ক্ষণিকের পরিচয়

আরজু মুক্তা ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ০২:১৪:১৮পূর্বাহ্ন গল্প ৩০ মন্তব্য

বাস দুলছে আর আমি গাইছি, “আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাবো!” ভার্সিটি থেকে বাড়ি যেতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা। মনে হয়, ১০০ গুণতে গুণতে বাড়ি যাওয়া যায়। সময়টা একটু বেশি হলে মন্দ হতো না। ৩ মাস পর বাড়ি যাচ্ছি।

বাসায় পৌঁছে একটা লম্বা ঘুম। উঠেই দেখি, আমার ছোটটা জামা নিয়ে বসছে, কোন জামা কখন পরবে? কিসের জন্য সাজগোজ?

বলে, না জানলেও চলবে!

বেশি পাকছোস্। আম্মা—-আম্মা!

বলো।

কি হয়েছে কিছু বুঝতেছিনা?

তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।

ওমা! জানা নেই, শোনা নেই, কথা নেই, বার্তা নেই। বললেই হলো!!!

কথা আবার কি?

না, কথা বলতে হবে। ছেলের সাথে আমি কথা বলবো।

দেখি, তোমার আব্বারে বলি।

এখনি যাও।

রাজি হইছে। তবে, ছেলে বলছে, ও যেখানে থাকে; সেখানে দেখা করতে।

ভালোই হলো। এক ঢিলে দুই পাখি। ছেলে, বাড়ি দুটোই একসাথে দেখা হবে।

আম্মা: তুমি কি জিজ্ঞেস করবে?

এই ধরো, কোন ক্লাসে পড়ে? কয়টা প্রেম করছে?  এইসব।

যাও তো এখান থেকে! মাথা ধরছে!!

শাওন,  কই গেলি? আম্মার মাথায় পানি দে।

আম্মা বিড়বিড় করে, ডানপিটে বললো।

বিকেলে সেজেগুজে, আমার বন্ধু শাফিকে ফোন দিলাম। বিকেলে হাটির পার আয়।

দুজনে হেঁটে হেঁটে ছেলের বাড়ির দিকে যাচ্ছি। শাফি বলছে, তুই যে মাঝে মাঝে কি করিস? ওখানে তোর সাথে আমাকে দেখলে, তোর বিয়ে ভেঙ্গে যাবে।

আরে ধুর! আমার যে চেহারা আর ডানপিটে স্বভাব দেখলে ওরাই পালাবে।

শাফি হাসতে হাসতে হাঁটছে।

কলিং বেলে মুরগির বাচ্চার আওয়াজ আসছে। দরজা খোলা হলো। বাহ্ বেশ সাজানো গোছানো। ছেলে একাই থাকে বাসা ভাড়া  নিয়ে। দারুণ তো।

ছেলে, মানে পাত্র দুইকাপ চা নিয়ে হাজির। বলে, চা খেতে খেতে গল্প করার মজাই আলাদা। বেশ শান্ত, ভদ্র তবে চুলগুলো নুডলস।

আমাকে চা এগিয়ে দিয়ে বলে, ভালো আছেন?

ভালো। তবে তুমি তো আমার থেকে এক ডিগ্রী উপরে(মনে মনে)। আপনি?

আগে ভালো ছিলামনা, এখন ভালো লাগছে।

শাফির মনে হয় হাসি পাইছে। ওয়াসরুম বলে কেটে পরলো।

প্রশ্ন চলছে, কি পড়ি? ভবিষ্যতে কি হবো? কি রং পছন্দ? রান্না পারি কিনা?

উত্তরও চলছে, এম.এ ইংলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার ইচ্ছা। নীল রং পছন্দ। নাস্তা কিছু কিছু তৈরি করতে পারি।

ছেলে বলে, আপনি না আমারে প্রশ্ন করার জন্য এসেছেন আর কিনা আমি বলে চলেছি।

আমার ২টা প্রশ্ন –যেহেতু ভনিতা ভালো লাগেনা। সরাসরি বলি।

এক, আমার প্রচুর ছেলে ফ্রেন্ড। আপনার কি এতে আপত্তি আছে?

না! কিসের আপত্তি? বন্ধুত্ব আলাদা জিনিস।

ছেলের মগজ আছে(মনে মনে)।  ২য় প্রশ্ন, এদের মধ্যে কোন ছেলে যদি এসে বলে, তার সাথে আমার তিন বছরের সম্পর্ক ছিলো, তখন?

এই যে,  আপন সত্যি কথা বলেছেন, এইজন্য আপনাকে ভালো লেগেছে

বাপরে বাপ! এই ছেলে তো আমার মনের মতো(মনে মনে)। আপনাকেও আমার পছন্দ হয়েছে।

পুনশ্চ : কন্যার বাবা সবুর করিতে পারিতেন কিন্তু ছেলে মানিলো না!

 

৩০২জন ৮১জন
33 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য