এত ভাবলে কি চলে?

বন্যা লিপি ১২ মার্চ ২০২১, শুক্রবার, ১২:৩৬:৫৬পূর্বাহ্ন আড্ডা ২১ মন্তব্য

চারিদিকে ডামাডোল! অসহিষ্ণু বাস্তবতা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে চালের দাম, ডালের দাম, নানাবিধ পণ্যের ঊর্ধ্বশ্বাস। তারপরও আছে পরিচালিত নানাবিধ ঝঞ্ঝাট ব্যস্ততা। এই যেমন ধরুন,  সোনেলার উঠোন বাড়ির কথা? মেনটেইনস কি কম ঝক্কির কথা?  কতিপয় পরিচালক, উপদেষ্টা মিলে দিনরাত ভাবনা চিন্তায় মাথার তালু কেশহীন করে ফেলছেন। একেকজন সদস্য ব্লগার বৃন্দ একটা ফ্রি প্লাটফর্ম পেয়ে,  নিজেদেরকে হামবড়া লেখক / কবি ভাবতে কি গর্বটাই করে করে ভুঁড়ি বাগাচ্ছেন বলেন তো! এই …. একটুও ভাবছেন নাতো!  আমাকে বাদ দিয়ে আমি এরকম ভাবছি? খবরদার মোটেই তা ভাববেন না। শোনেন সবাই!  প্রশংসা শুনতে ভালো লাগে না এমন খচ্চর মার্কা মিথ্যা কথা বলার পাবলিক হাতে গুণে খুব কমই পাবেন। তো আমার দোষ কি? আমি আবার একটু হুজুগে বুড়ি তো! সবাই সিরিয়াস বিষয়ে যখন ক্যাচর ক্যাচর করতে থাকে,  আমি বড্ড অধৈর্য হয়ে উঠি, ধুর….. এত্ত ভারী ভারী কথার রেলগাড়ি কাঁহাতক  সহ্য হয়? অনলাইনে আড্ডাবাজি সেতো শুধু বুড়ো আঙুলের কর্মদক্ষতা/ বা যোগ্যতা। অর্থাৎ বুড়ো আঙুলটা সচল আছে তো আড্ডাবাজি হচ্ছে আঙুল আর মস্তিষ্কের হাডুডু খেলা।  আরুজু মুক্তা শুভ সন্ধ্যা জানালো তো আমি বললাম- চা না হলে শুভ সন্ধ্যা জমবে কেন? তিনি পিঠার ছবি দিয়ে বললেন – খান” আমার তো চায়ের তেষ্টাই মিটলোনা! দাবিও ছাড়া যাবেনা, আরে বাপু! হাওয়ায় হাওয়ায় ই যদি খাব তো চা কেন ছাড় দেব? ও মাগো মা! শুধু চা? তিনি ঝালমুড়ি সহ চায়ের কাপ ফটোগ্রাফি করে  ছেড়ে দিলেন আড্ডার টেবিলে। ব্যস্…. হয়ে গেলো সান্ধ্যকালীন চা জলখাবার। এখন? আমি  বন্যা লিপি বলে কথা!! এত অল্পতে তো তুষ্ট হওয়া এই রাগী, জেদী, বেশি বকবক করা বুড়ি লিপির কম্ম না। সাবিনা ভালো জানে আমার সম্পর্কে,  সে কথা কইতে সুযোগ পাইলে ভাবের কাব্য যখন তখন হুমড়ি খেয়ে পড়বেই পড়বে। এখানেও সেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলে উঠলাম- নাও এবার একেকজন এক এক করে কিছু বলো। হয়ে যাক আমাদের কাব্য আড্ডা” ওমা! মহারাজ কয় কি? মহারাজ কয়।,  এ নাকি সম্ভব না। এটা কোনো কথা হলো ? শব্দের মহারাজ যদি বলে যখন তখন কাব্য হয় নাকি? আমি না ডরাইয়া যাই কই কন তো আপনারা ? কিন্ত….. আমি তো বন্যা! এত তারাতারি হাল ছেড়ে দিয়ে নৌকা খালি খালে ভাসাইয়া দিতে রাজি না। বললাম – যায় যায় । আরজু মুক্তা আবার টপিক চায়। আরো ধ্যাত্তোরি! কিসের টপিক?

আমি শুরু করলাম, আপনারা লেজুড় ধরেন……. 

 

বন্যা লিপি-

বিষয় আশয় বুঝিনা যা আসে মনে তাই নিয়েই চলুক না, যা হবার তা হবে, এত ভাবলে চলেনা।

ছাইরাছ হেলাল-

এক দঙ্গল কবির ভীড়ে কী-ই-বা লিখি! কে বা কাকে/আমাকে দেখে!

আরজু মুক্তা-

আয়নার উল্টো পিঠে প্রতিবিম্ব চলুক না আড্ডা যা আছে আবছায়ায়।

ছাইরাছ হেলাল-

আঁকড়ে ধরে প্রস্তরখণ্ড
ঝরনাজলে কী ঝরে পড়ে পাপড়িগুলো
কমলার রঙে রঙে;

 সুপর্ণা ফাল্গুণী-

বসন্তের কুহকে পাপড়িগুলো ঝরুক না,
স্মৃতির আয়নায় একটুখানি মন পুড়ুক না।

বন্যা লিপি-

ব্যস্ততা দেখি অ-ব্যস্ত চোখের জ্যোতিতে,
আকরিক পাথরের বুকে লিখে রাখি না বলা কথাদের আবদার।

ছাইরাছ হেলাল-

হনুমান/বাদড় আর বেকুবের পদছাপ,
এখানে ওখানে,
মিথ্যে জ্ঞানের খোলসে অজস্র শয়তানি মনে-প্রাণে;
তবুও রেশমী স্রোত-শব্দেরা ঘিরে থাকে তুমুল প্রত্যাশার মনোরম সমতল সোনেলা-দেয়ালে;
মুক্তির ভিড়ে মনোরম কুয়াশার শিশির বিন্দুতে।

সুপর্ণা ফাল্গুণী- –

সোনেলার প্রাচীরে সোনা গেঁথে রয় অবচেতন মনে,
তাইতো উঁকিঝুঁকি বেলা-অবেলায় আনমনে।

আরজু মুক্তা-

তবুও কবিতারা পাক
মুক্তি-
কুয়াশা সরিয়ে আসুক বসন্ত-শিমুল
পলাশে লাগুক আগুন
সোনেলার পাতায় পাতায় লাগুক রঙ

বন্যা লিপি-

কবিতা বা মোহময় কথাদের রঙিন সেসব শব্দ!
কুয়াসা চিড়ে আনুক তবে একটুকরো রোদের আলো।
ভুলেরই বা সাধ্যি কী সেথায় রয়েছি খাড়া যেখানে এতশত আলোকবর্তিকা

ছাইরাছ হেলাল-

গোলেমালে ভালমন্দে কত কী রয়ে/থেকে যায়না-খোলা না-বলা দিনের অগোচরে
ভবিতব্য ই জানে, জানা না-জানার শেষ ঠিকানা।
চারপাশে শুধুই কঠিন বাস্তবতা, পরাবাস্তবতা ও।

বন্যা লিপি-

হিসেবের লাল ফাইলে দিনের ক্লান্তি ভর করে থাকে/ থাকবে
এরই মাঝ থেকে তুলে নেই বাস্তবতার একটুকু
বেঁচে বর্তে যাবার সহজ উপমায়িত অনুষদ।
দোষ কি তাতে হয় যদি সময়ের কাছে সময়ের অল্পকিছু বেহিসেবি খরচ!

ছাইরাছ হেলাল-

ফুলেরা হেঁটে/ছুটে চলে যায়
বাতাস-নদীর জলস্রোতে,
তবুও সূর্যোদয়ের দৈববাণী ভেসে আসে শিশিরে শিশিরে।

————————–!

অবশেষে আমাদের আড্ডাবাজি কোন মাত্রায় এসে শেষ হলো এবার বাকি ব্লগাররা একবার ভাবুন তো!!
একেবারে প্রথম প্রয়াস হিসেবে মন্দ হয়নি কি বলেন সবাই?

এটুকু বলতে পারি, আমাদের এই অভিনব চা- পানের আড্ডাবাজি জারি রাখার জন্য আমি কোমড়ে শাড়ি ছাড়াই আঁচল বাইন্ধা আদাজল খাইয়া লাইগা পরুম……

 

৩৩৭জন ১৭৯জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য