এক মুঠো ভালোবাসা (৪৪তম পর্ব)

ইঞ্জা ২০ মে ২০২০, বুধবার, ০৫:৩৭:৪২অপরাহ্ন গল্প ১৬ মন্তব্য

এক সপ্তাহ পরঃ

সকাল নয়টার সময় অনিকের ঘরের সবাই ব্রেকফাস্ট করছে, এই সময় কলিংবেলের শব্দ হলে ঘরের কাজের ছেলেটা গিয়ে দরজা খুললো, কিছু সময়ের মধ্যেই ও ফিরে এসে অনিককে বললো, ভাইজান দুইজন মানুষ এসেছেন আপনার সাথে দেখা করতে। 

অনিক অবাক হয়ে বললো, কে এসেছেন জিজ্ঞেস করেছো?

সোহেল সাহেব।

ওহ আচ্ছা আসছি, উনাদেরকে বসাও আর কফি আর বিস্কিট দাও।

অনিকের বাবা চিন্তিত স্বরে বললেন, সোহেল চৌধুরি এইখানে, কি ব্যাপার অনিক, কোনো সমস্যা নাতো?

না বাবা কিসের সমস্যা হবে, আমি উঠছি, দেখি গিয়ে।

আমিও আসছি বলে অনিকের বাবা পিছন পিছন গেলেন।

ওদিকে ছায়াও চিন্তিত হয়ে উঠে গেলো।

অনিক ড্রয়িংরুমে এসে অবাক হলো সোহেল চৌধুরির সাথে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব সাহেবকে দেখে, মুলহে বললো, কি ব্যাপার, আপনারা দুজন এইখানে?

মি. অনিক প্লিজ বসুন আপনারা। 

জ্বি বসছি, কি খাবেন বলুন?

আসলে আমরা খেয়েই বেরিয়েছি, সচিব সাহেব আপনার সাথে কথা বলতে এসেছেন। 

জ্বি বলুন। 

স্যার আসলে আমার বড় ভুল হয়ে গেছে, বলেই উনি কিছু কাগজ এগিয়ে দিয়ে বললেন, আপনাদের সব কাগজ আমি একদম ঠিক করে দিয়েছি, এখন আর কোনো ঝামেলা হবেনা।

অনিকের বাবা অনিকের কাছ থেকে কাগজ গুলো নিয়ে পড়তে শুরু করলেন।

আর এই চেকটি নিন প্লিজ, আপনার টাকাটা ব্যাংকে জমা আছে, আজই তুলতে পারবেন চাইলে।

অনিক দেখলো পুরা টাকার চেক দিয়েছে উনি।

 

কি ব্যাপার, টাকাটা ফেরত দিচ্ছেন কেন?

স্যার আমার ভুল হয়েছে, ক্ষমা করে দিন, আপনি যে স্যারদের ঘনিষ্ঠ আগে বললে এই ভুল হতোনা, আমি এখন উঠছি।

কিছু খেয়ে যান।

না না, ধন্যবাদ আর কোনো খাতির করতে পারলে জানাবেন।

আচ্ছা।

সচিব বেরিয়ে গেলে অনিক সোহেল চৌধুরির দিকে অবাক হয়ে তাকালো। 

কাজের ছেলে কফি দিয়ে গেলে একটা চুমুক দিয়ে সোহেল চৌধুরি বললো, আপনার অবাক হওয়ার কিছুই নেই মি. অনিক, ওদের সবার চেয়ার আমাদের হাতের ইশারাতে থাকে, এই ভয়েই ওরা টাকাটা ফেরত দিয়েছে, আমরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারিনা। 

কি বলে যে ধন্যবাদ দেবো ভাই, আপনারা এইভাবে হেল্প করতে থাকলে আমি লজ্জিত হবো। 

না আপনাকে লজ্জিত করতে চাইনা মি. অনিক, সময় হলে আপনিও আমাদেরকে হেল্প করবেন, কি করবেন না?

সিউর।

তাহলে আজ উঠি।

জ্বি আবারও ধন্যবাদ। 

সোহেল চৌধুরি বিদায় নিলে অনিকের বাবা জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে।

বাবা তুমি খুশি তো?

খুব খুশি হয়েছি।

চল ভিতরে চল, খুশির খবরটা তোর মাকে দিয়ে আসি।

চলো বাবা।

 

এই শুনছো, অনিকের মা, রবিন তোরা কোথায় বলে অনিকের বাবা হাঁক ছাড়লেন, মা ছায়া একটু সবাইকে ডাক দাও তো। 

সবাই এলে অনিকের বাবা খুশির খবরটা জানিয়ে বললেন, আজকে আমার ছেলেটার কারণে আমাদের বাড়িটা রক্ষা পেলো, অনিকের মা তুমি আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করো আগামীকাল, আমার ঘরে নতুন বউ এসেছে, সেই হিসাবেও তো একটা অনুষ্ঠান কর‍তে হয় নাকি?

বাবা এসবের দরকার নেই, আমি তো আর এখন নতুন নেই, ছায়া লজ্জিত মনে বললো। 

না না, তুমি এই ঘরে প্রথম এসেছো, তাই তোমাকে বরণ করে নেওয়ার জন্যই অনুষ্ঠান আয়োজন হবে, অনিক তুই তোর বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত দিয়ে দে। 

বাবা আমার বান্ধবীদের দাওয়াত দেবোনা, সায়মা আগ্রহ এবং উৎসাহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো। 

না না ঐ পেত্নীদের দাওয়াত করার দরকার নেই, রবিন মুচকি হেসে খোঁচা মারলো ছোটো বোনকে।

বাবা, দেখছো ও কি বলে?

অনিকরা সবাই হো হো হা হা করে হাসতে লাগলো।

 

রাতে সবাই যখন ঘুমাতে গেলো তখন অনিক রুমে বসে আছে ল্যাপটপ নিয়ে, অনলাইনে লেভিনের সাথে কথা বলছে।

কবে আসবে তোমরা, ইংরেজিতে লেভিনের জিজ্ঞাসা?

আগামী পরশু আমার বাবার এঞ্জিওগ্রাম হবে, এরপর দ্রুতই ফিরে আসার চেষ্টা করবো বন্ধু। 

ওকে, এদিকে ফিলিপাইন থেকে নতুন বায়ার কন্টাক করেছে, ওদেরকে তোমার জন্য ওয়েট করিয়ে রেখেছি।

কি বলো, ওদের ডিটেইলসটা পাঠাও তো আমাকে। 

আমি স্ক্যান করে রেখেছি, তোমার মেইলে দিচ্ছি। 

ওকে, আর কোনো নিউজ আছে?

হাঁ, তোমাকে আরও কিছু ডকুমেন্টস পাঠাচ্ছি, তুমি ইলেকট্রনিক সিগ্নেচার করে পাঠিয়ে দিও। 

ঠিক আছে বন্ধু।

ওকে নাও আই এম সাইনিং অফ। 

টেক কেয়ার, বাই, বলে অনিক ল্যাপটপ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো, কিছু সময় পর ছায়া বেরিয়ে এলো বাথরুম থেকে।

কি ব্যাপার, তুমি এতক্ষণ বাথরুমে কি করো?

এই ফ্রেস হলাম, ব্রাশ করলাম।

তাই বলে এতক্ষণ?

সাহেব, মেয়েদের সবকিছুতেই একটু আধটু সময় লাগে জানেন না? 

ধ্যাত বিরক্তিকর।

ছায়া মুচকি হেসে অনিকের পাশে এসে বসলো। 

 

আচ্ছা তোমার কি মনে হয়, আমরা বাচ্চা এতিম খানা থেকে নিয়ে নিলে ভালো হতোনা?

না বাবু, ওসব তুমি বাদ দাও, আমরা আমেরিকায় গিরে গেলেই বাচ্চা নেওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস হবো।

অনিক বিরক্ত নিয়ে বললো, তুমি অসম্ভবকে সম্ভব করতে বলছো তা কি বুঝতে পারছোনা? 

এ বিষয়ে আমার ডাক্তারের সাথে কথা হয়েছিলো যখন অপারেশন হচ্ছিলো আমার।

অনিক আগ্রহ ভরে জিজ্ঞেস করলো, তা ডাক্তার কি বলেছিলো? 

ওরা আমার জরায়ু পুরা কেটে ফেলেনি, যতটুকু এফেক্ট হয়েছিলো ততটুকুই কেটে বাদ দিয়েছিলো। 

তো?

এতে আমার বাচ্চা নেওয়ার ক্ষমতা রয়ে গেছে।

তাই?

জ্বি হাঁ অনিক সাহেব, আচ্ছা শুনোনা?

কি বলো?

আমার না ড্রিংক্স করতে ইচ্ছে করছে। 

এখন? 

হাঁ, বের করোনা ঐটা যেটা তোমার বন্ধু দিয়েছিলো গত সপ্তাহে?

গ্লাস আছে? 

আমি নিয়ে আসছি। 

ওকে সাথে বরফ নিয়ে এসো। 

 

কিছু সময়ের মধ্যেই ছায়া বরফ আর গ্লাস নিয়ে ফিরলে অনিক জিজ্ঞেস করলো কেউ দেখেছে কিনা?

নাহ কেউ দেখেনি। 

অনিক আগে থেকেই বদকার বোতলটি বের করে রেখেছিলো, গ্লাসে বরফ দিয়ে বদকা ঢালতে শুরু করলে খেয়াল করলো ছায়া কয়েকটা লেবু কাটছে।

এ কই পেলে?

ফ্রিজে ছিলো নিয়ে এসেছি। 

খুব ভালো, দাও লেবু দাও আমি নিংড়ে নিচ্ছি। 

ড্রিংক্স করা অবস্থায় ছায়া বললো, অনিক আমার কি মনে হয়?

কি মনে হয়? 

আফরিন তোমাকে ভালোবাসতো?

কি আবোলতাবোল বকছো, এক পেগেই ধরে গেলো তোমার?

নাগো, ধরবে কেন?

তাহলে এমন কথা বলছো কেন?

আমি কয়েকটা সিনটম দেখেই বলছি।

কি দেখেছো?

যেদিন তোমাকে মেহেন্দি দিচ্ছিলো তখন ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ছিলো?

ওতো চোখ জ্বলছিলো বলেই এমন হয়েছে?

নাগো বুঝলেনা, ও সময় আর কারো তো চোখ জ্বলেনি?

শুনো ছায়া, ও আমার এমপ্লয়ি আর ভালো বন্ধুও আমাদের, অযথা ও আমাকে কেন ভালোবাসতে যাবে?

ছায়া চুপ করে রইলো দেখে অনিক আবার বললো, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, আমি বিবাহিত,  ওসব কথা মাথায়ও আনবেনা। 

ছায়া সেকেন্ড পেগ শেষ করে বললো, এখন রাখো এইসব, চলো এখন, আমি তোমাকে ভালোবাসা দেবো। 

অনিক মুচকি হেসে উঠে দাঁড়িয়ে ছায়ার পাশে গিয়ে ওকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে এগুলো। 

 

………. চলবে। 

 

ছবিঃ গুগল।

 

জনস্বার্থেঃ

১৭৪জন ১জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ