আপডেট:
* বিশ্বের ১৬ টি দেশে এই রোগের বিস্তার ঘটেছে।
* আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ২৫৮ জন।
* চীনের উহান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৩১৪ জন বাংলাদেশীকে, তাদেরকে দুই সপ্তাহ হাসপাতাল এবং হাজী ক্যাম্পে নিবির পর্যবেক্ষনে রাখা হবে। =========================================

বসবাস যোগ্য মানুষের এই সুন্দর পৃথিবী ক্রমশতঃ বসবাসে অযোগ্য হয়ে পড়ছে।অথচ এই সুন্দর ধরণীকে তার সৌন্দর্য্যে মুগ্ধতায় যুগে যুগে কবি সাহিত্যিকরা কত উপমায়ই না কবিতায় গল্পে সাজিঁয়েছেন,আপণ করে নিয়েছেন পৃথিবীর মাটি রঙ রস।মুমুর্ষ অবস্থায়ও একজন মানুষ পৃথিবীতে আর কয়টা দিন বেচে থাকার ইচ্ছায় মন ব্যাকুল হয়ে থাকে।এই অপরূপ সুন্দর মানব বেচে থাকার এক মাত্র আশ্রয় স্থলটি আজ বিপন্নের পথে।কোথাও ভূমিকম্প সাইকোলনে বিধ্বস্ত নগারায়ণ কোথাও বা বন্যা সুনামিতে তলিয়ে যাচ্ছে কোথাওবা  জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে উচ্চ তাপমাত্রায়  অগ্নির লেলিহান শিখায় জ্বলে পুড়ে ছাড়খার সব।এটা নিশ্চিৎ প্রকৃতির প্রতিশোধ।প্রকৃতির প্রতিশোধ,মরনাস্ত্রের খেলা,আর অসুখ বিসুখে পৃথিবীর সর্বোত্র কেবল মৃত্যুর মিছিল!লাশের গন্ধে বিষাক্ত পৃথিবীর বায়ু মন্ডল।এইতো ক’য়দিন আগেও আমাদের বাংলাদেশে ঘটে গেল ডেঙ্গু জ্বর যা অনেকটা মহামারীতে রূপ নিয়েছিল।বেশ সতর্কতায় এখন আমরা অনেকটাই নিরাপদ।এর উৎপত্তির মুলেও ছিলো মানুষের কৃতকর্ম।আজ পৃথিবীকে আরেকবার থমকে দিল চীনের করোনা ভাইরাস যা মানুষের কারনে সৃষ্টি হয়।সম্ভবত উনবিংশতাব্দির শেষের দিকে তখন আমি সিঙ্গাপুর।সিঙ্গাপুরের পুরো শহরটি সোয়ান ফ্লু নামে ভাইরাসে আক্রান্ত।সিঙ্গাপুরের তানতকসিন হাসপাতালটি রোগীতে সয়লাব।পুরো শহরের মানুষ ছিল আংকিত।

#বর্তমান সময়ে আলোচিত চীনের করোনা ভাইরাস সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেই।যা ক্রশমতঃ দক্ষিন এশিয়া সহ ইউরোপ আমেরিকায়ও ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

# করোনা ভাইরাস হল অনেকগুলো ভাইরাসের সংমিশ্রনে একটি শক্তিশালী ভাইরাস যার আরেকটি নাম হল ২০১৯ এনসিওভি।করোনা ভাইরাসটি নির্মূলে আবিস্কার করা কোন ঔষধ এখনো আবিস্কৃত হয়নি।এর অনেকগুলো প্রজাতির মধ্যে ৭টি প্রজাতি ভাইরাস কেবল মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।স্তন্যপায়ী প্রানীদের মধ্য হতে তা মানুষের মাঝে ছোঁয়াচে রোগের মতন তা ছড়িয়ে পড়ে।বিজ্ঞানীরা এ যাবৎকাল ছয়টি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানলেও নতুন এ ভাইরাসটির সম্পর্কে তারা সন্পূর্ণ অজ্ঞ আছেন।তাদের ধারনা এই ছয়টি করোনা ভাইরাসের বাহিরে নতুন কোন একটি ভাইরাস যা মানুষের শরীরে মিউটেট হয়ে অথাৎ গঠন পরিবর্তন করে মানুষের দেহকোষের ভেতরে জীবন্ত হয়ে উঠে যা মানুষের হাঁচি কাশির মাধ্যমে একে অন্যের উপর বিস্তার লাভ করছে।এটি যেহেতু সহজে এর গঠন পরিবর্নতনীয় তাই এই ভাইরাসটি মানুষের জন্য দিন দিন বেশ বিপদ জনক হয়ে দাড়াবে।

# মানব দেহের জন্য কতটা বিপদজনক এই ভাইরাসটি তা বিশ্বব্যাপি আলোচিত এবং আতংকিত।ভাইরাসটি মানুষের ফুসফুসে সংক্রামন ঘটিয়ে শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই মানুষের মাঝে ছড়ায়।সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মত প্রথমে তার উৎপত্তি ঘটায়।তবে এর পরিনামে অরগ্যান ফেইলিওর বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্ক হয়ে নিউমেনিয়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।
এর আগে সালে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম নামের এক করোনা ভাইরাসের আক্রমনে প্রায় ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল যার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো প্রায় আট হাজারেও উপরে।২০১২ সালে মিডল ইস্টার্ন রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স নামের এই করোনা ভাইরাসের আক্রমনে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৮৫৮ জন।

এর লক্ষণ কী কী
বিজ্ঞানীদের মতে এ ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের প্রায় পাচ ছয়দিন পর বুঝা যায়।প্রথমে জ্বর আসে এরপর আসে শুষ্ক কাঁশি এর প্রায় এক সপ্তাহ পর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।তখনি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত।

করোনা ভারাসটি কীভাবে সবার নজরে এলো।

গত বছর ২০১৯ এ ৩১ ডিসেম্বর মধ্য চীনের উহান শহরে নিউমেনিয়ার মতন একটি রোগ ছড়াতে দেখে চীন প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহতি করেন।১১ জানুয়ারী ২০২০ সালে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।ঠিক কী ভাবে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে ছিল তার সঠিক কোন তথ্য এখনো বিজ্ঞানীদের মধ্যে না থাকলেও তাদের ধারণা ভাইরাসটি প্রথমে কোন প্রানীতে ছিলো তার সংস্পর্শে মানুষের দেহে প্রবেশ করে।এর আগে সার্স ভাইরাসটি বাদুর থেকে এবং মার্স করোনা ভাইরাসটি মানুষের দেহে ছড়িয়ে ছিল উট থেকে।তবে এই করোনা ভাইরাসটিকে ধারণা করা হচ্ছে সামদ্রিক কোন খাবার হতে এসেছে।উহান শহরে সামদ্রিক তিমি বেলুগা এই ভাইরাস বহন করে থাকে বলে অনেকে তা মনে করেন।এ ছাড়াও উহানের বাজারে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন বন্যপ্রানী কেনা বেচা হয় যাদের মাঝে এই ভাইরাসটি থাকতে পারে যা কোন এক জন মানুষের তা ভক্ষণে এ ভাইরাসটর আর্বিভাব ঘটে।এসব বিজ্ঞানীদের কেবল ধারণা মাত্র।

করোনা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কী।

# ভাইরসটি নতুন হওয়ায় এর প্রতিকারে কোন টিকা বা প্রতিষেধক এখনো আবিস্কার করা হয়ে উঠেনি তাই সতর্কতা এবং সংক্রামনক ব্যাক্তির সংস্পর্শে না যাওয়াই এর প্রতিরোধর প্রাথমিক ধাপ বলে মনে রাখতে হবে।সংস্পর্শে গেলেও বেশ সতর্কতায়।
# তবে এ রোগের হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.গ্যাব্রিয়েল বলেছেন-হাত সব সময় পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখাটা জরুরী।প্রয়োজনে বার বার হাত ধুতে হবে।হাত দিয়ে নাক ঘষা যাবে না।অবশ্যই ঘরের বাহিরে গেলে মুখোশ পরতে হবে।

# শখের তুলা আশি টাকা।এই শখ করে যারা পোষা কুকুর বিড়াল পাখি পুষছেন তাদের সাবধানতা অবলম্ভবন করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছেন।পুষ্য পশু পাখিদের নিয়মিত ডাক্তারদের চেকআপে রাখতে বলা হয়েছে।

# সমসাময়িক যে করোনা ভাইরাসটি চীনে মহামারীর দিকে ধাপিত হচ্ছে ধারনা করা হচ্ছে চীনে বসবাস রত মানুষের বাদুর, মুরগী,কুত্তা,সাপ,গন্ধগোকুল এর মাংস ভক্ষণে হয়েছে আর উহান শহরটিতে এ সব ক্রয় বিক্রয়ের বেশ রমরমা ব্যাবসা।

# তাই যারা পশুপাখি পালন করেন তারা একটু বাড়তি সতর্কে থাকবেন এবং পশুপাখির মলমুত্র অন্যত্র যত্রছত্র না ফেলে কমোডে ফেলে তাতে জীবানুনাষক ডিটারজেন্ট দিয়ে কমোড পরিষ্কার রাখুন।

# বিনীত অনুরোধ আপনেরা যারা বাসে লঞ্চ ঘাটে হাঁচি কাঁশি পাদি দেয়ার নিয়মিত অভ্যাস আছে তারা একটু সাবধানে দিবেন যাতে অন্যদের উপর না পড়ে।পরিষ্কার থাকুন-রুমালের চেয়ে এ সব কাজে ওয়ানটাইম টিস্যু ব্যাবহার করুন।

# সঠিক নিয়মে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যাবহার করুন।পুরো চীন জুড়ে এখন মাস্কের প্রদর্শনীও চলছে তাই সতর্কতায় আমরাও শুরু করতে পারি।মাস্কই পারে প্রাথমিক ভাবে করোনা ভাইরাসকে আটকাতে।বিশেষ নির্দেশনা আছে মাস্ক ওয়ানটাইম ইউজ হতে হবে।

# সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি ভাবতে তা হল-যারাই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সাথে কখনো মিসবিহেভ বা তাকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।নিজে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থেকে তার যথাযত চিকিৎসা করাবেন।সে যেন কখনো ভাবতে না পারেন এ রোগটি তার জন্য এক ধরনের অন্ধকারে কারাবাস।তেমনি তাইওয়ানের একজন রোগীর উপর এমন প্রভাব পড়ায় তার জীবন এখন বিপন্ন। মানবিক হউন-মানবতায় মনুষত্ব বিকাশে সহায়তা করুন।

# চীনের এই করোনা ভাইরাসটির প্রভাব এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে পড়েনি তবুও সরকার বেশ সতর্কতায় রেখেছেন পুরো দেশকে।ভাইরাসটি চীন ছাড়াও এশিয়ার মালেশিয়া,সিঙ্গাপুর,হংকক,নেপাল ভারত সহ বিভিন্ন দেশে লক্ষ্য করা গেছে তবে শনাক্ত প্রায় সব রোগীই চীন থেকে আগত ভিজিটর।চীনে এর প্রভাবে উহান শহর সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে জরুরী অবস্থা সহ বেশ সতর্কতা আছেন।এমনকি চীনে লোকজনকে বিশেষ প্রয়োজন ব্যাতিত ঘরের বাহিরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।শহরের দোকানপাট সহ প্রায় সব কাজ কর্মই স্থবির হয়ে আছে।রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচলেও আছে নির্দেশনা।যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের পর্যটকদের চীন ভ্রমনে সতর্কতা জারি সহ নিষেধ করা হয়েছে।প্রতিটি ইয়ারপোর্টেও আগত ভিজিটরদের চেকিং করে ভাইরাসটির প্রতিরোধে মোকাবেলার চেষ্টা করছেন।

এ ক্ষেত্রে আমরাও পিছিয়ে নেই।যোগ করা হয়েছে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য হট লাইন ফোন নাম্বার(নীচে একটি ছবি দেয়া আছে)।বাংলাদেশে প্রায় ৪০০/৫০০ লোক করোনা আক্রান্ত শহর উহানে বসবাস করেন।যাদের মধ্যে কিছু আছেন শিক্ষার্থীও।তারা বেশ আতংকের মাঝে দিন অতিবাহিত করছেন।চীনের নির্দেশনায় সেখনকার সকল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে।ঘরের ভেতর এক প্রকার বন্দী হয়ে আছেন তারা।ঘরে বাজার সদাইয়ের দরকার পরলে সরকারী ভাবে তা মিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হংকং,যুক্তরাষ্ট্র,তাইওয়ান,অষ্ট্রেলিয়া,ভিয়েতনাম,জাপান,থাইল্যান্ড,দক্ষিণ কোরিয়া,নেপাল,সিঙ্গাপুর,ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রায় বারোটি দেশে এ ভাইরাসের আক্রমন শুরু হয়ে গেছে।অবস্থা এমন যে তা দেশ হতে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে তাই করোনা ভাইরাসের ঝুকিতে বাংলাদেশও কোন অংশে কম নয়।কারন বাংলাদেশের সাথে চীনের রয়েছে সরাসরি বানিজ্যিক সম্পর্ক।সে হিসাবে দৈনিক অসংখ্য লোকের গমন আগমন ঘটে বাংলাদেশে।তাই সেই সব বিবেচনা করে সরকার প্রায় প্রতিটি যোগাযোগ ব্যাবস্থায় নিয়েছেন সতর্কতা অবস্থা।দায়ীত্বপ্রাপ্তদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ এ বিষয়ে দায়ীত্বে কোন অবহেলা নয়।সততা নিষ্ঠার সাথে দায়ীত্ব পালনে সচেষ্ট থাকুন।

চীনের মত এতো প্রগতিশীল একটি দেশে এতো সতর্কতায়ও সরকারী হিসাবে প্রায় ১০৬ জন(নিউজ মুহুর্ত) আক্রান্ত রোগী ইতিমধ্যে মৃত্যু বরন করেছে।  এ ভাইরাসের বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়াবহতা হতে বাচতে এখনি আমাদের সতর্কতায় চলতে হবে।তারা সাহসিকতার শ্লোগান তুলেছেন মাঝ রাতে

সবার সুস্থ্যতা কামনায়।শুভ কামনা।

————————————

তথ্য উপাত্ত ও ছবি
অনলাইনে বিভিন্ন নিউজ ওয়েভ সাইট ও ফেবু বন্ধু জাদিদ এর ওয়াল।

৫৮২জন ৫জন
99 Shares

৫৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য