-কি হলো, ঘুম আসছে না?

আকস্মিক অনাকাঙ্ক্ষিত চিরচেনা প্রিয় কন্ঠস্বর কর্ণ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে যেতে চমকে উঠলাম আমি। বললাম-

তুমি! এভাবে কেউ হুটহাট কথা বলে?

-ভয় পেয়েছো?

তা পেয়েছি বৈকি। জানোই তো দুর্বল হার্ট, একটুতেই হার্টবিট বেড়ে যায়‌।

-হুম। তা কী অতো ভাবছিলে? আমি এলাম, পাশে দাঁড়ালাম আর তুমি টেরই পেলে না। কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন ম্যাডাম?

ভাবনার কি আর অন্ত আছে! কতশত ভাবনা মনে আঁকিবুঁকি করে। তা তুমি এসময়! কোথা থেকে এলে, কী করে এলে আর কতক্ষণ আগে?

-ওহ! এক নিঃশ্বাসে এত্ত প্রশ্ন। তুমি পারোও বটে। সব বলছি। আগে তুমি বলো এত্তরাতে না ঘুমিয়ে বেলকনিতে কী করছো?

না কিছু নাহ্। এমনিই দাঁড়িয়ে আছি। ঘুম আসছিলো না।

-কতোদিন হয়েছে বলো তো আয়নায় নিজের চেহারা দেখোনি?

কেনো বলো তো?

-আগে বলোই না।

ঐ তো আর কত! মাস তিনেক বোধহয়

-তার মানে তিনমাস ধরে তুমি ঘুমাও নি। এভাবে দিনের পর দিন না  ঘুমিয়ে চোখের তো চৌদ্দটা বাজিয়ে ছেড়েছো। চোখের নিচে চওড়া করে কালি পড়েছে।কেনো ঘুমাও তিলোত্তমা? এভাবে অযত্ন অবহেলায় নিজের ক্ষতি কেনো করছো তুমি?

হা হা হা হা। চোখের নিচে চওড়া করে কালি পড়েছে। তা খুব বিদঘুটে লাগছে বুঝি দেখতে!

-এই থামো তো একদম দাঁত কেলাবে না। হে হে করছে…অসহ্য একটা।

এতোটাই বিদঘুটে বিচ্ছি লাগছে দেখতে! যে আমাকে তোমার অসহ্য লাগছে।

-একদম বাজে বকবে না। তুমি বিচ্ছি হলেও আমার, বিদঘুটে হলেও আমার। আমি ছাড়া আর কেউ তাকালে তোমার দিকে চোখ তুলে নেবো তার।

বাব্বাহ! এ তো অতি ভয়ংকর ব্যাপার স্যাপার।

-এই একদম ক্রিটিসাইজ করবে না। আমি সিরিয়াস

আমার ঘুম আসে না মৃন্ময়, আমার ঘুম আসে না।

-কেনো ঘুম আসে না তিলোত্তমা?

আমার নিজেস্ব কোনো আকাশ নেই, যে আকাশের বুকে মাথা রেখে পরম প্রশান্তি নিয়ে তৃপ্তি করে ঘুমাতে পারি।

-এসব কল্প-কথা ছাড়ো আর যাও ঘুমিয়ে পড়ো।

আমার উপর এখনও এতো জোর আসে তোমার?

-এটা জোর নয় অধিকার। ভালোবাসার অধিকার। যে অধিকার তুমি নিজের হাতে তুলে দিয়েছিলে।

দিয়েছিলাম। হ্যাঁ আমিই দিয়েছিলাম। ভুলে করে দিয়েছিলাম। অন্যের তোমার কাছে দিয়েছিলাম আমার অধিকার। ভুলে করে

-এটা তুমি মন থেকে বিশ্বাস করো?

বিশ্বাস করা বা না করাই কি এসে যায় যখন সত্যিটা বদলানো যাবে না কখনও।

-বিশ্বাস করো বা না করো আমি তোমার ছিলাম, আছি আর তোমারই থাকবো। আর হ্যাঁ সত্য-মিথ্যার তফাৎ তোমার করতে হবে না। এটা সময় হলে আপনা-আপনিই আলাদা হবে।

আমি তোমাকে ভালোবেসে খুব ভুল করেছি মৃন্ময়?

-ঠিক ভুলের বিচারটাও না হয় সময় করবে। তুমি এখন যাও ঘুমিয়ে পড়ো।

কতো সহজেই সময়ের উপর সবটা ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারো তুমি। সবকিছু কতো সহজ তোমার কাছে। আমি কেনো এতো সহজ হতে পারিনা মৃন্ময়? কেনো এতো জটিল আমার যাপিত-জীবন, বলতে পারো?

-এ তো তোমার বিলাসীতা তিলোত্তমা! দুঃখ বিলাসী তুমি ধরেই নিয়েছো, শুধু ধরেই নয় মস্তিষ্কে গেঁথে নিয়েছো তোমার কেউ নেই, কিছু নেই। তুমি একদম একা। এসব ভেবে ভেবে দুর্বিষহ করে তুলেছো তোমার দিনাতিপাত। এতে নিজে কষ্ট পাচ্ছো সাথে আমাকেও জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছো। তিলোত্তমা বাস্তবতা বোঝ প্লীজ। নিজেকে আর কষ্ট দিও। কেনো বোঝ না তুমি কষ্ট পেলে, আমি ভালো থাকতে পারি না। তুমি কী চাও আমি কষ্টে থাকি?

না না তুমি কষ্ট পাও সেটা আমি কখনোই চাই না।

-তবে আমার কথা শোন আর লক্ষ্যি মেয়ের মতো এখন ঘুমিয়ে পড়ো। শুধু মনে রেখো আমি বেঁচে থাকলে তোমার কাছেই ফিরে আসবো। আমি শুধু তোমারই জান

আচ্ছা মৃন্ময় সত্যিই কী সময়ে সবটা ঠিক হয়ে যাবে?

-জানু এখন আর কোনো কথা নয়। ঘুমিয়ে পড়ো সোনাপাখি প্লীজ।

৯৮জন ৯জন
22 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ