সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

কাঁঠাল কথন

তৌহিদুল ইসলাম ২৩ জুন ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:৩৭:৩৬অপরাহ্ন রম্য ২৯ মন্তব্য

এটাই শেষ এটাই শেষ এরকম করে করে মাঝারি আকৃতির একটা কাঁঠালের ত্রিশটা কোয়া গলাধঃকরণ করার পরে অদ্ভুত সব চিন্তা মাথায় আসছে আমার!

ধরুন আপনি ফেসবুকে স্বাস্থ্যবিধি, মাস্ক সচেতনতা, সামাজিক দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ একটা স্ট্যাটাস দিলেন। এরপরে কিছুক্ষণের জন্য বারান্দায় দাঁড়িয়েই নীচের রাস্তায় দেখলেন- এক রিক্সায় চাপাচাপি করে তিনজন বসেছে, যাদের দুজনের মুখে মাস্ক আছে তবে তা থুতনিতে এবং অন্যজন মাস্কবিহীন খিলখিল করে হাসছে আর এমনভাবে নড়াচড়া করছে যেন বাকী দু’জনকে পারলে এক্ষুনি ধাক্কা দিয়ে সে নিজেও রিক্সা থেকে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খায় অবস্থা!

রিক্সার উপর এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রিক্সাওয়ালা ভাই ভীত মনে একটু পরপর পিছনে দেখছে আর পিচিৎ পিচিৎ করে রাস্তার দু’ধারে পানের পিক ফেলতে ফেলতে যাচ্ছে। বলুনতো- রিক্সাওয়ালার মনে ভয়টা কি?

একদম ঠিক ধরেছেন, করোনা সংক্রমণের ভয় নয়। ভয় হচ্ছে পিছনের যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত ঝাঁকাঝাঁকিতে তার আয়রোজগারের একমাত্র অবলম্বন রিক্সাটাইনা মুটুস করে দেবে যায়!

এ সবই আপনি বারান্দা থেকে দেখলেন। এখন কি করবেন আপনি? কিছুক্ষণ আগে ফেসবুকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপদেশ দেয়া সেই স্ট্যাটাসটি ডিলিট করবেন নাকি নিজে রাস্তায় নেমে স্বাস্থ্যবিধি না মানা পাব্লিকরে পেটানো শুরু করবেন?

ফেসবুকের কল্যানে সবাই করোনা বিশেষজ্ঞ। আমরা প্রত্যেকেই স্বাস্থ্যবিধি জানি কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মানিনা। আবার আপনি রাস্তায় নেমে তাদের সাবধান করতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থেকেই যায় যেহেতু তাদের মাস্ক নেই, স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা। রাগে দুঃখে আপনি নিজের মাথার চুল টেনে ধরেছেন কারন এতক্ষণে শতাধিক লাভ রিয়েক্ট পাওয়া সে স্ট্যাটাসটির আনন্দকর প্রসব বেদনাও ভুলতে পারছেননা।

প্রচণ্ড অস্থির লাগছে আমার, কি করবেন আসলে আপনি এই টেনশনে এখন মোটামুটি ঘামছি আমি। না, ফেসবুকে এতসুন্দর করে আপনি বুঝিয়ে বলার পরেও কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা সেই চিন্তায় নয়। কাঁঠালের সেই ত্রিশটা কোয়া পাকস্থলীতে লুঙ্গী ড্যান্স দিচ্ছে সেই টেনশনে!

৫৭১জন ৪৫৫জন
25 Shares

২৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য