সময়ের স্রোতে ভেসে ভেসে যাই প্রতিনিয়ত, তাই আসা হয় না নিয়মিত। তবে অভ্যেসের লেখা বন্ধ হয়না কখনও, সে লিখা হয়ে যায় কখনও কবিতা; কখনও কিছু অপাঙ্কতেও কথা মালা। মোবাইলের মেসেজে চলতি পথে মনের মাঝে আসা কিছু কথা লিখে লিখে একেকটি লিখা হয়ে যায় যখন উপলব্দির খেরোখাতাঃ

১।

নিয়তি- আমি কি স্বপ্ন এঁকেছিলাম তাদের দৃষ্টিপথে-
যারা ছিল কিশোর আমার রঙিন দিন,
রকমারি অভিযানের বলিষ্ঠ ব্যর্থ নায়ক সামাজিক,
আজ আমিও সে অংকন, দৃষ্টিতে অপর কিশোর চোখ।
কিন্তু, আমি তো স্বপ্ন নই সে সব উজ্জলতা নিয়ে-
তাছাড়া, আমার আছে অসামাজিক সুখ্যাতি, নিয়তি !
মিনতি করি গড়ো অস্পৃশ্য ছায়া আমি।
বিভ্রান্ত করতে চাইনা পৃথিবীর কিশোর সকালে যিনি হাসি,
নিয়তি- এই তুই আমাকে নিয়ে চল-
আমার চোখের ব্যর্থ নায়কের স্বপ্নে।
পূর্ণ করে জাগতে চাই সে রঙিন দিনে।

২।

বানানসূত্র হারিয়ে ফেলেছি অমিমাংসিত সমুদ্র জয়-
আমি আসছি অবিসংবাদিত দুর্গে দুর্বাক দুর্জ্জয়,
হে মহাবিশ্বেরগঠন তুমি, যে মানচিত্রাবলি দিলি-
তারই প্রান্ত ধরে সামরিকতন্ত্র গড়ে উঠি আমি।
আমি সবুজ যুদ্ধং যোদ্ধাদল তেপান্তরে কাটাতার কাপ্তানি,
নিয়ম মানিনা, সুসংগঠিত শাষণ আঁকি।
সহস্র বছর তোর কোলে ঘুমিয়ে ছিল যে মাটি-
ভেঙে গুড়িয়ে বৃষ্টি ছড়িয়ে জন্ম নিই ফসল সোনালী,
তারই পাশে রোজ ছন্দ দোলায় তোর ঢেউ রূপালী।
হ্যা, ওরা-ই তো দুমড় দুমড় বাজনা বাজিয়ে ডাকছে,
আমি সৈন্যযুক্ত মুকুটধারী কেশব, হুশিয়ার হুংকারে
শাণিত হই অজস্র লাল রং’র কালো বন্ধনে।

সমুদ্র জয়, বানানসহ বানানসূত্র হারাই রাশি রাশি বালু গর্ভে।
আমি আসছি, আমি আসছি’ হে মহাবিশ্ব- চলমান ছবি হতে।

৩।

রোদের কথা লিখছি,

অথচ আজ সকালে যে রোদের সাথে দেখা- দৃষ্টান্তমূলক উজ্জলতা নিয়ে শতাব্দী পুরোনো দেয়ালগুলো তে এসে আঁছড়ে পড়ল আঁচল মেলে পেখম খুলে। ভাবনারা চিন্তার বাড়ি গড়াগড়ি খাচ্ছে অবোধ শিশুর ন্যায় মায়ের কোলে। খিলখিল করে লুটিয়ে পড়ছে এ বাগান সে বাগান করে আরো ফসলের দেশ পর্যন্ত, সবুজ বাতাস তার সাথে যোগ হয়ে আমেজ দেয় বাড়িয়ে। রোদগুলো খেলছে আর আমাকে আন্দোলিত করছে, প্রতিবার যেন আমার পুরোনো খেলার সাথী, অনেক চেনা, হরেক ভাল লাগা।

৩।

চন্দ্র কথা মন্দের আলো তথাকথিত ভালবাসা-
সূর্য সাহা দিনের কালো অবধারিত পরীনিতা
নক্ষত্র, নভোমণ্ডল, ছায়াপথ বিপথে ঘেরা
দুঃসাহস অভিযানে উল্কা বৃষ্টি সৃষ্টির কথা।
সত্যরূপ পৃথিবীর বুকে কুরআন’র বলা-
সহজ সাধারণ অবুঝের বুঝ জ্ঞানীর ভাষা।

৪।

পরিবর্তিত রূপের সৌন্দর্য ঘিরে আর্তনাদ,
বেদনার হাহাকার, উচ্ছাসে বিষ্ময় প্রকাশ।
তবু রূপান্তর পরিবর্তন পরিবর্ধনে চলমান-
একক সৃষ্টির প্রয়াসে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে।
সত্য সুন্দর, সত্য দৃঢ়, সত্য রূপান্তরিত –
বন্ধুর পথে, বজ্র বিদ্যুতে কঠিন পাথর।

৫।

এই….চা- সিগারেট। চা-আ… রাত দুটো বেজে তেইশ মিনিট- আমার প্রথমে বিভ্রম মনে হলো। শহর ঘুমিয়ে গেছে, অথচ শহরের শপিংমলের পাশ দিয়ে লোকটি উচ্চ আওয়াজে বলে যাচ্ছে- এই…চা- সিগারেট। চা-আ…। অসুস্থও হতে পারে। আবার, এটাও হতে পারে যে- যা দেখলাম, শুনলাম সবই স্বাভাবিক বিষয়। দিনে শহরে এতটাই শব্দ যে, পাশের লোকের চিৎকারও দূরের আওয়াজ মনে হয়। উৎসুখ দৃষ্টিতে কিছুদূর দেখি- কোন লোকজনই এই রাতে সাড়া দিচ্ছে না। তাতে লোকটির ডাকে কোন প্রভাব নেই, হাঁটার ভঙ্গিতে যা পষ্ট। রাতটা অল্প স্থির মনে হয়। চারিদিকে ধূলো গুলো কেমন চুপচাপ শুয়ে আছে – আতংক নিয়ে। ল্যাম্পপোস্টেরআলো রাস্তার কালো পিচে এসে বসতে চাইছেনা। বাতাসের বয়ে চলাতে কপট সাবধানতা। যদি কেউ জেগে উঠে- ঠান্ডা কাঁপুনি যে বাতাসের গায়ে লেগে রয়েছে। ল্যাম্পপোস্টের প্রতিবেশী গাছের পাতাগুলো নিরবে ঝড়ে পড়ে শব্দহীন। রাত আর শহর পাশাপাশি। রাস্তার মোড়ে জড়ো হয়ে থাকা মানুষরা খুব আরাম করে ঘুমুচ্ছে। এদেরকে পাশ কাটিয়ে যেতে হয় ঝিলের রাস্তায়। আকাশ দেখা যায়, তারা দেখা যায়। রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে।। নতুন ঘাস বুনে দেয়া হয়েছে নতুন রাস্তার দুপাশে। আরো আছে মেহগনি গাছের চারা। শহরের পথে আমার কোন বন্ধু নেই- তবে একজন ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকতে চায় খুব করে। প্রথমে সম্মতি না দিলেও পরে সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে পারিনি। কবিতা। আমি ও আমার কবিতা গুলো। তারাও মুক্ত হাওয়ায় ঘুরে বেড়াতে চায়। আজ যখন আকাশে বড় চাঁদ আর অনেক তারা ঝিকমিক করছে তখন কবিতাগুলো এলো আমার সাথী রূপে, আমরা এখন যাচ্ছি পিছনের এক জোছনা রাতে, যেখানে এমনই চাঁদ অন্য কোন শহরে।

৬।

তোমায় দেখে কাঠবিড়ালি
লেজ উচিয়ে আদর চায়…
come on baby light my fire

৭।

আমার কোন রাগ নেই, কষ্ট নেই, অভিমান নেই, ক্ষোভ নেই, হিংসা নেই, লোভ নেই। আমার অনেক পাপ আছে, আমি পাপী, আমার শাস্তি আছে- এতে মিথ্যা নেই। আমার কোন অজুহাতও নেই যে আমি বাহানা বানাবো। আমার কতগুলো কথা আছে, ঘুমিয়ে রয়। একটুও বিরক্ত করছিনা তাদের, ঠিক সময়ে জেগে উঠবে তাই। আমার ধৈর্য আছে, আমি অপেক্ষায় অস্থির হয়ে পড়িনা। নরম, ঠান্ডা, তুলতুলে ভাব যেন। খুব দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে। প্রতিটি দিন পার হয় ব্যাপক উচ্ছাস ও মৃত্যুর প্রহর দেখার নেশায়। হ্যা, মৃত্যুই মুক্তি। সত্যই মুক্তি। অথচ ভাবনা ইতিহাসের পাতায় আমাকে কেমন দেখাচ্ছ। দুর্দান্ত হাসি-মুখ নিথর যেন নয়। যেখানে মৃত্যু আসন্ন। ভাল বোধ করছি অতঃপর। আমি মৃত্যুই ভালবাসি।

৮।

ভালবাসার সমাপ্ত দিনের একটি ভাষা-
কারো চোখে নেই জল, আঁখি টলটলা।
শিরশির কাঁপনে কম্পন বুকের গহীনে,
দুরুদুরু দুরুত্তর ভাবনা অন্তরায় অন্তরে।
আমি ও আমরা নিশ্চিত প্রেমেও ডুবে-
সমস্ত সকল মিলন ও আহ্’র পরে,
ইতি তুমি আমার ভালবাসা, চিঠি নিয়ে;
দেখা হয় এক রোদের কান্নার ভীড়ে-
বৃষ্টি- মনে পড়ে তোমার সন্ধ্যা নদী’র তীরে,
একটি আঁকাশ সমস্ত মেঘ বয়ে গড়িয়ে আসে।
সমাপ্ত কতটা নির্বাচিত উসৃঙ্খল মধুর হতে পারে!
আমরা ছিলাম দৃষ্টান্ত দিনের গন্তব্য শেষে,
ভালবাসার পুরো কাম নিহিত ছিল যেখানে।

চলো আজ শূণ্যে যাই-
আঁধারে ভালবাসার জন্ম হয়।

৯।

যে ভালবাসায় খাঁদ নেই, মমতায় ভরা,
আর আছে কিছু মুমূর্ষু বেদনা-
সুখ পাখি বাসা বাঁধে সে ডানায়।
রূপের ছটায় তাদের সাহসী মুখ,
বিনয়ী বিচারক চিরল হাসিতে।
আমি তাদেরই ছায়াতলে উঠি বেড়ে-
সম্পদে পূর্ণ হয়ে যাই, আয় আরো;
একবার ভালবাসি- তোমাদের সেই সব,
স্বপ্নের কল্পনা চিন্তা ভাবনার আঁড়ালে।
আমরা ছিলাম নিষ্পাপ পথচারী পথ,
অনুসরণ করার বাসনা নয়, আমরাই তো।
আবার, আমি তোমাদেরই অংশ, কথা,
গল্প ও একদিন নিখাদ সমাপ্ত।

১০।

সবুজ, তাছাড়া নয় তো কি-
এমন-ই বিকেলে কাঁধে হাত রেখে বসতাম রূপালী।
নানা গুঞ্জন ও পরোপকার সবে ডানা মেলে দাঁড়াও,
কতটা বৃহৎ না হলে চিন্তা ছিনিয়ে নিয়ে যাও,
অধিকাংশ ভালবাসার মৃত্যু নিশ্চিত করে ছড়িয়ে দাও-
সবুজ, তাছাড়া নয় তো কি ।
অনেক দিনের পুরোনো রূপালী-
আর আমাদের ভাবনা হাসি ছিল দুর্দান্ত প্রাণোচ্ছল,
প্রতিষ্ঠিত গঠন আকৃতি এবং কল্লোল।
সে সব দিন উড়ে বেড়ায়,
আজও পৃথিবীর মহাশূণ্যে দেখা দেয়।
স্বাধীনতা অফুরান কাহিনী উপন্যাসের মতো-
সবুজ, তাছাড়া নয় তো কি ।
আবার, কয়েক পরিচ্ছন্ন সে রূপালী।
যেমন করে করে দিন চলে এসেছে মোহরাঙ্কিত-
উন্মোচিত হয়- এই বিকেলে,
সবুজ, তাছাড়া নয় তো কি।

১১।

কতগুলো ভাষা হৃদয়ে বিঁধে তাদের,
বাক্য নয় যেন খোলা তলোয়ার।
রক্তাক্ত বিদীর্ণ চূর্ণ বিচূর্ণ অহংকার,
আর দিন শেষে রাত ভালবাসার।

১২।

পথিক-
জানালায়, চিলে কোঠার বারান্দায় অপেক্ষা এক।
রাস্তার ঘাস, চা’র দোকান, পিচ ঢালায় হাসিমুখ
বিভিন্ন বিকেলের হিংস্র আনন্দে তাই বিষাদ ছিনতাই।
সময়ের দীর্ঘ ঘুমে আজ আমি সাবলীল,
পথিক আমি, শুধুই পথিক।।
মেঘ আসছে শহরে,
যে মেঘ কথা হয়ে খিলখিল হাসে।
পূর্ণ নয় বোধে, তবু অভয়; ভয় মানুষের চোখে
ধূলোমাখা বিশ্বাসে আজ চাঁদের অংশ নিভে
উচ্ছাস কিশোর জোছনাতে।
রাত কালো তাই অন্ধ বিবেকের মস্তিষ্কে,
আমি আসি আমি থেকে গান নিয়ে
তারা’দের অনুভূতির কথা বয়ে,
যে আমি আলোহীন নিঃশ্বাস, ছুটে চলা দীর্ঘশ্বাস,
আর, জেগে থাকা পথিক। পথিক।
ঝলমলে সকালের পথে একটি পথিক।

১৩।

অভিনব অভিনন্দন আজ বিকেলে, এই বিকেলে –
শহুরে মেঘ, সাদা মেঘ, কালো মেঘ- এরপর নীল আকাশ
এবং চাঁদ উঠবে বৃত্ত, জ্বলজ্বল
যদি বলি কুয়াশারা চলে এসেছে
আর বিভিন্ন আয়োজনে ওম-
রাত, সে তার গল্প নিয়ে এগিয়ে রয়।
ঘাসের ডগার শিশির
ধানের শিষ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে
কালো পানির পুকুরে
শোল কই মাগুর শিংগির উৎসবে,
হিম শীতল দেশের গল্পে
তাইতো অভিনব অভিনন্দন ছড়ায় এই বিকেলে।

১৫।

ঘন সবুজ মাঠ- চাঁদের আলো পুরো মাঠ ছাড়িয়েও গ্রামের ঘরে প্রবেশ করে খোলা জানালার পর্দা সরিয়ে। শিশু পুত্র ও মা। একটি সন্তান মা ডাক শিখছে। খুব উচ্ছাস নিয়ে এই রাতের জোছনাগুলো যে ভালবাসায় মিশে যাচ্ছে – স্বাক্ষী হয়ে। ঘরের সাথে লাগোয়া কবুতরের খোয়ার থেকে ভেসে আসে ছন্দময় ডাক। হোক রাত- তাদের ঘরেও ছোট পেরেকের ছিদ্র দিয়ে যে চাঁদের জোছনা তীর্যক রেখায়। রহস্যময় ঠান্ডা স্নিগ্ধ আলোর রূপে কবুতরের নতুন বাচ্চাগুলো কেমন বিমূহিত। কুয়ো তলায় চালতা গাছ- বাঁশঝাড় – ঝিঁঝিঁ’র আনন্দ উৎসব জোনাকিদের সাথে। রাত এখনো তরুণ। আর, আমাকে দেখা যাচ্ছে মাটির রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আমার ছায়া সবুজ ঘাসে কালো লেপে দেয়। আমার মনে পড়ে যায়- ভোরের আগে পৌঁছতে হবে গন্তব্যে। শরীরে চনমনে এক তাড়ার তাড়ণা। সাথে রাতটাও দারুণ। পেছন ফিরি কয়েকবার। সময় ও ছবি গুলো মনে রাখা দরকার। ছায়ার সাথে দূরত্বও লম্বা হতে থাকে এক সময়।

শেষঃ আমার ভীতরে কোন আক্ষরিক শব্দ ভান্ডার নেই, আছে কেবল কিছু বিচ্ছুত অনাকাঙ্খিত শব্দজট, তাই দিয়েই জটপাকাই, সাজাই কিছু শব্দগুচ্ছে ধরা দেয়, অযাচিত উপলব্দি।

৬০২জন ৬০২জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ