কিছু বিক্ষিপ্ত ঝাঁঝালো অনুভূতি

শুভ্রনীল ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:৩৫:৫০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৫ মন্তব্য

একদিন তুমি হার জিতের খেলায় মেতেছিলে

তোমার মুখোবয়বে দেখেছিলাম নিজেকে জিতিয়ে নেবো দৃঢ় প্রত্যয়!

তোমার চোখে জলজল করছিল আগ্নেয় গিরির ফুটন্ত লাভা,

তোমার নিঃশ্বাসে ছিল হেমলক কিংবা বিষাক্ত সায়ানাইড,

তোমার ওষ্ঠে ছিল কালনাগিনীর গরল পূর্ণ বিষাক্ত ছোবল

সেদিন যেনো তেনো উপায়ে তোমার জিততেই হবে।

ওষ্ঠে ওষ্ঠ রেখে নিঃশ্বাসে বিষ ঢেলে দিয়ে হলেও জিততেই হতো!

 

সেদিন আমার তোমার অমন রক্তচক্ষু, বিষাক্ত নিঃশ্বাস এমনকি গরলে পূর্ণ ছোবলে এতোটুকুও ভয় হয়নি

বরং করুণা হয়েছিল, হ্যাঁ ভীষণ করুণা হয়েছিল

তাই তো স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে তোমার নিজেকে জিতিয়ে নেবার সুযোগ করে দিয়েছিলাম

তুমি কেমন নির্বোধের মতো বিজয়ের আনন্দে উদ্বেলিত হলে

সে কী উল্লাস! আমার চতুর্দিক ঘুরে ঘুরে উল্লাস করলে

বনের হিংস্র পশু শিকারের পর যেমনটা করে শিকারী

স্বেচ্ছায় হেরে যাওয়া নিস্তেজ নিঃষ্প্রাণ অর্থব শরীরটাকে

খুবলে খুবলে খেলে ক্ষুধার্ত ভয়ানক হায়নার মতো

সেদিন নির্বাক নিস্তব্ধ আমি’র চোখের কার্ণিশ বেয়ে কেবল কয়েক ফোঁটা অশ্রু ঝরেছিল।

 

২:৫৫ এ এম, রাত্রির শেষ প্রহর। প্রচণ্ড জেদ চেপে বসলো আর ঘুমাবোই না। হঠাৎ হঠাৎ এমন জেদ চেপে বসে আমার। আমিই বুঝতেই পারি না কী এর কারণ? যা হোক অনেক রাগ আর জেদের সংশ্রিমণে গটগট করে লিখে ফেললাম উপরিউক্ত ঝাঁঝালো কথা গুলো! লেখাটা শেষ করে ফোনটা ধপ করে বিছানায় ছুড়ে দিলাম। বালিশের উপর একটা কুশন রেখে তাতে মাথা দিয়ে আরো একটা কুশন চাপিয়ে দিলাম মাথার উপরে। চোখ বন্ধ করে থাকলাম কিছুক্ষণ। নাহ্ ঘুম আসছে না। এপাশ ওপাশ করতে করতেই সকালের আলো ফুটলো। একেই হতচ্ছাড়া চোখের যা তা অবস্থা তার উপর দীর্ঘ রাত্রি জাগরণের ফলে মাথা যন্ত্রণা চোখের যন্ত্রণা বিশ্রী রকম বেড়ে গেলো। সারাদিন কেটে গেলো না খেয়ে। জানি না খিদে কেনো পেলো না সারাদিন? ৩ পি এম । ছাদে গিয়ে কম্প্রোস্ট করতে রাখা গবর মাটি গুলো ইট দিয়ে ইচ্ছে মতো পিঠালাম। তারপর মনে হয় কিছু ছাই দরকার মাটি গুলো সাথে মিশাতে। ঘরে যাবতীয় পুরো কাগজপাতি নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিলাম।

তারপর বসে বসে দেখছিলাম পুরোনো কাগজ গুলোর পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার দৃশ্য। আর মনে মনে ভাবছিলাম 

আহা! ফেলে/ছেড়ে আসা পুরোনো জরাজীর্ণ স্মৃতিগুলোকে যদি এই ভাবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে উড়িয়ে দেওয়া যেতো। তবে এই এক জীবনে এতো দুঃখ যন্ত্রণা হতাশা খুবলে খুবলে খেতে পারতো না প্রতিনিয়ত।

ছবি-গুগল

২০০জন ৩৭জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য