দারিদ্রতা, অসুস্থতা, মানসিক বা শারিরীক দুর্বলতা আমাদেরকে প্রায়শঃই লক্ষ্যচ্যুত করে। মানুষ শারিরীক, মানসিক, সৃষ্টিগতভাবে এবং গঠনগত দিক থেকে অতি দুর্বল প্রাণী। তাই জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে মানুষের লক্ষ্যচ্যুত হবার সম্ভবনা থেকেই যায়। অধিক শোক কিংবা অধিক সুখ উভয়ই ক্ষতির কারণ কেননা এতে মানুষ তার লক্ষ্য হারিয়ে বিপথে পা বাড়ানোর সম্ভবনা থাকে। ফলে  বিপথগামী মানুষ তার জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে না পেরে হারিয়ে যায় অন্ধকারের অতলে।

জীবন ও তার লক্ষ্য কি, কিভাবে তা অর্জন করা যায় তার উত্তর বেশিরভাগ মানুষই খুঁজেন না বা খুঁজে পান না। কারো কারো কাছে নাওয়া-খাওয়া, বিয়ে-সাদি, বাচ্চা লালন-পালনই মূখ্য উদ্দেশ্য। সত্যিই কি? এগুলো জীবনের অনুসঙ্গ যার প্রভাব পুরো জীবনব্যাপি বিদ্যমান। তবে পূর্ণাঙ্গ জীবনতো নয়। জীবনের সফলতা কি সেই প্রশ্নের উত্তর মহান আল্লাহ সূরা বাকারার একটি আয়াতের শেষাংশে দিচ্ছেন এভাবে “ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয় অপর আয়াতে ব্যর্থদের ব্যাপারে বলেন, “আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এবং মুশরিকরা জান্নামের আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্ট অর্থাৎ মহান আল্লাহর পক্ষ হতে কিতাব প্রাপ্ত হয়েও যারা তার আমল ত্যাগ করবে তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট আর নিকৃষ্ট প্রাণী কোন ভাবেই সফল নয়। সফল কারা সেই জবাবও আল্লাহ দিচ্ছেন, “ যারা ইমান আনে ও সৎ আমল করে তারাই সৃষ্টির উৎকৃষ্ঠ

জীবন কান্না-হাসি, বিরহ-ভালবাসা, মিলন-বিচ্ছেদ, দহন-প্রশান্তি ইত্যাদির সমন্বিত রূপ। জীবনের সকল পরিস্থিতিকে হাসিমুখে যে ব্যক্তি মেনে নেয় এবং লক্ষ্য স্থির করে পথচলে তিনি বুদ্ধিমান ও সফল। কোন কষ্টই তার চলাকে মন্থর করতে পারেনা। তবে জীবনে সবাই সফল হননা- কেউ কেউ হন। কারো কারো জীবন অন্যের চলার পথের দৃষ্টান্ত হয়। আবার কাউকে মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে আজীবন।

তাই জীবনের মালিককে আগে চিনতে হবে। তিনি তার প্রতিনিধিদের জীবনে রেখেছেন উত্তরসূরীদের  জন্য আলোকবর্তিকা। সেই বর্তিকার আলোচ্ছটায় জীবনে হেরে না যাওয়ারা তাদের পথ খুঁজে নেবে। যেমনটি খুঁজেছেন হযরত আছিয়া (আ.)। মহান আল্লাহর কঠিন পরীক্ষায় (কুষ্ঠ রোগে) যখন আইয়ুব (আ.) অবতীর্ণ হয়েছেন সেই কঠিন মূহুর্তে আছিয়া (আ.) তার সঙ্গীকে ছেড়ে যাননি। দুখের সাথী হয়েছেন, ভালাবাসা আর সেবায় সুস্থ করে তুলেছেন আপন স্বামী মহান আল্লাহর বন্ধুকে। পরবর্তী দুনীয়াবাসী নারীদের জন্য আছিয়া (আ.) আদর্শ হয়ে আছেন। খাতামুন নাবিয়্যিন, সাইয়্যেদুর মুরসালিন, ইমামুন নাবিয়্যিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স.) এর 23 বছরের নবুওয়্যাতি জীবনের মধ্যে 13 বছরই কেটেছে অবিশ্বাসী কাফেরদেকে অত্যাচার আর নির্যাতনের শিকার হয়ে। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) নমরুদের অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপিত হয়ে যে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তা কেয়ামত পর্যন্ত মুসলমানের জন্য আদর্শ ও চলার পথের পাথেয়। যেমন পিতা তেমন তার পুত্র। হযরত ইসমাইল (আ.) এর উছিলায় কুরবানির ইতিহাস আমাদের কার না জানা। ইসমাইল (আ.) এর মা হাজেরা (আ.) কে বারংবার শয়তানের ধোকা মহান আল্লাহর আদেশ মান্য করা হতে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। সমুদ্রের অতল গহীনে মাছের পেটে ইউনুছ (আ.) এর অবস্থান মুমিন বান্দাদের ধৈর্য হারা না হবার শিক্ষা দেয়। হযরত মুসা কালিমুল্লাহ (আ.), হযরত ঈসা রুহুল্লাহ (আ.) গণও সয়েছেন অযাচিত যন্ত্রনা। কোন অত্যাচার তাদের অভিষ্ঠ লক্ষ্য হতে পিছনে ফেরাতে পারেনি। আমাদের পূর্বসূরীদের সিরাতই আমাদের চলার পথে শক্তি যোগায়। তাই চলার পথে সব ধরণের বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে জীবনের মূল উদ্দেশ্য হাসিল করতে হবে। মহান আল্লাহকে রাজি-খুশি করে পরকালের অনন্ত পথের যাত্রার শুভ সূচনা করতে হবে। ঐ পথে আর কেউ নয় একমাত্র মহান আল্লাহই আমাদের সাথি হবেন। তাই সমস্ত অসুস্থতা, দুর্বলতা, অসহায়ত্বকে পদদলিত করে মহান আল্লাহর মহব্বত হাসিল করা আমাদের জীবনের অভিষ্ঠ লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

১১৫জন ৩১জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

  • মোঃ মজিবর রহমান

    জীবন ও তার লক্ষ্য কি, কিভাবে তা অর্জন করা যায় তার উত্তর বেশিরভাগ মানুষই খুঁজেন না বা খুঁজে পান না। খুরশেদ ভাই আমি এখানে ই আটকিয়ে গেছি।
    অপর আয়াতে ব্যর্থদের ব্যাপারে বলেন, “আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এবং মুশরিকরা জান্নামের আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্ট।” এখানে আমি গতরাত্রেও পড়লাম। এখানে ব্যার্থ বলতে আমি কি দুই রকম বুঝবনা। যথা ১. আমি আল্লাহর পথে থেকেও ব্যার্থ হতে পারি। আবার ২. যারা কুওফরি করবে তারা। একটু বুঝিয়ে বলবেন, দয়া করে।

    ভাই কিছু কিছু জায়গায় মাথাটাল্মাটাল হয়, যেমন আল্লাহ্ — সুরা বাকারার ২৫৫ তে ” তিনি জানেন কি আছে তাদের সামনে এবং কি আছে তাদের পেছনে; আর তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা ধারণা করতে পারে না তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত।” আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দেবেন আবার যাকে দেবার ইচ্ছা নায় তাঁকে দেবেন না। এখানে আমার মাথা পাগলামু হইয়া যায়।
    আল্লাহ আমাকে আরো বুঝার তৌফিক দিন সেই দোয়া করবেন।

    • মোঃ খুরশীদ আলম

      এক. আমি আল্লাহর পথে থেকেও ব্যার্থ হতে পারি। – এখানে ব্যর্থতা বলতে আমি কি বুঝাতে চাইছেন ভাইয়া? আল্লাহকে না পাওয়ার ব্যর্থতা নাকি দুনীয়াবী সহায় সম্পদের মালিক না হওয়ার ব্যর্থতা ?

      দুই. যারা কুফরী করবে তারা।
      এক. এর উত্তর আশা করছি।
      দুই. এর উত্তর হচ্ছে- আপনি ঠিক ধরেছেন। যারা কুফরী করবে তারা সত্যিকার অর্থেই ব্যর্থ । কারণ কুফরী করার পরিণাম জাহান্নাম। আর যারা
      আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে না বা তার সাথে শরিক করে তাদের স্থান জাহান্নাম এটা জানা কথা। সূরা আল বাইয়্যিনাত এর তাফসির পড়ুন। সব কথা আসলে লেখেও শেষ করা যায় না।

    • মোঃ খুরশীদ আলম

      এক. আমি আল্লাহর পথে থেকেও ব্যার্থ হতে পারি। – এখানে ব্যর্থতা বলতে আমি কি বুঝাতে চাইছেন ভাইয়া? আল্লাহকে না পাওয়ার ব্যর্থতা নাকি দুনীয়াবী সহায় সম্পদের মালিক না হওয়ার ব্যর্থতা ?

      দুই. যারা কুফরী করবে তারা।
      এক. এর উত্তর আশা করছি।
      দুই. এর উত্তর হচ্ছে- আপনি ঠিক ধরেছেন। যারা কুফরী করবে তারা সত্যিকার অর্থেই ব্যর্থ । কারণ কুফরী করার পরিণাম জাহান্নাম। আর যারা
      আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে না বা তার সাথে শরিক করে তাদের স্থান জাহান্নাম এটা জানা কথা। সূরা আল বাইয়্যিনাত এর তাফসির পড়ুন। সব কথা আসলে লেখেও শেষ করা যায় না।

  • মনির হোসেন মমি

    “আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এবং মুশরিকরা জান্নামের আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্ট।” অর্থাৎ মহান আল্লাহর পক্ষ হতে কিতাব প্রাপ্ত হয়েও যারা তার আমল ত্যাগ করবে তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট আর নিকৃষ্ট প্রাণী কোন ভাবেই সফল নয়। সফল কারা সেই জবাবও আল্লাহ দিচ্ছেন, “ যারা ইমান আনে ও সৎ আমল করে তারাই সৃষ্টির উৎকৃষ্ঠ।”

    ভাইয়া আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে-যারা নন মুসলিম তারা সফল হন কীভাবে ?

      • মোঃ খুরশীদ আলম

        জনাব আপনার দিক থেকে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো ঠিক আছে।
        তবে সফলতা বিষয়টি ব্যাপক। একজন ধার্মীকের কাছে, মুমিন বান্দার কাছে সফলতা মানে হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
        মুমিনের জীবনে সুখ, দুঃখ-কষ্ট থাকে, থাকবে। ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের সাথে মহান আল্লাহর ইবাদাতে তিনি নিজের সফলতা খুঁজে পান। প্রার্থীব জীবনের সফলতা বলতে অনেকে বুঝে থাকেন টাকা-পয়সার মালিক হওয়া, সুখ-সমৃদ্ধি অর্জন করা। প্রার্থীব জীবনের সুখ সমৃদ্ধির জন্য মুুমিন বান্দা চেষ্টা করেন কিন্তু তার পিছনে লেগে থাকেন না। সুখ লাভের জন্য পাগল হয়ে যান না বরং চেষ্টা করতে থাকেন। এতে কেউ সফল হন বা কেউ হননা। তাতে মুমিন বান্দার কিছু আসে যায় না। তার সফলতা একমাত্র আল্লার সন্তুষ্টিতেই নিবন্ধিত থাকে।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য