যারা এখনো শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে খেলাধুলাকে বিনোদন আর শরীর গঠনের উপায় মনে করেন তারা এখনো বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। ফুটবল ক্রিকেট সহ সকল জনপ্রিয় খেলা অনেক আগেই বাণিজ্যের উপকরনে পরিণত হয়েছে। ফিফা, আইসিসির মত সংঠন গুলোও এখন কর্পোরেট স্বার্থের সুতিকাগার। কর্পোরেটদের প্রধান স্বার্থ মুনাফা। ইন্ডিয়ার ১২৫ কোটি জনসংখ্যা, বিশাল মার্কেট তাই ইন্ডিয়ার স্বার্থ সংরক্ষণ করা কর্পোরেট স্বার্থের জন্যই সহায়ক। ইন্ডিয়ার চেয়ে বিশাল কোন মার্কেটের সন্ধান পেলে এই কর্পোরেটরা ইন্ডিয়াকেও ছেড়ে দিতে দ্বিধা করবে না এটাই বাস্তবতা। কাজেই যারা আইসিসিকে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বলে উপহাস করছেন তারাও ভুল করছেন। আইসিসি ইন্ডিয়া চালায় না , আইসিসি চালায় কর্পোরেটরা।
sw

একটা সময় ছিল যখন খেলাটাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব আর বিনোদনের উপকরন হিসেবে দেখা হতো। খেলায় জয় পরাজয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল খেলার স্পিরিট। খেলোয়াড়রা দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব আর দর্শকদের বিনোদিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নামত। দর্শকরাও নির্মল বিনোদন পাওয়ার আশায় মাঠে আসতো। বিপক্ষ দলের কেউ ভাল খেললেও হাততালি দিত। পুঁজিবাদের আগ্রাসনে খেলার সেই ষ্পিরিট এখন ধবংসের পথে। পুঁজিবাদ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও বিনোদনের ক্ষেত্রগুলোকেও মুনাফার উপকরণে বানিয়ে ফেলে। দর্শক এবং খেলোয়াড় উভয়ের মধ্যে তৈরী করে যে কোন মুল্যে জিতার মানসিকতা। একটা টিম যখন জিততে শুরু করে তখন সেই জয়ের হাত ধরেই আসে কর্পোরেট স্পন্সরশীপ। কাজেই জয় ভিন্ন অন্য কিছু তাদের কর্পোরেট স্বার্থের জন্য সহায়ক নয়। এই জয়ের নেশায় প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের কাছে হয়ে উঠে একজন আদর্শ “বিজনেসম্যান”। খেলার যে উদার চেতনা সেই চেতনা ধবংস হয়, খেলায় ঢুকে পড়ে আন্ডার আর্ম বোলিং, স্লেজিং, ম্যানক্যাডিং। প্রচারযন্ত্র ও গণ মাধ্যমও তাদের নিয়ন্ত্রনে। এই প্রচারযন্ত্র ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু গুলো থেকে মানুষের মনোযোগ ভিন্ন দিকে সরিয়ে ফেলা হয়। খেলা শুরুর আগেই অমুক ম্যাচে হারের বদলা নিতে হবে, তমুককে দেখিয়ে দিতে হবে টাইপের কৃত্তিম উন্মাদনা তৈরী করা হয়। এই ক্ষনিকের উন্মাদনায় মানুষ ভুলে যায় তাদের দৈনন্দিন সমস্যা, বেনিয়াদের শোষণ। ক্রিকেট কাজ করে আফিমের নেশার মত। পুঁজিবাদ তার নিজ স্বার্থেই জাতীয়তা বাদকে প্রমোট করে। শ্রমিক শ্রেনীকে দুর্বল করতে তাদের নিজ শ্রেণী সত্ত্বার বাইরে জাতীয় সত্ত্বাকে গুরুত্ব দিতে শেখায়। দেশে দেশে জন্ম হয় উগ্র জাতীয়তাবাদ। মওকা মওকা ভিডিও, তাসকীনের হাতে ধোনির কাটা মুণ্ডু তারই কিছু সাম্প্রতিক নিদর্শন। কাজেই অমুক ধারাভাষ্যকার বাংলাদেশকে কটাক্ষ করছে শুনে আপনি যখন “কি এত বড় সাহস” বলে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠছেন জেনে রাখবেন আপনি আসলে কর্পোরেটদের পাতানো ফাঁদেই পা দিচ্ছেন।

এদেশের জনগণের মধ্যে ভারত বিরোধী দুই ধরণের মনস্তত্ব কাজ করে। একটি হচ্ছে ফারাক্কা, তিস্তা, বানিজ্য ঘাটতি, সীমান্তে গুলি সহ নানা ক্ষেত্র থেকে উদ্ভুত নির্যাতিত মনস্তত্ব এবং আরেকটি হচ্ছে সাম্প্রদায়ীক মনস্তত্ব অর্থাৎ ওরা মালাউন কাফের, সারাজীবন আমাদের ক্ষতি করতে চায় এই জাতীয় ভাবনা। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই দুই ধরনের মনস্তত্ব ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে এক হয়ে যায়। ফলে এক দিক দিয়ে দেখলে ক্রিকেট এদেশে বাম ও ডান উভয় শ্রেনীর মধ্যে মেকি জাতীয় ঐক্যও তৈরী করে বটে। যদিও বাংলার জনগণের ভারত নির্ভরতা বহুমুখী ও ঐতিহাসিক। সেটা আলু ভর্তায় ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ থেকে শুরু করে টিভি রুমে দীপিকা পাডুকোন, বেডরুমে সানি লিওন পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্ত একদিকে বঞ্চনা-নির্যাতন এবং অন্য দিকে সাম্প্রদায়ীকতা এই দুটোর ফিউশন থেকে উদ্ভুত অত্যন্ত শক্তিশালী এই ভারত বিরোধী মনস্তত্বের কাছে ভারত নির্ভরতা বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়। যে কোন মুল্যে ভারতকে হারানোই তখন এদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পরম আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হয়ে যায়। মানুষ ভুলে যায় দুই দলের শক্তির ব্যবধান কিংবা ক্রিকেট ঐতিহ্য। ক্রিকেট ম্যাচে ভারতকে হারানো তাদের কাছে রাষ্ট্র হিসেবে ভারতকে হারানোর সমতুল্য বলে মনে হয়। সেই লক্ষ্য পূরণ না হলে ষড়যন্ত্র, অন্যা্‌য় অবিচার প্রভৃতি তত্ব হাজির করে সান্তনা খোঁজার চেষ্টা করা হয়। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় ষড়যন্ত্র খোঁজা বাঙ্গালী কালচারের অংশ, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইলেকশনে হারলেও বাঙ্গালীরা ষড়যন্ত্র খোঁজে! পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের গল্প শোনে নাই এমন বাঙ্গালী খুব কমই আছে এদেশে। তখন থেকেই এটা বাঙ্গালীর ডিএনএ তে ঢুকেছে কিনা কে জানে। ছোটবেলায় পড়েছিলাম ঘর পোড়া গরু নাকি সিদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায় !!!
sdd

তাহলে কি তাসকীন সানি অন্যায় অবিচারের শিকার নয় ? সত্যি বলতে কি ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতিতে বিশ্বজুড়ে প্রতিটি ক্রিকেট প্রেমীর খুশিই হওয়া উচিত তা তিনি অস্ট্রেলিয়ান, ইংলিশ, ইন্ডিয়ান যেই হোন না কেন। ক্রিকেট এমনিতেই যেখানে হাতে গোণা মাত্র কয়েকটি দেশ খেলে সেখানে নুতুন কোন দেশের উঠে আসা নিঃসন্দেহে খেলাটার জন্যই মঙ্গলজনক। আমার ধারনা প্রতিটি প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমীই সেটা বোঝে। বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নতিতে তাদের সবারই খুশি হওয়া উচিত এবং তারা হচ্ছেও। কিন্ত সেই বাংলাদেশের কাছে নিজেদের টিমের হার মেনে নিতে তাদের এখনো অনেক কষ্ট হয়। তারা বাংলাদেশের উন্নতি ঠিকই চায় কিন্তু দ্রুত উন্নয়নশীল সেই বাংলাদেশের কাছে নিজেদের টিমের হার এখনো ঠিকভাবে মেনে নিতে পারে না। নবীন ক্রিকেট ঐতিহ্যের সেদিনের সেই পুচকে বাংলাদেশ তাদের মত সমৃদ্ধ অতীত সম্পন্ন প্রতিষ্ঠিত দেশকে হারাবে এই জাতীয় ভাবনা তাদের ইগোতে তুমুল আঘাত করে। ক্রিকইনফোতে মন্তব্যের সুবাদে এমন ইগোওয়ালা ভারতীয়কে কম দেখা হয় নাই। উল্লেখ্য একশন রিপোর্টকারী দুই আম্পায়ারের একজন অষ্ট্রেলীয় এবং অপরজন ভারতীয়। ব্যক্তিগত ভাবে আমার ধারণা এরকম এক ইগোর লড়াইয়ের বলি হয়েছে তাসকীন-সানি ।

কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আপনাকে সঠিক কৌশল অবলম্বন করে টিকে থাকতে হবে। আইসিসি বাংলাদেশের কোন সংগঠন না। বাংলার জনগণের আবেগ অনুভূতির কোন মুল্য নেই তাদের কাছে, তাদের কাছে মূল স্বার্থ একটাই, মুনাফা। মনে রাখবেন শাহবাগে আইসিসি বিরোধীতার নামে আপনি যখন ভারতকে গালি দিচ্ছেন তখন কিন্ত দেশী বিদেশী মিডিয়াগুলো সেটা ফলাও করে প্রচার করছে। ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের মানুষ বিশেষ করে ভারতীয়দের মধ্যে বাংলাদেশ বিরোধী আবেগ আরো শক্তিশালী হচ্ছে। আইসিসির মার্কেট ষ্ট্রাটেজি যেহেতু ভারত নির্ভর তাদের কাছে ভারতীয়দের আবেগ অনুভূতি গুরুত্ব পেতে পারে, বাংলাদেশেরটা নয়। এটাই বাস্তবতা, আপনি চান বা না চান এটা আপনাকে মানতে হবে। বিশ্বকাপে নো বল কান্ড এবং সাম্প্রতিক তাসকীন সানি ইস্যুতে অতি প্রতিক্রিয়া ক্রিকেটের বৈশ্বিক কুটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ খানিকটা্ দুর্বল করে ফেলেছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব কি হতে পারে তা জানার জন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। মনে রাখবেন এক সময় ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম নির্ধারণের পুরো দায়িত্বটাই ছিল আই সি সির হাতে, এখন আর সেটা নেই। এখন ক্রিকেট বোর্ডগুলোই নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে খেলার সূচি নির্ধারণ করতে হয়। ক্রিকেট কুটনীতিতে সফল হওয়ার জন্য সফল আন্তঃসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা তাই এখন অত্যন্ত জরুরী।

১১৮জন ১১৮জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

  • জিসান শা ইকরাম

    কর্পোরেটদ বানিজ্যের এই যুগে আবেগের মূল্য আসলে নেই,
    বেনিয়ারা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই চলবে ক্রিকেট
    মাঝে বলি হবেন তাসকিন সানিরা।
    এটি বাস্তবতা এই যে চীনে যদি ক্রিকেট জনপ্রিয় হয়, তবে ভারতীয় আধিপত্য কমে যাবে।

    ভালো বিশ্লেষণ মুলক পোষ্ট।

    • অপার্থিব

      কর্পোরেটরা অবশ্যই চাইবে তাদের প্রোডাক্টের মার্কেট এক্সপ্যান্ড করতে । চীনের বিশাল বাজারের কারণে চীন অনেক দিন ধরে ক্রিকেট বেনিয়াদের টার্গেটে আছে। কিন্ত সমস্যা হল ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে রাতারাতি উন্নতি করা যায় না , তার জন্য শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো, কোচ এবং সর্বোপরি খেলাটার প্রতি ভালবাসা প্রয়োজন। এই জিনিস গুলো এবং বিশাল মার্কেট থাকায় ইন্ডিয়া এখন ক্রিকেট কূটনীতিতে রাজত্ব করছে। খেলাটার ভবিষ্যতের জন্য এখন একটা ভারসাম্য মুলক ব্যবস্থার প্রয়োজন। ধন্যবাদ। -{@

      • জিসান শা ইকরাম

        আসলেই ভারসাম্য প্রয়োজন, কিন্তু এই মুহূর্তে বা নিকট ভবিষ্যতে এমন কোন দেশ পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না।

        *অতিরিক্ত টেনশন নিতে না পারায় গতকালের জিতে যাওয়া ম্যাচটা হেরে গেলাম আমরা।
        কিছুটা মন খারাপ হয়েছে এত।
        অবশ্য T20 তে আমরা কেবল খেলাটা আয়ত্বে আনা আরম্ভ করেছি, আমাদের দল মুলত ওয়ানডের জন্য ফিট।

    • অপার্থিব

      বাংলাদেশ টিম অবশ্যই ওয়ানদের জন্য পারফেক্ট কিন্ত টি টুয়েন্টিতে এখনো অনেক দুর্বলতা আছে।দলে টি টুয়েন্টির উপযোগী ব্যাটসম্যান আছে বড় জোর তিন চার জন ফলে টিম অতিমাত্রায় বোলিং নির্ভর। হারায় মন খারাপ হলেও ব্যাপার না। ক্রিকেট সম্পর্কে বলা হয় ক্রিকেট ইজ আ গ্রেট লেভেলার।ফার্স্ট ইনিংসে যে ব্যাটসম্যান ডাক মেরেছে সেকেন্ড ইনিংসে সে সেঞ্চুরি করতে পারে। আবার উল্টোটাও হয়। বলা যায় না একদিন হয়তো এই মুশফিকুর রহিমই ভারতের বিপক্ষে এমন একটি ক্লোজ ম্যাচ জেতাবে।

  • শুন্য শুন্যালয়

    ভালো বিশ্লেষন করেছেন। তাসকিন সানী-রা এই কর্পোরেট পলিটিক্সের স্বীকার হলেও আমাদের বিডি টিমের এতটা আক্রোশ প্রকাশ ঠিক মনে হয়নি আমার, এসবের ইফেক্ট পড়েছে খেলায়, বিশেষ করে মাশরাফি যেখানে লিডার। তাসকিনের বয়স অল্প, অনেকদূর যেতে হবে ওকে এখনো, একটা বলও যদি ওর ভুল হয়, তবে তা শুধরিয়ে নিয়ে নিক। মুরালিধরনের মতো বলার কেও এধরনের ক্রিটিক্যালে মোমেন্টে রাজনিতির স্বীকার হতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা খেলায় প্রফেশনালিজম বাড়াতে হবে আমাদের।
    দর্শকরা যা করছে, সেটা মাঝে মাঝে বাড়াবাড়িই মনে হয়। আপনার কথাগুলোর সাথে পুরোপুরি সহমত।
    আর একটা কথা আছে, বাংলাদেশের সাথে পাকিস্থানের আন্তঃসম্পর্ক ভালো হইলেও হতে পারে, তবে ভারতের সাথে আস্তে আস্তে খারাপ হবে এটা ঠিক বুঝতে পারি, অন্তত দেখেশুনে যা বুঝতে পারি।
    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এমন পোস্টের জন্য।

    • অপার্থিব

      আপনি ঠিকই অনুমান করেছেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আস্তে আস্তে খারাপ হবে , কর্পোরেটদের ব্যবসার স্বার্থে ইন্ডিয়ার একটা রাইভাল টিম তৈরী করা প্রয়োজন যেই চাহিদা একসময় পাকিস্তান পূরণ করতো। কিন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট এখন ক্রমাবনতির পথে, ইন্ডিয়ার সঙ্গে এখন আর পারে না। তাই তারা এখন বাংলাদেশকে দিয়ে সেই স্থান পুরন করার চেষ্টা করবে । বাংলাদেশের সঙ্গেও ইন্ডিয়ার কিছু রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস রয়েছে যদিও সেটা পাকিস্থানের মত অত তীব্র না।আছে সাম্প্রদায়ীক বৈরিতা । এগুলোকে পুঁজি করে এখন মাঠে ও মাঠের বাইরে দুই দলের রেষারেষি আরো বাড়বে । দুই দেশের ক্রিকেট প্রেমীরা একে অপরের সঙ্গে কামড়া কামড়ি করবে । এটাই আসলে কর্পোরেটদের চাওয়া।

      পশ্চিমারা খেলার চেতনা ও নিয়ম কানুনকে তাদের নিজেদের সম্পত্তি বলে মনে করে। মুরালি টিপিপ্যাল অফ ষ্পিনার ছিল না, সে বল ঘোরানোর কাজে আঙ্গুলের পরিবর্তে তার জন্ম গত বাঁকা কবজি ব্যবহার করতো। পশ্চিমারা ব্যতিক্রমি একশনের মুরালির সফলতাকে মেনে নিতে পারে নি অর্থাৎ এখানেও সেই ইগো সমস্যা। তাছাড়া সেসময় ক্রিকেট বিশ্বে শ্রীলংকার অবস্থানও খুব একটা শক্তিশালি ছিল না ।

      আমাদের খেলাকে খেলা হিসেবে গ্রহণ করা শিখতে হবে, কর্পোরেটদের পাতানো ফাদে পা দেওয়া যাবে না। ধন্যবাদ -{@

  • ইলিয়াস মাসুদ

    খেলার হ্যাং ওভার এই অধমেরও এখনও কাটে নি :p
    আমি কখনো-ই খেলা দেখে এত শখ্ড হ​য়নি, কাল সারা দিন কেমন যেন হ্যাং হ​য়ে থাকলাম
    আপনার সাথে প্রচন্ড ভাবে সহমত

  • অরুনি মায়া

    আপনি ঠিক বলেছেন, খেলা শুধুই বিনোদনের জন্য হওয়া উচিত। ক্রিকেট বাণিজ্যের বস্তু হয়ে গেছে। খেলায় বিনোদনের চেয়ে টেনশনই বেশি। অস্থিরতা ত্যাগ না করতে পারলে খেলা না দেখাই ভাল।

  • আবু খায়ের আনিছ

    অর্থনীতির কোন বিষয় সমালোচনার উর্দ্ধে নয়। পুজিবাদ আর মুক্তবাজার যাই বলেন না কেন। আমি পুজিঁবাদের বিরুদ্ধে কথা বলি অন্যকেউ আবার মুক্তবাজার এর বিরুদ্ধে কথা বলে। কর্পোরেট জগতে এই দন্দের অবসান হবে না। সবাই অর্থের পিছনে ছুটে সেখানে পুজিঁবাদ সর্মথন করে দুটো পয়সা যদি বেশি আয় করা যায় তাহলে ত তাই করবে।

    ক্রিকেট নিয়ে আমাদের যে আবেগ ইদানিং পরিলক্ষিত হচ্ছে তাতে আমার ভয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক যেমন খারাপ হয়ে গেছে তেমনি আমাদের সাথেও না হয়।
    অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না।

    আমার রুমমেটদের মধ্যে আমি বাদে সবাই পাকিস্তানের সার্পোটার, তাদের ভাষ্য পাকিস্তান মুসলিম দেশ সেই হিসাবে হলেও আমাদের সমর্থন দেওয়া উচিৎ।
    যদিও উচিৎ জবাব আমার কাছে ছিল, আর দিয়েওছি। একজন মুসলিম খুন করলে তাকে মুসলিম বলে আমরা সিমপ্যাথি দেখাতে পারি না।
    যাইহোক ক্রিকেট নিয়ে কথা বলাটাও এখন বিপদজনক হয়ে যাচ্ছে, ভারত, পাকিস্তান সার্পোটার আগেও ছিল এখনো আছে কিন্তু আগের মত শান্ত নেই, উগ্র হয়ে গেছে।
    বাংলাদেশ ক্রমেই বিশ্ব ক্রিকেটে শক্তিশালী টিম হয়ে উঠছে আর উগ্রতাও বেড়ে যাচ্ছে। পাকিদের আমি কোন কালেই সহ্য করতে পারি না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আমার রুমমেট এর সাথে মারামরি করব। এই সমর্থন নিয়ে প্রায় শুনি বন্ধুরা বন্ধূরা মারামারি করছে।

    ভাইয়ার কথার সাথে আমি সর্ম্পণ সহমত।

    • অপার্থিব

      ক্যাপিটালিজম , কমিউনিজম সব কিছুরই কম বেশি ভাল মন্দ বিভিন্ন দিক রয়েছে । এগুলো সম্পর্কে আসলে সবারই জানা উচিত যাতে আমরা কর্পোরেট দের মুনাফার লক্ষ্যে পাতা এই ফাঁদগুলো সম্পকে সচেতন হতে পারি, ভাল কিংবা মন্দের উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

      এদেশের এক শ্রেনীর মানুষ খেলার সাথে রাজনীতি না মেশানোর তালিম দেয় কিন্ত খেলার সাথে ধর্ম ঠিকই মেশায়। তাইতো মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তান সাপোর্ট করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের অনেকে আবার ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ইরান বা ব্রাজিল-সৌদি ম্যাচে ইরান বা সৌদি আরবকে সাপোর্ট করে না যদিও ইরান , সৌদি আরব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। অর্থাৎ ক্রিকেটে এদের পাকিস্তান প্রেমের মূল কারণটা রাজনৈতিক। এরা যে পারিবারিক আবহে বেড়ে উঠেছে সেখানে তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে পাকিস্থান সাচ্চা মুসলমানদের দেশ, ৭১ এ যুদ্ধ ছিল শেখ মুজিবের কূটকৌশল, মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরিতে ভারতের ষড়যন্ত্র ইত্যাদি ইত্যাদি। আর যে ধর্মান্ধরা সত্যিই ধর্মীয় কারণে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করে তারা আসলে রাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর। উদাহরন হিসেবে বলা যায় এরা যদি কোন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা হয় তাহলে চাকুরীতে লোক নেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে ধর্মকে গুরুত্ব দিবে। এদের দ্বারা রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়ীক চরিত্র নষ্ট হবে, ইতমধ্যে হয়ে গেছেও। ব্যক্তিগত ভাবে আমি অন্তত এদের সঙ্গে মারামারি না করলেও বন্ধুত্ব করবো না।

      • আবু খায়ের আনিছ

        অজ্ঞ লোকদের সাথে তর্ক না করে কথায় বুঝিয়ে দেওয়াই ভালো। এখন কেউ যদি বুঝার চেষ্টা না করে গাওরামি করে তাহলে তাকে বুঝানোর চেয়ে না বুঝানোও উত্তম।

  • নীলাঞ্জনা নীলা

    আপনার লেখাটির সাথে আমি সহমত পোষণ করছি।
    আমরা খেলাকে এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করতে পারছিনা এখন। এতো বিদ্বেষ!

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য