এ্যান্টিরেপিং মুভমেন্ট

আজিম ২৩ আগস্ট ২০১৫, রবিবার, ০৯:১৩:৪৮অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৮ মন্তব্য

পুরুষ আর নারী, পরম করূনাময় আল্লাহ তা’লার সৃষ্টি। এই উভয় জাতিকে ভিন্ন বৈশিষ্ট দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তিনি। পুরুষকে দিয়েছেন শক্তি আর নারীকে সৌন্ধর্য। একে অন্যকে আকৃষ্ট করারও অনেক কিছুই দিয়েছেন। তবে অবৈধ কিছু করার কোন অনুমতি মহান আল্লাহ তা’লা কাউকে তো দেন-ই নি, উপরোন্ত এই দুই জাতির মানুষের মধ্যে যাতে কোন অবৈধ কর্মকান্ড না হয়, সেজন্য জারী করেছেন কিছু বিধিবিধান। কিন্তু ইতরবিশেষ কিছু মানুষ মানেনা সেসমস্ত বিধিবিধান। ফলে অসামাজিক নানা কর্মকান্ড ঘটতে দেখতে পাই আমরা, আর এই অসামাজিক কর্মকান্ডের সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে ধর্ষণ। নারীকে দুর্বল পেয়ে কিছু পশুতূল্য পুরুষ এই কর্মটা করে থাকে, আর পুরুষপ্রধান ও শাসিত এসমাজে একারনে ভূলুন্ঠিত হয় নারীর মর্যাদা।
সমাজে দেখা যায়, দরিদ্র শ্রেণির নারী বেশি ধর্ষিতা হয়। কারন এরা শারিরীকভাবে দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও অতি দুর্বল। এই দুর্বলতার সুযোগই নেয় নরাধম পশুরা, যাতে মামলা লড়তে না পারে এরা। পাষন্ডরা মনে করে খুব যদি দরকার হয়, কিছু টাকা দিয়ে দেব, কিছুই হবেনা আর।
হয়ওনা। ধর্ষিতা পরিবার যদি মামলা করতে যায়, করতে দেয়া হয়না। যদিওবা মামলা করে, সে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। চাপে কাজ না হলে সমাজের প্রভাবশালীদের ব্যবহার করা হয় চাপ দেয়ার কাজে, সত্রাসীও নিয়োগ করা হয় একাজে। টাকার লোভ দেখানো হয় ভিকটিমকে, ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য প্রভাবশালীদেরকেও দেখানো হয় একই লোভ। বিবেকহীন প্রভাবশালীরা টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি সালিশে ভিকটিমকে যে পরিমান টাকা দেওয়ার কথা হয়, সে টাকাও মেরে খায় প্রভাবশালীরা।
এই হচ্ছে দেশে ধর্ষণের বিচারের মূল চিত্র। মোট কথা এগুলির কোন বিচার হয়না। দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে দু’একটা এরকম পরিবার ঝেড়ে ফেলে সকল ভয়ভীতি, অনূভব করে নিজের অতি আদরের কন্যার আর্তনাদ আর ব্যথা-বেদনাকে, প্রতিশোধের আগুনে গর্জে ওঠে তারা সমস্ত শক্তি দিয়ে। তাদের নিয়েই এই ছোট্ট প্রয়াস ’এ্যান্টিরেপিং মুভমেন্ট’।
তীব্র চাহনী নিয়ে বসে আছেন তিনি, সামনে তার একমাত্র কন্যা মিলি’র লাশ। একটু আগে পাটক্ষেতে পাওয়া গেছে লাশটা অনেক খোঁজাখুঁজির পর। গতকাল সন্ধ্যা থেকে পাওয়া যাচ্ছিলনা মিলিকে। স্বামী ঢাকা শহরে প্রাইভেট গাড়ী মোছার পালক দিয়ে তৈরী ডাষ্টার বিক্রি করেন। প্রতিদিন সকালে যান আর ফেরেন সন্ধ্যা অথবা রাত্রিও হয়ে যায় অনেকদিন যেদিন বিক্রি হয়না ওগুলি। একমাত্র ছেলে, যার বয়স বারো, তাকে নিয়ে সারারাত অনেক খোঁজ করেন মিলির মা। গভীর রাতে স্বামী যখন বাসায় ফেরেন, তাকে নিয়েও অনেক খোঁজ করেন তিনি, জামিলা ওঁর নাম।
আশেপাশের মহিলারা আছেন চারদিক ঘিরে ওদের। সবাই কিছু কিছু সান্ত¦না দিতে চেষ্টা করেন জামিলাকে। স্বামী বার বার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন, ওঠো জামিলা, লাশ দাফন করতে দাও, লাশ দাফনে দেরী করতে নাই।
প্রিয় কন্যার মরা মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে কোনো সময় বিলাপ করছেন জামিলা অতি মৃদুস্বরে, কোনো সময় অভিসম্পাত দিচ্ছেন সেই শয়তান, আমিন যার নাম তাকে এবং আরো অনেককে, এখনো নাম জানা হয়নি যাদের।
মা-মেয়েতে প্রতিরাতে একই বিছানায় শুতেন ওরা, গভীর রাত পর্যন্ত অনেক কথাবার্তা বলতেন মা-মেয়েতে। স্কুলের কথা, পড়শীদের কথা, আরো কত কথা, কথার কোন শেষ ছিলনা ওদের। শেষে মায়ের মৃদু ধমকে মিলি ক্ষান্ত হতো, জড়াজড়ি করে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন উভয়ে। ঘনিষ্ট বন্ধুর মতো এমন মেয়ের এ অবস্থা কেমন করে সইবেন মা! মুর্চ্ছা যাচ্ছেন সময় সময় মা, আবার দৃঢ়ও হচ্ছেন।
মিলি এবার ক্লাশ নাইনে উঠেছিল। লেখাপড়ায় মোটামুটি ভালই ছিল, রুপেগুনেও ছিল বেশ ভাল। স্কুলের শিক্ষক, পাড়ার মাবোনেরা সবাই খুব ভালবাসতো ওকে ওর অতি মধুর ব্যবহারের কারনে। সবারই সাথে হেসে হেসে কথা বলত মিলি। কোনদিন কারো সাথে রাগারাগি করতোনা। ওকে কেউ কিছু বললেও ও কাউকে খারাপ ভাষায় কোনদিন কোন কথা বলতনা, রেগেও যেতনা।
পাড়াপড়শিরা অত্যন্ত মর্মাহত এসমস্ত কারনে। এত ভাল মিলিকে কী করে পাষন্ডটা দলবল নিয়ে করতে পারলো এই কাজটা? অনেকে চোখের পানি সংবরন করতে পারছেননা, বিলাপ করে কাঁদছেন। কিন্তু কেউ কিছু বলছেননা, কারন পাষন্ডটা আমিন, ওর বাবা সদরের বাজারে কাপড়ের দোকানদার, জ্ঞাতি-গোষ্টিও বেশ বড় ওদের।
দু:খ যখন অনেক বড়, মানুষ তখন অন্যরকম হয়ে ওঠে। একসময় আড়মোড়া ভেঙ্গে ওঠেন জামিলা। অট্টহাসি হেসে ওঠেন তিনি। পড়শিরা আঁৎকে ওঠেন, পাগল হয়ে গেলেন নাকি জামিলা? ও জামিলা, ও মিলির মা বলে ওঠেন ওরা। (ক্রমশ:)

৩৭৬জন ৩৭৬জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ