কবিতা লেকতে পারো?// ৫

বন্যা লিপি ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ১২:৪৬:২২পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২০ মন্তব্য

অনেকদিন পরে আবার এলাম আমার পুরোনো লেখার ধারাবাহিকতা নিয়ে। মাঝখানে বয়ে গেছে কয়েকটা মাস। পুরোনো ব্লগারদের মধ্যে অনেকেই নেই আজ আর।নতুনদের কাছে এ লেখা একেবারেই নতুন। তবুও বলবো পড়তে কারো খারাপ লাগবেনা আশা করি।
******************************

একটু একটু করে পাঠ্য বইয়ের থেকে বেশি আগ্রহ জন্মাচ্ছে গল্পের বইএর প্রতি। একটা না একটা চাইই চাই। পাতলা বই হলে একসাথে ৪/৫টা বই নিয়ে ঘন্টা কয়েকের মধ্যে শেষ।নাওয়া খাওয়া চুলোয়। আম্মা প্রায়ই হুমকি ধমকি দেন। বই পুড়িয়ে ফেলবেন।ভাত খেতে দেবেন না। ভাত খাওয়া নিয়ে চিন্তা ছিলো না আমার কখনো। একটা অকেজো ধমকি আম্মার। দাদী’র বাসায় এক ছুটে চলে গিয়ে কখন খেয়ে আসবো আম্মা টেরই পাবেন না!

সময়টা বদলে যেতে শুরু। একটু বড় হয়েছি তো তখন! গান শোনা হতো খুব। আব্বার ফিলিপস্ ব্র্যান্ডের রেডিওর কল্যানে অল ইন্ডিয়া রেডিও, মাঝে মাঝে রেডিও নেপালের চ্যানেলও আসতো কিছু সময়ের জন্য। আব্বা বাসায় না থাকলে রেডিও আমার দখলে। আব্বা শুনতেন সবসময় রবীন্দ্র সংগীত, আর রুনা লায়লার যত গান,পুরোনো হিন্দী ছবির গান যখন যে চ্যানেলে শোনা যেত। আব্বার নির্ধারিত সময়ে রেডিও তাঁর কাছে। একবার কিহলো!! ঢাকায় একটা ট্রেনিং ছিলো আব্বার সাংবাদিকতার ব্যাপারে। বেশ কিছু গিফটের সাথে এক ব্যাটারির একটা ছোট্ট রেডিও উপহার হিসেবে পেলেন।
ওটা দেখে মহা খুশি আমি: বড়টা আব্বার হলে, ছোটটা আমার ভেবে।
আমার বাতিক ছিলো বই পড়তে পড়তে গান শোনা। কানের কাছে রেডিও, হাতে বই। ক্যাসেট প্লেয়ার তখনো আসেনি বাসায়।

ক্যাসেটে গান শোনা হতো আমার দাদুর বাসায় যেয়ে ৭ নম্বর চাচার ক্যাসেট প্লেয়ারে। একদিন ফুপুদের বিছানায় শুয়ে শুয়ে বই পড়ছি আর বিছানার পাশে ক্যাসেটে প্রিয় গান শুনছি। আমার রাশভারী গুরু গম্ভীর দাদা’জান কখন নিঃশব্দে এসে প্লেয়ার অফ্ করে দিলেন। আচমকা চোখ তুলে তাকাতেই দাদু বলে উঠলেন আঙুল নেড়ে নেড়ে…”এক লগে দুই কাজ হয়না, হয় বই পড়া নয় গান শোনা”। আমার ভারী রাগ হলো। দাদু এমন করে ক্যান? বই রেখে সেই চলে এলাম দাদুর বাসা থেকে।কয়েকদিনে আর যাইনি। সাত নম্বর কাকা একদিন জিগ্যেস করলেন, “তুই যাওনা ক্যান বাসায়?”
ঘটনা খুলে বলাতে বললেন, “জানোই তো তোগো দাদু একটু ওইরকম! তাতে রাগ হওয়া লাগে?

কখন হেমন্ত আসে টের পাই বাতাস বদলে গেলে। হরেক রকম প্রজাপতি উড়তে দেখলে। একটা সময়ে খুব দৌড়াতাম প্রজাপতি আর ফড়িংএর পেছনে। তখন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি কোথা হতে কোথা কোথা উড়ে বেড়ায় প্রজাপতি পাখনা!
বাড়ির আঙিনায় সামান্য কিছু গাছের ওপড়ে, মেহেদি ফুলের ওপরে ফড়িং আসে। দুই চোখ হেসে ওঠে চঞ্চল প্রজাপতি পাখনার মতো। বাসার সামনে হঠাৎ করে বেড়ে যায় কারো পায়ের জোড় জুতো ঘসটে ঘসটে অথবা বাই সাইকেলের উল্টোদিকে প্যাডেল চালনা। চুরিচুপি লক্ষ করা এসব।

আমার চাচার দল বেশ ভারী। প্রত্যেকটা চাচাই বেশ হাসি মশকরা করেন। আমার বন্ধরা কখনো বাসায় এলে আমারা বলতে গেলে একসাথেই মাঝে মাঝে আড্ডা দিতাম। আমার সব বান্ধবিদের আমার পুরো পরিবার খুব ভালো করে চিনতেন। এখনো যাদের সাথে যোগাযোগ আছে! পুরো পরিবারের সাথেই আছে।

আব্বা ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদ দাতা, জাতীয় বেতার এর সংবাদদাতা, স্কুল শিক্ষক, নানা মুখি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। মেজো চাচার ঘরে আসতো দৈনিক সংবাদ পত্রিকা। মাঝে মাঝেই চলে আসতেন আমার ৬ নম্বর চাচা। মেজো চাচার ঘরে। আম্মা এবং মেজো চাচির সাথে হাসি মজা করেন। কখনো চোখ ডুবিয়ে রাখেন খবরের কাগজের মধ্যে। এই চাচাটা তখন নতুন নতুন রেস্তোরা ব্যাবসা সহ ঠিকাদারি ব্যাবসায় জোড়ে সোড়ে নেমেছেন। চাচ্চুর অনেক বন্ধুবান্ধবদের সবাইকে মোটামুটি চিনি, জানি। সব চাচাদের অনেক বন্ধবান্ধবদেরই মোটামুটি চিনতাম জানতাম। যারা নিয়মিত বাসায় আসা যাওয়া করতেন। মেজো চাচার ড্রেসিং টেবিলটা যেন আমার ব্যাবহার বেশি হতো।
চুল বাঁধা,সাজুগুজু করা সব এখানেই আমার। আমাদের যৌথ পরিবার ছিলোনা। কিন্তু মনেও হতোনা আমরা যৌথ নই।আলাদা আলাদা ঘর, তবু এক গন্ডির মধ্যে।
বৃষ্টি থেমে গিয়ে শরত এসেও চলে যাই যাই করছে এখন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে একটু তারাতারিই। আমার চাচ্চুদের বেশ মজার মজার কাহিনী আছে উল্লেখ করতে পারলে ভালো হতো লেখা বেশ দীর্ঘ হয়ে যাবে বলে এ যাত্রা চেপে গেলাম। তদুপরি চাচ্চুর সাথে যোগাযোগটাও হচ্ছেনা ইদানীং, নইলে অনুমতি নেয়া যেত।

মেজো চাচার ড্রেসিং আয়নার সামনে চুলে চিরুনি চালাচ্ছি, ছয় নম্বর চাচ্চু(ইচ্ছে করেই এখানে নাম উল্লেখ করছিনা) খাটের কোনায় দাঁড়িয়ে খবরের কাগজে মুখ গুঁজে আছেন। আয়নায় আমি আমাকে দেখছি আর স্কুলের দিনের কার্যক্রম মনে করছি।……”লিপি, কবিতা লেকতে পারো? “হাত থেমে গেলো আমার। মাথা ঘুরিয়ে এদিক সেদিক তাকালাম, নিজের নাম শোনার পরেও…..আমাকেই তো বলছে নাকি? লিপি তো আর কারো নাম না! আমিই তো! আমাকে…. কাকা বলছে এ কথা? বিষ্ময়ে চোখ স্থির! মুখে কথা নেই। কাকু’র ভ্রুক্ষেপ নেই। বলে চলছেন…. “লিখিসতো! আমরা বন্ধুরা মিলে একটা ম্যাগাজিন মতো বের করবো! লেখা দিস।

কাকু এসব কি বলছে? আমি আর কবিতা? কেমন করে কবিতা লেখে? কবিতা কি? কাকু বুঝলো/ভাবলো কি করে আমি কবিতা লিখতে পারবো?……..

চলবে–

কবিতা লেকতে পারো?// ১ 

কবিতা লেকতে পারো?(২) 

কবিতা লেকতে পারো? (৩) 

কবিতা লেকতে পারো? //(৪)

২৯৭জন ১৭৫জন
7 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য