কখনো কি এমন করে ভাবি ?

রিমি রুম্মান ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বুধবার, ১০:২৭:২৪পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৮ মন্তব্য

এদেশে শূন্য থেকে জীবন শুরুর দিনগুলোতে অনেক কাঠ, খড় পুড়িয়ে যখন একটি চাকুরী জুটে, নিজেকে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী মনে হতে থাকে। একে ওকে এটা সেটা দেবার ইচ্ছা জাগে। বাবা'কে একটি সুন্দর লাঠি পাঠাই। প্রয়োজনে সেটি ফোল্ড করে ছোট করে রাখা যায়। আমার প্যারালাইজড বাবা তাতে ভর করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে শহরময় ঘুরে বেড়ান। খুশি হন। একে ওকে দেখান। তাঁর সে আনন্দ মিইয়ে যায় তখনই, যখন তিনি হিসেব করেন এক ডলারে কত টাকা হয়... এবং এর মূল্য বাংলাদেশী টাকায় কত। এরপর থেকে কিছু দিতে চাইলেও খুব সতর্ক ভাবে এড়িয়ে যান। বলেন, বাংলাদেশে এখন সবই পাওয়া যায়...

অনেক বছর বাদে বাবা আরো বৃদ্ধ হন। ব্রেইন সেলগুলো ধীরে ধীরে ড্যামেজ হতে থাকে। আচরনে ছেলেমানুষি দেখা দেয়। এবার নিজ থেকেই একটি মোবাইল ফোন চান। আমি দেশ থেকে একটি কিনে দিতে বলি। বাবা নিতে চায় না। তার ধারনা, আমি এখান থেকে দিলেই সেটি ভাল হবে। অবশেষে পাঠাই। আনন্দে টেলিফোন ইনডেক্স নিয়ে বসেন। খুঁজে খুঁজে পুরনো বন্ধুদের ফোন করেন। কুশল বিনিময়ের ফাঁকে উচ্ছসিত কণ্ঠে জানিয়ে দেন___ এটি তাঁর নতুন ফোন... আমেরিকা থেকে এসেছে। আমি ফোন করলেও খল্‌বলিয়ে অনেক কথা বলে যান___ বাসার পাশের মসজিদের চারতলার কাজ শুরু হবে সহসাই... বর্ষা মওসুম গেলেই গ্রামের কবরস্থানের চারিদিকের ওয়াল তোলার কাজে হাত দিবে...পাড়া প্রতিবেশীদের সুসংবাদ, দুঃসংবাদ... সব স-ব...

সামান্য একটি উপহারে এমন খুশি আর কখনো কাউকে হতে দেখিনি...

## বাবা'রা চিরকাল দিয়েই যায়। আমাদের চাওয়াগুলো পূরণ করতে গিয়ে তাদের কতো না নির্ঘুম অসহায় রাত কেটেছে একটা সময়। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে তাদের ছোট ছোট আনন্দগুলো'র দিকে আমরা কয়জনই-বা খেয়াল রাখি ? তাদের ছোট ছোট উচ্ছ্বাস, আনন্দগুলোই কিন্তু আমাদের জন্যে আশীর্বাদ।

0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ