করোনা নামক আতঙ্কটা গ্রাস করছে সর্বত্র।মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।ফলে যারা আক্রান্ত তারা লুকাচ্ছে। বিপদে পড়লে হসপিটালে ছুটছে।পুলিশ মিলিটারি দিয়ে বেঁধে রাখা যাচ্ছে না আনিশ্চিত ভবিতব্যের তাড়নায়।

৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ই মার্চ ৭০ বছরেরর বৃদ্ধ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয় আজ ৪৭ দিন পরে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি জীবন মুল্যবান এতে কোন সন্দেহ নেই।

আমার প্রথম লেখায় একটা পরিসংখ্যান দিয়েছিলাম যেভাবে ছোয়াছে বলে প্রচার হচ্ছিল সেরকম যদি হত ২.৫ লাখ প্রবাসী থেকে ২৫ জন করোনা জীবানু বহন কারী  লোক যদি ৫ জন লোকের সাথে মিশত তাহলে ১০ দিনে ৪০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হত ও ২ কোটি মানুষ মারা যেত।

আমার কৌতুহল টা একটু বেশীই ছিল মেয়ে রাজউক কলেজে পড়ার সুবাধে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত স্কুলে এবং ২৫শে মার্চ পর্যন্ত কোচিং এর জন্য কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের সামনের বাসায় যাওয়ার সুবাদে আগত রোগীর আত্নীয় স্বজনদের থেকে চিকিৎসা পদ্ধতি টা জানার জন্য। কিন্ত অজানা ভয় এবং শঙ্কা থেকে আর জানাই হলো না।

অবশেষে জানার একটা সুযোগ হল তা সোনেলার বন্ধুদের জানানোর জন্য এই প্রয়াস।

বুটেক্সের ৩৬তম ব্যাচের বোনের ওয়াল থেকে, যিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এখন সম্পূর্ন সুস্থ তার লেখাটা হুবহু তুলে ধরলাম।

৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোভিড-১৯ Positive report আসার পর দ্বিধায় পরে গেছিলাম কোথায় থেকে treatment নিব। IEDCR এর একজন doctor বলল আপনার যেহেতু তেমন কোন symptoms নেই তাই আপনি  বাড়িতে থেকেই treatment নিতে পারেন। বাসায় বয়স্ক বাবা-মা আর ছোট  ভাগ্নে থাকায় তাদের safety এর কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম hospital এর service যতই খারাপ হোক hospital এই যাব। IEDCR এ আমার এ সিদ্ধান্তের কথা জানতেই ওরা আমাকে Kuwait Bangladesh Friendship hospital এর control room এর number দিল.. Call দিলাম ambulance পাঠানোর জন্য.. রাত ১০.০০ টার দিকে ambulance এ করে রওনা দিলাম hospital এর উদ্দেশ্যে। রাত ১১.৩০ এর দিকে পৌঁছলাম। আমাকে room এ পাঠানোর আগেই এক doctor আমার সব details নিয়ে নিল।

Hospital এ ছিলাম ১০ দিন। এই ১০ দিনে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। facebook খুললেই অনেক কিছু দেখা যায়- যেমন : ছেলে করোনা সন্দেহে মাকে জঙ্গলে ফেলে চলে গেছে আবার করোনা আক্রান্ত বাবার লাশ নিতে অস্বীকৃতি… এই রকম news এ যখন facebook এর news feed ভর্তি ঠিক তখনি এই hospital এ আমার চোখের সামনে পৃথিবী তার অন্য রূপ মেলে ধরলো। সেই পৃথিবী ভালোবাসার। একে অপরের পাশে থাকার। তাইতো Covid-19 Positive wife এর পাশে থাকার জন্য, সাহস যোগানোর জন্য সুস্থ husband ও hospital এ ভর্তি হয়েছে.. অসুস্থ মা- বাবাকে সেবা করার জন্য নিজের life risk নিয়ে মেয়েও থেকে গেছে hospital এ.. ২৪ ঘন্টা Covid-19 আক্রান্ত প্রিয়জনেদের সেবা করে যাচ্ছে তারা.. ”

আরো এক case দেখলাম.. Covid-19 শুধু জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট তেই থেমে নেই.. এটা আসে বিভিন্ন symptoms নিয়ে। আমি যখন IEDCR এ জানালাম আমার তো জ্বর কাশি শ্বাসকষ্ট কিছুই নেই… যে গলা ব্যথা ছিল ঐটাও Antibiotic নেয়ার পর অনেকটাই কমে গেছে.. গত ১৯ দিন আমি আর আমার পরিবারের কেউ ঘরের বাহিরে যাই নি…! আমার কীভাবে positive আসলো!! আমার প্রশ্নের উত্তরটা ছিল এই রকম যে- দেশের প্রায় ৮০% লোকের positive আসবে যদি test করানো হয় কিন্তু এদের কোন  symptoms নেই.. Virus টা ওদের আক্রান্ত করে ঠিকই কিন্তু কিছু বোঝার আগেই রোগী ভালোও হয়ে যায়.. Hospital এও তার নমুনা দেখলাম কয়েকটা। পুরান ঢাকার দুইটা family এর সাথে পরিচয় হয়েছে..

১। লোকটি hospital এ admit হয় Covid-19 positive সব লক্ষন নিয়ে.. পরিবারের অন্যান্যদেরকেউ যখন test করানো হলো তখন দেখা গেল উনার স্ত্রী ও এক ছেলের positive কিন্তু বাকি দুই ছেলের negative. আর আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হলো Positive স্ত্রী আর ছেলের কোন symptoms ছিল না আর এখন পর্যন্ত নেই। ওরা চাইলেই ঘরে বসেই treatment নিতে পারতো কিন্তু আমরা জাতি হিসেবে এতোটাই নিম্নমানের যে বাসার বাড়িওয়ালা ওদের বাসা থেকে বের করে দেয়াতে hospital এ ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। যাইহোক লোকটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। আশা করি ২-৩ দিনের মধ্যে full family release পেয়ে যাবে।

২। আমার দেখা পুরান ঢাকার ২ নাম্বার family এর কথা বলি। এই Uncle (বয়স আুমানিক ৬৫+) এর Positive ধরা পরে শুধুমাত্র diarrhea symptoms নিয়ে. দুদিন পর উনার wife ভর্তি হলো করোনার সব symptoms নিয়ে। এর দুদিন পর উনাদের ছেলে ভর্তি হল শুধুমাত্র কাশী নিয়ে.. যদিও একইসাথে ছিল তারপরও ছেলের wife আর ওদের ছেলে-মেয়েদের negative ছিল। আমি আসার দিন দেখে আসছি uncle অনেকটাই সুস্থ আর aunty-র ও জ্বর চলে গেছে শুধু হালকা শ্বাসকষ্ট আছে.. ওইটাও চলে যাবে ইনশাআল্লাহ.. হতেই পারে next week এ হয়তো এই family ও release পেয়ে যাবে।

আরো একটা ঘটনা বলি যারা ICU নিয়ে ভয়ে আছেন তাদের জন্য.. এক ভাইয়া করোনা positive নিয়ে ভর্তি হয় ৫ এপ্রিল.. অবস্থা অনেক খারাপ থাকায় উনাকে ICU তে নিয়ে যাওয়া হয়। উনার ভাষ্যমতে ICUতে ২৪ ঘন্টা nurse থাকে (এই information তাদের জন্য যারা ভাবেন nurse রা শুধু ঘুমাইতেছে দেশের এই crisis moment এ)। যাই হোক উনি করোনার সাথে ICU তে ৩ দিন fight করে normal ward এ চলে আসেন ৯ এপ্রিল। হয়তো গতকাল উনার release হয়ে গেছে।

আমি hospital এর যে floor এ ছিলাম সেখানে বেশিরভাগ এর অবস্থাই অনেক stable ছিল.. এই ১০ দিনে আমি মৃত্যু দেখেছি দুইজনের.. আল্লাহ যেন উনাদের সহ আরো যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সবাইকে কবরের আযাব মাফ করেন এবং বিনা হিসেবে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন.. সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করি.. আমিন।।

এবার আসি doctor দের নিয়ে যাদের চুলকানি আছে.. এই ১০ দিনের এমন একটা দিনও ছিলোনা যেদিন doctor রা visit এ আসেন নি। প্রতিদিন দুইবার করে round দিয়ে গেছেন.. রোগীদের সাহস দিয়ে গেছেন.. রোগীদের কথা শুনেছেন.. সেই হিসেবে প্রয়োজনীয় advise দিয়েছেন.. যে রোগের কোনো medicine এখনো পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নাই  সেখানে আর কতোটুকুইবা করবে doctor রা!! আমাকে release দেয়ার আগের দিন এক doctor আমাদের বলেছিল ” আপনারা release  নিয়ে চলে যাবেন আর আমরা এখানে admit হব!! ” KUWAIT BANGLADESH FRIENDSHIP hospital এর সব doctor – nurse  দের সবারই sample নিয়ে গিয়েছিল IEDCR.. কারন ওরা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল.. !! তাই বলতেছি doctor nurse দের সম্মান করতে না পারেন at least গালি দিয়েন না.. একবার শুধু ভেবে দেখুন বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা এখনো ২হাজার এর মধ্যে আছে আর এখনি যদি সব doctor nurse রা অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে USA, Espana, Italy এর মতো অবস্থা হলে কে আপনাকে treatment দিবে?? সৈনিক ছাড়া তো আর যুদ্ধ করা যায় না..!! আর এই করোনা যুদ্ধের আসল সৈনিক তো এরাই.. Doctor.. Nurse..!!!

সবশেষে এই hospital নিয়ে কিছু বলবো.. এই ১০দিন ৩ বেলা নিয়মিত খাবার-ঔষধ পেয়েছি…আগেই বলে রাখি ভাই এটা সরকারী Hospital তাই  Isolation room এর কথা মাথাতেও আনবেন না,Vit-C Supplementary দরকার হলে বাইরে থেকে কিনে Hospital এ ঢুকবেন …একদমই ভাবতে যাবেন না যে এইগুলো Hospital provide করবে!  Hospital অনেক পরিস্কার কিন্তু আমরা জাতি হিসেবে অনেক নোংরা.. তাই পরিস্কারের মর্ম আমরা বুঝি না.. এইখানে গিয়ে বুঝতে পারছি যে জাতি ‘হাগার’ করার পর flash করতে পারেনা সেই জাতিকে Isolation আর quarantine বুঝাতে আরো ১০০বছর অপেক্ষা করতে হবে। মাথায় রাখবেন Government hospital এ এক ward এ 6 টা bed এর জন্য একটা toilet.. তাই নিজের নোংরা গুলো নিজে পরিস্কার করে ফেললে তো কোনো দোষের কিছু নেই.. অন্তত আমি দেখিনা.. Cleaner এর জন্য ফেলে রাখার কী দরকার রে ভাই..!! ওরাও তো মানুষ.. ওদেরোতো জানের ভয় আছে নাকি..!!

যাদের  IEDCR নিয়ে অনেক অভিযোগ !আমি  IEDCR থেকে অনেক support পেয়েছি …IEDCR এর সহযোগিতাতেই এত তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে পেরেছি..next wk এ আমার আরেকটা test করাবে আর ঐটা negative আসলেই বন্ধ room থেকেও মুক্তি পাব.. সেই দিনের আশায় আছি ….

উপরের সবকিছুই আমি এই ১০ দিনে যা দেখেছি যা বুঝেছি যা অনুভব করেছি  তার বহি:প্রকাশ মাত্র…সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত। সাবধানে থাকবেন.. যেহেতু এই রোগের কোনো medicine নেই তাই একমাত্র উপায় হলো নিজের Immune System Boost Up করা.. করোনাকে ভয় না পেয়ে Immune System কে কাজে লাগান.. আর যদি এতটুকু symptomps আপনার মধ্যে দেখা দেয় লুকোছাপা না করে plz test করান.. Treatment নেন.. আশা করি আল্লাহর দয়ায় ভালো হয়ে যাবেন.. আজাইরা কারনে symptoms লুকিয়ে আশেপাশের মানুষদের আর doctor দের সংক্রামিত কইরেন না। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর আশেপাশের সবাইকে ভালো রাখুন। নিজের ভালো থাকাটা যেমন জরুরী তেমনি আশেপাশের সবাইকে ভালো রাখাটাও আমাদের নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব। আর সবসময় পরম করুনাময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন দেখবেন উনি ঠিকই আমাদের আলোর পথ, আশার পথ দেখাবেন….

(সংগৃহীত )

পরিশেষে বলি ভয় বা আতঙ্ক কেটে উঠে  স্বাস্হ্য বিধিমেনে চলে আসুন করোনা যুদ্ধে জয়ী হই।সবাই ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

২২৮জন ২২জন
20 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য