এলেবেলে কথন

খাদিজাতুল কুবরা ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, রবিবার, ০৬:৩৩:৩০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৮ মন্তব্য
  1. অনিমেষ!

আজ আমার নেমন্তন্ন ছিল মনের নন্দনকাননে! দিনটা ছিল অপয়া, আমার তোমার পালাবার সুযোগ ছিল ভাতঘুমের অবসরে! কিচ্ছুটি হলোনা। সারাদিন ভেবে ভেবে সারা হলাম,কেমন করে  হৃদয়ের সেতার টুংটাং বাজল অবেলায়! অভিমান জমা আস্তরণে ঢাকা অভিধান  তুলে রাখলাম সেল্ফে।,আজ আমি ফুটন্ত গোলাপের স্বাগতিক। ভুল হোক সহস্র শতাব্দীর সংবিধান, একপেশে স্বজন, আষ্টেপিষ্ঠে জড়ানো বিভাজন!স্বরলিপি অদৃশ্য হয় তুমি সামনে এলে,বুকের ভেতর সুখের পায়রা পেখম মেলে! এসো যত্নে সাজানো বাতায়নে, তোমার স্পর্শে রাণীর মুকুট আসীন হয় শিরে,আমার রাজা মশাই তুমি এসো, এসো অচিন কোনো দ্বীপ দ্বীপান্তরে, ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিব সোনার কাঠি  ছুঁয়ে।হে আমার প্রিয়ে! এসো হৃদয় মন্দিরে পূজিব পরম যত্নে! ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড অন্য কাউকে দিও,আমায় শুধু দু’এক ছত্র কবিতা দিলেই চলবে!হিরেতে জৌলুশ আছে স্পন্দন নেই,আমি হৃদয়ের মন্দিরে পূজারি!হৃদয়ে প্রতিচ্ছবি খুঁজে মরি, মরতে মরতে বেঁচে ফিরি।কায়ার মায়ায় ভরা ফুল নই, ছুঁলেও রয়ে যাই অস্পৃশ্য! আমি অতি খুদ্র হলেও স্থির বিন্দু,খাদ মেশালে অস্তিত্বহীন।এ জগতে সবই বস্তুগত কাঠামোতে গড়া, শুধু কবিতাই নির্মল হৃদয়ের রঙ।

প্রিয়তমেষু!

তুমি পুরো পৃথিবী অন্য কাউকে দিও। আমায় দিও দু’এক ছত্র কবিতা! এ অনন্ত অপেক্ষায় আমি যেন এক নির্জন দ্বীপ!আমার চেয়ে ভাগ্যবান ডর্মেটরির মশাটিও, চাইলেই ছুঁয়ে দিতে পারে তোমাকে। ভাগ্যবান সেই আগুন চোখের মেয়ে, যার বুকে মুখ গুঁজে গল্পের পান্ডুলিপি স্বার্থক হয়  সুসম্পাদিত গ্রন্থে রুপ পেয়ে।  ভাগ্যবান রমনার সেই ফুলের পাপড়িটিও যার ফটোগ্রাফি করো তুমি স্বযত্নে।বহুদূরে কর্ণফুলীর তীরে আমি আর আমার গেরুয়া রঙের দুঃখরা ডুবে যাই সন্ধ্যার আঁধারে। নিঃশব্দ প্রত্যাবর্তন হয় প্রভাতের পার্থিব সমৃদ্ধির শহরে। ধোঁয়া উঠা ভাতের সঙ্গে ক্ষুধার নিবিড় আলিঙ্গনের স্বাদ জানেনা ঐ পাঁচতলার বাসিন্দা, জানে সেই উপবাসে ক্ষয়ে যাওয়া আত্মসম্মানবোধ সম্পন্না বৃদ্ধা,যার উত্তর-প্রজন্ম উচ্চ শিক্ষার ঔরসে ও মূলত বেজন্মা!ভাতের অভাবে শেষ পর্যন্ত তার জীবনাবসান ঘটে, তেমনি একটা কবিতার অভাবে এ জীবন পাঁশুটে,শব্দের ঢেউ আছড়ে পড়ে অন্যপাড়ে যেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে। সেই লোকালয়ে গল্পরা হেসে কুটি কুটি হয় পাশাপাশি সোফায় বসে, আর আমার মত নির্জন দ্বীপে নির্বাসিত কবিতারা নিঃশব্দে খালি পায়ে হাঁটে, যদি কখনো কাঙ্ক্ষিত কবির দেখা কপালে জোটে।

হে গল্পকার বন্ধু আমার!

এখানে এই বালু তটে আর বিচ্ছিন্ন প্লট খুঁজতে এসোনা, মূলধারার গল্প থাকে তোমাদের সমাজ সংসারে। শেষ হতে চলল আরো একটা বছর,আসছে মনে করিয়ে দিতে, কুড়ি বছর হয়েছে পার।শৈশব-কৈশোর তিরতিরিয়ে বেড়েছিল শিম ফুল ফোটার আগ অবধি, তারপর টান পড়েছে গোড়ায়, টের পেলাম নিড়ানির খোঁচায়, মানুষের অবয়বে বোধহয় আগাছা ছিলাম, প্রতিবার উপড়ে ফেলার পর ও আবার জন্মাতাম, এ ক’ছরে ভাগ্যরেখা দিক বদলেছে আমার,মুক্তির নামে পদোন্নতি পেয়েছি বড়জোর,সম্ভবত আগাছা থেকে পরগাছা হয়েছি, হর্ষ, বিষাদ ভুলে এখন আমি বৃক্ষের সাথে বেড়ে উঠতে গিয়ে টের পাই, রয়ে গেছি পুরনো বনসাই। শখের করাত শাঁখের চেয়ে কম নয় নির্দয়! জীবনকে ভালোবেসে সুযোগ দিয়েছি বহুবার, এঘাট থেকে ওঘাটে ভিড়িয়ে বিশ্বাস, বারবার প্রমাণ দিতে চেয়েছি আমি ও মানুষ! ফেরারী সফরে দেখেছি মুখোশের আড়ালে মেকি সব, ভালোবাসার নামে খোঁজে আয়ু বর্ধক প্রতিষেধক।

অনিমেষ!

আজকাল বুকের কোটরে হেঁটে যায়, সরীসৃপের মতো শীতল নিঃশব্দ দুঃখ! ভয়ে কাদা হই এই বুঝি ফনা তোলে, ছোবল বসিয়ে দেয় রাতের গায়! আমি যে আর বিষকন্যা নই। বিষের বিরুদ্ধে যেতে পারিনা এখন আর! আগে হয়ত দেবি ছিলাম, এখন হয়েছি মানুষ! মনুষ্য জন্মের প্রতি পরতে সুখের হাতছানি, দিনশেষে মেলে হতচ্ছাড়া দুঃখ! তবুও আর দেবি হওয়ার সাধ নেই, মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই!কেন এই বাঁচার আকুতি আর বেহায়াপনা?শুনতে পাই আত্মচিৎকার! কান চেপে ধরি তা-ও মুক্তি নেই। বেজে উঠে আত্মজের ঠোঁটে ধর্মের শঙ্খ, আমার অসহ্য লাগে! আমি যে মানবতাবাদী, মানবিকতার অপরাধে পেলাম নির্বাসন। কষ্ট হয়নি তখন কেননা আমার অস্তিত্বে বাস করত সাত সাতটা বেহেশত, সাম্যের কোরাস বাজাত নহবত! না সেসময় ধর্ম আওয়াজ তোলেনি , বরং পথ আগলেছে বহুবার। সেদিন আমি তার বারণ শুনিনি, আজ শুনবোনা নীতির গান। যদি মানুষ না হয়ে মা মাকড়সা হতাম তা-ও ভালো হত, বুকের মাংস খাওয়া শেষ হলে- চলে যেতাম পরপারে, সভ্যতার উপনিষদে সাজার সংবিধান প্রণিত হওয়ার আগে!

২৫৭জন ৩৪জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ