করোনা ভাইরাস! সতর্ক থাকুন-

তৌহিদ ২৬ জানুয়ারী ২০২০, রবিবার, ১২:১৩:০৮অপরাহ্ন সমসাময়িক ৪১ মন্তব্য

করোনা ভাইরাস (Coronavirus) নামে প্রাণঘাতী এক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। করোনা ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন নেই, কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। চেনা উপসর্গের আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকছে এই ভাইরাস। চীনের ইউনান প্রদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয় যা এখন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কানাডা, জাপান, তাইওয়ান, সৌদিআরব, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, নেপালসহ উপমহাদেশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে।

করোনা ভাইরাস কি?

এটি একটি নোভেল করোনা প্রকৃতির ভাইরাস। সার্চ ভাইরাসের মত দ্রুত সংক্রামিত হয় করোনা ভাইরাস। পশুপাখি এবং গবাদি পশুর শরীরে মিলে করোনা ভাইরাস যার থেকে সরাসরি মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। এ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের শরীরেও প্রবেশের ফলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে অন্য মানুষ।

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ও লক্ষণ –

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিউমোনিয়ার মতই। কিন্তু করোনা ভাইরাস আক্রমণ অনেক তীর্যক এবং ভয়াবহ। নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ বলে একে নিউমোনিয়া ভেবে ভুল করলেই বিপদ।

হাঁচি এবং কাশির মাধ্যমেই মূলত করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। সাধারণ উপসর্গ ও লক্ষণগুলির মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পাকস্থলীর সংক্রমণ প্রভৃতি এবং তীব্রতর উপসর্গগুলো হচ্ছে- নিউমোনিয়া, কিডনির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়া, ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ এবং পরিশেষে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু।

চিকিৎসা-

করোনার কোন ভ্যাকসিন নেই, নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসাও নেই। তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে এখনই আতঙ্কের কিছু নেই বলেই চিকিৎসকগণ বলছেন। কারণ এই ভাইরাস আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও হয়তো থাকবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO এখনো করোনা নিয়ে গবেষণা করছে। তবে উপসর্গ দেখা দিলে প্রথম অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে করোনার দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব।

করনীয় –

★ ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন।

★ গণপরিবহন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

★ তরল জাতীয় পানীয় (ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পানি) বেশি বেশি পান করুন।

★ ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

★ ডিম, মাংস প্রভৃতি খাবার ভালো করে সেদ্ধ করুন।

★ পরনের ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলুন। ঘরস্থালী এবং কাজের জায়গা পরিস্কার রাখুন।

★ গৃহপালিত পশুপাখি মাস্ক এবং গ্লাবস পরে নাড়াচাড়া করুন।

★ অপ্রয়োজনে জানালা দরজা খুলে রাখবেননা।

★ সদা সতর্ক থাকুন, প্রয়োজনে অতিসত্বর ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

বর্তমানে করোনার এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার বিদেশ ফেরত যাত্রী বিশেষকরে চীন ফেরত যাত্রীদের জন্য বিশেষ সর্তকতা জারি করেছে। ভারতসহ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড,কানাডা, জাপান, সিঙ্গাপুর, নেপাল প্রভৃতি দেশেও করোনার প্রভাব বিস্তার করছে। তাই দেশের সীমান্তের প্রবেশদ্বারগুলোকে সতর্কাবস্থানে এবং বিমানবন্দরগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা।

চীনে ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। আজ পর্যন্ত এই ভাইরাসে ১৩ টি দেশে আক্রান্ত হয়েছে ২০০০ এর অধিক এবং চীনে মৃত্যুবরণ করেছে ৫৬ জন মানুষ। করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিজেদের সতর্ক অবস্থানের জন্য চীনে অনেক বাংলাদেশি এবং বিদেশি পর্যটক নিজেদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা- চীন থেকে অন্যান্য দেশে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা ভাইরাস। তবে তারা এখনই করোনা ভাইরাসের আক্রমণকে মহামারী বলতে নারাজ। তাই পাঠকদের অনুরোধ বিদেশ ভ্রমণে বিশেষ করে চীন, মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর,কানাডা, সোদিআরব, তাইওয়ান, জাপান প্রভৃতি দেশ ভ্রমণে থাকুন। সবার দিন ভাল কাটুক এটাই কাম্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত nCoV হেলথ কার্ড
৫৫৪জন ২৩০জন
43 Shares

৪১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ