এলোমেলো কিছু কথা…**ছয়**

নীলাঞ্জনা নীলা ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার, ০২:১৩:১৫অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৭ মন্তব্য

বিকেল পাঁচটা বাজছে। মাত্র কাজ শেষ করলাম, বাসের অপেক্ষায়। ক্লান্তি ঢেলে দেয়ার একটাই জায়গা আদুরে ঘর। আচ্ছা ঘর কি আসলেই আদুরে হয়? পুরুষের কথা আলাদা। ওরা আজন্ম আদর পেয়েই যায়। মায়ের-বোনের-স্ত্রী-কন্যার আদর। মেয়েদের ভাগ্য অতোটা ভালো না।

থাক ঘর। শুধু জানি সমস্ত দিনের শ্রান্তি আগলে নেয় আমার পরিপাটি শয্যা। একসময় এমন ছিল আমার কক্ষে ঢোকার, আমার বিছানায় বসার অনুমতি সকলে পেতোনা। মামনি বলতো হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টের কক্ষ। এখন ভাবলেই হাসি পায়। আমার মেঝো মাসী আমার বিছানা পাতানো খুব পছন্দ করতো।
আর ভালোবাসতো আমার হাতের চা। বাড়িয়ে বলছি না ওটা ভালোই পারি।

কিসব হচ্ছে এসব! বাসের অপেক্ষায় দাঁড়ানো, প্রতিদিনই এখানে আসি, আর এসেই বাস পেয়ে যাই। আজ বোধ হয় একটা দৃশ্য দেখানোর জন্য বাসটা আমার আগেই চলে গেলো। ঠিক চোখের সামনে চার্চ। ক্রুশবিদ্ধ যিশু দু’হাত প্রসারিত করে যেনো বলছে হত্যা করে কি কোনো শান্তি পাওয়া যায়? বরং আরোও তীব্র হয় হিংসা-বিদ্বেষ। আমি যিশুর কাছে দাঁড়ালে যেনো শান্তি খুঁজে পাই। আর ভাবি মানুষ কেন হত্যা করে মানুষকে? কিছু কি পায়? না পেলেই কেন ছিনিয়ে নেয়ার প্রবণতা? কেনইবা ধর্মের নামে এতো হানাহানি? আচ্ছা কেউ যদি গালিও দেয়, আল্লাহ – ভগবান – ঈশ্বর – যিশু – বুদ্ধ কারো কি কোনো কিছু যায় আসে? আমি তো ঈশ্বরকে রোজ যা নয় তাই বলি। কাকে বলবো মনের কথা তাকে ছাড়া?

বেশ ঠান্ডা পড়েছে। অবশ্য এটা কানাডা, তাও এই জানুয়ারি যে স্নো ছাড়া গেলো। এটা কি যে ভাগ্যের! তবে ফেব্রুয়ারিকে ভরিয়ে দিয়েছে তুষার। আবার এবারকার বড়দিন গেলো স্নো ছাড়া। ওদিকে দেশ কাঁপছে শীতে।

বিরক্তিকর কথা, তাই না? আসলেই তাই। তাও না বলে যে পারিনা। এসবই কিভাবে কিভাবে জানি পেরে যাচ্ছি। ভাবতেই অবাক লাগে, এ কোন আমি! এ পথ থেকে অন্য পথে দৌঁড়ের উপর প্রতিটি দিন যায়। বাসায় যখন ফিরি মেঝের উপর পা ছড়িয়ে বসি, ওটাকেই বুঝি বলে স্বস্তি। আমি জানি এসব বড়ো একঘেঁয়ে কথা। কিন্তু এটাকেই নতূন করে সাজাই। তাই আমার কাছে দু:খটা এতো সস্তা।

এতো কথা বলা হয়ে গেলো, গানের কথা কিছু তো বলি। গান বাজছে আইপডে।

“কখনো সময় আসে,
জীবন মুচকি হাসে
ঠিক যেনো পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা
অনেক দিনের পর মিলে যাবে অবসর
আশা রাখিতে যাবো বাকী দু’আনা।”
গানটির অডিও লিংক

অনেক প্রিয় এই গানটা আমার। আর এই আশা আছে বলেই হয়তো পেয়ে যাই অনেক কিছু। হারাইও অনেক কিছু। তারপরেও একই কথাই বলার কি আর প্রয়োজন আছে? শুধু জানি মনটা ভালো নেই, আগেই বলেছি আমার মন খারাপ বড়ো সস্তা টাইপের। তাই একটু হাসি তৈরী করে নিতে পারলেই সব ঠিক। এটুকু জানি লিখতে লিখতেই হেসে উঠবে মন, জেগে উঠবে মন। নিজেকে বিভিন্ন ভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছি। হিন্দীতে কবিতা লেখার চেষ্টা করলাম। পাগলামী না করলে ভালো রাখবো কি করে নিজেকে? যদি নিজেকে ভালো না রাখতে পারি, কাউকেই তো ভালো রাখতে পারবোনা। কি সত্যি বললাম?

প্যায়ার বহুত মেহেঙ্গা চিজ হ্যায়
ইতনি সি ভি প্যায়ার কিসিকো দেনে কে লিয়ে
বহুত বড়িয়া দিল চাহিয়ে
যো কিসিকে পাস হি নেহি
অউর যিসকে পাস ইয়ে দিল হোতি হ্যায়,
উসকো প্যায়ার নেহি মিলতে কাভি।

দিল তোড়কে ফিরসে জুড়া দো
দিল, দিল হি রেহেতা হ্যায়
ইনসানিয়াত হ্যায় যিসমে,
উনকো হি ইনসান কেহেতে হ্যায়।

প্যায়ার কিয়া নেহি যাতা
হো যাতা হ্যায়
ইয়ে বাত তুমকো-সবকো পাতা হ্যায়।

দিল কো মালুম হ্যায়
তুম মেরি নেহি হো
তব ভি দিল ইয়ে চাহে প্যায়ার তুমহারা
দিল কো যিতনা ভি সামাহলাতা হু
শুনতা নেহি হামারা।

আভি কেহেদো ক্যায়া করু,
কিধার যায়ু
কিসকো বলু
রোনা ভি নেহি আতে
দিল যব টুট যাতা হ্যায়,
ইনসানিয়াত ভি ইয়াদ নেহি আতে।

(অনেকের অনুরোধে বাংলা করে দিলাম)
************
ভালোবাসা অনেক দামী অনুভূতি

অনেক বড়ো হৃদয় চাই শুধু একটুকু ভালোবাসা দেয়ার জন্যে।
যা কারুর কাছেই নেই
আর যার কাছে এমন হৃদয় আছে
সে কখনোই ভালোবাসা পায়না।

হৃদয় টুকরো টুকরো করে আবার জোড়া লাগাও,
তবুও হৃদয় হৃদয়ই থাকে।
মনুষ্যত্ব যার আছে,
তাকেই মানুষ বলে।

ভালোবাসা করা যায়না,
হয়ে যায়।
তুমি-আমি সকলেই সেটা জানি।

হৃদয় জানে তুমি আমার নও
তবুও এই হৃদয় তোমারই ভালোবাসা চায়
হৃদয়কে যতোই আগলে রাখতে চাই,
কিছুতেই শোনেনা কথা আমার।

এখন বলে দাও কি করি,
কোথায় যাই
কাকে বলি?
কান্নাও আসেনা
হৃদয় যখন ভেঙ্গে যায়
মনুষ্যত্বর কথাও মনে থাকে না।

হ্যামিল্টন, কানাডা
৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ইং।

দৃশ্য দেখি আর খন্ড খন্ড কথার মালা গাঁথি। সাথে সাথে ছবি তুলে রাখি।ছবি গুলো এখানে দেই একারনে যে এই ছবির সাথেই আমি ছিলাম্‌,ছিল আমার কথা। ছবি কি বাদ দিয়ে দেবো এরপরে?

ফেব্রুয়ারিকে ভরিয়ে দিয়েছে তুষার

 

৫৬৯জন ৫৬৮জন
0 Shares

৩৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ