইন

১৬৫জন ৩৯জন
49 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য