হেলো
-জ্বি কে বলছেন,?
ব্যাস্ত রফিক সাহেব।ব্যাস্ততার মাঝেই কে ফোন করল তা না দেখে কাধ কানের মাঝ খানে ফোন রেখে কথা বলছেন আর দুহাত দিয়ে অফিসিয়াল কাজ সারছেন।ফোনের অপর প্রান্তে ধমক শুনে সে ফোনের দিকে তাকিয়ে আবার কানে নিয়ে কথা শুরু করলেন।
-বলো,
-বলো মানে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?
-খাতা কলমের সাথে,
-ফাইজলামি করো…
-তুমি কি আমার বিয়াইন লাগো যে ফাইজলামি করব।দেখছি অফিসের কাজ কর্মও ঠিক মত করতে দিবে না।
-আজ বাদে কাল ঈদ এখন এতো কাজ কিসের শুনি!তা ছাড়া অফিসের মালিকতো তুমি তোমার সব কর্মচারি রা কি করে?
রফিক সাহেব এবার খাতা কলম সব রেখে দিলেন।মেজাজটাই খারাপ হইয়ে গেছে।এক দিকে ওয়ার্কারের সেলারির ঝামেলা অন্য দিকে বউয়ের ঝারি।সব কেমন যেন বিরক্তিকর লাগছে।
-আচ্ছা ঠিক আছে এই সব কাজ রাখলাম।এখন বলো ফোনে কেনো এতো তাড়া?
-তোমার কি মনে আছে গত ঈদে তুমি আমার জন্য মার্কেট থেকে কিছুই দেওনি এবারো কি তাই করবে?
অথচ রফিক সাহেবের স্ত্রী প্রতি দিনই নিজের জন্য কিছু না কিছু শপিং করছেন।তবে তার অভিযোগ স্বামী হিসাবে তার কেনো তাকে কিছু উপহার দেবার আগ্রহ নেই।
-সমস্যা নেই,আমি আজিই এক্ষুনিই আসছি।
– না না আমি তোমার অফিসের সামনে মার্কেটাতেই আছি।
-ওতুমি আইসাও পড়ছো!
-কি বললে?
-না কিছু না।আমি আসছি।
গিন্নীর মার্কেটে রফিক সাহেব পৌছলেন খুব দ্রুতই।শহরের জানজটের যে অবস্থা সে জন্যে আশ পাশ অল্প দূরত্ব এরিয়ায় সে প্রাইভেট কার ব্যাবহার করেন না অনেকটা পায়ে হেটেই সে যাতায়াত করতেন।রফিক সাহেব হা হুতাস করে যদিও আসলেন কিন্তু গিন্নীর অপ্রস্তুত বক্তব্যে দেহের জান যায় যায়।
-তুমি কেমন মানুষগো এ ভাবে ভেজাঁ শরিরে কেউ এমন মার্কেটে আসে!কি ভাবে ভিজলেঁ?দাড়াও এই এই খানে দাড়াও।
পাশে দোকানের এক এসির বাতাসে দাড়া করালেন।ঈদ বাজারে দোকান দার কাষ্টমার সবাই হা করে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তাদের সাথে ছিলেন তাদের আদরের এক মাত্র কন্যা সেও হা করে তাকিয়ে।কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ঢুকলেন এক শাড়ীঁর দোকানে।বাহ্ কি সুন্দর সুন্দর শাড়ীঁ।
রফিক সাহেব আবার একটু কবি কবি ভাব টাইপের মানুষ।তার চোখ গিয়ে পড়ল একটি বিশেষ ছাড় লেখার উপরে।লেখায় ঈদ উপলক্ষ্যে না লিখে ‘ইদ উপলক্ষ্যে লেখা ছিলো।তাই জানার একটু কৌতুহল হল কেনো এই ভুল বানানে জাতিটাকে কনফিউসনে রাখবেন।সে স্ত্রীর শাড়ীঁ দেখার মাঝে রেখে ধীরে ধীরে সে অন্য সেই দোকদারের নিকট গিয়ে তার কারন জানতে চাইলেন।
-আচ্ছা ভাই ঐ যে ঐখানে লেখা আছে ইদে বিশেষ ছাড়!
-হ,ভাই আপনি যদি নেন তাহলে ৫০% ডিসকাউন্ট।
-আরে না ভাই তা না ঐ ‘ইদ’ বানানটি কি ইচ্ছা কইরাই ভুল করছেন না কি অনিচ্ছাকৃত ভুল।আপনি জানেন আপনাদের এই ভুলটিই হয়তো কোন বাচ্চা শিখে যাবে?
-কি যে কননা ভাই,আপনি কি পাগল!
-কি বললে,জানো আমি বয়সে তোমার অনেক বড় তাছাড়া আমি অনার্স পাস একজন শিল্পপতি…।
-না মানে সরি স্যার আমি বলছিলাম কি আপনি হয়তো দেশে ছিলেন না,ব্যাবসার কাজে হয়তো দেশের বাহিরে ছিলেন।
-হ,বিদেশ গেছি বহুবার..
-ঐতো ঐ ফাকে আমাদের দেশের বাংলা একাডেমী নতুন ইদ এনেছেন।
-মানে?
-পূর্বের ঈদ এর এক্সপেয়ার ডেইট শেষ এখন ঈদ বাদ দিয়ে ইদ করেছেন।
-বলেন কি,আমি জানলাম না!
-আপনি হয়তো বিদেশ ছিলেন তখন।
-হতে পারে!তা কোথায় কোন পত্রিকায় এসেছে?
-তার আগেই ফেবুকে সয়লাব হয়ে এর প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।এখন আবার ফেবুকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও বলা হয়।
-এটা পরিবর্তন করল কেনো?আমার বাপ দাদার আমলেরও আগে এই ঈদ ছিলো এটা কেমন করে পরিবর্তন করেন ওনারা!
-এই ইদ এবং সেই ঈদ দুটোই ব্যাবহার করা যাবে।
-তাই যদি হয় তবে পরিবর্তনের কি দরকার ছিলো?
এ সব তর্কে ক্রমশতঃ লোকজন বাড়তে থাকে।দোকান মালিক বিরক্ত।ঈদ বাজার বলে কথা।দোকানে যে ছেলেটার সাথে কথা প্রথম উঠেছিলো  পর্যায় ক্রমে তা এক মুখ থেকে অন্য মুখ এক দোকান থেকে অন্য দোকানে কেনা বেচার ফাকে ফাকে তর্কে চলে।এক সময় রফিক সাহেব ভিড়ের মাঝে তার প্রিয়তমাকেও হারিয়ে ফেলেন।পাঞ্জবীর পকেটে হাত দিলেন মোবাইলে কথা বলে তাদের খোজঁ নেবার জন্য।পকেটে হাত ঢুকেছে ঠিকই তবে তা ছিদ্র দিয়ে পকেটের অপর প্রান্তে বের হয় শুন্য হাত।মাথা নষ্ট রফিক শালার পকেটমার আমার এতো দামের পাঞ্জাবীটার পকেটারে করল কি!।এতো বড় মার্কেটে স্ত্রী মেয়েকে সে কোথায় খোজবেন!।অগত্যা বেচারা বাসায় গেলে নির্গাত আজ কপালে খারাপি আছে।
মার্কেটের ভেতর হতে রফিক সাহেব বের হচ্ছেন সে সময় অন্য এক দোকানে কিছু মানুষের জটলা দেখে সেখানে এগিয়ে গেলেন।গিয়ে েখেলেন সেই ইদ ঘটনার আলোচনা তর্ক বিতর্ক চলছে।তা দেখে সে মুচকি হাসলেন আর মনে মনে ভাবলেন এখানেও তার মতো কেউ না কেউ কিছু খোয়াবেন।
………………………………………………………… -{@

ইদ নিয়ে কারো সন্দেহ হলে এই লিংকটিতে ক্লিক করুন।এখানে অনেক বানানে পরিবর্তন এনেছেন বাংলা একাডেমী যা আপনাকে মেনেই সাহিত্য রচনা করতে হবে।এ দেশে হয় সবিই হয় রাতকে দিন দিনকে রাত বললেও হবে না ভুল।কারন কে শুনে কার কথা দেশের প্রতিটি সেক্টরেই রয়েছেন কিছু বাল পাকনা যারা যে কোন কু-কাম করেও পার পেয়ে যায়।তবু কেঁদারার একটু পরিবর্তনতো নেইই জবাব দিহীতাও নেই।তাই…
(y) প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাস নেই কোন প্রতিকার বা পদের পদ ত্যাগ।
(y) ছেলে মেয়ে স্কুল ভর্তি নিয়ে চলে বানিজ্য কেউ জেনেও কেউ আবার কিছুই জানেন না।
(y) শিক্ষার মানের বেহাল অবস্থা,ছোট্র ছোট ছেলে মেয়েদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এক বস্তা বই যা বহনে জাতি কান্দিকুজোর দিকে ধাপিত হচ্ছেন।
(y) দেশ জাহান্নামে যাক,যে কোন সরকারী পাওয়ার মুল যোগ্যতা এখনো টাকা মামা খালু বলবৎ।
(y) কি খাবো! সবিই ভেজাল নেই প্রতিকার তাই বলতে পারি “ভেজালেরঁ কবলে দেশ দিশেহারা তবুও মানুষের কেনা কাটায় নেই থামা।
(y) শিক্ষাগুরু মার খায় সন্ত্রাসীরা নেচে বেড়ায়।
(y) মুক্তি যোদ্ধারা ক্ষমতার বাহিরে দেশ শাসনে রাজাকার অন্দর মহলে।
(y) বাজারে দামের আগুন সিন্ডিকেটে সরকার বন্দী,করি সন্ধি নাপাকি শত্রুর সনে।
(y) মরছে দেশে আমজনতা পাহাড়ী ধসে,অদক্ষ ড্রাইভার নিয়োগে রোড এ্যাকসিডেন্টে মরছে,আবার মরছে কেউ ক্ষমতাবান সন্ত্রাসীর হাতে,কেউ মরছে আসমানী বজ্রপাতে,কেউ বা মরছে ধর্মঘটে বিনা চিকিৎসায়,আরো কত ভাবে যে মরছে,কেবল মনে হচ্ছে এ যেনো মানুষ নয় সবিই শিয়াল কুকুর।এতো সব মৃত্যুর মাঝে একটাই সত্য পৃথিবীতে এক দিন সবাইকেই বিদায় জানাতে হবে এটা নিশ্চিত,এই নিশ্চয়তার মাঝে নেই আশা কোন স্বাভাবিক মৃত্যুর।তাই কিছুই বলার নেই।

সবাইকে ঈদ ইদ মোবারক
সচেতন থাকুন 
নিশ্চিন্তে বাড়ী ফিরুন।

৪৮০জন ৪৮০জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ