এযে পাগলেরই দুনিয়া

আতা স্বপন ৫ মে ২০২০, মঙ্গলবার, ০৯:৩৩:১২অপরাহ্ন রম্য ১০ মন্তব্য

আচ্ছা পাগলা বাবা আছে না! আছে তো। খালি বইসা বইসা খিস্তি খিউর করে। আর ভক্তরা টাকা দিয়া যায়।এদের বেশীর ভাগের শরীরে একটা সুতা্ও থাকে না। এদের নিয়া ছবিও হয়  গান হয়। মনা পাগলা নামে টেলিসামাদের একটি ছবি আছে। আবার পাগলা বাবার দরবারে ফেলছি চোখের জল গানও আছে।

পাগল ! পাগল! নেংটা পাগল। পাগলের ছড়াছড়ি। কেউ ভাবের পাগল কেউ বা ভবের। পাগলরা নাকি যাতে মাতাল তালে ঠিক। এর মানেকি তারা কখনোবা স্বার্থের বেলায় বাস্তববাদি মানে স্বাভাবিক! না সব পাগল এররকম নয়। কেউ কেউ। তবে এ পাগলের সংখ্যা বেশী।আমি আপনি বা আমাদের আসেপাসে যারা আছে আমর মনে হয় সবাই যাতে মাতাল তালে ঠিক। মানে আমরা ভাবের পাগল।

কেউ মায়ের পাগলা ছেলে। কেউ বা পাগল প্রেমিক।কেউ বা টাকার পাগল। এমন অনেকে আছে।

একটা কথা প্রচলিত আছে পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। কথাটা আসলেই সত্যি। এইতো এই করোনা কালে আমাদের পাগল কিছু মন্ত্রী এমনসব আবালের মত বক্তব্য রাখছে যা শুনলে  কেউ যদি বলে এরা পাবনা থেইকা কবে ছাড়া পাইছে? অবাক হওয়ার কিছু নাই। আবার কাচি লইয়া ছুটছে ধান কাটতে এক দংগলা মানুষ নিয়া। কৃষকের ধান পাড়াইয়া  মাড়াইয়া শেষ। পাগলেও ক্লাস আছেগো এই পাগলাগো হেইডাও নাই।

পাগল নিয়ে কেনো এতো বাচলামি? আরে ভাই! পাগল নিয়েতো বাচলামি করা নিরাপদ। এতে আর যাই হোক বাকস্বাধীনতায় আঘাত করার অপরাধে জেলে যেতে হবে না। ভারতীয় বর্ডার পার করে গুম করবে না।  অবশ্য পাবনা হেমায়েতপুরে যেতে হবে। তাতে কি? সেখানেও মনের সুখে বাচলামু চালানো যাবে।

পাগল মানে শান্তি গরমের সময় কোন টেনশন নেই। খালি বাতাস আর বাতাস। শীতেও সমস্যা নাই রাস্তার কুকুরগুলারে সাথে বন্ধুর মত জড়াইয়া ঘুমাইলে লেপ ফেইল। পাগল হইলে অনেক লাভ।যখন তখন যে কোন মানুষের কোলের উপর উইঠা পড়া যায়। সে প্রধানমন্ত্রী হোক বা প্রেসিডেন্ট। জড়াইয়া ধইরা চুমু খাওয়া যায়। যা ইচ্ছা তাই করা যায়। কোন জবাব দিহি নাই। নাই আইন আদালত । ক্রসফায়ার গুম আর রিমান্ড নির্যাতনের ভয়। শান্তিই শান্তিই। যে কোন সময় যে কোন কিছু ইচ্ছা করলেই হওয়া যায়।ভোট লাগে না নোট লাগেনা।

লাগেনা বিদ্যান হওয়া । স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী লাগেনা। চাইলেই আমেরিকা কিংবা বড় কোন ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়া যায় । কোন যুদ্ধ লাগেনা।

কিযে শান্তি! কিযে আরাম। পোড়া মরিচের পান্তা ভাত হয়ে যাবে শাহী খাবার। বস্তির খুপরি আগ্রার তাজমহল যা কোন সন্ত্রাসীগুষ্টিরে চাঁদা দেয়া ছাড়াই বানানো যায় । আর যা ধসে পড়ার ভয় নাই।  বাহ কিযে মজা পাগল হওয়া। বিল্ডিং এর তলায় শ্রমিক হইয়া মরার চেয়ে পাগল হওয়া অনেক ভাল।

পাগলে কোন শত্রু নাই। ওহু! আছে আছে- পোলাপান। খালি ঢিলায়। কিন্তু এ যন্ত্রনাতো বিল্ডীং এর নিচে পইরা সেন্ডউইচ টাইপের মরনের চাইতে তো ভাল । করোনার ঝুকিতে ফালাইয়া মরেনের চাইতে ভাল। পাগলরে মানুষ দাম দেয় কিন্তু শ্রমিক গো কোন দাম নাই। করোনার সময় দেখেন না কেমন আচরটাই না করতাছে।

অথচ পাগলে প্রতি মানুষের কি দয়া। আহারে! বলে পাগলরে মানুষ লুংগি কিনে দেয়। যদিও পাগল তা মাথায় পট্টি হিসেবে পরে। আসল যায়গা ফ্রি বাতাস খায়। এরপরও পাগলরে মানুষ এইটা সেইটা দিয়া হেলপ করে। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কে কেউ হেলপ করে না। কয় খাইটা খা।

এইটা ভাল মানুষের দুনিয়া না। ভাল মানুষ এইখানে শুধু ডলা খায়। পাগলই ভালা।ইচ্ছা হইল কোৎ কইরা যে কাউলে কামড় দিয়া মনে ঝাল মিটানো যায়। পাগল হই আর না হই এমন ইচ্ছাতো সবার করে যে অমুকরে যদি একটু শিক্ষা দিতে পাড়তাম। শালার কানটা যদি কামড়াইয়া দিতে পাড়তাম ।

পাগলরে মানুষ ভয় করে। আরে মস্তানরেও এত ভয় করে না। পাগলেরে তাই শিকল দিয়া বাইন্ধা রাখতে হয়। একবার যদি ছুইটা যায়। দা লইয়া এমন দাবড়ানি দিব যে লুলা্ও খাড়াইয়া দৌড়া দিব। আহা কি ক্ষমতা বেটার। আপনি সুস্থ যদি থাকেন তাই এখনি পাগল হইয়া যান। না হইতে পারলেও একটু পাগল হইবার অভিনয় করেন। দেখবেন মনে কত সুখ। আহা স্বর্গ যেন হাতে মুঠায়। জয় তু পাগলামী।জয় তু দুনিয়ার সকল পাগল।

 

১০৩জন ১৭জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য