কবিতা লেকতে পারো//৬

বন্যা লিপি ২৩ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার, ১১:৫০:২২অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৪ মন্তব্য

পড়াশোনায় মোটেও ভালোনা টাইপ ছাত্রী আমি। পরিবারে নাম আছে আমার আলসেমী নিয়ে। কিছুটা নিয়ম মাফিক চঞ্চলতাও আছে। আছে অনেকের অনেক রকম অভিযোগ। সেই ছোটবেলাটা কেটে গেছে বেশ কিছুদিন আগে। স্কুলে আবৃত্তির পরে আর একবার আব্বার পরিচালনায় এক বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পর্দার পেছনে সেই একই কবিতার মায়ের অংশটুকু আওড়েছিলাম শহরের বিশিষ্ট আবৃত্তিকার সুভাষ বোস কাকুর সাথে,ব্যাস্ ওই পর্যন্তই শেষ তখন পর্যন্ত।

কাকুর বলাতে হাত চুলেই স্থির হয়ে রইলো কিছুক্ষন। মুখে কিছুই বললাম না। শুরু হলো খাতা কলমের যুদ্ধ। চিঠি লেখার খুব চর্চা ছিলো আমার। নানা,খালা, চাচাদের কাছে আমার চিঠি লেখা হতো নিয়মিত।
আগেই উল্লেখ করেছি, ছোটকা খাম পাঠাতেন নাম ঠিকানা লিখে। ছোটকা(শামসুল আলম) সিলেট ক্যাডেটে চাকরি করতেন। পরিবার থেকে অনেক দূরে। ছোটকা চাইতেন সবসময় যেন তাঁর সাথে যোগাযোগ রাখা হয় চিঠির মাধ্যমে। রাখতামও।
তো যাই হোক….. কয়েকদিনের চেষ্টায় কিছু একটা দাঁড় করিয়ে ফেলে ভয়,সংকোচ,লজ্জা নিয়ে আব্বার সামনে হাজির হলাম। আব্বা নিবিষ্ট তাঁঁর প্রফেসনের লেখা নিয়ে। কথা খুব কম বলতেন আব্বা। কপালে ভাঁজ ফেলে প্রশ্ন করতেন। কেউ কোনো কিছু জানতে চাইলে পস্ নিতেন দীর্ঘসময়। তারপর গুছিয়ে নিয়ে মুখ খুলতেন। পছন্দ হলে হলো, না হলে নাই। আব্বাকে আমার ভালো রপ্ত করা হয়ে গেছে ততোদিনে। এরও অনেক আগেই আব্বা বুঝিয়ে দিয়েছেন কখনো মিথ্যে বলা যাবেনা, যত যাই হোক সত্য বলবি, মাফ করে দেবো, মিথ্যে বলবি তো…… বাকিটুকু আর বলার বাকি থাকে কিছু?

মাঝে মাঝেই স্কুলের বাইরে চলে যাই, বান্ধবিদের সাথে কোন বাসার সামনে চালতা শুখাতে দিয়েছে? কোন বাসায় গেলে আচার পাওয়া যাবে? সব বান্ধবিদের বাসায় বাসায় ঢুঁ মারা! এসব যদি এসে বলি, “আব্বা আজ বিষ্ণুদের বাসায় গেয়ছিলাম, আজ লুনাদের বাসায় গিয়েছিলাম,আজ বিনা’দের বাসায় গিয়েছিলাম….. ঠ্যাঁ ভেঙে হাতে ধরিয়ে দেবে না? দেবারই তো কথা নাকি? তাহলে সব সত্য কথা বলি কি করে? আর বাইরে আর করবোটাই বা কি?

আমার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই আব্বা কলম থামিয়ে চশমার ওপর থেকে আমার দিকে কপালের মাঝ বরাবর যথাসম্ভব চামরা টেনে ভাঁজ ফেলে, কপাল কুঁচকে তাকালেন…..! মুখে কিছুই না বলে লেখার খাতাটা এগিয়ে দিলাম। লক্ষ করলাম, পারলে যেন আব্বা গালের চামরাও কপালে উঠিয়ে আরো কয়েকটা ভাঁজ সৃষ্টি করেন।আবারো আমার চোখের দিকে তাকালেন –অর্থাৎ এবারের প্রশ্নঃ কি এইটা? “লেখাটা একটু দেইখা দেন”শুধু এটুকুই বললাম। যথারিতী কুঁচকানো চোখ আর কপালের অবস্থা বজায় রেখেই খাতাটা টেনে নিলেন, নিজের লেখা রেখে। স্বস্তি পেলাম মনে মনে। “পরে দেখবো, এখন রেখে যা,এসব দেখার সময় না এখন…… ইত্যাদি ইত্যাদি কোনো বাক্য উচ্চারন করেননি।
খুবই আশ্চর্যের সাথে প্রশ্ন করে বসলন -“তুই লেকছো? লজ্জাবনত হলাম! কোনো জবাব দেইনি। আব্বাকে তখনই সব বলে ফেললাম কাকুর কথা। আব্বা কিছুই বললেন না। লক্ষ করলাম ধীরে ধীরে কপালের চামরা স্বাভাবিক হয়ে গেলো আব্বার। কয়েকটা লাইন উপরে, নীচে, বাক্য কয়েকটা এদিক সেদিক করে দিয়ে খাতা ফেরত দিয়ে বললেন,”ঠিক করে লেখ”।

নিজের পড়ার টেবিলে ফিরে গেলাম। কিছুক্ষন আত্মতৃপ্তি উপভোগ করলাম একা একা। যাক…. আব্বা বলেননি তো! ” কি লিখছো এগুলা? কিচ্ছু হয়নাই! তোরে দিয়া *কবিতা*? এসব ছাইড়া পড়াশুনা কর!!

চলবে…..

কবিতা লেকতে পারো?// ১

কবিতা লেকতে পারো?(২) 

কবিতা লেকতে পারো? (৩)

কবিতা লেকতে পারো? //(৪)

কবিতা লেকতে পারো?// ৫

৪১৭জন ২৪৭জন
11 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য