কোরবানী কথন

মনির হোসেন মমি ১৯ আগস্ট ২০১৮, রবিবার, ০৫:২১:৩৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি, গল্প, বিবিধ ৬ মন্তব্য

-হেলো গরু পাইছো?
-আরে না!
-কি কও সেই কখন না গেলা,এখনো কিনা হয়নি!
-আছোতো এসি রুমে বইসা তাল পাও না।বাইরে কি যে গরম।
-তোমার গাড়ীর এসি কি নষ্ট
-না বেডারাতো আমারে গরু এসি গাড়ীর ভিতরে আইন্না দিয়া যাইবো।যতসব!রাখোত ফোন।

বলেই মফিজ সাহেব ফোনটা নিজেই কেটে দিলেন।সারাটা দিন রৌদ্রে ঘুরে ঘুরে এ হাটে কখনো ঐ হাটে গরু দেখছিলেন।আজ বাদে কাল ঈদ এখনতো গরু না কিনে উপায় নেই।এতো দিন এত বেশী গরু কিনতে হাটে যাতায়াত করেছেন যে এখন প্রায় গরু বিক্রেতাই তাকে চেনেন।আর ভাবেন সেতো গরু নিতে আসেন নাই দেখতে আইছেন।তাই অনেকেই আজ তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না তাকে ।তবে এক জন তাকে গুরুত্ব দিয়ে ডাক দিলেন।সে ভাবলেন আজকেইতো শেষ দিন হয় তার কাছে গরু বেচবো নতুবা তাকে মাগনাই দিয়া দিব।
-এই যে ভাই,
পিছন ফিরে তাকালেন মফিজ সাহেব।ডাকের ইশারা বুঝতে পেরে তার কাছে গেলেন।
-কি ভাই…
-চলে যাচ্ছেন যে গরু কিনবেন না?
-গরুতো কিনতাম কিন্তু দামে বনলে পছন্দ হয় না,পছন্দ হলে দামে বনে না।
-আমার এই গরুটা লন কমে ছাইড়া দিমু অবশ্য যদি পছন্দ হয়।

গরুটার চারদিন ঘুরে ঘুরে দেখলেন মফিজ সাহেব।কখনো তার লেজ উচিয়ে,কখনো দাত বের করে,কখনো শিং ঠিক আছে কি না ইত্যাদি খুটে খুটে দেখছেন।বিক্রেতা তার এমন খুটে খুটে দেখাটায় বিরক্তি প্রকাশ করলেন।
-ভাইজান এর আগেও এই গরুটা দেখে গেছেন কিন্তু দাম কন নাই।এখন আর কি দেখেন?এটা নেন এটা আমার বড় ভাইয়ের পালা গরু।আপনি নিশ্চিন্তে নিতে পারেন।
-তা ঠিক আছে।
সাথে তার দু শালাকে সঙ্গে এনেছিলেন।তাদের জিজ্ঞাসা করল।
-কিরে কি কও পছন্দ হইছে?
ওরাও হাটে হাটে ঘুরে বেশ ক্লান্ত।
-চলে দামে বনলেই হলো।
-আচ্ছা দাম কও?
-আপনিই কন কত দিবেন?
-না না তোমার গরু তুমিই আগে কও?
-যদি নেন তবে এক লাখ ত্রিশ নিতে পারবেন।
দাম শুনে মফিজ সাহেব বরাবরের মতো ভ্রু কুচকালেন।অতপর চলে যেতে প্রস্তুত নিতে বিক্রেতা আবারো ডাক দিলেন।
-কি ভাইজান নিবেন না?
-কেমনে নেই কও!এইটুকু একটা গরুর এতো দাম।কয় কেজি মাংস হবে বলেনতো?
বিক্রেতা গরুটির পাছায় বড় একটা থাপ্পর দিয়ে।
-কি যেন কননা এতো সুন্দর গরু হাটে আর আছেনি!আচ্ছা ঠিক আছে দামতো একটা কইবেন নাকি?
-দাম আর কি কমু!তুমি যেই দাম চাইছো….আচ্ছা ঠিক আছে ষাট হাজার দিমুনে।
-কি যে কন এর অর্ধেকয়েতো কইলেন না!
-কি কও?
-না ভাই এ দামে হবে না আরো বাড়তে হবে।একটা ছাগলও চল্লিশ পঞ্চাশে যায় আর এটাতো গরু ভাই।
-আচ্ছা ঠিক আছে,আশি দিমুনে আর না কইয়ো না।
-নারে ভাই এই দামে আমার কিনাও হয় নাই।
-তাইলে?
-যদি নেন তবে একে বারে এক নোট এক লক্ষ টাকা লাগবে।
-নাহ পারলাম না।দেহো ষাট হাজারে যদি পারো তবে দিয়া দেও।

বিক্রেতা এ দামে গরুটা দিলেন না তাই মফিজ সাহেব ফিরে যাবেন বলে মনস্থির করলেন।এ পর্যন্ত বেশ কয়েক বার বেশ কয়েকটি হাটে হেটে হেটে দেহ মন সবিই এখন ক্লান্ত।এদিকে সন্ধ্যা হয়ে এলো হাটে ঘুরতে আর ভাল লাগছিল না তাদের।সে তার শালাদের সাথে পরামর্শ করে ফের বিক্রেতার দিকে তাকিয়ে বললেন।
-আচ্ছা ঠিক আছে আরো দশ হাজার দিলাম নব্বই হাজার দিলে দিয়ে দাও।
-কোরবানীর গরু স্যার এ ভাবে দাম মুলায় না।আল্লাহর নামে কোরবানী করবেন নেন নিয়ে নেন,তয় কম দিয়েন না।

মফিজ সাহেব আর কোন কথা বাড়ালেন না।পুরো টাকা দিয়ে গরু নিয়ে চলে এলেন হাসলি দিতে।হাসলি গ্রহনের মঞ্চে তার আগে বড় পার্টি হাসলি দেয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে আছেন।মফিজ সাহেব গরুগুলো দেখে অবাক হলেন।পাচটি বিশালকারের গরু একজন ক্রেতা।যার দাম দাড়িয়েছিলো পনের লক্ষ টাকা।মফিজ সাহেব ভাবছেন এতো টাকা কই পায় তারা!ঠিক সে সময় তার পিছনে আরেক জন গরু কিনে তার হাসলি দিতে লাইনে দাড়ালেন এবং সে সামনে পাচটি গরুর মালিক সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করলেন।
-শালা হারাম খোরগো লাইগা কোথাও শান্তি পাই না।
মফিজ সাহেব ভাবলেন কথাটা কি তাকে বললেন।সে সন্দেহ বশতঃ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন।
-ভাইজান কি হইছে?
আরে ভাই ঐযে পাচ গরুওলা হারামি পয়সার গরমে আর তর সয়না,পাচ গরু কিনলেন।আচ্ছা কনতো এসব হারামি পয়সায় কোরবানী হইবো?আরো বিশটা গরু দিলেই কি।
-ঠিক কইছেন।
মফিজ সাহেব আর কোন কথা বাড়ালেন না।তার মনটাও এখন খুব খারাপ হয়ে গেল।হাসলি দিয়ে বাড়ীতে নিয়ে এলেন গরু।গরু দেখে বাড়ীর ছেলে বুড়ো সবাই খুশি।তার কর্তীতো মহা খুশি।
-এ বছর একটা কামের কাম করছো।গরুটা ভাল দেইখা কিনছো।
মফিজ সাহেব বাড়ীতেও তেমন কোন কথা বললেন না।সে ঘরে তার নিজ রুমে এসিটা ছেড়ে ঠান্ডা হচ্ছেন।তখনি তার মনে এলো গত জুম্মায় কোরবানীর পশু নিয়ে মসজিদের ইমাম সাহেবের বয়ান।
“প্রতিটি মুসলমানের উপর উপর কোরাবনী ফরজ করা হয়েছে যদি তার হালাল কামাই টাকার সামর্থ থাকে।দশটা পাচটা বা বিশাল গরু কোরবানী দিয়ে কেবল সামাজিক ভাবে অহংকার করা যায় যদি তা ক্রয়ে হালাল রোজগার হয়।এর মধ্যে একটি টাকাও যদি হারাম কামাইয়ের হয় তবে তার সমস্ত কোরবানীই বিফলে যাবে।সুতরাং কোরাবানীর জন্য পশু কেনা এবং তা বন্টন হতে হবে ইসলামের মতাদর্শে”।
মফিজ সাহেব চিন্তায় পড়ে গেলেন তবে কি তার এক লক্ষ টাকা দিয়ে কেনা বিফলে গেল।কারন কোরবানী ক্রয়কৃত এ টাকাতো সে অফিসিয়াল ধান্দাবাজীতে পেয়েছিলেন।

“ঈদ শুভেচ্ছা
ঈদ মোবারক”

৪২২জন ৪২২জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ