করোনাক্রান্ত

ইঞ্জা ৩১ মে ২০২০, রবিবার, ০৮:২৬:১৬অপরাহ্ন সমসাময়িক ১৪ মন্তব্য

নামটা যদিও হবে করোনা আক্রান্ত, এরপরেও আমার মনে হলো এটাই উপযুক্ত হবে বলেই দিলাম।

আসলে কোভিড-১৯ করোনা আক্রান্ত হওয়ারই ঘটনা নিয়ে আসলাম আজ, ভাবলাম আমার অভিজ্ঞতা দিয়েই আপনাদের যদি উপকার হয় তাহলে ভালোই। 

 

করোনাকাল যখন বাংলাদেশে শুরু হলো তার প্রথম এক মাস আমার পরিবারের সবাই ঘরে টাইট হয়ে রয়ে গেলাম, আমার আগে থেকেই উপলব্ধি ছিলো করোনা কি ধরণের আঘাত হানতে পারে এই দেশে, তাই করোনায় বন্দী হওয়ার বা লকডাউনের আগেই ঘরে দুই মাসের জন্য জরুরী সকল পন্য খরিদ করে ঘরে স্টক করেছিলাম, যার মধ্যে চাল, ডাল, ডিম, আলু, অল্প কয়টা মুরগী, মাছ ছিলো, তেল এমন কিছু আইটেম ছিলো স্টকে, প্লান ছিলো আগামী দুই মাস ঘরের ভাইরে যাওয়া হবেনা।

এক মাস পরেই ছেলেকে বের হতে হলো ওর অফিসের কাজে, প্রথম প্রথম দুই এক ঘন্টা, এরপর আধা দিন, শেষের দিকে এসে সারাদিন কাটাতে হতো বাইরে। 

ও যখন বাইরে যেতো তখন যথাযথ ভাবে মাস্ক, ভালো কোয়ালিটির হ্যান্ড গ্লাভস সহ পুরা শরীর ঢেকে বের হতো, সাথে সবসময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকতো, ও যখন ফিরে আসতো তখন পুরা শরীর মাথা মুখ এবং খোলা জায়গা ছাড়া ব্লিচিং পাউডারের তৈরি পানির স্প্রে মারা হতো, জুতার উপরে এবং নীচে মারা হতো।।

জুতা বাইরে খুলে আলাদা পলিব্যাগে নেওয়া হতো, এরপর মাস্ক, মানিব্যাগ আলাদা করে পলিব্যাগে নেওয়া হতো, ওর হ্যান্ড গ্লাভস আলাদা পলিব্যাগে নিয়ে দিয়ে দ্রুত জ্বালিয়ে ফেলা হতো। 

 

সে ঘরে প্রবেশ করেই বাথরুমে প্রবেশ করতো, সেখানেই নিজের পড়নিয় কাপড় খুলে সাবান পানিতে ভিজিয়ে নিজে ফ্রেস হয়ে সব ধুয়ে এরপর গোসল সেরে বের হতো।

ওর যাবতীয় সকল কাপড় আলাদা রাখার ব্যবস্থা হয়েছিলো, এমন কি ওর ভেজা কাপড়ও আলাদা শুকাতে দিতো ও।

 

কিন্তু ঈদের তিন দিন আগে ও অফিস থেকে ফিরে এসে গোসল করে ইফতার করে বললো, ওর জ্বর জ্বর মনে হচ্ছে, এতে আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম, দ্রুত ওর জ্বর মাপা হলো, তখন ১০০° হলেও রাতের মধ্যেই তা ১০২/১০৩° এ উঠে গেলো।

ঘরে আগে থেকেই ইমারজেন্সি হিসাবে নাপা এক্সটেন্ড, ফেক্সো রাখা ছিলো, তাই দেওয়া হলো। 

পরদিন সকালেও দেখি জ্বর উঠে আর পড়ে, দ্রুত পরিচিত ডাক্তার কাজিনকে কল দিলে সে বললো জিমেক্স৫০০ শুরু করার জন্য প্রতিদিন একটা করে, সাথে নাপা এক্সটেন্ড চলবে। 

 

মেডিসিন শুরু করার পরও একি অবস্থা, গিন্নি ছেলের কষ্ট দেখে নিজের জানের পরোয়া না করে প্রতিদিন দুই তিনবার ছেলের মাথা ধোয়া, জলপট্টি দেওয়া শুরু করলেন, আমি এবং মেয়ের উপর মার্শাল ল দিলেন কেউ ছেলের রুমের আশেপাশে যেতে পারবোনা, খাওয়া দাওয়া রুমে দেওয়া হবে।

এইভাবে ঈদের দিন পর্যন্ত চললো। 

 

ঈদের দিন আমার এক ডাক্তার বন্ধু যে ঢাকার উত্তরা ল্যাবএইডে প্রাকটিস করে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন দিলাম, সে জানালো সেও করোনা আক্রান্ত কিন্তু সিনটম হলো খুব জ্বর ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমি বললাম সে টেস্ট করেছে কিনা?

সে না বললো, সাথে এও বললো যার যায় হোকনা কেন, মানে জ্বর সর্দি কাশি যায় হোক তা সাধারণ হলেও করোনা হিসাবে ট্রিটমেন্ট হবে বিধায় সে টেস্ট করেনি কিন্তু বাংলাদেশে এই মুহূর্তের বহুল প্রচলিত চিকিৎসা সে নিচ্ছে, এবং ছেলের জন্যও তা দিয়ে দিলো বন্ধুটি।

 

তার প্রেস্ক্রাইবড মেডিসিন গুলো হলোঃ

Tab. Scabo, 6mg,   3 tab only one time,

Cap. Doxicap, 100 mg, I + 0 + 1, for 7 days,  or, Tab. Azyth/zimax,  500mg,    1 tab, once daily for 5 to 7 days, 

Ta. Zinc, three times a day,

Tab. Defrol, 1000iu, once daily 

 (ভুলেও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে খাবেন না প্লিজ)  

আমি আর দেরি না করে লোক পাঠালাম মেডিসিন গুলো আনার জন্য, তা আনিয়ে দ্রুত শুরু করে দিলাম।

 

মেডিসিন গুলোর সাথে প্রচুর পরিমানে জলিয় পানিয়, মোছাম্বী বা মাল্টা, কাগজী লেবু পানিয়, গরম লেবু চা, সাথে আদা লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচ দিয়ে চা, গরম পানির ভাপ নেওয়া, গরম পানি লবন দিয়ে গলগলা চলতে লাগলো। 

 

আল্লাহর অশেষ রহমতে ছেলে আমার মেডিসিন সেবনের ৩/৪ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে গেলো, যদিও মুখের স্বাদ নেই এখনো যা অল্প অল্প রিকভার হচ্ছে। 

 

আমার কথা হলো আপনারা ভয় পাবেন না, মাথা ঠান্ডা রাখুন, নিয়মিত ডাক্তারগণের সাথে যোগাযোগ করে মেডিসিন সেবন করুন, তাহলেই সাধারণ জ্বর বা সর্দি কাশি হোক বা করোনা হোক, সুস্থ হবেনই।

শুধু মাত্র যারা অন্যান্য রোগে ভুগছেন, যেমন হাই প্রেশার, অতিরিক্ত ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হাঁপানি আছে তারা দ্রুত ৩৩৩ ডায়াল করে সহায়তা চান। 

মনে রাখবেনঃ ভয় নয়, সতর্কতায় প্রয়োজন। 

 

সমাপ্ত।

জনস্বার্থেঃঃ

১৪৯জন ৪৭জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ