কীর্তিমানের সান্নিধ্যে

রেহানা বীথি ২৫ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০৯:৩৬:৫০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৩ মন্তব্য

প্রায় চার পাঁচমাস ধরে নিজেকে একটা জায়গায় নিবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। দ্রুততালে গল্প লেখাতেও ছেদ পড়েছে অনেকটা। ফেসবুক বন্ধুদের সাথেও অনেকখানি দূরত্ব রচিত হয়েছে। তাদের কারও লেখাই সময়মত পড়ে উঠতে পারিনি, করতে পারিনি মন্তব্য। হয়তো অনেকে ভেবেছেন, হঠাৎ করেই অহংকার ভর করেছে আমার ওপর। তা নাহলে এড়িয়ে যাবো কেন? হয়তো মনে মনে অনেকেই কিছুটা রাগান্বিতও বোধ করছেন। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমার পেশা আর সংসার, সাথে সেই নিবদ্ধকৃত জায়গা… এর বাইরে যেটুকু সময় বের করেছি, বেশ কষ্টসাধ্যই ছিল তা। তবুও করেছি। মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে উঠেই জায়গা খুঁজেছি অন্য কোথাও। মনটাতে একটু হাওয়া বাতাসেরও তো দরকার আছে, তাই না?

এই দেখুন, এতক্ষণ ধরে এত ভ্যাজর ভ্যাজর করে, আসল কথাটাই বলা হয়নি। নিবদ্ধকৃত যে জায়গাটার জন্য এত কথার অবতারণা, সেটাই স্পষ্ট করিনি এখনও!
একটা লেখা। যেটা নিয়ে এই কয়মাস ধরে একরকম হিমশিম খাচ্ছি বলা যায় । লেখাটি লিখতে গিয়ে প্রথমেই ধাক্কা খাই, কারণ তথ্যের অপ্রতুলতা। অনেক কষ্ট করে কিছু বইবত্র জোগাড় করে লেখা শুরু করি। কিন্তু লিখতে গিয়ে প্রতিনিয়তই মনে হয়েছে, আরও কিছু তথ্য পেলে লেখাটা আরও সুন্দরভাবে লিখতে পারতাম। আরও কিছু তথ্য প্রয়োজনও ছিল। কিন্তু “নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো!” তাই যেটুকু তথ্য পেয়েছি, তা দিয়েই মোটামুটি একটা লেখা দাঁড় করানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। জানি না কতটুকু পারলাম! কতটুকু সম্মান জানাতে পারলাম এমন একজন কীর্তিমান মানুষের কীর্তিকে।

ভাষাবিজ্ঞানী প্রফেসর আব্দুল হাই। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ – এর স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা প্রফেসর হাই। মাত্র পঞ্চাশ বছর স্থায়ী জীবনে তাঁর যে অসামান্য কীর্তিতে আমাদের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে দিয়ে গেছেন অমূল্য সব সম্পদ, তাঁকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছি বার বার। আমার মত একজন সামান্য মানুষ একজন অসামান্য মানুষের কীর্তিময় জীবনকে তুলে ধরার যে সামান্য প্রয়াস করেছি, তা বিহ্বল করে তুলেছে আমাকে। জানি না কতটা পেরেছি। তবে তাঁকে নিয়ে লিখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে অনেক।

লেখাটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে ওপার বাংলার একটি পত্রিকায়। সেই পত্রিকার অনুরোধেই লেখার প্রয়াস পাই ভাষাবিজ্ঞানী প্রফেসর আব্দুল হাইকে নিয়ে। যা একেবারেই আমার স্বভাববিরুদ্ধ একটি লেখা। প্রথমে লিখতে অস্বীকৃতি জানাই, কারণ এধরনের লেখা আমি আগে লিখিনি। কিন্তু তাঁদের অনুরোধ উপেক্ষাও করতে পারিনি। এখন ভাবি, যদি শক্তভাবে উপেক্ষা করতাম, তাহলে হয়তো আমার জীবনের অপূর্ণতা আরও কিছুটা বাড়তো।

এই মহান মানুষটির জীবন নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আলোচনার কারণে পড়তে হয়েছে তাঁর লেখা বইগুলো। যেগুলো আমি আগে পড়িনি। পড়ে যারপরনাই অভিভূত আমি। প্রফেসর আব্দুল হাই -এর ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ , ‘ভাষা ও সাহিত্য’ , ‘তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা’ , ‘মধ্যযুগের বাংলা গীতিকবিতা’ বইগুলো আমাদের জন্য একেকটি সম্পদ, যা পড়লে আমরা শুধু সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর হবো।

এই কীর্তিমান মানুষটি ১৯১৯ সালের ২৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। আগামীকাল তাঁর জন্মদিন ।
এই দিনটিকে সামনে রেখে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করি তাঁকে।

৪১৫জন ২৮৬জন
5 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য