সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

কবিতায় বসত

সুপর্ণা ফাল্গুনী ২ আগস্ট ২০২১, সোমবার, ১০:৪০:০৬অপরাহ্ন কবিতা ২৭ মন্তব্য

 

তুমি আছো গ্রীষ্মের তীব্রতায়, আছো পৌষের শৈত্যপ্রবাহে।
তুমি আছো হেলেনের ট্রয় নগরীর বুকে-
আছো ঐতিহাসিক মহেঞ্জোদারোর অতল মানচিত্রে;
তুমি আছো ভিসুভিয়াসের নিবিড় , শান্ত বলয়ে।
তোমার বুকের অজস্র শব্দের ঝংঙ্কার-
অন্তরিন্দ্রিয়ে বাঁশরী বাজে রাখালের অতৃপ্ত অধর ছুঁয়ে;
তুমি আমার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের বালুকাবেলা;
তোমায় ছুঁয়ে হাজারো প্রেমিক-যুগল হংসমিথুন সেজে –
কৃষ্ণ কালো মেঘের সরোবরে জলকেলি খেলে।
তুমি আছো লোনা জলে ভেজা কপোলের খাদে,
জোনাকির জ্বলে ওঠা মায়াবী আলোকসজ্জায়।

তুমি আছো পুরাণের উপাখ্যান জুড়ে-
আছো শানবাঁধানো ঘাটের বিরহী শালিকের বেশে;
তোমায় নিয়ে দ্বিগবিদিক- পীচঢালা পথের পাগল।
তোমার বুকের বহ্নিশিখায় জ্বলছে অবিরত-
মুক্তির শপথে উদ্ভাসিত লক্ষ সজীব প্রাণ।
তুমি আছো স্বাধীনতার বিজয়-অশ্রুগাঁথায়;
তুমি আছো কোকিলের কুহু কুহু তানে-
আছো তিন-প্রহরের লজ্জাহীন শাপলা-শালুকের আমন্ত্রণে।
তোমার আঁচলে নীলপদ্ম ফোঁটে নব-আলোড়নে;
তুমি পরিযায়ী ডানায় ক্ষুধার্তের আকুলতা;
তোমার জমিনে নতুনের কেতন ওড়ে নবান্নের উৎসবে।

তুমি আছো রজঃস্বলা পূর্ণিমার উলঙ্গ চাঁদের আবক্ষ জুড়ে;
আছো অমাবস্যার ঘুটঘুটে উড়ানিতে।
তোমার জরায়ুতে ঘুমিয়ে আছে অনাগতের আগমনী বার্তা;
তুমি আছো রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলায়, আছো চন্ডীদাস-রজকিনীর অপেক্ষার প্রহর জুড়ে।
একাকীত্বের মূর্ছনায় শব্দের মাতন ছড়িয়ে দাও বেলাশেষের গোধূলি-আবিরে।
সন্ধ্যার শাঁখ-উলুধ্বনিতে মিশে আছো প্রদীপের আলোয়;
দিগন্ত জোড়া ঢেউ খেলানো সবুজের পাড় আর হলুদাভ জমিন ঘিরে রয়েছো অনাদিকাল।
ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়ার স্বরলিপিতে তোমার অবগাহন অষ্টপ্রহর;
তুমি আছো উত্তপ্ত মরুর বুকে, আছো বরফে আচ্ছাদিত পেঙ্গুইনের রাজকীয় চলনে।

সুউচ্চ পিরামিডের নৈস্বর্গিক দৃশ্যে তোমার পদচারণা অবিরত।
তুমি আছো নায়াগ্রার জলপ্রপাতের আত্মহননে; তুমি আছো মিশে আমাজনের অক্সিজেন ভান্ডারে।
ইংলিশ চ্যানেলের অদম্য সাঁতারুর বুকে তুমি সাহসের বহ্নিশিখা;
তুমি দশ মাস, দশ দিন মাতৃ-জঠরে লালিত স্বপ্নের বুনিয়াদ।
কবিতা তুমি আমার বসন্তের ফল্গুধারা,
শ্রাবণের অঝোর বারিধারা।
কবিতা তোমায় নিয়ে সময়ের পেন্ডুলাম বয়ে চলে সুপ্রাচীন থেকে অসীমে।

ছবি-গুগল

২৬৭জন ৮৪জন
26 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য