করোনা ভাইরাসে গৃহবন্দী

সুপর্ণা ফাল্গুনী ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার, ০৮:৫৬:৪৩অপরাহ্ন সমসাময়িক ২৭ মন্তব্য

আজ আমি গৃহবন্দী; না কোনো ইভটিজিংয়ের ভয়ে, না কোনো পারমাণবিক বোমার ভয়ে, না কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ে, না কোনো যুদ্ধের ভয়ে। চারিদিকে সবাই কেমন জানি আতংকিত, সবকিছু কেমন যেন থমথমে। কেমন যেন যুদ্ধের পূর্ববর্তী অবস্থা অনুভব করছি। আমি যুদ্ধ দেখিনি তবে স্বৈরাচারী সরকারের পতন দেখেছি। মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে সব বন্ধ হয়ে যাবে, মৃত্যুপুরীতে পরিনত হবে আমার প্রিয় শহর,প্রিয় জন্মভূমি । ঘর থেকে বের হলেই যেখানে লোকজনের ধাক্কা, গাড়ির ধাক্কা, রিকশার ধাক্কা খেতে হতো অবিরত সেখানে আজ সুনসান নীরবতা বলা যায়। যেখানেই গেছি আগের মতো গাড়ির জটলা নেই, লোক জন কম, পন্য সদাই নিয়ে তেমন কেউ বসে নেই- নিতান্ত দরকারি জিনিস ছাড়া বাড়তি কিছুর পসরা নেই। ঈদের ছুটিতে এমনটা দেখা গেলেও সবার মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে, আনন্দের ফুলকি চোখেমুখে দৃশ্যমান থাকে। আজ আমি এ কোন শহরকে দেখছি!

নোভেল করোনা বা কোভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের সবাইকে এ কোন প্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিলো? যেখানে শুধু আমার শহর বা আমার দেশ নয়- সারাবিশ্ব আজ এক কাতারে শামিল হয়েছে। মৃত্যু ভয় আমাদের কে গ্রাস করে ফেলেছে। শুধু তাই নয় মৃত্যু পরবর্তী সময়টা আরো নির্মম , লোমহর্ষক হয়ে ধরা দিয়েছে। শেষবিদায়ে আপনজনের স্পর্শ, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, সবাই একত্রিত হয়ে শোক পালন করা-কিছুই করা যাবে না। এরচেয়ে ভয়াবহ, ভয়ংকর আর কি হতে পারে? জন্মিলে মরিতে হবে এটাই চিরন্তন সত্য ; কিন্তু এ কেমন মৃত্যু! এ ভাইরাসের কারনে মৃত্যু হলে লাশ থেকে যে ভাইরাস ছড়ায় তা আরো ভয়াবহ। তাই মৃতব্যক্তির সৎকার টাও ঠিক মতো করা যাবে না। এমন মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। এ এমনি এক সংক্রমণ ব্যাধি যে ছুঁলেই সর্বনাশ। কমপক্ষে এক দুই মিটার দূরত্বে অবস্থান করতে হবে অন্যজনের কাছ থেকে। তাইতো কোনো জনসমাগম, দাওয়াত, ভীড় ভাট্টায় যাওয়া যাবে না। এটা মানবসৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রকৃতি আমাদের কিসের প্রতিশোধ নিচ্ছে- যার কারণে পুরো বিশ্ব আজ গৃহবন্দী?

১৬০জন ২জন
3 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য