কবিতা লেকতে পারো? (৩)

বন্যা লিপি ৩ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার, ০৮:২৬:২৬অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২০ মন্তব্য

প্রায় রাতেই ঘুমে ঢুলু ঢুলু চোখে মেয়েকে ক্লাশের বইয়ের সামনে বসে থাকতে দেখে বাবা ছুটি দিয়ে দেন, ঃযা, আজ অনেক রাত হয়ে গেছে, আগামীকাল দেখবো। ক্লাশে বাসন্তী বেশ মোটা রকম একটা বই নিয়ে এসেছে। শরৎ রচনাবলী’র মোটা বইগুলোর মতো। সেরকমই কোনো বই হবে হয়তো!  জানতে চাইতেই, নিষেধ করলো ধরতে। কৌতুহল বেড়ে গেলো।প্রায়শই ভাগাভাগি করে গল্পের বই আদানপ্রদান হয়। আজ এ বই কেন ধরতে /দেখতে বারন করছে বাসন্তী? টিফিন পিরিয়ডে অনেকেই কাছেই বাসা বলে, বাসায় গিয়ে খেয়ে আসে।ফেরার সময় বুকের কাছে চেপে ধরে নিয়ে এসেছে একটা মোটা মতো বই।পুতুল এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো ঃ”দেখাবিনা ক্যান? বই কার? কে দিয়েছে? পুতুলটা এমনিতেই একটু ডেয়ারিং রকম সাহসী। ঝাড়ি খেয়ে বাসন্তী বললো, বাসন্তীঃ এটা মাধব’দা দিয়েছে অপু’দিকে পৌঁছে দিতে। বার বার বারন করে দিয়েছে, যেন অন্যকারো চোখে না পরে!!! বললো কেন কথাটা?  “যেন অন্য কারো চোখে না পরে “??? পুতুল কি যে সে পাত্রী?  এক কথায় কথা শুনবে?  নানা রকম কৌশলে নিয়ে নিলো বইটা। পঞ্চ বান্ধবী প্রথম বেঞ্চের প্রথম সারির শুরু থেকেই প্রতিদিন আসন গ্রহন। গিতা,মালা,বাসন্তী,পুতুল এবং স্বয়ং নিজ।টিফিন বিরতির পরের ক্লাশ ইংরেজী রেপিড রিডার ক্লাশ নেন, মুকুন্দ বাবু স্যার। আপাত ঠান্ডা, নম্র,সদা হাস্য প্রচন্ড আমুদে এবং প্রয়োজনে প্রচন্ড বদরাগী  একজন শিক্ষক।সহজে রাগেননা, যখন রাগেন পুরো স্কুল কম্পাউন্ড জেনে যায়,  আজ মুকুন্দ স্যার ক্ষেপেছেন। রিতী অনুযায়ী ক্লাশে স্যার প্রবেশ মাত্রই সকলে দাঁড়িয়ে সন্মান জানানো প্রতিটি ক্লাশেই নিয়ম।  অমুক পৃষ্ঠার অমুক প্যারা বের করো! শুরু হলো লাইন বাই লাইন রিডিং পড়ে পড়ে বুঝিয়ে দেয়া। ধুকপুকানি নিয়ে সবার প্রতিক্ষা, কোনো এক লাইনে থেমো গিয়েই ছাত্রী’দের ধরবেন ঃ”বল, এই লাইনটা কি হবে? আজ স্যার ঠোটস্থ পড়েই যাচ্ছেন!!  একটু পর পর চোখ তুলে দেখছেন কোন ছাত্রী’র মনোযোগ আছে কি নেই।সামনে বই রেখে লাইন টু লাইন বোঝার জন্য, সবার চোখ পাতলা চটি’র মতো রেপিড রিডার বইয়ের উপর, কিছু পর পর স্যারের মুখের দিকে তাকানো, যেটুকু যে না বোঝে মাঝে হাত তুলে অথবা দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করা, “স্যার, এ লাইনটা বুঝিনাই,অথবা স্যার, এই শব্দটার মানে কি? গালিভার সাহেব এখনো টের পাননি, লিলিপুটের দল আষ্টেপৃষ্ঠে সুতো’র রশিতে বেঁধে ফেলেছেন ঘুমন্ত চুল,হাত,পা  পুরো শরীর। পুতুলও টের পায়নি। স্যার পড়াবার ফাঁকে ফাঁকে দেখে নিয়েছেন, পুতুলের মনোযোগ একদৃষ্টে নিবদ্ধ মোটাবইয়ের উপরে।আচমকা চেয়ার ছেড়ে উঠে কেড়ে নিলেন বইখানি। স্যারকে উঠতে দেখে সব ছাত্রী’রা উঠে দাঁড়িয়ে গ্যাছে।বইটা উল্টে পাল্টে দেখছেন আর উঁচু গলায় তিরস্কার করে যাচ্ছেন!! মনে মনে প্রমাদ গোণা শুরু।আল্লাহ্ বাঁচিয়েছেন।ক্লাশ সেভেন পড়ুয়া ছাত্রী যখন অতিরিক্ত বড়দের বই পড়া’র প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায় ক্লাশে এসে!!  তার ফলাফল কমের উপর দিয়েই গেছে বলে মনে হয়েছে। বইটা পড়তে বা দেখতে চেয়ে, না পারার আফসোস মুহুর্তে শোকরানায় পরিনত হলো। পাশের ক্লাশ থেকে মান্নান স্যার চলে এলেন, অন্য ক্লাশের পড়ানো বন্ধ হয়ে গ্যাছে মুকুন্দ স্যারের চিৎকারে। নিজ ক্লাশের সব মেয়েদের মাথা লজ্জায় হেট হয়ে ঝুলে পরেছে বুকের কাছে।একেকটা পাতা ওল্টাচ্ছেন আর বিকৃত ভঙ্গিতে মুকুন্দ স্যার মান্নান স্যার তিরস্কার করে যাচ্ছেন। বাসন্তী স্যারের পা ধরে চাইছে যেন টিচার্স রুম পর্যন্ত বইটা না যায়। পুতুলের মধ্যে কোনো অনুশোচনার বালাই নেই।ঠাঁয় মাথা সোজা রেখে দাঁড়িয়ে আছে। কল্পনায় ভাবতেই শিউরে শিউরে উঠা। নিজেকে দাঁড় করাতে পারছিনা কল্পনাতে ও। টিচার্স রুমে বাবা আছেন। বইটা যদি আমার কাছ হতে উদ্ধার হতো?  এখনো মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে ভাবতে গেলে। পরের বছর, বার্ষিক  প্রতিযোগিতায়  বাবার শিখিয়ে দেয়া আবৃত্তি উপস্থাপনে সম্ভাব্য তিন প্রতিযোগী’কে পেছনে রেখে আশ্চর্যজনক (নিজের কাছে) ভাবে প্রথম হয়ে গেলাম।

চলবে………

কবিতা লেকতে পারো?// ১ 

কবিতা লেকতে পারো?(২)

 

৪৯৭জন ৩১৯জন
6 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য