কোথায় হারিয়ে যাচ্ছি আমি

নিরব সাগর ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, সোমবার, ০৯:৪৫:৫৪অপরাহ্ন অণুগল্প ২৪ মন্তব্য

অনেকদিন হলো ডাইরির পাতায় কলমটা ঘষাঘষি করা হয়নি। তাই বলি কিছু লিখিনি তা নয়, যা কিছু লেখা লিখেছি তা ফোনের নোটপ্যাডে। এর একটা বিশেষ সুবিধা আছে। যখন মন চায় তখনই কিছু লেখা যায় ।কারণ ফোনটা মোটামুটি সব সময় সাথে এবং হাতে থাকে ।

তবে আর যাই হোক, কলমটা হাতে নিয়ে ডাইরির পাতায় উপর্যুপরি ঘষাঘষির মাঝে লেখালেখির পূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায়। যা কি না নোটে হাজার শব্দ সহস্র বর্ণ লিখেও পাওয়া যায় না। তৃপ্তির ঢেকুর ডায়েরি কলমের গোপন মিলনে ।

তাইতো অনেকদিন বাদে ডাইরিতে কিছু একটা লেখার ইচ্ছা নিয়ে বসে পড়লাম। ডাইরি নিয়ে বসে পড়লে কিছু তো একটা লেখার উদ্ভট ধারণা মাথায় চলে আসবেই । ডায়রিতে লেখার মূল মজা তো এখানেই। এখানেই চলতে থাকে একান্ত ভাবে মিলনের বিশেষ মুহূর্ত।

কলম টা হাতে নিয়ে আনমনা হয়ে কিছু ভাবনার অতলে ডুব দেয়া, তারপর সেখান থেকে কোনো কিছু খুঁজে বের করে, তা ডাইরির পাতায় লেখা পৃথিবীর সবচাইতে বিশেষ মুহূর্ত গুলোর একটা। সে বিশেষ কোন প্রিয়জনের সাথে মিলিত হবার সময় গুলোর মত অথবা তার চেয়েও বেশি ।

গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে বারবার একটা উদাহরণ টানতে ইচ্ছা করছে যদিও সেটা সামাজিকতার একটু অবক্ষয়। একজন ধর্ষক যেমনভাবে তার বিশেষ মুহূর্তটা উপভোগ করার চেষ্টায় থাকে ঠিক তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি মহ এখানে কাজ করে। এই আকৃষ্ট করার সময়টার চেয়েও বেশি আকৃষ্ট করে, মাথায় থাকা কোন কিছু কলমের দ্বারা ডায়েরির সাথে সঙ্গম ঘটাতে।
যার ফলে খুব দ্রুতই অগণিত বাচ্চার জন্ম হয় ।পৃথিবীতে এত দ্রুত জন্মগ্রহণ বা জন্মদানের মত আর কোন কিছু নেই।

প্রচন্ড আঘাত বা কষ্ট পেলে সাধারণ মানুষের মাথায় রক্তক্ষরণ হয় আর আমার মাথায় হয় শব্দক্ষরণ। অসংখ্য শব্দরাশি মস্তিষ্ক যোনিতে এসে আমাকে গণধর্ষণ করে ।এতে অবশ্য আমার খুব একটা খারাপ অনুভূত হয় না ।

যদিও আমার তীব্র শব্দ প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয়। আর আমার এমন সময় কোন নিকটাত্মীয় পাশে থাকে না ।কাছে থাকলেও কোনো কাজে আসে না। নিজেকে খুব একলা মনে হয় ।অনেকটা নিজেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছে হয়।

আনমনা হয়ে অনেক কিছু ভাবতে ইচ্ছে করে শুধু। ভাবনার অতল গহবরে ডুবে যাই আমি। কোন কিছুতেই তৃপ্তি আসে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি আমার মস্তিষ্ক যোনিতে ঘুরে বেড়ানো অসংখ্য শব্দগুলোকে প্রসব করতে পারি।

গত কয়েকদিন ধরে মনের অবস্থা ভালো নেই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবনায় সময় গুলো ভেসে যাচ্ছে। অমুক্তি প্রাপ্ত সিনেমার রিল যেমন উক্ত পরিচালকের দৃশ্যপটে বারবার ভেসে ওঠে কিন্তু সিনেমা হলে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো দর্শক দেখতে পায় না। ঠিক তেমনি অসংখ্য অপরিকল্পিত কল্পনা ভাবনার জগতে আমাকে নিয়ে খেলছে বারংবার। আমাকে নিয়ে যেতে চাইছে কালের গহবরে। কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে আমি কিন্তু কেউ আমার সেই হারিয়ে যাওয়া দেখছে না ।

জীবনটার ভারসাম্য রক্ষা করা অনেক কঠিন ।যতটা কঠিন প্রদর্শিত ভারসাম্য রক্ষাকারী খেলা। একজন খেলোয়াড় ঝুলন্ত লাফ, দড়ির উপর সাইকেল খেলা কিংবা বর্শা খেলার মত ভারসাম্য রক্ষার খেলা গুলো দেখান ।সম্পূর্ণ খেলা সুন্দরভাবে শেষ হলে তবেই না আমরা হাততালি দেয় ।আর যদি তা সঠিকভাবে শেষ করা সম্ভব না হয় ,তাহলে আর হাততালি ভাগ্যে জোটে না ।তার সামান্য অসাবধানতার জন্য যেমন সকল শ্রম পন্ড হয়ে যেতে পারে জীবনটাও ঠিক তাই।

চলার পথে একটু গড়মিল হয়ে গেলে ছিটকে পড়তে হয় সমাজ থেকে। সফলভাবে জীবনের গোটা পথ পাড়ি দিতে পারলেই তবে কিছু হাততালি পাওয়া সম্ভব, নয় আপনি আমি কে কোথায় হারিয়ে যাবো পৃথিবী একদম মনে রাখবে না।
আমি যেন ঠিক তেমনি ও অগতিসম্পন্ন হয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। জীবনটা যখন এমনিতেই জটিল আমার তো বর্ণনাতীত।

আমার ধারনা , একবার হোঁচট খেয়ে পা গড়মিল হয়ে গেলে কোথায় যে হারিয়ে যাব, পৃথিবী এবং মহাকাশ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র আমার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাবে না ।

৩৮৭জন ২০৮জন
3 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য