মানব জীবনের গল্প এবং ক্রমবিবর্তন

মিলিওন মিলিওন বছর আগে আমাদের পূর্বসুরীরা কেমন ছিল? কীভাবে পরিবর্তনের ধারা বেয়ে তারা আমাদের রূপ নিলো? কীভাবে তারা জীবন ধারণ করত? আমরা যদি একটু সন্ধান করি তবে তা পেয়ে যাব। 

প্রায় বলা হয় বা ভাবা হয় মানুষের কঙ্কাল, মাথার খুলি বা হাড়ের ভাঙা টুকরো দিয়ে কীভাবে সম্ভব এই ক্লু বের করা? কিন্তু তা নয়। বিজ্ঞানীরা অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং পদ্ধতি ব্যবহার করে যা দ্বারা সহজেই পাওয়া যায় আমাদের পূর্বপুরুষরা কেমন ছিল, কতদিন আগে তারা বিচরণ  করত এবং তাদের  জীবনধারা কেমন ছিল। 

আর এসব উদ্ধারের  জন্য এক সাথে কাজ করে একদল বায়োলজিস্ট, জুওলজিস্ট, জিওলজিস্ট, এনাটমি,Paleoanthropology, Evolutionary Biology এবং  অস্থি বিশেষজ্ঞ । 

জিলজিকাল টাইম :

আমাদের এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে ৪,৫০০ মিলিওন     বছর আগে।  প্রথম দিকে এই ‘পৃথিবী‘ নামক গ্রহটি ছিল গলিত অবস্থায়। সেখানে সলিড বা শক্ত মাটি ছিল না। ছিল না পানি বা আবহাওয়া। এই পৃথিবী গঠিত অনেক রকম ধাতব পদার্থ দিয়ে। তারপর ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে এর উপরিভাগ আস্তে আস্তে ঠান্ডা হতে থাকে এবং শক্ত মাটির স্তর পড়তে থাকে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করে থাকেন, পরবর্তীতে পানির একটা বিরাট স্টোরয়েড আমাদের পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে। যা দ্বারা মহাসমুদ্রের সৃষ্টি হয়।

আর সেই মহাসমুদ্রে খুব সাধারণ মাইক্রোবিয়াল (microbial life)  ৩,৬০০ মিলিয়ন বছর আগে জন্মাতে থাকে। পরবর্তী ৩,০০০ মিলিয়ন বছর ধরে জীবন ছিল খুবই সাধারণ। আস্তে আস্তে মাইক্রস্পিক থেকে তা খালি চোখে দেখা যাওয়া শুরু হতে থাকল। এই সময়টাকে জিওলজিস্টরা বলে থাকে “precarabrian”। 

পরবর্তী ৫৪৪ মিলিয়ন বছর প্রচুর ফসিল পাওয়া যেতে শুরু করল এবং ফসিল বলে দায় তখন কার জীবন কেমন ছিল।

নির্ভুল সময় নির্ধারণ :

কীভাবে বিজ্ঞানীরা বয়স নির্ধারণ করেন :

তেজস্ক্রিয়তা :

নির্ভুল জিলজিক্যাল সময় পাওয়া যায় মিনারেলের বা পদার্থের redioactive বা তেজস্ক্রিয়তার মাধ্যমে । যখন গলিত ছায় এক জায়গাতে স্থায়ী হয় তার চারদিকে জমতে থাকে নতুন মিনারেলের স্তর। রেডিও এক্টিভ মিনারেল যেমন ইউরনিয়াম অথবা পটাসিয়াম তখন ক্ষয়প্রাপ্ত (dicayed) হবে সেটা ধরে নিতেই হবে। এই জমে যাওয়া মিনারেল দেখে বয়স নির্ধারণ করা হয়।

কার্বন ১৪ :

আর একটা পদ্ধতি হলো কার্বন ১৪। কিন্তু তা মাত্র ৫০,০০০ বছর পর্যন্ত করা যায়। এটা কাজ করে শুধু অরগানিক ম্যাটেরেয়াল এর উপরে। 

ফসিল রেকর্ড  দ্বারা সময় নির্ধারণ :

ফসিল হলো মরে যাওয়ার পরে জীবের রেখে যাওয়া অবশিষ্ট। গাছপালা, মানুষ, জীবজন্তু আর মাইক্রব যা একসময় বেঁচে ছিল তা মরে যাওয়ার পরে যে অবস্থার রূপ নেয় ।

ফসিলের নিচের আর উপরের জমে থাকা লাভা আর ছাই এর আস্তরণ মেপে সময় নির্ধারণ করা হয়। একে বলা হয় ফসিল রেকর্ড।

William Smith নামক একজন ব্রিটিশ জিওলজিস্ট ( ১৭৬৯-১৮৩৯) প্রথম জিওলজিক্যাল রেকর্ড আবিষ্কার করেন। তিনি ছিলেন একজন ক্যানেলের রুট পরিকল্পনাকারী । তিনি তা হাতেনাতে করতে গিয়ে দেখলেন একই ফসিল পাওয়া যায় একই মাটির স্তরে।    

বিজ্ঞানের সাহায্য এবং  নানা ধরনের বিশেষ  টেকনিক ( Archaeological Science) :

যে সমস্ত টেকনিক ব্যবহার করা হয় সময় নির্ধারণের জন্য তা হলো :

১)  অনেক নিচ থেকে মাটি তুলে নিয়ে আসা  হয় ‘চোঙ্গা’  জাতিও জিনিস ব্যবহার করে এবং প্রত্যেক স্তরের পলেন (pollen ) খুঁজে বের করা হয় । 

২) রকের মাইক্রস্কপিক পরীক্ষা চালানো । এই পরীক্ষা দ্বারা রকে কেমন মিনারেল আছে এবং কোনো নতুন ম্যাটেরিয়াল এর অবস্থান বুঝতে সাহায্য করা ।

৩) কার্বন স্যাম্পেল (এনালাইজ)  পর্যালচনা করা। 

৪) DNA স্টাডি পরীক্ষা দ্বারা  মানুষ এবং এপ এর মধ্যে পার্থক্য বের করা।  

৫) রিমোট সেন্সিং (rimot sensing) ম্যাপ এর দ্বারা । 

৬) গাছের গুঁড়িতে যে বৃত্তাকার রিং বা বৃত্ত থাকে তা গণনার মাধ্যমে । 

Primates (একই গোত্র ভুক্ত জীব)-এর আবির্ভাব :

এখন আমরা জানবো প্রাইমেটস এর বিবরণ । Primates এর আবির্ভাব দেখতে পাওয়া যায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে । তার আগে এই পৃথিবীতে কোনো primates ছিল না । ডাইনোসর  এই পৃথিবীতে বসবাস করত তাদের বিলুপ্ত হওয়ার পর, তার ঠিক সেই সময়ের  প্রথম দিকে primates-রা বসবাস করত ট্রপিকাল রেইন ফরেস্টে । তাদের হাত ও পায়ের গঠন এমন ছিল যা দ্বারা তারা গাছে গাছে ঘুরে বেড়াতে পারতো। তারা গাছের উপর বসবাস করতে শিখল এবং চোখের দৃষ্টি পরিবর্তন হওয়ার ফলে দূরের জিনিস দেখতে পারতো সঠিকভাবে।

এখন পৃথিবীতে ৪০০ ধরনের primates দেখতে পাওয়া যায় । আর এই primates এর মধ্যে মানুষও পড়ে।

কিন্তু এই মানুষ primates এর মধ্যে কিছুটা জিনগত পার্থক্য আছে। আর এই খানিকটা পার্থক্য থাকার জন্য এপ এপিই থেকে গেছে আর মানুষ জাতি ক্রমাগত পরিবর্তন হওয়ার মাধ্যমে একটু একটু করে বদলাতে থাকে। সেই পার্থক্য থাকা জিন এর কাজ হলো পরিবর্তন করতে সাহায্য  করা। আর এই পরিবর্তন হওয়ার পথটা অনেক দীর্ঘ। 

ক্রমবিবর্তন ( Evolution) :

ক্রমবিবর্তন হলো আধুনিক জীববিজ্ঞানের একটা ধারা। যার দ্বারা জিওলজিক্যাল প্রসেসের মাধ্যমে জীবরা পরিবর্তন হতে থাকে। ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন তার গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করলেন যে, একটা spcies একটা থেকে পরিবর্তন হয়ে আর একটাতে পরিবর্তিত হয়।

চার্লস ডারউইন (1809 – 82) এই সূত্রের প্রথম এবং প্রধান উদভাবক ।

তিনি বলেছেন সমস্ত জীবিত জিনিস একটার  সঙ্গে আর একটা জড়িয়ে আছে। আর তারাই বেঁচে থাকে যারা সব প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ১৫০ মিলিয়ন বছর আগে Archaeopteryx নামে একটা পাখি ছিল। যে কিনা বর্তমান ১০,০০০ পাখি কুলের পূর্বপুরুষ। এই এত সময়ের মাধ্যমে পালকের উপরে ভর দিয়ে উড়া, তীক্ষ্ণ চোখের দৃষ্টি, হালকা শরীর এসব আস্তে আস্তে অর্জন করে বর্তমান পাখিতে উন্নতি হয়। 

জিন বা ইনহেরিটেন্স :

ডারউইনের বর্তমানের আবিষ্কার “জেনেটিক” সম্বন্ধে ধারণা না থাকলেও তিনি বলেছিলেন “বংশগত” (inheritance) এর ব্যাপারটা । 

যা কিনা ২০এথ সেঞ্চুরিতে এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, প্রত্যেক জীবিত জিনিসের সেলে নিউক্লিয়াস থাকে। যা কিনা ক্রোমোজোমের সমষ্টিতে গঠিত। প্রত্যেক সেলে ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ জিনস দ্বারা গঠিত। এই জিনসের প্রত্যেকটিতে একটা করে আলাদা বিশেষ রূপ বৈশিষ্ট্য আছে। একেকটা একেক রকমভাবে কাজও করে।

 

এপ ক্যাকে বলে :

মানুষ এবং এপ জাতীয় জীব একই প্রজাতির মধ্যে পড়ে। “গ্রেট এপস” এবং মানব সম্প্রদায়  একই পরিবার বা গোত্রভুক্ত। হমিনিন (Hominin Tribe) প্রজাতি মানব গ্রুপে পড়ে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,  বাঘ, সিংহ এবং বিড়াল ক্যাট ফ্যামিলিভুক্ত। ঘোড়া, জেব্রা এবং গাধা একই পরিবারভুক্ত। কুকুর, হায়েনা এবং নেকড়ে একই পরিবারভুক্ত। ধান, ঘাস এবং বাঁশ,  ঘাস পরিবারভুক্ত। সেই রকম মানুষ, গরিলা এবং শিম্পাঞ্জি একই পরিবারভুক্ত।

এপদের দাঁত আর কঙ্কালের মধ্যে এবং বানর এর কঙ্কালের মধ্যে অনেক তফাৎ। যেমন এপ এর লেজ নাই। এপ বসতে পারে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে, চওড়া বুকের অধিকারী, কাঁধের জয়েন্ট এমনভাবে তৈরি যার দ্বারা ঘাড় ভালোভাবে  ঘুরাতে পারে, মাথা উপরের দিকে তুলতে পারে, দুই হাত উপরের দিকে সোজা করে  তুলে ধরতে পারে।

মানব জাতি এবং শিম্পাঞ্জির মধ্যে নন কোডিং DNA মাত্র ১.২% পার্থক্য । আর সঠিক জিন যাকে বলে কোডিং (Coding) DNA তা ০.৬% কম। আর পুরো জেনম প্রায় ৫% তফাৎ। 

৭.৪ মিলিয়ন বছর আগে শিম্পাঞ্জি থেকে মানবজাতি পৃথক হয়ে গেছে, আর গরিলা থেকে পৃথক হয়েছে এই জিনগত পার্থক্য ১০ মিলিয়ন বছর আগে। হমিনিন জাতীয় এক ধরনের এপ ৭ মিলিয়ন বছর আগে সেই জিনগত পার্থক্যের  জন্য আস্তে আস্তে পরিবর্তনের মাধ্যমে আজ এই মানব জাতিতে পরিণত হয়েছে। 

ফসিল রেকর্ড থেকে ২৩ ধরনের হমিনিনের ধরন পাওয়া গেছে। তার  মধ্যে মাত্র কিছু “মানুষের” পূর্বপুরুষ এবং বেশিরভাগই extinet বা অবলুপ্ত হয়ে গেছে।

চার্ট :  

Homo Sapiens 

Homo Neanderthale

Homo Heidelbergnsis

Homo Antecessor

Homo Erectus

Homo Ergaster

Homo Gorgicus

Homo Habilis

অস্থি বিশেষজ্ঞর কাজ অস্থিগত পরিবর্তন কেমন করে একটু একটু করে পরিবর্তন হয় তা পর্যালচনা করা। যেমন যতদিন ধরে হোমো গাছে থাকতো ততদিন গাছের ডাল ধরার জন্য পায়ের পাতা এবং হাতের পাতার গড়ন অন্যরকম ছিল। ডাল শক্তভাবে ধরার জন্য, হাত এবং পায়ের বুড়ো আঙুল অন্যভাবে থাকতো। পেছনের মেরুদণ্ড সোজা হওয়া, হিপের পরিবর্তন, কপালের আকার  এবং সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয় মাথার খুলির। ব্রেন ক্রমান্বয়ে বড়ো হতে থাকার জন্য মাথার খুলির কেস বা খুপরিটাও বড়ো হতে থাকে। কারণ বড়ো ব্রেনের জন্য বড়ো জায়গা দরকার।

প্রথম দিকে হোমোরা কথা বলতে পারতো না। ইশারা ইঙ্গিত এবং আঃ উঃ এধরনের আওয়াজ করত। ক্রমান্বয়ে মাথার খুলি বড়ো হতে লাগলো এবং নিচের জোয়াল নিচে  নামলো, শব্দ বের হওয়ার জায়গা বড়ো হওয়ার জন্য ভোকাল শব্দ বের হওয়ার জন্য সহজ হয়ে গেল।

কাজ করার সক্ষমতা দিয়ে হোমোরাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন, 

১)  সক্ষম মানব ( Able Man), 

২) পারদর্শী মানব (Handy Man) 

৩) চিন্তা করে বুদ্ধি বের করা মানব    ( Intelligent Man বা Thinking Man)

প্রথম দিকের হোমো যেমন হোমো হেবিলিস তারা বিপদ এলে যেমন কোনো হিংস্র পশু আক্রমণ করতে এলে তারা এবড়োথেবড়ো পাথর ছুড়ে তাড়াতে চেষ্টা করত । তাই এরাকে বলা হয় সক্ষম মানব ( Able Man)। মাথার মগজের  সাইজ ৬০০ থেকে ৭০০ Cubic CM। এদের ফসিলের সাথে এই সমস্ত পাথরের টুলস পাওয়া গেছে। 

পারদর্শী হিসাবে তিন রকম মানুষ :

পারদর্শী মানব( Handi Man)  যারা,  তারা পাথরকে ভেঙে নানারকম আকার দিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করত। যেমন মাংস কাটা, চামড়া ছিলা বা হার ভাঙার জন্য ভারী পাথরের ব্যবহার  ইত্যাদি। 

Thinkking Man বা চিন্তাশীল মানব হলো তারা, যারা কিনা বল্লম এর আগায় পাথর বেঁধে দূর থেকে ছুড়ে পশু শিকার করত বা পাথরের কুঠার বানাতে জানত। 

Homo Ergaster:

হোমো এরগাস্তের (homo ergaster)  জাতিও মানবরা আধুনিক মানুষের মতই শরীরের গড়ন ছিল। তাদের আগের হোমোদের চেয়ে চেহারাগত পরিবর্তন এসে গেছে। পায়ের পাতার এনাটমি করে দেখা  যায় তা আধুনিক মানুষের মতোই অনেকটা হয়ে গেছে। ১.৫১ মিলিয়ন বছর আগে তারা এই পৃথিবীতে বিচরণ করত। কেনিয়ার তুরকানাতে ভালোভাবে priserved করা অবস্থায় পাওয়া গেছে।  মাথার মগজের সাইজ ৬০০-৯১০ Cubic CM। 

এদের যে সমস্ত পাথর দ্বারা তৈরি টুলস পাওয়া গেছে তা আর মডার্ন। ভল্কানিক পাথর দ্বারা তারা ১৪ ধরনের অস্ত্র সস্ত্র বানাতে পারতো। কেনিয়ার নাইরটি থেকে ৭০ কি. মি. দূরে , ১.২ থেকে ০.৪ মিলিয়ন বছর আগে পাথর দ্বারা বানানো সরঞ্জাম  বানানোর কারখানা পাওয়া গেছে। যা কিনা সরঞ্জাম বানানোর সাক্ষী বহন করে। 

পাথরের অস্ত্র 

হোমো এরাকটাস ( Homo Erectus) :

এই হোমোনিন জাত  আফ্রিকা থেকে বের হয় ।  জাভা,  ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন সাইটে  এদের কঙ্কাল পাওয়া গেছে। তারা বিচরণ করত ১.৮ মিলিয়ন বছর আগে। ১৮৮৭ সালে ইওজেনে ডুবোইস নামক একজন এনাটোমিষ্ট মেডিক্যাল অফিসার  হিসাবে এখানে যোগ দিলেও তার নেশা ছিল হিউম্যান ফসিল খোঁজা । ব্রেইন  সাইজ ৭৫০-১,৩০০ cubic cm। এরা বিলুপ্ত শ্রেণি। 

Homo Antecessor :

এই শ্রেণি ৭,৮০,০০০ বছর আগে বিচরণ করত । ব্রেইন সাইজ ১০০০ cubic cm। 

Homo Heidel Bergensis :

এই হলো সেই শ্রেণি যারা কিনা ইউরোপে পাওয়া Niyandarthals এবং বর্তমানের হোমো সাপিএন্স এর কমন পূর্বপুরুষ । এরা মধ্য প্রস্তর যুগের । এদের মাথার খুলি আগের হোমোদের চেয়ে বড়ো ছিল। ৬০০,০০০ থেকে ২০০,০০০ বছর আগে বিচরণ , ব্রেইন সাইজ ১০০০ থেকে ১,৪০০ CM। কঙ্কাল পাওয়ার স্থান : আফ্রিকার রিফট  ভ্যালি , কেনিয়া, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, নর্থ আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন সাইটে পাওয়া গেছে।

 

Homo Floresiensis : বিলুপ্ত শ্রেণির মানুষ।

Homo Floresiensis : ১২,০০০ বছর আগে ইন্দোনেশিয়াতে পাওয়া সবচেয়ে নন মডার্ন হমিনিন । যা কিনা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। 

Homo Neander thalensis, হোমো নিয়ান্দার থালেসিস :

আমরা যারা এখন পৃথিবীতে বসবাস করছি ঠিক তার আগের এই  শ্রেণি  এই পৃথিবীতে ৩০০,০০০ বছর ধরে  বিচরণ করত । তাদের কঙ্কাল পাওয়া গেছে ইয়োরোপে । তারা কীভাবে বিলীন হয়ে গেল তা এখনো অজানা  । ১৮২৯ সালে বেলজিয়ামে এক নাগরিক জিব্রালটারের ফরবেস কয়ারিতে এদের মাথার খুলি পায়। তারপর ১৮৫৬ সালে জার্মানের নিয়ান্দার ভ্যালির এক গুহাতে আর একটা  মানব কঙ্কাল পাওয়া যায়। Wiliam King নামে একজন জিওলজিস্ট এর নাম দিলেন “নিয়েন-দার-থালে-নিস”  এবং George Busk নামক একজন জুওলজিস্ট পরীক্ষা  করে পেলেন  feldhoker এবং jibraltarer পাওয়া কঙ্কাল একই শ্রেণিভুক্ত। কারবন টেকনিক দ্বারা নির্ধারণ হলো এরা ৩৫০,০০০ থেকে ২৮,০০০ বছর আগে এই পৃথিবীতে বিচরণ করত। বর্তমান মানুষের মতোই তাদের চোখ মুখের নকসা। কিন্তু তারা ছিল খাটো, চওড়া বডি , মুখমণ্ডল ছিল ভারী আর চওড়া , ঘাড় ছোটো, নাক মোটা আর মাংসাল ,মাথা সামনে ঝুকে  থাকত, চোয়াল খুব বড় , কাঁধ শক্ত  এবং চওড়া ছিল। প্রস্তর যুগের মধ্য ভাগের সরঞ্জাম  ব্যবহার করতো। তারা ছিল শিকারী । কমপক্ষে ১০০,০০০ বছর ধরে তারা ইউরোপে ছিল। তাদের অনেক হাড়ে দাঁতের কাট মার্ক আছে। তা থেকে বোঝা যায় হিংস্র পশু দ্বারা আক্রমণিত হয়েছিল। তার  মানে এদের সাথে তাদের যুদ্ধ করে থাকতে হতো এবং ভয়ে থাকতে হতো।  

হোমো সাপিয়েন্স ( Homo Sapiens) :

হোমো সাপিয়েন্স হলো আফ্রিকার হাইডেল-বের-জেন্সিস  ( Hidel-ber-gensis) থেকে ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের আধুনিক মানুষ। পৃথিবীর সব দেশের মানুষকূল এই শ্রেণিভুক্ত । ৭ মিলিয়ন বছর ধরে এ পর্যন্ত যত হমিনিন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এসেছে সবাই বিলুপ্ত হয়েছে। একমাত্র এই শ্রেণি এখনো বেঁচে আছে ।  এরা সবরকম আবহাওয়া এবং পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে সক্ষম । ইথিওপিয়ার দোযোখের  মতো আবহাওয়া বা নর্থ পোলের কাছাকছি জায়গাতেও বেঁচে থাকতে সক্ষম।

এরাকেই বলা হয় চিন্তাশীল মানুষ বা জ্ঞানী মানুষ। কারণ নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জিনিস বানাতে পারে। এরা ২০০,০০০ বছর আগে আবির্ভূত হয় এবং পৃথিবীর সব কোনায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে আফ্রিকাতে তাদের অবস্থান থাকলেও ১০০,০০০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। তার প্রমাণ হলো ইসরাইলে এক গুহাতে  ২০জন আধুনিক মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গেছে। যার  সময়কাল ১২০,০০০ থেকে ৮০,০০০ বছর আগে। তার আগে এই শ্রেণির কোনো কঙ্কাল কোথাও পাওয়া যায়নি। এদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম শেষ পাথর যুগের, যা কিনা সুচালো পাথর দিয়ে বল্লম বা পাথরের কুঠার। তাই বলা হয় ১০০,০০০ মিলিওন বছর আগে “আউট অফ আফ্রিকা” ব্যাপারটা ঘটে ছিল। সব শেষে  উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা তে তারা পোঁওছায় ।  

সর্ব প্রথম হিউম্যান মাইগ্রেসান( Out Of Africa) 

হোমো হেবিলিস গাছে থাকতো। ৪.২ থেকে ৩ .৫ মিলিয়ন বছর আগে। হোমো ইরাকটাস গুহাতে বসবাস আরম্ভ করে এবং আগুণের ব্যবহার আবিষ্কার করে ১.৭ থেকে ২ মিলিয়ন বছর আগে। তারা কেউই কাপড়ের ব্যবহার করত না। তবে হোমো (niyan-dar-than) নিয়ান-দার-থান-রা শীত থেকে রক্ষার জন্য পশুর চামড়া দ্বারা শরীর ঢাকতো, কিন্তু তা নগ্নতা ঢাকার জন্য না।

আর্কেওলজিক্যাল সময় ব্যাখ্যা করার জন্য সময়কে তিন ভাগে ভাগ করে আর্কেওলজিস্টরা । তা নির্ভর  করে  সে  সময়ের মানুষের কমন কিছু ব্যবহার করা জিনিস নিয়ে। ভাগগুলো  হল :

১) Paleolithic Period, 

২) Mesolithic Period 

৩) Neolithic Period। 

প্রস্তর যুগ আরম্ভ হয় ২.৬ মিলিয়ন বছর আগে। শেষ হয় ৩,৩০০ B.C। লৌহ যুগ আরম্ভ হয় ১২০০ B.C থেকে ৬০০ B.C । মধ্য প্রস্তর যুগ আরম্ভ হয় ২৮০, ০০০ বছর আগে শেষ হয় ৫০-২৫,০০০ বছর আগে। দেখা যাচ্ছে  তুলনামূলকভাবে প্রস্তর যুগ অনেক দীর্ঘ।  মানুষের এক জায়গাতে বসবাস শুরু করে মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার বছর আগে। আর এই সময়টাতে আমাদের পূর্বপুরুষকে অনেক কষ্টকর জীবন পাড়ি দিতে হয়েছে। তাদের জীবিকা ছিল শিকার এবং খাদ্য সংগ্রহ। তারা ছিল গুহাবাসী।  

সর্বশেষ বরফযুগ ( Ice age) শেষ হয় ১৬,০০০ বছর আগে। আজকের যেটা  ইউরোপ সেটা, তাছাড়া উত্তর আমেরিকা এবং পুরো কানাডা আইস যুগে বরফে ঢাকা ছিল। এইজন্য মানুষ বসতি সেখানে গড়ে উঠেনি এবং প্রাচীন সভ্যতাগুলো যেমন মেসপটেইয়াম সভ্যতা, মিসরিয়ান সভ্যতা এবং সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর দক্ষিণ দিকে গড়ে ওঠে। মানুষের  প্রথম স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু হয় মধ্য এশিয়াতে।

মানবজাতি  এক স্থানে থিতু হলো যখন তারা কৃষিকাজ আরম্ভ করতে শিখল। বসতি যখন বড়ো হতে আরম্ভ হলো তখন সেই জনগণকে পরিচালনা করা, নির্দেশনা দেয়া এবং ব্যবস্থাপনা করার জন্য সিটি গড়ে উঠলো।

সভ্যতা বলা হয় তখন ,  যখন মানুষ ঘরবাড়ি বানাতে শিখল, কাপড় বুনতে শিখল, পটারি বানানো শিখল, চাকা চালিত গাড়ি এবং পটারি করা চাকার ব্যবহার শিখল, লেখার প্রচলন আবিষ্কার করল, খাদ্য রাখার জন্য বড়ো পাত্রের আবিষ্কার করল ।   

৩৫০০ বছর আগে পটারি বানানোর চাকার  আবিষ্কার হয়। মেসপটিইয়ামে  দেখা গেছে চাকা দ্বারা টানা  গাড়ি । কাপড় বুনা  আরম্ভ হয় ব্রোঞ্জ এজে। ২০০ B.C অক্ষর লেখা আরম্ভ হয়। সুমেরীয়, মিসরীয় এবং সিন্ধু সভ্যতাতে দেখা যায় লেখার প্রচলন। অবশ্য তা ছিল কতগুলো সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা। 

ধর্ম হলো সে সময়ের মানুষের মনগড়া চিন্তার ফসল। তার সাথে ছিল অনেক কাল্পনিক ধারণা। জন্মমৃত্যু, বন্যা, ঝড়, ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত, এইসব ব্যাপার কেন হয় তা সম্বন্ধে ধারণা না থাকাতে তারা যেমনভাবে ভেবেছে তেমনভাবে বর্ণনা দিয়ে ধর্ম তৈরি করেছে এবং সূর্য, পর্বত, আগুন এগুলোকে বিরাট মনে করে দেবতা বানানো প্রচোলিত করেছিল। 

নিওলিথিক সময়  ( Neolithic Period) :

প্রস্তর যুগের শেষ সময় হলো যখন মানুষ কৃষি কাজ আরম্ভ করল ১২,০০০ বছর আগে। মানুষ থিতু হলো, কারণ খাদ্য সংগ্রহ করার  জন্য আর এক জায়গা থেকে আর এক জায়গা যেতে হলো না। প্রথম কৃষি কাজ আরম্ভ হয় মধ্য এশিয়াতে। উত্তর ইউরোপে ১,৭০০ বছর আগে। চিনে ১২০০ বছর আগে। 

প্রথম রাষ্ট্র এবং প্রথম রাজধানী :

কৃষিকায আরম্ভ হওয়ার ফলেই রাষ্ট্র ,রাজধানী এবং জনপদের সৃষ্টি হয়।  মানুষ যখন কৃষি কাজ আরম্ভ করে তখন এত বেশি মানুষ যোগ দিতে আরম্ভ করে বেশি খাদ্য উৎপাদন করার জন্য। এইভাবে একটা  জনপদের সৃষ্টি হয়। সেই জনপদকে পরিচালনা করার জন্য অন্য এক পেশার সৃষ্টি হলো। যাকে বলা হয় শাসক শ্রেণি। তাছাড়া ঘরবাড়ি ,পটারি, সরঞ্জাম ,  কাপড় বুননের কারিগর এবং ধর্ম পুরোহিতদের পেশার সৃষ্টি হলো। সমাজ বলে একটা  জটিল ধাপ সৃষ্টি হতে থাকলো। যা কিনা মানুষ  শিকারী  থাকাকালীন অবস্থায় ছিল না। তাছাড়া বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত খাদ্য অন্য জায়গায় আদান প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসায়ী শ্রেণির সৃষ্টি হলো। এই সমস্ত মানুষ যে কেন্দ্রে বসবাস শুরু করল তাকে ঘিরে চারদিকে কৃষিকাজ  চালানো হতো এবং তারা সেখানে বসবাস করতে থাকলো। আর এভাবেই রাজধানী এবং রাজ্যের গোড়াপত্তন শুরু। 

মেসপটিইয়াম সভ্যতা :

১০,০০০ B.C  বছর আগে মানব ইতিহাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়। প্রথম কৃষির উৎভাবন ।

সবচেয়ে পুরানো রাজ্যের গোড়াপত্তন হয় টাইগ্রিস ইউফ্রেটিস  নদীর তীর ধরে। কৃষি কাজের জন্য পানির দরকার আর এই জন্য প্রত্যেক সিভিলাইজেশন হয় নদী কেন্দ্রিক। বর্তমান তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রথম কৃষি এবং জনবসতি আরম্ভ হয়। পরে তা দক্ষিণে প্রসারিত হতে থাকে। বর্তমানের  সিরিয়া এবং  ইরাকে  ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত হয়।  এভাবেই মেসপটিইয়াম বা সুমেরিয়ান সভ্যতা আরম্ভ হয়। কৃষির উৎভাবন , অঙ্ক বিদ্যা, এস্ট্রোনমি, লেখার প্রচলন, চাকার ব্যবহার এখানে চর্চা হতো। পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার উপস্থিতি এখান থেকেই আরম্ভ হয়। লিখিত ইতিহাস থেকে দেখা যায় ৩১০০ B.C এই সভ্যতা আরম্ভ হয়। 

মেসপটিয়াম সভ্যতার লেখা 

মিসরীয় সভ্যতা :

ব্রোঞ্জ এজের প্রথম দিকে ৩১৫০ B.C মিসরীয় সভ্যতা আরম্ভ হয় নীল নদের ধারে। ৫৫০০ B.C সময়ের দিকে ছোটো একটা ট্রাইব প্রথমে এখানে বসবাস শুরু করে।  তারা একটা গভর্নর চালু করে , একটা ধর্ম প্রচলিত করে। কৃষিকাজ থেকে বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত ফসল দ্বারা ব্যবসা, নির্মাণ, মিলিটারি রক্ষা, লেখার সিস্টেম চালু, কাপড় বুনন, পটারি, চাকাসহ গাড়ী, রং এর ব্যবহার, সময় ঘড়ি, অঙ্ক বিদ্যা, কেমিক্যাল এর ব্যবহার সবই এখানে দেখা যায়। 

মিসরীয় সভ্যতা 

চাইনিজ সভ্যতা :

চিনে নিওলিথিক পিরিয়ড আরম্ভ হয় ৮৫০০ – ২০৭০ B.C

ইয়োলো রিভারের ধারে প্রথম বসতি আরম্ভ হয়। প্রথম শাসক সিয়া ( ২০৭০ -১০৪৬ B.C) সাং dainesti ১৬০০- ১০৪৬

এখানেও সভ্যতার পরিচায়ক সব কিছুর চর্চা ছিল। ব্রোঞ্জ এর ব্যবহার, আর্ট এবং ক্রাফট এর জ্ঞান, লোহার বাটি বানাতে জানা সবকিছুই ছিল। 

চাইনিজ সভ্যতা 

সিন্ধু  এবং মহেঞ্জোদারো সভ্যতা :

সিন্ধু নদের ধারে ২৬০০-২৫০০ B.C এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।  সিন্ধু নদ ছাড়াও বর্তমান গুজরাট এর মধ্যে  দিয়ে একসময়ের প্রবাহিত সরস্বতী নদীর ধারে এর ছিল বিস্তৃতি । সিটি সেন্টার ছিল অনেক উন্নত। পানিনিস্কাসনের জন্য ড্রেন, পায়খানা, জলাধার, গোসলখানা, ইটের ব্যবহার, দুই তলা বাড়ি বানানোর ক্ষমতা, সুউচ্চ শস্যাগার, পাকা রাস্তার ব্যবহার , লেখার প্রচলন, আর্ট এবং ক্রাফট এর সুন্দর চর্চা , গহনার ব্যবহার যা কিনা একটা উচ্চতর  সভ্যতার পরিচায়ক। 

মানব জাতির চলার পথ ‘প্রস্তর যুগ”   থিতু হয়ে বসা “কৃষি যুগ“   ( যা কিনা মাত্র ১২ হাজার বছর আগে ) এর   তুলনায় অনেক দীর্ঘ । এবড়োথেবড়ো পাথর থেকে সুচালো পাথর , সুচালো পাথর দিয়ে  বল্লম এবং কুঠার বানানো তারা চিন্তা করে বের করেছে। আর সেগুলোই বর্তমান টেকনোলজির ভিত্তি । সেই টেকনোলজির উপরে দাঁড়িয়েই আমরা এপর্যন্ত  এগিয়েছি এবং আরও চিন্তা করছি কীভাবে আরও উন্নত করা যায়। 

আমাদের মাথার খুলি অর্থাৎ ব্রেন কেস বড়ো হয়েছে ব্রেন বড়ো হওয়ার জন্য। শরীরের কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে , হাল্কা হয়েছে হিপের এবং কাঁধ এর কাঠামো। যার জন্য আমরা সোজা হয়ে  এবং তাড়াতাড়ি হাঁটতে পারি। 

তবে এখনো আমাদের চিন্তাধারা ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। সমাজের কাঠামো, সভ্যতা, পরিবারের গঠন, বিবাহের ধারা, ধর্ম নিয়ে ভাবনা এক জেনারেশন থেকে আর এক জেনারেশন পরিবর্তন এর মধ্যে দিয়েই চলছে এবং চলতে থাকবে।

মানব জাতীর ক্রমবিবর্তন এখনো চলছে । তবে তা এত ধীরে ধীরে যা আমরা অল্প সময়ে বুঝতে পারিনা। Asrto Freak যিনি একজন বিজ্ঞানী ছিলেন তাঁর উক্তি দিয়ে শেষ করছি, যিনি বলেছেন “ We are the result of 3.8 bilion years of Evolutionary success” .

গ্রন্থ সূত্র ঃ 

Evolution, The Human Story

DR Alice Roberts. 

সমস্ত ফটো উক্লিপেডিইয়া থেকে নেয়া। 

৮৬৯জন ২২২জন
27 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য