কবি বলেছেন,

“সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।”

হ্যাঁ একজন কৃষক দেশের আশা আকাঙ্খা সবই মিটিয়ে চলেছেন নিজের হাড়পাজুড়ে শরীরের ঘাম ঝরিয়ে। কিন্তু বিনিময়ে তিনি কি পাচ্ছেন কিংবা আমরা কি মূল্যায়ন করছি তাকে?

কিছুদিন আগের খবর, ভুলে গেছেন বুঝি? এটাই তো হওয়া উচিৎ । আমরা সাময়িক আবেগে গা ভাসাতে জানি, প্রতিবাদ করতে পারি কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুজি না কখনো।

পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের খবরগুলো ছিলো এমন, “মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকেরা  প্রতি কেজি আলুর দাম ১ টাকাও পাচ্ছে না। রাস্তায় আলু ফেলে দিয়ে নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিতে যায় সেই হতভাগা মানুষগুলো। সচীবলায়ে, মন্ত্রানলায়ের সামনে বস্তা বস্তা আলু ছুড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারা।’ [আমি বলি এগুলো মন্ত্রী-সচীবদের ভিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলো মহৎ হৃদয় খেটে খাওয়া মানুষগুলো। এমনটি কখনই কাম্য নয়]।

অথচ সেই ১ টাকা কেজি দরের আলু আপনি খাচ্ছেন কত গুণ দরে জানেন তো? নিশ্চয়ই ভাবছেন, এ আর কতো হবে সর্বোচ্চ ১০গুণ বেশি দামে।

ভুল ভেবেছেন। হিসাবটা আপনার কল্পনারও বাইরে। নিচের পরিসংখ্যানগুলো দেখুন তাহলে-

১/
এক প্লেট ফ্রেন্স ফ্রাই এর সর্বনিম্ন মূল্য কতো? ১০টাকা আর সর্বোচ্চ ২৫০টাকা। এই এক প্লেটে কত গ্রাম আলু থাকে? সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম।

অর্থাৎ সর্বোচ্চ হিসাবে প্রতি গ্রাম আলুর দাম ৫ টাকা। তাহলে এক কেজি আলুর দাম আসে ৫০০০টাকা।

অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য । আমরা একজন কৃষককে ১ টাকা দিতে পারি না এক কেজি আলুর বিনিময়ে অথচ চোখে রঙিন চশমা লাগিয়ে ঠিকই ৫০০০টাকা গুনে আসি আলো আধারীর রেস্টুরেন্টে।

২/
১ প্যাকেট পটেটো চিপসের দাম কতো জানেন? ১০ টাকা থেকে ১০০টাকা। এক প্যাকেট চিপসে কতো গ্রাম আলু থাকে জানা আছে সবারই। ১০ গ্রাম মাত্র। এই ১০ গ্রামের ২ গ্রাম আবার বাতাস থাকে নিশ্চয়ই? থাক সে হিসাব।

দেখা যাচ্ছে ১০ গ্রাম আলুর জন্য আপনি ১০টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা দিতে রাজি আছেন। অর্থাৎ ১ গ্রাম আলুর জন্য দিচ্ছেন ১০টাকা আর ১ কেজির জন্য ১০০০০টাকা।

কি ভাবছেন? জেনেবুঝেই আমি এই ব্যবস্থার কি নাম দিলাম জানেন? ‘ ব্যবসায়ের দুষ্টচক্র’। আর সেই দুষ্টচক্রের শিকার কৃষক নামের হতভাগারা।

৩/
১ গ্রাম স্টার্চের দাম কতো জানেন? মাত্র ২ ডলার মার্কিন বাজার দরে। [উল্লেখ্য, ১ গ্রাম স্টার্চ = ২.৫ গ্রাম আলু]। এক কেজির হিসাবটা আপনিই করে নিন।

এখন অনেকেই বলবেন আলু থেকে এগুলোর প্রস্তুতি খরচ বলে একটা কথা আছে। হুম আছে। তবে নিশ্চয়ই সেই খরচ ৫০০০ থেকে ২০০০০গুণ বেশি নয়?

শিরোণামে বলেছিলাম আপনি, আমিও কি কৃষককে প্রতারিত করছি না? এখন বলুন করছি কিনা? হ্যাঁ বা না যাই বলুন না কেনো নিজের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা অস্বীকার করতে পারবেন না নিশ্চয়ই?

সমাধানঃ

>> সরকারী ভাবে স্টার্চ কারখানা তৈরী করতে হবে। স্টার্চের রপ্তানী বাজার সৃষ্টি করতে হবে। বেসরকারী উদ্যোক্তা বাড়াতে দরকার পড়লে ঋন প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

>> চিপস,স্টার্চ এবং আলু যেখানে Raw Material সেইসব কোম্পানীগুলোকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু কেনার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা মধ্যসত্ত্বাভোগীদের মনিটরিং এর আওতায় আনতে হবে।

>> ফ্রেন্স ফ্রাই, চিপস, আলু থেকে উৎপাদিত খাবার এর Raw Material হিসেবে আলু প্রক্রিয়াজাত করে প্যাকটজাত অবস্থায় সারাবছর সমান হারে, সমান দামে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও নানা পদক্ষেপ এর মাধ্যমে আমরা পারি এদেশের কৃষকদেরকে বাঁচাতে। কারণ-
কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ।”

২২৫জন ২২৪জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য