করোনা সময়

জিসান শা ইকরাম ৭ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:৫১:০০অপরাহ্ন সমসাময়িক ২৫ মন্তব্য

এই দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের আচরন দেখে ভয়ানক রকম ভাবে হতাশ হতে হয়। আমরা আসলে মানুষের মত আচরন করি কিনা এটিই সন্দেহ জাগে।

চীনের উহান এ ছিলাম আমি পাঁচ দিন। ছবির মত একটি সুন্দর শহর এটি। এখানে যখন করোনা বিস্তার লাভ করে, সরকার শহরটি দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সমস্ত যোগাযোগ ব্যাবস্থা বন্ধ করে দেয়। ওই শহর থেকে কেউ বাইরে যেতে পারবেনা, অন্য অঞ্চল থেকেও কেউ ওই শহরে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সাধারন জনতা সরকারের এই আদেশ মেনে নেয় এবং তারা যার যার বাসায় অবস্থান করতে থাকে। যার ফলে দ্রুতই চীন এই ভাইরাসটি আয়ত্বে এনে ফেলে।
এই আদেশ এখন ঢাকা সহ কয়েকটি শহরে চালু করার সরকারী ঘোষনা আসে। কিন্তু কে শুনে কার কথা? শহর থেকে বেড় হবার এবং শহরে প্রবেশ করা মানুষের ঢল সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মানুষ এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাবার জন্য মাছের ড্রামে লুকিয়ে যাচ্ছে। দরকার হলে এরা রাতে পালিয়ে চোরের মত শহর থেকে বেড় হবে বা ঢুকবে। এমন মানসিকতা কেন আমাদের?

জনসাধারনের সামাজিক দায়িত্বের একটি নমুনা জানলাম আজ পত্রিকায়। এক করোনা রোগী করোনা সনক্তের পরে পালিয়ে গেছে। তাকে মাইকিং করে খুঁজছে পুলিশ। কতটা ঝুকি এই লোক বহন করছে! সে তো এখন একজন ভাইরাস বোমা হয়ে  পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যত বাসায় সে পালাবে সেই সব বাসার সবাই করোনা ভাইরাসে আক্রন্ত হবে। আক্রান্তদের কেউ বাইরে বেড় হলে তার সংস্পর্ষে আরো মানুষ আক্রান্ত হবে। তাদের মাধমে আরো …. আরো …… আরো আক্রান্ত হবে। এই মানুষ রূপী ভাইরাস বোমা কে খুঁজে পাওয়া যাবে কোথায় ?

শুধু দেশের বাংগালীরা এমন নয়। সভ্য দেশ আমেরিকায় থাকা বাংলাদেশীরাও কম নয়। বিদেশে বাস করেন এমন বাংলাদেশিদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশী মৃত্য হয়েছে আমেরিকায়। সময় টিভিতে দেখলাম, নিউইয়র্কে বসবাসকারী একজন বাংলাদেশী মাস্ক ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে সময় টিভির সাংবাদিককে বলছেন ” আল্লাহ্‌ মৃত্যু দিলে যতই মাস্ক ব্যবহার করিনা কেন, কোনো কাজ হবে না।” একারনেই মাস্ক ব্যবহার করেন না উনি। কি অবস্থা ভাবা যায়? এই ধরনের লোকের অভাব নেই আমাদের দেশে। তাদের কে কে বুঝাবে যে আল্লাহ্‌ নিশ্চয়ই আত্মহত্যা করতে বলেননি।

করোনা কোনো ধর্ম মানছে? মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সবাইই তো করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত। ইউরোপে করোনা ছড়িয়েছে একটি চার্চ থেকে। খৃস্টানরা প্রার্থনায় মিলিত হয়েছিলেন এক চার্চে, সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন ইউরোপের প্রায় সমস্ত দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা। ভারত , পাকিস্থান, মালয়েশিয়ায় ছড়িয়েছে মসজিদে তাবলীগ জামাত থেকে।

ধর্ম আমাদের চিন্তাকে সীমাবদ্ধ কেন করবে? এই সমস্ত মানুষের কোনো অধিকার নেই তাদের আত্মীয় স্বজন এবং সমাজে এই মরনব্যাধি করোনা ছড়ানোর।

১৭৮জন ৩৭জন
21 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য