কমলা ভাসিন

দক্ষিণ এশিয়ার  নারী সমঅধিকার  প্রতিষ্ঠার একজন যোদ্ধা,  তার মৃত্যুর পর জেগে উঠুক হাজারো  নারী।

ভারত এবং ব্রিটেনে নারীর অবস্থানের চিত্র

কে এই কমলা ভাসিন?

কমলা ভাসিন

নার্গিস রশিদ

কমলা ভাসিন জন্মগ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল ১৯৪৬, পাঞ্জাবে। দেশ বিভাগের পর রাজস্থানে চলে আসেন। স্নাকত্তর করার পর পশ্চিম জার্মানির Muyensstan Unversity থেকে সমাজ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। UNA-তে তিনি যোগ দিয়েছিলেন Food And Agriculture Organization-এ ।

ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মহিলা আন্দোলনের  বলিষ্ঠ কণ্ঠ কমলা ভাসিন ।

কাজের সুবাদে প্রায়  তিনি বাংলাদেশে আসতেন এবং এই নারী আন্দোলন সক্রিয় রাখতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আন্তর্জাতিক স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে সমান গুরুত্ব ও সহজভাবে যোগাযোগ করতে পারদর্শী ছিলেন। তিনি সমাজের সবার মধ্যে তো বটেই, রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। একজন নারীবাদীর মৃত্যু একটা সমাজের ক্ষতি, তা যেন না হয়। তাঁর পথ ধরে যেন হাজারও নারী জেগে ওঠে।

কমলা ভাসিন পশ্চিমা নারীবাদী ধ্যান ধারনার সঙ্গে স্থানীয় প্রেক্ষিত যুক্ত করে সহজ ভাষায় এই উপমহাদেশে নারীবাদ প্রচার করেছেন।

তার অভিজ্ঞতা গুলো এখন আমরা দেখবো।

ভারতের সমাজে মেয়েদের দুরাবস্থা :

শিক্ষা :

ভারতের মেয়েদের নিরক্ষতার জন্য দায়ী ভারতের দরিদ্র দশা। যদিও ভারত এখন পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ এবং একটা বৃহৎ শক্তিশালী  অর্থনীতির দেশ । কিন্তু এখনো এখানকার  সমাজে ভেদাভেদ খুব বেশি। ধনী/দরিদ্র, ধর্ম, ভাষা ও  কালচার, জাতি/গোত্র , কাস্ট সিস্টেম এর মধ্যে বিভেদ তো আছেই এবং সব চেয়ে বেশি বিভেদ আছে  পুরুষ এবং নারীর মধ্যে।

নারীবান্ধব সমাজ এটি নয়।

মাত্র ১৩% নারী জমির মালিক। এই পার্সেনটেয  আরও কম লোয়ার কাস্ট নারীদের মধ্যে। ৪১% নারী জীবিকা নির্বাহ করে শ্রমিকের কাজ করে।

যে  দুটি কারণে  মেয়েদেরকে অসহায় অবস্থার মধ্যে থাকতে হয় তা হলো :

১)  উপার্জনহীন হয়ে থাকা,

২)  পুরুষের উপর নির্ভরশীলতা,

নারী শিক্ষার ব্যাপারে ভারত বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপেরও পিছনে। পুরো এশিয়ার মধ্যে ভারত নারী শিক্ষার ব্যাপারে পেছনে পড়ে আছে। ২০১১ সালের census অনুযায়ী ভারতে শুধুমাত্র  অক্ষরজ্ঞান শিক্ষার হার পুরুষ ৮২%,  নারী ৬৪%। প্রতি ১০০ মেয়ের মধ্যে মাত্র ১জন ১২ ক্লাস এবং ৪০% মেয়ে স্কুল ত্যাগ করে প্রাইমারি শেষ হওয়ার আগেই।

শহরে শিক্ষা ক্ষেত্রে  মেয়ে শিশু এবং ছেলে শিশুর সংখ্যা সমান। কিন্তু গ্রামে নয়। কর্ম ক্ষেত্রে বর্তমানে নারী শহরে ৩০% IT-তে কাজ করে। অনেক নারী  রাজনীতিবিদ আছে, কিন্তু কাজ হয় শহর কেন্দ্রিক। ভারত মহিলাদের জন্য চতুর্থ বিপদজনক দেশ। কেরালা এবং মিজোরাম এ ১০০% মহিলা সাক্ষরতা অর্জন করে, যার ফলস্বরূপ সেখানে মেয়েদের দুর্ভোগ কম ।

নারীর উপর সহিংসতা ( Violence Against Women)

নারীর উপর অত্যাচার ভারতের ধর্ম এবং কালচারের মধ্যেই আছে। একটা সার্ভে অনুযায়ী ৫৭% পুরুষ এবং  ৫৩% নারী , নারীর উপর শারীরিক অত্যাচার সঠিক বলেই গ্রহণ করে । ২০১৫-১৬ এর এক সার্ভেতে  দেখা যায় ৪০% কর্মরত নারী হাজবেন্ডের হাতে মার খায়। নারী ধর্ষণ, যৌতুকের কারণে মেয়েকে অত্যাচার করা বা মেরে ফেলা এবং পারিবারিক সহিংসতা লুকিয়ে রাখা হয় ,প্রকাশ করা হয় না।

ভারতে প্রতি ২৯ মিনিটে ১জন নারী ধর্ষণের শিকার, প্রতি ৭৭ মিনিটে যৌতুকের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে, প্রতি নয় মিনিটে একজন নারী স্বামী বা শ্বশুর বাড়ির লোক দ্বারা নির্যাতিত হয়।

ভারতের সমাজে , পরিবার থেকে শেখানো হয় প্রতিবাদ না করে সবকিছু সহ্য করতে।  মার খাওয়া তারা পারিবারিক বিষয় বলে মনে করে । একথা তারা লুকিয়ে রাখে এবং সাহায্য খুঁজে না। যার ফলে প্রতীকারও পাইনি । Domestic Violence এর বিরুদ্ধে আইন পাশ হলেও এই জন্য এই ঘটনা বন্ধ হয় না।

“পুরুষ নারীর চেয়ে উত্তম” এটা তাদের ধর্মে আছে। এইজন্য প্রত্যেক মিনিটে একটা করে  নারী বলৎকার হলেও পুরুষের দোষ হয় না।

নারীর  বাইরের এবং ভিতরের কাজের মধ্যে ব্যাল্যান্স নাই :

ভারতীয়দের ধ্যান ধারণা এখনো এভাবেই বিবেচিত হয় যে, বাড়ির ভিতরের সমস্ত কাজের  দায়িত্ব নারীর উপর । যতই তারা বাইরে উপার্জন করুক না কেন, ভিতরে  এসে তাদের সব দায়িত্ব নিতে  হবে।

পুরুষরা ভিতরের কাজে হাত  দেয়ার রেওয়াজ নাই। কারণ  সে হর্তাকর্তা। নারীকে উপার্জনের টাকাও দিতে হয় বাড়ির সব কাজও করতে হয়।

অসম মজুরি ( Gander wage gap)

পৃথিবীর মধ্যে ভারত  সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে  নারী এবং পুরুষের মধ্যে  মজুরি প্রদানের ব্যাপারে ।  অক্সফাম এর একটা গবেষণায়  দেখা যায় একই কাজের মজুরি ২৫% বেশি পায় একজন পুরুষ একজন নারীর চেয়ে।

Women in The Workforce : সাল ২০১৪

৪৪% নারী উপার্জন করে না। কাজ করতে চায় ২৪% । লেবার হিসাবে কাজ করে ২৭%।

প্রতিবেশী দেশগুলোতে দেখা যায় নেপালে ৮০% , বাংলাদেশে ৫৮%, শ্রীলঙ্কা ৩৫% ভারত ২৭% , পাকিস্থান ২৫% নারী শ্রমিক হিসাবে  উপার্জন করে।

কমলা ভাসিন ভারতীয় নারীর দুর্দশা দেখে এ বিষয়ে কাজ করতে এগিয়ে এলেন। তিনি পড়াশুনা করে এই দুর্দশা দেখেছেন কিংবা পাশ্চাত্যের সাথে তাল মেলাতে এটা করেছেন তা নয়।

তার বাবা ছিলেন ডাক্তার। তাকেও গ্রামে গ্রামে ঘুরতে হতো বাবার সাথে। খুব কাছ থেকে  গ্রামের মেয়েদের জীবনের কষ্ট দেখেছেন। ছোটোবেলায় খেলতে গেলে তিনি খেলার অনুমতি পেলেও একটা সময়ে তার বয়সী মেয়েরা অনুমতি পেতো না । তিনি স্কুলে গেলেও তার বয়সী মেয়েদের স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে যেতো। তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও তারা অনেক আগেই ঝরে পড়তো । বাল্য বিবাহ হয়ে বাচ্চা কাচ্চার মা  হতো। অল্প বয়স হলে বিয়ের জন্য বাবা/মাকে যৌতুক দিতে হতো কম।

ভারতে নারী উন্নয়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা :

কমলা ভাসিন দেখতে পেলেন, নারী উন্নয়নের জন্য ভারতে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা  আছে।

সেগুলো হলো :

১) ভারতে কালচারাল রেভুলেসান হয়নি।

২) ‘নারী  অধিকার’-কে  ওয়েস্টার্ন কালচার তকমা লাগিয়ে এটার চর্চাকে খারাপ বানানোর চেষ্টা ।

৩) অনেক মেয়েই , মেয়ের অধিকার আদায় এর বিরোধিতা করে ।

৪) অনেক পুরুষ মেয়েদের বেশি শিক্ষাকে ভয় পায়।

৫) মানুষের মগজের মধ্যে পুরুষের সুপেওরিটি ইনপুট হয়ে গেছে।

৬)  গ্রাম পাঞ্ছায়েত এর শক্তিশালী  প্রভাব ।

৭) ধর্ম ।

ধর্ম :

ভারতের সংবিধানে ঠিকই আছে যে নারী-পুরুষকে সমানভাবে দেখতে হবে। কিন্তু সমাজে তা মানা হয় না। কারণ হিন্দু  ধর্মে আছে “পুরুষ উত্তম নারীর চেয়ে” । প্রতি এক মিনিটে একটি করে বলৎকার হলেও পুরুষকে দোষারোপ করা যাবে না। দোষান্নিত করা হলে ধর্ম মানা হয় না। এর পেছনে বিজ্ঞান বা লজিকের কোনো যুক্তি দেখানো যাবে না।

আর মুসলমান ধর্মে সম্পত্তির ভাগ পুরুষের চেয়ে অর্ধেক। কারণ হিসাবে বলা হয়  পুরুষরা বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে দেখাশোনা করবে এই জন্য। কিন্তু এখন দেখা যায় অনেক মেয়ে উপার্জন করে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করে। কিন্তু তাকে দেয়া হয় না সমান ভাগ।  সে সময়ে ধর্ম মানার দরকার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। নামাজ-রোজা না করলেও  এই সম্পত্তি “ভাগা ভাগি ধর্ম” ঠিকিই  পালন করে। কোরআন শরীফে এ কথা লেখা নাই মেয়েকে ছেলের সমান সম্পত্তি দিলে বাবা-মা  দোজখে যাবে।

হিন্দু ধর্ম  অনুযায়ী  নারী বাবার সম্পত্তির উত্তারাধিকারি  হয় না। নারী বিধবা হলে স্বামীর সম্পত্তি পায় না।

গ্রাম পাঞ্ছায়েত :

ভারতের গ্রাম পাঞ্ছায়েত এত বেশি শক্তিশালী সরকার থেকে আইন পাশ হলেও তারা এর প্রয়োগ করতে চায় না। তাদের এক কথা “ ভারতীয় কালচার বিরোধী “ কিছু করা যাবে না।

কালচারাল রেভুলেসান :

ভারতে কালচারাল রেভুলেসান হয়নি। তারা পুরানো ধ্যান ধারণা আঁকড়ে থাকে। যাকে তারা বলে  “পরমপরা”। অনেক নারী শিক্ষিত হচ্ছে চাকরি বাকরি করছে কিন্তু শৃঙ্খলা ভাঙতে পারেনি। নারী অধিকার রক্ষাকে ওয়েস্টটার্ন কালচার তকমা দিয়ে খারাপ প্রমাণের চেষ্টা করে ।

অর্থাৎ ধর্ম এবং কালচারের নাম নিয়ে তারা নারীকে যুগ যুগ ধরে নীচু করে রাখছে। আর এই সার্কেল থেকে তারা বের হতে পারছে না।

অনেক মেয়ে,মেয়ে হোয়েও নারী অধিকারের বিরোধিতা করে । কারণ হাজার হাজার বছর ধরে এই নিয়মের মধ্যে থাকতে থাকতে তাদের পাখা ভেঙে গেছে। তারা সত্যি সত্যি মনে করে নারী পুরুষের নিচে। পুরুষের বুদ্ধি তাদের চেয়ে বেশি, সমাজের সব যায়গাতে পুরুষরাই বেশি উপযোগী। হাতে পায়ে  শিকল বাঁধা থাকতে থাকতে শিকল বাঁধা জীবনকেই জীবন মনে করে। ব্রেন সার্জন, অঙ্কবিদ, ডাইরেক্টর, বিজ্ঞানী এই কাজগুলো পুরুষরা করতে পারে, নারী  নয়।

কমলা ভাসিনের মতে, ভারতে  পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষরা নিজেদেরকে স্বামী, পতিদেবতা, প্রভু এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে পছন্দ করে। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বলে কন্যা দান । কমলা ভাসিনের মতে কীভাবে একটা বয়স্ক মানুষ আর একটা বয়স্ক মানুষকে দান করে। তার মতে বিয়ে কি একটা দানের ব্যাপার।

পুরুষ শাসিত ভারতে মেয়ে দের দাম এতই কম যে প্রতি বছর ৩৫ মিলিওন কন্যা শিশুর ভ্রূণ জন্মের আগেই মৃত্যুবরণ করে।

কমলা ভাসিন তার জীবন উৎসর্গ করে গেছেন নারী অধিকার রক্ষা করার জন্য। নানাভাবে তিনি বলেছেন, যেখানে মেয়েরা নিরাপদ নয়, সমানভাবে দেখা হয় না অথবা নারীকে সন্মান দেয়া হয় না, সে  দেশ বা সমাজ সভ্য নয়।

এখন আমরা দেখবো ব্রিটেন এ নারীর অবস্থান :

নারীর সম অধিকার ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিতে কখন এসেছে এবং কেমন করে এসেছে? কেমন ছিল তাদের অবস্থা?

বেশি দিন আগে নয়, তাদের অবস্থাও  ভারতীয় উপমহাদেশের মেয়েদের মতোই ছিল।

পারিবারিক আইন :

একজন নারী কীভাবে চলবে তা ঠিক হতো তার বিবাহিত হাজবেন্ড দ্বারা। নিজের কোনো ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপরে নির্ভর করত না। হাজবেন্ড ছিল সম্পত্তির মালিক এবং সংসারের সিদ্ধান্ত নেয়ার একক ক্ষমতাধারী। নিজেরা যে সম্পত্তি করবে তার উপায় ছিল না। কারণ তার কোনো ইনকাম ছিল না। স্বামী মারা গেলে সমস্ত সম্পত্তি বড়ো ছেলের হতো। ছেলে  না থাকলে মেয়ে  সন্তান তার অধিকারী হতো।

১) বিয়ের আগে মেয়ের যদি কিছু সম্পত্তি থাকতো তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া বা অন্য যে কারণেই হোক না কেন, তা বিয়ের পর  স্বামীর হতো।  মাত্র সেদিন, ১৮৭০ সালে প্রপার্টি আইন অনুযায়ী ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়।

২) বিবাহিত জীবনের বিচ্ছেদ হলে সন্তানের মালিক বাবা হতো। ১৮৩০ সালে এই আইনের পরিবর্তন হয়।  সন্তানের অধিকার বিচ্ছেদ না হলেও সন্তান বাবার বলে বিবেচিত হতো, মায়ের নয়।

৩) বিবাহ বিচ্ছেদ যে-কোনো সময় সহজভাবেই দিয়ে দিত একজন পুরুষ একজন নারীকে। পুরুষের মর্জির উপর নির্ভর করত বিবাহিত জীবনের স্থায়িত্ব।

৪) কিন্তু একটা মেয়ে সংঘাতপূর্ণ বিবাহিত জীবন থেকে বের হওয়ার অধিকার রাখত না।

বিচ্ছেদের পর একটা নারী সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ত। স্বামী বিচ্ছেদের পর কোনো সম্পত্তি স্ত্রীকে দিত না। ১৯৫৭ সালে আইন পাশ হয় এবং তা অনুযায়ী স্ত্রী ডিভোর্সের পর সম্পত্তির মালিক হবে, সন্তানের মালিকানা দাবী করতে পারবে। সন্তান পূর্ণ বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত মার কাছে থাকবে।

৫)বর্তমানে আইন করা হয়েছে,   বাড়ি করার ক্ষেত্রে নারী অর্থ দিতে না পারলেও, সংসারের ভিতরের কাজ করাকে মূল্য দিয়ে স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়ির মালিক স্ত্রী হবে এবং তারপরে সন্তান ।

6) বিবাহিত জীবনে একজন নারী পুরোপুরি স্বামীর সম্পত্তি বলে বিবেচিত হতো। স্বামী তাকে কন্ট্রোল করত। ১৯৯৩ সালে John Sturt Mill আইন পাশ করেন এবং এই কন্ট্রোলের বেড়াজাল থেকে নারী মুক্তি পায়।

পারিবারিক সহিংসতা :

পারিবারিক সহিংসতা একটা ইউনিভার্সাল সমস্যা । এটা সব দেশে সব যুগে ছিল এবং আছে। সহিংসতাময় পরিবেশে সন্তান সুন্দরভাবে, হাসিখুশিভাবে বড়ো হতে পারে না। সাইকোলজিক্যালি এফেক্টেটেড হয়। কনফিডেন্স নষ্ট হয়ে যায়। একটা মেয়ে সবসময় অশান্তিতে ভুগে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। ব্রিটেনে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার, গড়ে প্রতি সপ্তাহে একজন নারী খুন হয় তার পার্টনারের মাধ্যমে।

Rule Of Thumb:

আগে কোনো আইন ছিল না। ব্রিটেনে পারিবারিক সহিংসতার ইতিহাস থেকে জানা যায় Domestic Abuse আগে পশ্চিমা দেশের সমাজে গ্রহণযোগ্য ছিল । Rule Of Thumb অর্থাৎ বুড়ো আঙুলের সমান মোটা রড দিয়ে মারার রীতি। বলা হয়ে থাকতো,  স্বামী স্ত্রীকে মারতে পারবে কিন্তু বুড়ো আঙুলের সমান মোটা রড দিয়ে, তার চেয়ে বেশি নয় । এই অনুমতি পাওয়ার পর একজন নারী এর চেয়েও অতিরিক্ত মারার হাত থেকে রক্ষা পেলো।

১৮৯৫ সালে স্ত্রীকে মারধরের ব্যাপারটাকে রেসটিকটেড করা হলো এভাবে যে, শুধু মাত্র সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মারতে পারবে। বাড়ির মধ্যে মারধরের মধ্যে না থাকতে পেরে মেয়েরা বাইরে বের হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতো। এই আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপার থেকেই “ওমেন এইড” এবং “ওমেন হোস্টেল” এর সূচনা। স্বামীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শেল্টার হোল  এই ওমেন হোস্টেল । পরে  এখান থেকে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয় এবং বাচ্চাদের পড়াশোনা, মায়ের ট্রেনিং এবং জবের ব্যবস্থা করা হয়। যদি তারা সেই দুর্বিষহ জীবনে ফিরতে না চায় ।

একের পর এক নুতুন নুতুন আইন,যা নারীকে সুরক্ষা দিয়েছে। 

১৯৭৬ সালে “সিভিল প্রটেকসান” আইন পাশ হয় ।১৮৬১ সালে আইন পাশ হয় মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখানোর বিরুদ্ধে, ১৮৬১ সালে আইন পাশ হয় শরীরে আঘাতের বিরুদ্ধে, ১৯৬৮ সালে ব্লাকমেইল এর বিরুদ্ধে, ১৯৭১ সালে বাড়ির জিনিস ভাঙার বিরুদ্ধে, ১৯৯৭ সালে অপদস্থ করার বিরুদ্ধে, ২০০৩ সালে ধর্ষণের বিরুদ্ধে, ২০১৫ সালে নারীকে কন্ট্রোল করার বিরুদ্ধে, ২০১৪ সালে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে। এইভাবে ক্রমাগত আইন পাশের মধ্য দিয়ে নারীর অবস্থানকে শক্তিশালী করা হয়।

পারিবারিক সহিংসতাকে বর্তমানে ব্রিটেন এ  “Criminal Ofence”  মারাত্মক অপরাধী বা দাগি আসামী  হিসাবে  ধরা হয় এবং এর  আইন পাশ হয় । এই আইনে domestic violence এর আওতায়  শারীরিক নির্যাতন,  মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল, অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখা এবং controling সবকিছু পড়ে।

কোন নারী যদি নিজ পরিবারে সহিংসতার শিকার হয় আর সে যদি পুলিস কল করে তবে এই বিষয়টি রেকর্ড হয়ে থাকে । পরবর্তীতে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এই রেকর্ড বাধা সৃষ্টি করবে।

সহিংসতাপূর্ণ পরিবার এর সন্তান “শিশু নিরাপত্তা আইন” এর আওতায় পড়ে। ১৯৮৯ সালে Child Potection আইন পাশ হয়। এই আইনের আওতায় স্বামীকে বিচারের আওতায় আনা হয় বাচ্চার নিরাপত্তা দিতে না পারার জন্য।

শিক্ষাগত সম অধিকার :

ব্রিটেন এ নারীর শিক্ষার সম অধিকার পাওয়া বেশিদিন আগের নয়। পরিবারে এবং সমাজে পুরুষকেই শিক্ষার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। বাবা-মা ছেলেকে পড়ার জন্য টাকা খরচ করত, মেয়েদের জন্য নয়।মেয়েদেরকে গারহস্ত বিজ্ঞান, রান্নাবান্না, সেলাই  আর হাউস কিপিং শেখানো হতো। মেয়েদেরকে অঙ্ক কিংবা বিজ্ঞান পড়তে উৎসাহিত করা হতো না। মনে করা হতো এগুলো ছেলেদের জন্য।

নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য ১৯১৯ সালে Sex Disqualification ( Removal Act) পাশ হয়। শিক্ষার ব্যাপারে ছেলে মেয়ের মধ্যে কোনো রকম বিভেদ আইন বিরুদ্ধ ।  ক্রমাগত নানা রকম আইন পাশের মাধ্যমে বর্তমানে ছেলে-মেয়ের মধ্যে সমতা এসেছে।

১৯৩২ সালে মেয়েরা ভোটের অধিকার পায়। ১৮৬৮ সালে প্রথম নারী ডিগ্রী অর্জন করে। এলিজাবেথ গ্যারেট এন্ডারসন প্রথম মহিলা,  যিনি ডাক্তারি পাশ করেন ১৮৬৫ সালে।

এভাবে ক্রমাগতভাবে আইন পাশের মাধ্যমে এবং নারীর দুরবস্থা উপলব্দধি করে  ব্রিটেনে নারী মুক্তি পেয়েছে এবং মানুষের মর্জাদা পেয়েছে।

এই দুই দেশের মধ্যে তফাৎ হলো :

১)  ব্রিটেনে আইনের শাসন।

২)  বাধ্যতা মূলক শিক্ষা। শিক্ষা ফ্রি। সন্তানকে পাঁচ বছর বয়েসে স্কুলে না পাঠালে বাবা-মাকে আইনের আওতায় নেয়া হয়।

৩) ছোটো থেকেই একজন নারী তার অধিকার সম্বন্ধে সচেতন।

ভারতে আইনের শাসন নাই।

কমলা ভাসিন বলতেন পশ্চিমা ফেমিনিসট থিওরি দেখে আমি নারী অধিকার কর্মী হয়নি। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আর খুব কাছ থেকে মেয়েদের কষ্ট দেখেছি। এই উপ মহাদেশের মানুষকে বলছি না আমাদের কালচার নষ্ট করে, পোশাক পরিবর্তন করে,খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করে, ধর্ম পরিবর্তন করে বা বোরকা খুলে পশ্চিমাদের মতো হও।

তিনি বলতেন “ Our struggle for gender equality is not a fight between men and women. It is a fight between two ideology , two way of thinking . One is that patriarchy is better , men are  superior . The other says no, equality is better , men and women are different and equal and equality is good for all। And that men realise that unless women are free men cannot be free.”

তথ্য সূত্রঃ উইকিপেডিয়া

Anannya

A Brief History Of Gender In Equality,  University Of Exeter

কাজের অভিজ্ঞতা থেকে

ফটো ক্রেডিট ঃ উইকিপেডিয়া

৭০৭জন ২৬৮জন
0 Shares

৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য