কাজের বুয়া সরবরাহকেন্দ্র-১

শাহ আলম বাদশা ১৩ মার্চ ২০১৭, সোমবার, ০৩:০২:২৮অপরাহ্ন রম্য ৭ মন্তব্য

প্রথম পরিচ্ছদ:
আমি প্রথমে হোম ডেলিভারি সার্ভিসের আদলে আমার নিজের বাসা থেকেই বাসায় বাসায় ‘কাজের বুয়া’ সরবরাহের কাজটা শুরু করি এবং নাম দেই ‘কাজের বুয়া সরবরাহকেন্দ্র’। আর যখন পরীক্ষামূলকভাবেই আমার অস্থায়ী অফিসের ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেই, তখন যেমন অভাবনীয় সাড়া পাই তেমনই অনেকে একে মশকরা ও ফান ভেবেও আমাকে যাতা বলেন। প্রথম একজনের ফোন আসে–পুরুষকণ্ঠ;

-হেলো,
-জী বলছি–
-আপনারা কি মশকরা শুরু করেছেন নাকি?
-নাহ–কেন আপনার মশকরা মনে হলো ভাই? কেউ কি গাঁটের টাকা খরচ করে অযথাই জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় নাকি!
-ওহহো, তাও তো ঠিক-আচ্ছা এমন অদ্ভুত ব্যাপারটি আপনার মাথায় আসার কারণটা জানতে পারি কি?
-সে অনেককথা ভাই, আরেকদিন বলবো। সরি, অন্য আরেকটি ফোন এসেছে—বলেই লাইন কেটে দিলাম এবং দ্বিতীয় ফোনটি ধরলাম।

-হ্যালো, এটা কাজের বুয়া সরবরাহকেন্দ্র?
-জী, আমি নির্বাহী পরিচালক বলছি, বলুন?
-ভাই, আপনার বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছে না যে, এমন ব্যবসায়ও চালু হতে পারে?
-কেন ভাই, স্কুল-কলেজ থাকার পরও সন্তানদের জন্য যদি টিউটর-ব্যবস্থা থাকে, কোচিং থাকে, মালামালের জন্য হোম ডেলিভারি থাকে, অনলাইন কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকে, সিকিউরিটি গার্ডসরবরাহের জন্য সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান থাকে, তবে বাসায় বাসায় ‘বুয়া দিচ্ছি বুয়া নিচ্ছি’র ব্যবসায় চালাতে দোষ কোথায়?
-আরে না ভাই, তা বলিনি? আমার খুবই পছন্দ হয়েছে আপনার কাজটি। আমার একটি বুয়া চাই তো, তাই আরকী?
-তাই বলুন, আপনাদের কষ্ট কমানোর জন্যই না, আমরা এই নতুন সেবাটি চালু করেছি। আচ্ছা, আপনি এই—নম্বরে আপনার নাম রেজিষ্ট্রি করুন আগে। নাম্বার দিয়েই পরের ফোনটি ধরি আমি। অন্য স্টাফরাও ফোন ধরতে ধরতে ক্লান্ত প্রায়। এবার যে ফোনটি ধরি, তা একজন ভদ্রমহিলার।

-হ্যালু, আসসালামু আলাইকুম। এই প্রথমবার একজনের সালাম পেয়েই বুঝলাম, আমি ঠিকপথেই হাঁটছি।
-জী, ম্যাডাম বলুন–
-ভাই আপনাকে যে, কী বলে ধন্যবাদ দেবো এমন একটা জরুরি সার্ভিস শুরু করায়–
-জী, আপনাদের সমস্যা ভেবেই তো এটা শুরু করেছি, বলুন আপনার কী সেবা করতে পারি–
-ভাই, কী বলবো দুঃখের কথা, আজ ২বছর কোনো কাজের বুয়ার নাগাল পাই না। এবার হয়তো আপনার দয়ায় একটা হিল্লা হবে-
-জী ম্যাডাম, আরেকটি ফোন ধরতে হবে, আপনি –এই নম্বরে আপনার নামরেজিষ্ট্রিসহ ফির ব্যাপারে কথা বলুন, বলেই ফোন রেখে দিলাম।

বিশ্বাস হবে কিনা জানিনে প্রথমদিন আমরা ফোন পেয়েছি প্রায় ৫ হাজার এবং নামরেজিষ্ট্রি করেছি ৩হাজার। আরো মজার ব্যাপার ছিল, কাজের বুয়ারাও অনলাইনে ও অফিসে এসে তাদের নামরেজিষ্ট্রি করেছে প্রায় ১০০০জন। আমাদের রেজিষ্ট্রি ফি নিয়েও অনেকে নানাকথা বলেছে, এমন একজনের ফোন–

-হ্যালো, কাজের বুয়া—-
-জী ভাই, ঠিক জায়গাতেই ফোন করেছেন।
-আচ্ছা, এটা সত্যি নাকি ঠাট্টা ভাই?
-আরে ভাই, বিজ্ঞাপন দিয়ে কেউ ঠাট্টা করে নাকি?
-সরি ভাইয়া, বাঁচালেন!
-কেন, কীভাবে বাঁচালাম বলবেন কী?
-ভাইরে, আমার স্ত্রীর ডায়াবেটিস, শয্যাগত প্রায়, ২ সন্তান স্কুলে পড়ে। রান্নাবান্না আমিই চালালেও বাসাতো পরিচ্ছন্ন রাখা চাই? কিন্তু ১বছর যাবত একটা কাজের বুয়া পাইনি।
-কেন পাননি ভাই?
-আরে, বুয়াদের তেল বেড়েছে! সরকার গার্মেন্টসে এদের বেতন বাড়িয়ে দেয়ায় এখন এরা বাসাবাড়িতে কাজ করতে চায় না। মেসে-অফিসে আবার অনেক টাকার লোভে কিছু বুয়া কাজ করে। সেখানে স্বাধীনভাবে খেতে পারে এবং চুরিও করতে পারে বলে–
-ধুর ভাই, চুপ করেন। আমার বুয়াদের নিয়ে ফালতুকথা বলবেন না, আসলকথায় আসেন–
-আচ্ছা, একটা বুয়া পেতে রেজিষ্ট্রি করতে হবে কেন? আর রেজিষ্ট্রি ফিই বা কত?
-প্রতিষ্ঠানে রেজিষ্ট্রি করাই নিয়ম। আর ফি লাগবে ২হাজার টাকা।
-কী বলেন! রেজিষ্ট্রি করতে ২হাজার? মগের মুল্লুক পেয়েছেন নাকি–আমি বাধ্য হয়েই ফোনের লাইনটা কেটে দেই।

আমার বিজ্ঞাপনে কী ছিল, তাও একবার দেখুন—শিরোনাম-”কাজের বুয়া দিচ্ছি কাজের বুয়া নিচ্ছি” ”আমরা ব্যস্তজীবনের যাতাকলে অনেকেই বাসার কাজ একাই সামলাতে পারি না, চাকরিজীবীদের অবস্থাও তেমন। কাজের বুয়াছাড়া আমাদের অনেকেরই জীবন চলে না।

তাই এবার হলো কাজের বুয়া সরবরাহের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের যাত্রাশুরু। আপনারা যারা সৎ, বিশ্বস্ত এবং কর্মঠ কাজের বুয়া চান, তারা শিগগির আমাদের নিচের নম্বরে নিজেদের নামরেজিষ্ট্রি করে সিরিয়াল দিন। রেজিষ্ট্রি ফিসহ বিস্তারিত নিয়মাবলীর জন্য যোগাযোগ করুন—-ইত্যাদি”। [চলবে]

১৮৪৪জন ১৮৩০জন
0 Shares

৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ