নিঃশ্বাস আটকে থাকে তোমার ঘ্রাণে...
নিঃশ্বাস আটকে থাকে তোমার ঘ্রাণে…

অভিমান আমার চিরকালের। কিন্তু বোঝানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। রাগ ভেবে ভুল করে নেয়। তবে কিছু মানুষ এখনও সেটা বোঝে, আর তাই হয়তো ভালো থাকতে পারি। কেন এসব কথা! বেশ ভুল বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে গেছে কয়েকটি দিন। প্রথমেই তাই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আমার ব্যবহারে যারা কষ্ট পেয়েছেন। খুব সত্যি একটা কথা সোনেলা ছেড়ে যেতে পারবোনা আমি কখনো। এই অঙ্গনে এমন একটা মায়াবী ঘ্রাণ আছে, যা আমাকে কখনোই যেতে দেবেনা। চাইওতো না যেতে। বড্ড ভালোবেসে ফেলেছি, আর তাই জ্বালাই। হয়তো নিজেকেই বেশী জ্বালাই। সোনেলার ঘ্রাণের আবেশে জীবনের অনেক প্রিয় কিছু গন্ধের কথা মনে পড়ে গেলো। ভোরের একটা ভীষণ সুন্দর ঘ্রাণ আছে। জানিনা কেন! আজ ভোরে বারান্দায় গিয়ে পূর্বের দিকে চাইতেই মনের ভেতর একশ আটটা নীল পদ্ম যেনো ফুঁটে উঠলো একসাথে। আট কেন বললাম, প্রিয় সংখ্যা। কি জানি বলছিলাম! ভোরের ঘ্রাণ। এমনই কিছু ঘ্রাণ কাছে টেনে নেয় আবার বহু দূরে ঠেলে দেয়। অনেকেই জানেন শুধু মুখের বাজে গন্ধের জন্য ডিভোর্স হয়েছে প্রচুর। তাই গন্ধের ব্যাপারে সাবধান। আমার এ নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই, থাকলে আমিও হয়তো…//  😀

গন্ধ দিয়ে মানুষ চেনা যায়, বোঝা যায়। সুঘ্রাণ নিয়েই বড়ো হয়েছি। ঘুম ঘুম আহ্লাদে মামনির শাড়ীর আঁচলে, দূর থেকেই বুঝতাম এ আমার মামনির গায়ের গন্ধ। আজও জানেনা মামনি আমি নাক টেনে নিয়ে শ্বাস নিতাম যে। একটা লজ্জ্বা কাজ করতো মামনি দেখে হাসে যদি! তারপর বাপির বুক। তবে নাক কুঁচকে নিতাম, ঘামের গন্ধ। আমার নাকটা মুঁচড়ে দিয়ে বলতো “দাঁড়া স্নান সেরে আসি।” এরপর তো বাপির বুকে মুখ লুকিয়েই পটর পটর। সুন্দর গন্ধ নিতে কতো কি যে করা। ছোট কাকু প্রায়ই মামনির জন্য চন্দন সাবান নিয়ে আসতো ইন্ডিয়া থেকে। বাসায় প্রথম দেখি কসকো সাবান, ভেতরে ছোট্ট একটা ক্যান্ডি। ওটা দেখার জন্য কতো কসকোর যে বারোটা বাজিয়েছি। তারপর এলো লাক্স। এও ঠিক চন্দন সাবান জ্ঞান হবার পর থেকেই আমাদের বাসায় ছিলো। রোজ সাবান ব্যবহার করতাম না। শ্যাম্পু কি সেও তো জানলাম এইতো সেদিন ১৯৮৪ সালে। ছোট কাকু এনে দিয়েছিলো। চুলে তেল দেয়াও বন্ধ হলো সেদিন থেকে। মাথা ব্যথার জন্য। আজও পাই। তবে জেসমিন তেল মাঝে-মধ্যে পায়ের পাতায়। ইস এখনও পাচ্ছি যেনো। আসলে মামনির সেই ঘ্রাণই আমায় ছুঁয়ে আছে। তারপর ছোটবেলায় বরিশালের মা স্নান সেরে ঠাকুর ঘরে ধূপ-ধুনো জ্বালাতো। সারাটি ঘর এক অদ্ভূত সুন্দর গন্ধে ভরে যেতো। একটা কথা না বললেই নয়। কানে কথা কম শুনি মানে কেউ যদি ফিসফিস করে কিংবা কানে কানে বলে আমি কিচ্ছু বুঝিনা। তবে নাকের পাওয়ার মারাত্মক। অনেক দূরের ভালো কিংবা খারাপ গন্ধ পেয়ে যাই-ই-যাই। বন্ধুরা সবাই জানে। তাই পরিচিত সকলেই একটু সাবধানতা অবলম্বন করে যখন আমার সামনে আসে। এবারে আসি কি কি গন্ধ আমার খুব প্রিয়। ন্যাপথালিন হাতে নিয়ে বসে থাকতামএবং এখনও। আমার বাসার ওয়াশরুমে এক বাটি ভরা ন্যাপথালিন। কেরোসিন চেনেনা এমন কেউ নেই। কতোবছর পাইনা। অনেক ছোটবেলায় চা’ বাগানের বাসায় যখন ইলেক্ট্রিসিটি ছিলো না, বিকেলে হারিকেন পরিষ্কারের সময় বসে থাকতাম শুধু গন্ধ নিতে। তারপর কতো রোমিও মোটরবাইক নিয়ে ঘুরেছে, পাত্তা পায়নি। তবে ভালোবেসেছি পেট্রোলের ঘ্রাণ। আহা রোমিওরা চলে যেতো আমি পেট্রোলের গন্ধ নিতাম। এসব নিয়ে বন্ধুরা কম ক্ষ্যাপায়নি। আর ছিলো সেভলন। বোতলের ছিপি খুলে নাকে নিয়ে বসে থাকতাম। অনেক বড়ো হয়েও এসব করেছি। নেলপলিশের গন্ধ, স্পিরিট উফ। এসব গন্ধের সমতুল্য কোনো পারফিউমও হয়নি। আরোও কিছু গন্ধ আছে, যেমন রাস্তায় পিচের কাজ হয়, নাক উঁচিয়ে এখনও সেই ঘ্রাণ নেই। নার্সিং-এ যখন এলাম, বিভিন্ন সিনিয়র হাউজে একটা মিষ্টি গন্ধ পেতাম। কি দিয়ে ঘর মোঁছে এরা? জানতে পারলাম “পাইনসোল” দিয়ে। ওয়ালমার্ট সেদিনই গেলাম কাজ থেকে ফেরার পথে, কিনলাম। আমার বাসায় ঢুকলে প্রথমেই যে গন্ধটা আসবে সেটি হলো বেলী ফুলের ঘ্রাণ+পাইনসোল+নেপথালিন। নিজের এই নীড়টাকে আমার স্বর্গ লাগে বোধ হয় তাই।

চুলে মুখ গুঁজে দিয়ে বললে, কোথাও আর যাবার ইচ্ছে নেই তোমার
লম্বা শ্বাস টেনে নিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললে
এই ঘ্রাণের জন্যেই আমায় নাকি তুমি অনেক ভালোবাসো।
সেই থেকে লেপ্টে আছে তোমার প্রিয় সুবাস।
চন্দন-ঘ্রাণ মাখা জলে ডুব দিয়ে ছুঁয়ে আছি তোমার তারুণ্য।
বোঝো কিছু?
যতো দূরেই থাকো, এই যে রোজ নিঃশ্বাস নিঃশ্বাসকে ছোঁয় ঘ্রাণের মাতালতায়
বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে মাটি ভেঁজে সোঁদা গন্ধে বাতাস নেচে ওঠে,
তুমি তো জানো কত্তো প্রিয় সেই ঘ্রাণ আমার!
আর প্রিয় কি জানো? তুমি, তোমার নিঃশ্বাস। -{@  (3

http://https://www.youtube.com/watch?v=Ef82YtDVieY

হ্যামিল্টন, কানাডা
১৫ নভেম্বর, ২০১৫ ইং।

৯৪৮জন ৯৪৮জন
0 Shares

৪৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ