কৃষি ও কৃষকের গল্প : পর্ব-১

রুদ্র আমিন ৩১ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ১০:৩৮:১৩পূর্বাহ্ন গল্প ২০ মন্তব্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা শেষ করে আজ ব্যাংকে চাকরি করছে সাচ্চু। বেশ ভালো বেতনও পাচ্ছে, ছেলের চাকরি হওয়ায় বাবা মা স্বস্তিতে। এখন বিয়ে দিয়ে ঘরে একটা সুন্দর বউ আনবেন এমটাই আশা করছেন। আর সেই কারণেই ছুটিতে বাড়িতে এসেছে সাচ্চু। বাড়িতে পৌছেই বাল্য বন্ধুদের সাথে দ্যাখা করতে পুরাতন আস্তানায় হাজির।

কিরে দোস্ত তোরা কেমন আছিস? আম বাগান এখনো ছাড়তে পারলি না?
বন্ধুদের সাথে বুকে বুক রেখে বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে ব্যস্ত সাচ্চুর বন্ধুদ্বয় রাশেদ ও জুয়েল। এতোদিন পর বন্ধুকে কাছে পেয়ে খুব উল্লাসিত রাশেদ ও জুয়েল। হাসিমুখে রাশেদ সাচ্চুকে জিজ্ঞেস করলো —
– তা তুই কোনদিন বাড়িতে আসছিস? জানতেও পারলাম না।
রাশেদের এমন প্রশ্নের জবাবে জুয়েল বলে উঠলো –
— আরে তুই খবর জানিস না, সাচ্চুর নতুন জীবন শুরু হতে যাচ্ছে, কোরবানি হবে অতিশীঘ্রই। তখন দেখবি ভুলে যাবে আম বাগান, আঁচল বাগান পেয়ে আমাদেরও ভুলে যেতে পারে। আর তাই তো ছুটিতে এসেছে।
রাশেদ- কি বলিস? জানতে পারলাম না, এই তাহলে বন্ধুত্ব? মানুষ স্বাবলম্বী হলে আর ভালো চাকরি করলে এমনি হয়ে যায়।
সাচ্চু – আমি না হয় দূরে থাকি, স্বার্থপর হয়ে গেছি তা তোদের কাছে তো আরেক বন্ধু থাকে, তাকে তো দেখছি না। ওর কথা শুনে তো অবাক হয়েছি বিসিএস এ টিকেও নাকি চাকরি করছে না।
রাশেদ–তুই কার কথা বলছিস, আমাদের রুদ্রের কথা?
সাচ্চু – হু রুদ্র, ও তো বাড়িতেই থাকে শুনলাম।

রাশেদ- হু, ওর থাকা আর না থাকা, শিক্ষিত হয়ে কৃষক হয়ে গেছে, দেশকে বদলাতে চায়, গ্রামকে আলোকিত গ্রাম বানাতে চায়। জমি, গ্রামের মানুষ আর কৃষক এখন তার বন্ধু। কি আর বলবো, শিক্ষিত পোলা তুই ভালো চাকরি করবি, ভালোভাবে থাকবি এমনটাই তো চাই। হাজার হলেও আমরা সবাই বাল্যকালের বন্ধু। বন্ধুদের কেউ ভালো পজিশনে থাকলে বন্ধুদেরই তো ভালো লাগার কথা। কিন্তু না তিনি যে বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করেছেন সে বিষয়ে চাকরি না হলে অন্য বিষয় নিয়ে চাকরি করবে না, তুই বল — বিসিএস-এ টেকা কি সহজ কথা? হাতে সে সেই সোনার ডিম পারা হাঁস পেয়েও তিনি করবেন না; তাকে কৃষিকর্মকর্তা বানাতে হবে। বল এটা কোনো যুক্তির কথা হলো। তোর কথাই বলি মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করে তুই ব্যাংকে চাকরি করছিস, কি সমস্যা। হয়তো তুই কোনো বিসিএস ক্যাডার হতে পারিসনি তাই বলে পাওয়া চাকরি কেউ হারায়?

সাচ্চু – ওসব কথা বাদ দেয় তো, বন্ধু যদি বাল্যকালের বন্ধুদের ভুলো যায় তাহলে তার থেকে দূরে থাকাই ভালো। হয়তো ভালো ছাত্র বলে নিজেকে নিয়ে গর্ব করে আর ভাব ধরে চলে এমনটাই হবে। বাদ দে ওর কথা।
জুয়েল- বন্ধু তোরা দু’জন কিন্তু একটু বেশি বলে ফেলছিস, রুদ্রের গর্ব নেই যদি গর্ব থাকতো তাহলে চাকরিই করতো, কৃষক হতো না কিংবা গ্রামের মানুষের জন্য ঝাপিয়ে পড়তো না। গ্রামের মানুষ বিপদে পড়লে ওর কাছেই আগে যায় পরামর্শ নিতে।

রাশেদ – এসব কথা বাদ দে, ভালো লাগে না। সাচ্চু অনেকদিন পর এসেছে ওর সাথে একটু সুখ দুখের কথা বলি। দোস্ত এনে বসতো, তোকে কিছু কথা জিজ্ঞেস করি। তা মেয়েটি দেখতে ক্যামন, কোথায় বাড়ি, পড়ালেখা কতদূর, বর হিসেবে কি কি পাচ্ছিস?

১৪৬জন ২৩জন
36 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য