কিনসিয়ানিয়ারা : সুইট সিক্সটিন : মিষ্টি ষোড়শী...
কিনসিয়ানিয়ারা : সুইট সিক্সটিন : মিষ্টি ষোড়শী…

**লেখাটি উৎসর্গ করছি সুইট-কিউট, চিরকিশোরী আমার মামনি মীরা দাসকে। আমি কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে, শুরুটা ধরিয়ে দিয়েছিলো। গতবছর থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম লিখতে, কিন্তু পারছিলাম না। আজও হতোনা, যদি না মামনি আমাকে সাহায্য করতো।**

“তেলের শিশি ভাঙ্গলো বলে খুকুর ‘পরে রাগ করো…” খোকাও হতে পারতো। খুকুই কেন? নাহ আমি এ নিয়ে নারী-পুরুষ দ্বন্দ্বে যাচ্ছিনা। একটি শিশু বিশেষ করে কন্যাশিশু কি চটজলদি বড়ো হয়ে যায়! পাশাপাশি একটি ছেলেশিশু বহুদিনই ছেলেমানুষি শব্দের ভেতর আটকে থাকে। তাদের বয়স সহজে বাড়েনা। ওদিকে মেয়েটি সাত/আটে পড়ে গেলেই প্রচুর বাধা-নিষেধের সম্মুখীন হয়। Adolescence শব্দটি একজন কন্যাসন্তানের বেলায় খুব কম সময়ের জন্য অবস্থান করে। কারো কারো তো করেই না। মেয়েরা এতো তাড়াতাড়ি বড়ো হয়, আর তাই তাদের দায়িত্ব শুরুও হয় আগে থেকে। আমাদের সমাজে ১৩/১৪ বছর বয়সে বিয়েই হয়ে যায়, দেখা যায় বিশের মধ্যে দুই সন্তানের মা-ও হয়ে গেছে। উন্নত বিশ্বের চিত্র আবার আলাদা। সেখানে পনেরো বছরটাকেও শিশুকাল হিসেবে দেখা হয়। তারপর ষোলো বছর বয়স হচ্ছে মেয়েদের জন্য বিশেষ বছর। আর তাই বলা যায় “Sweet Sixteen” মেয়েদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। অন্যদিকে ছেলেদের বিশেষ বয়স হচ্ছে ১৯ বছর। তাদের টিনএজ কিশোর জীবনের শেষ বছর। এ কথাটি না বললেই নয়, Sixteen is the fourth power of two

আচ্ছা কোত্থেকে এই সুইট সিক্সটিন সেলিব্রেশনের উৎপত্তি? উত্তর হচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকা থেকে। ৫০০ বছর পূর্বে Aztec Culture-এর অন্তর্ভূক্ত একটি উৎসব পালন করা হতো। এতে পনেরো বছরের ছেলে-মেয়েকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখা হতো এবং তাদেরকে চিহ্নিত করা হতো ভবিষ্যতের সাহসী যোদ্ধারূপে। তবে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো একজন কন্যাকে। কারণ ওই সময়েই পূর্ণ নারী হিসেবে সে পরিচিত হতো। একইভাবে স্প্যানিশরা মেয়েদের পনেরো বছরের জন্মদিনটা পালন করতো খুব জাঁকজমকভাবে। ওটা ওদের ট্র্যাডিশন। তাদের সাংস্কৃতিক শেকড় আজও তারা ধরে রেখেছে। তারা ওই সময়টাকে একটি মেয়ের জীবনের Transition Period হিসেবে ধরে। সোজাভাবে বলা যায় Childhood to Young Womanhood জীবনে পদার্পন। সেই সময় থেকেই মেয়েরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে বিয়ে এবং গার্হস্থ্য জীবনের। তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেয় “নান” নাকি বিবাহিত জীবন বেছে নেবে! ওদের এই উৎসবটার নাম স্প্যানিশে “Quinceañera” বাংলায় উচ্চারণ “কিনসিয়ানিয়ারা।” এই উৎসবের আরও কয়েকটি নাম আছে, যেমন ফিয়েস্তা দে কিনসে আনিউস(fiesta de quince años), ফিয়েস্তা দে কিয়েনসেয়ানিয়ারু(fiesta de quinceañera), কিনসে আনিউস(quince años), কিয়েনসেয়ানিয়ারু অর সিমপ্লি কিনসে(quinceañero or simply quince)২০ সেঞ্চুরির দিকে গ্রামীণ সমাজে আরও অনেক কিছু যুক্ত হয়। যেমন মেয়েরা প্রাপ্তবয়ষ্ক পার্টিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং ভ্রু প্লাক, ট্রিমিং, মেকাপ, জুয়েলারি, হাইহিল পরিধান করতে কোনো বাধা থাকবে না। এই হাইহিল বাবা পড়িয়ে দেয় মেয়েটির পায়ে। একটি কথা না বললেই নয়, Quinceañera উৎসবে চার্চে যেতে হয় প্রথমে, তারপর বলরুমে বা বাড়ীতে পার্টি আয়োজন করা হয়। সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে মা-বাবা পুতুল দেয় মেয়েটিকে, কারণ পুতুল নিয়ে আর কখনোই খেলা করবে না সে।

বাবা-কন্যা...
বাবা-কন্যা…

১৯৬০ সালের দিকে ল্যাটিনোরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিসহ মাইগ্রেটেড হয়ে ইউএসএ-তে আসে।  তারপর উত্তর আমেরিকাসহ পৃথিবীর বহু দেশে ওই কিনসিনিয়ারার মতোই এই সুইট সিক্সটিন উৎসবটির প্রচলন শুরু হয়। আর্জেন্টিনা, পেরু, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও উরুগুয়েতে এমনই উৎসব(Quinceañera but as a fiesta de Quinceঅনুষ্ঠিত হয়। তবে অনুষ্ঠানটি হয় কিছুটা অন্যরকম। মেয়ে ডিজাইনার ড্রেস পড়ে তার বাবার হাত ধরে অনুষ্ঠানের স্থানে প্রবেশ করে, সেখানে বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনেরা মেয়েকে গোলাপ ফুল গিফট করে। তারপর সেখানে মিউজিকের সাথে বাবা-মেয়ে দুজনে ড্যান্স করে। একসময় বাবা মেয়ের বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনের দিকে পাস করে দেয়। তাছাড়া এই অনুষ্ঠানে জন্মদিন কন্যাটি হাতে পনেরোটি মোম নিয়ে একটি একটি করে পনেরো জনের হাতে দেয়, যারা ওর জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। তারপর মেয়েটি বক্তব্য রাখে। এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় Tree Of Life। এই পনেরোটি মোমবাতির মানে হলো মেয়েটির জীবন থেকে চলে যাওয়া একেকটি বয়সের স্মৃতি। ব্রাজিল(Festa de Debutantes, Baile de Debutantes or Festa de quinze anos)-এও একইভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭০ সালের পরে কিউবাতেও এমন উৎসব শুরু হয়। চৌদ্দ জনের একটি গ্রুপ থাকে যারা মেয়েটি এবং তার বয়ফ্রেন্ডকে ঘিরে থাকে। তারপর বার্থডে গার্ল আর তার বয়ফ্রেন্ড একত্রে নাচে। তবে কিউবাতে বর্তমানে ১৬ বছর বয়সকেই পালন করা হয় জাঁকজমকভাবে। ডোমিনিকান রিপাবলিকে কিউবার মতোই সব। শুধু এখানে মেয়েটি তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে সালসা নাচে। তারপর ছেলেটি পাস করে দেয় মেয়েটির বাবার দিকে নাচার জন্য। কলম্বিয়াতে মেয়েটি তার বাবার সাথে আসে, তখন অভ্যর্থনা জানায় তার মা এবং বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়রা। প্রথমে বাবার সাথে মেয়ে নাচ করে, তারপর ভাইয়ের সাথে এবং সবশেষে আঙ্কেল ও গ্রান্ডপ্যারেন্টসদের সাথে। ফ্রেঞ্চ গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ ক্যারিবিয়ান(Fête des quinze ansএ দুটো দেশও ব্যতিক্রম নয়। ম্যাক্সিকোতে সবচেয়ে চমকদায়ক ব্যাপার হলো, পনেরো বছর বয়স না হলে মেয়েরা পাবলিকের মধ্যে নাচতে পারবেনা। ২১ সেঞ্চুরির দিকে অনেক মেয়েরা নিজেদের মতো করে এই কিনসিয়েনিয়ারা উৎসব পালন করা শুরু করে। ১৯৮০ সালের দিকে টেক্সাসে এই উৎসব সম্পর্কে জানা যায়। তারপর ইউএসএ, কানাডা Quinceañera উৎসবের সাথে মিল রেখে Sweet Sixteen পালন করা শুরু করে। এসব দেশে ষোলো বছর বয়সেই অফিসিয়ালি বিগিনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এপ্লাই করলে পাওয়াও যায়। পিতামাতার অনুমতি ছাড়া রক্তদান করা যায়। শুধু তাই নয়, অনেক জায়গায় বিয়ের জন্যও অনুমতি নিতে হয়না, চাইলে নিজেরা সন্তান ধারণও করতে পারে। বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ইতালিতে এ বয়সীরা টোব্যাকো কিনতে পারে। জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অষ্ট্রিয়া, ইতালি, পর্তুগালে আইনগতভাবে ড্রিঙ্কও করতে পারে। ইউকেতে আর্মিতে জয়েন করতে পারা যায়। অষ্ট্রেলিয়া, আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সাউথ আফ্রিকা, আইল অফ ম্যান(Isle of Man) এসব দেশে লার্নার লাইসেন্স নেয়া যায় এই ষোলোতে। এককথায় বলা যায় মেয়েদের জন্য সিক্সটিন হলো গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। অবশ্য ছেলেরাও এ বয়সে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ উপরোক্ত অনেক কিছুই পেয়ে থাকে।

পদক্ষেপ...
পদক্ষেপ…

অন্যদিকে আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কন্যা সন্তানের বয়স ব্যাপারটিকে লুকোনো হয়। আর ষোলো বছর বয়স উদযাপন, ক’জনেই বা জানে! আসলে এই ষোলো বছর বয়সটা ছোট থেকে বড়ো হবার ভাঙ্গা-গড়ার সময়। তখনই শরীর ও মনের পরিবর্তন হয়। তখন মস্তিষ্কও নতুনভাবে পুনর্গঠিত হয়। তাতে দেখা যায় নিজেদের অনুভূতিকে ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা ষোলো বছর বয়সীরা। এই সময়টাতে কন্যাসন্তানের পাশে বাবা-মাকে এগিয়ে আসতে হয়। তাই আমাদের সমাজে ষোলো বছর বয়স মানেই অন্যরকম দুশ্চিন্তার জন্ম। যেখানে একটি পুত্রের জন্মের পরে পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে, যে সমাজে কন্যা রজঃস্বলা হবার পরে নানা বিধি-নিয়মের সম্মুখীন হতে হয়, সেখানে কিভাবে আশা করা যায় মিষ্টি ষোলো উদযাপনের? বয়ঃসন্ধিকাল এই শব্দটির সাথে সবারই পরিচয় আছে, কিন্তু আমাদের সমাজে এই সময়টাতেই একটা কন্যাসন্তানকে অনেক বাধা-নিষেধের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়। ষোলো যে কখন আসে আর কখন যায়, একমাত্র মা-বাবা ছাড়া আর কেউই তা জানেনা। তবুও সেই সব ষোড়শী কন্যাদের জন্য রইলো আমার অভিনন্দন এবং অফুরান ভালোবাসা। শুভ জন্মদিন ষোড়শীরা।

Sweet Sixteen...
Sweet Sixteen…

হ্যামিল্টন, কানাডা
৫ মে, ২০১৭ ইং।

**সুইট সিক্সটিন এর ইতিহাস জানার খুব ইচ্ছে ছিলো আমার। কিন্তু কতোভাবে যে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি, সেভাবে পাইনি। তাছাড়া আমি ইংরেজীতে এতো ভালো নই যে ট্রান্সলেট করে লিখবো। গুগল ঘেটে, নিজের কথা দিয়ে সাজিয়ে লেখার চেষ্টা করলাম। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে এই সুইট সিক্সটিন উৎসবটি পালিত হয়না। তাই এ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে কখনও কারো যদি এই বিষয় সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে করে, সংক্ষিপ্তাকারে এখানে সেসব তথ্য পেতে পারবে। আর তাই মনে হলো লিখে রাখি, বলা তো যায়না কখনও কারো প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে। আমি আশা করি ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন। আর কোনো তথ্য যদি কেউ খুঁজে পান, জানাতে দ্বিধা করবেন না। দুঃখিত অনেক বড়ো হয়ে গেলো লেখটি।**

৮৭০জন ৮৭০জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

  • ইঞ্জা

    বাহ অনেক কিছুই জানলাম আর বেশ সুন্দরও, দুঃখজনক ভাবে আমাদের সমাজ এই বিষয়টিকে এড়িয়ে চলে, কারণ সে মেয়ে, সে নারী, লজ্জাজনক।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া গতবছর থেকে চেষ্টা করেই যাচ্ছিলাম এটি নিয়ে লেখার। আরেকবার প্রমাণ পেলাম মনের চাওয়া পূর্ণ হয়ই হয়।
      আসলে আমরা সমাজব্যবস্থার কথা বলি শুধু। নিজের পরিবারও কি এমনই কিনা সেটা কেউই আমরা দেখিনা। অথচ একেকটি পরিবার থেকেই সমাজের সৃষ্টি। চাইলে আমরা কি না পারি! ঠিক বলিনি ভাইয়া?

      ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য।

  • বাবু

    দিদির লেখা থেকে অনেককিছু জানা যায় । তবে দিদি আমাদের সমাজ ব্যবস্থা তো আপনি নিজেই জানেন, তা আর বলতে হবেনা। যাই হোক দিদি, খুব ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ জানবেন দিদি।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      ষোড়শী বয়সকালটা একটা মেয়ের জন্য কি যে টানাপোড়েনের সময়! তারা না পারে সিনিয়রদের সাথে গল্পে যোগ দিতে, না পারে জুনিয়রদের সাথে খেলা করতে। শুধু কি মেয়ে? ছেলেদের ক্ষেত্রেও এমনই হয়। তাই বলা হয়ে থাকে এই বয়সটা যদি সঠিকভাবে নির্মাণ করা করা যায়, তাহলে সে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে পৃথিবীকে গড়ে তুলতে পারবে।

      ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।

  • শুন্য শুন্যালয়

    অই যে বললে শব্দটার সাথে পরিচিত কিন্তু জানি কজনা? সত্যি তাই, এমন মজার ঘটনাগুলো জড়িয়ে আছে এই শব্দে এটা জানলাম আজ তোমার পোস্ট পড়ে। অজানাকে এই জানার জন্যেই তো পড়ি এখানে। আমাদের দেশ কতো কতো পিছিয়ে আছে তার কথা আর নাই বা বললে, আরো পেছাবে অপেক্ষা করো।
    তোনার এই পোস্ট পড়ে একটা ঘটনা মনে এলো। আমার জীবনে একবারই জন্মদিন ঘটা করে পালন হয়েছে। কাকতালীয় ভাবে সেটা ষোলোতম জন্মদিন। পেছনে পোস্টার করে আমার ষোলো লেখা দেখে সবাই ই বেশ অবাক হয়েছে। মেয়েরা বয়স বলে না বলে। সেই জন্মদিনেই উপহার পাওয়া পূর্ণেন্দু পত্রীর কথোপকথন চার সিরিজ। এর চাইতে সুইট সিক্সটিন হয় বলো? 🙂
    অনেক কষ্ট করেছ পোস্টের জন্য সেজন্যে এত্তোগুলা ধন্যবাদ তোমাকে আর অবশ্যই সেই চিরকিশোরী সুইট সিক্সটিন তোমার মাকে শুভেচ্ছা।, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      শুন্য আপু আমি তাহলে অনেক লাকি। অজ্ঞান :p অবস্থা থেকে একেবারে ক্যালেন্ডারি মধ্যবয়স হয়ে গেলো, প্রতিবার জন্ম নিয়েই যাচ্ছি। 😀 তাছাড়া আমায় কেউ বয়স জিজ্ঞাসা করলেই বলে দিতাম। আমার পরিচিত অনেকে বলতো মেয়েদের বয়স বলতে নেই। অবশ্য মামনি-বাপি কোনোদিন কখনও মানা করেনি। আর ষোলো বছরের জন্মদিনে বাপি আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কি বলেছিলো জানো? “My sweet sixteen lovable Neelmon Happy Birthday.” আজও কানে বাজে আপু। এতো আদর একসাথে তখনই কেন পেলাম? যাক বেশি ইমোশন্যাল হয়ে পড়ছি।

      ষোলোতে পেয়েছো কথোপকথন? কি পাকনা বুড়ী রে! আমি তো সতেরোতে পেয়েছিলাম। 😀 যাক ব্যাপার না! আসো আবৃত্তি করি। শুভঙ্করের জন্য বিজ্ঞাপন দাও একটা পোষ্ট দিয়ে। 🙂 -{@

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      হুম কত্তো সুন্দর বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয় ষোড়শী মেয়েটির কাছে যে এখন থেকেই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তার জীবন এখন শুধু বাবা-মা-ভাই-বোন-দাদু-দিদিমা নয়। একজন বিশেষ মানুষও আছে, যাকে নিয়ে সেও তার ভবিষ্যত জীবন গড়ে তুলবে। এখানে একটা সুইট সিক্সটিন জন্মদিন দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। অবশ্য বাঙ্গালি মেয়ে। মেয়েটিকে নিয়ে কথা বলে ওর বাবা-মা, দাদু-দিদিমা, মাসী-মামা, পিসী-কাকু, তারপর মেয়েটির বন্ধুরা। ওই পার্টিটা এমনভাবে হয় বোঝাই যায়না জন্মদিন নাকি বিয়ে? এতোই জাঁকজমকভাবে করা হয়।

      ধন্যবাদ মনির ভাই এভাবে উৎসাহিত করার জন্য।
      ভালো থাকুন। -{@

  • জিসান শা ইকরাম

    অনেক খাটা খাটুনির ফসল এই পোস্ট,
    এমন পোস্টের জন্য আলাদা এবং বিশেষ ধন্যবাদ দিলাম তোকে।

    সুইট সিক্সটিন – এর ইতিহাস জানা ছিল না মোটেই,
    বিদেশে কত ঘটা করে বিভিন্ন ভাবে পালন করা হয় একে
    আর আমাদের কথা আর নাই বলি, লিখে দিয়েছ পোস্টে।

    লেখাটি সোনেলাকে সমৃদ্ধ করবে অবশ্যই।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      হুম নানা গত দু’ দিন থেকে ব্যথাটা বেড়েছে। জানোই তো অর্ধেক লিখে উঠে গেলে আর শেষ করতে পারিনা। তাই ফিজিও থেকে এসে সেই যে বসে একটানা লিখেছি। আসলে কিছু কিছু বিষয়ের প্রতি এতো আগ্রহ জন্মে যে কি বলবো! নিজেই নিজের ক্ষতি করি। তবে আমি স্বার্থক যে তোমাদের সবার ভালো লেগেছে। প্রচুর বিষয় আছে আমার হাতে, কিন্তু অনেক পড়তে হয়। মাথাব্যথা করে মাথায় বেশি চাপ দিলে।

      ওহ এখন দেখো কিনসিয়ানিয়ারার ছবিটা মনে হয় দেখতে পারবে। আমি সম্পাদনা করেছি। দেখে জানিও কিন্তু। ওকে?
      তুমি কানাডায় আসো, তোমার আর আমার একসাথে সুইট সিক্সটিন জন্মদিন পালন করবো নে। :p 😀
      ভালো থেকো নানা। -{@

  • মেহেরী তাজ

    আপু ১৬ কখন ও সুইট হইতে পারে জানা ছিলো না। কৃতজ্ঞ একটা নতুন বিষয় জানানোর জন্য।
    আমার মনে হয় আমাদের দেশের অনেক মেয়েই teen এইজ এ এই পা দেওয়ার ২য় দিন থেকেই চিন্তা করে করে কবে আমি এই teen থেকে বের হবো।

    ধন্যবাদ আপু। 🙂

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      পিচ্চি আপু ষোলো বছর বয়সটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এখানে।
      আসলে আমাদের দেশে ছোটরাও যে অনেক ভালো কিছু শেখাতে পারে, সে কথা পরিবারের গুরুজনেরা কেউ মনে করেনা। কিন্তু উন্নত বিশ্বে একজন শিশুর কথাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়। এ কথা বলার কারণ আমাদের দেশের কিশোরীরা না পারে ছোটদের সাথে খেলতে, না পারে বড়োদের সাথে মিশতে। এখানে তো আমি আমার ছেলের কাছেও সাজেশান চাই।

      সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আপু। অনেক ভালো থাকবেন। 🙂

  • মিষ্টি জিন

    খুব সমুদ্র পোষ্ট।
    হ্যা আমি দেখেছি সুইট সিক্সটিন বিদেশে খুব মর্জাদা পায়। তবে এ ব্যাপারে এত কিছু জানতাম না। মজার কঁথা শোন। আমার বড মেয়ে যেদিন আঠারোতে পা দিল , সেই দিন ও বলেছিল মা , আমার ইয়ত শেষ.. ওর বাবা আর আমি তো রীতিমত থ .. বললাম মানে? বললো মা সুইটসিক্সটিন শেষ হয়ে গিয়েছে না। বোঝ তাহলে। হা হা হা হা।
    আমার জীবনে সুইট সিক্সটিন কবে এলো গেলো বলতেও পারবো না।
    ভাল থেকো আপু।

  • ছাইরাছ হেলাল

    কথায় কোথায় সুইট সিক্সটিন বলে ফেলি, না জেনেই,
    এটি এত্ত সুন্দর একটি বিষয় তা জানাই ছিল না,

    অনেক চেষ্টা-কষ্ট করে হলে আমাদের জন্য লিখছেন বলেই এটি জানতে পারলাম।
    আর পাকনা-বুড়িকে আমার শুভেচ্ছা!!
    ধরুন যারা টাইম-মত এটি করতে পারেনি, এখন ফোকলা, তারা কি হারানো দিনের কথা ভেবে
    দুঃখের-ফুর্তি টাইপ কোন অনুষ্ঠান করতে পারে!! পারলে করুক-না!!

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      আমার আবার সুইট সিক্সটিন জন্মদিন পালন করা হয়েছিলো কিন্তু। তারপর সেই যে সপ্তদশীতে এলাম, এখনও একই চলছে। যদিও ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গেছে বহু বহুবার, তাতে আমার কি! 😀 তয় আপনার জন্য খারাপ লাগতাছে বুড়া হইয়া গেলেন। ম্যাচিউরড নাইনটিন বার্থডে করতে পারলেন না। দুঃখ পাইয়েন না। আপনার ৬০ তম জন্মদিন আমরা সকলে মিলে পালন করবোই করবো। 😀

      আর শুনেন আমার সুইট সিক্সটিন মামনি কিন্তু সবার লেখা এখন নিজেই পড়ে!
      কুবিরাজ ভাইয়ের লিখাও বাকী রাখেনা। 😀

      • ছাইরাছ হেলাল

        সিক্সটিন আর নাইন্টিন কিন্তু বেশ হয়, সমস্যা নেই!!
        ষাটতম জন্মদিন আপনি পরমেশ্বরের প্যাদানিতে চিক্কইর পারতে থাকপেন,
        আমারা তখন তথৈ নৃত্যে হবো মশগুল!

        আচ্ছা পড়ে বুঝি!! তাহলে তো হয়েই গেল!!

  • নীহারিকা

    পোস্ট নিয়ে কি বলবো, এক কথায় অসাধারণ। সুইট সিক্সটিনের ঘটনাগুলো আজই জানলাম। কি বিরাট পার্থক্য আমাদের আর পাশ্চাত্যের বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার মধ্যে। কত কিছুতে আমরা আনন্দগুলোকে চেপে রাখি নানান নিয়ম কানুনে। মেয়েদের ১৬ বছর আমাদের দেশে বন্দি দশা শুরুর বছর। চাই এসব বন্দিদশা থেকে আমাদের মেয়েরা প্রজাপতির মত বেড়ে ওঠার সুযোগ পাক।
    শুভকামনা সকল সুইট সিক্সটিনদের জন্য।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      নীহারিকা আপু এখানে মেয়েরা যখন রজঃস্বলা হয়, তখন বাবা মেয়ের জন্য কেক নিয়ে আসে। পরিবারকে নিয়ে পার্টি দেয়। আর আমাদের দেশে মেয়েটি ব্যথায় মুখ লুকিয়ে কাঁদে। সবাই বলে কি, ওভাবে কাঁদতে নেই। এমন ব্যথা সকলেরই হয়। মেয়ে হয়েছো ধৈর্য ধরতে হয়। যেখানে একটি শিশু হঠাৎ করে মেয়ে হয়ে ওঠে, আর এতোকিছু চুপচাপ সয়ে নিয়ে যেতে থাকে, সেই সমাজে সিক্সটিন আবার সুইট হয় নাকি?

      আপু আমার মেয়ে নেই, থাকলে ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করতাম। শুধু কি জন্মদিন? কতো যে ঘুরে বেড়াতাম! আড্ডা দিতাম। কেন জানি মনে হয় আমার মেয়েটা আমার মতোই দুষ্টু হতো। 😀

      আপনাদের সকলের সুন্দর মন্তব্য এমন ধরণের লেখা লিখতে অনেক সাহায্য করে আমায়, জানেন আপু?
      ভালো থাকবেন সবসময়।

  • মৌনতা রিতু

    দারুন একটা পোষ্ট তোমার। আমি কপি করলাম কিন্তু। এতো কিছু মোটেও জানা ছিল না। শোনো, সুইট সিক্সটিন আর বোঝাই হবে না, তোমার আমার একি দশা, মেয়ে নেই😢 মেয়েদের সাথে অনেক কিছুই শেয়ার করা যায়। এই সময়টাতে আসলেও একটা চঞ্চলতা কাজ করে। বুঝতে হয়, কিন্তু কেউই বোঝে না আমাদের সমাজে।
    মিশরকন্যা অনেক ধন্যবাদ এমন দারুন একটা পোষ্ট লিখেছো। (3 -{@

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ